মানবজীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে বিজ্ঞানের অসামান্য অবদান অনস্বীকার্য। বিজ্ঞানের যেসব শাখা আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত, সেগুলোকে আমরা সহজেই গ্রহণ করি। যেমন অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে সৃষ্ট গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা উপশমে আমাদের ওষুধই সেবন করতে হয়, কোনো মন্ত্র বা অলৌকিক উপায়ে তা সারে না এটি আমরা সবাই জানি ও মানি। আমরা প্রতিনিয়ত মুঠোফোনে কথা বলছি কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ক্রলিং করছি, বিজ্ঞানের এই বাস্তব রূপগুলো নিয়ে আমাদের মনে কোনো সংশয় থাকে না।

বিপত্তি ঘটে বিজ্ঞানের সেই শাখাগুলোকে নিয়ে, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি দৃশ্যমান বা অনুভূত হয় না, কিংবা যা মানুষের মনস্তত্ত্ব ও আচরণের সাথে জড়িত। উদাহরণস্বরূপ কোনো ব্যক্তির "জন্মগত লৈঙ্গিক পরিচয় (Sex) এবং তার মনস্তাত্ত্বিক জেন্ডার আইডেন্টিটি (Gender Identity)"-এর মধ্যকার অমিল বা রূপান্তরকামিতা বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রমাণিত। অথচ, ব্যক্তিগত জীবনে এর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নেই বলে অনেকেই এই বৈজ্ঞানিক সত্যকে অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে, প্রচলিত কিছু ধর্মীয় বিশ্বাস অনেক সময় বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত সত্যের বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে। বিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর হলেও, কিছু ধর্মীয় ধারণা মতে তা মাত্র কয়েক হাজার বছর। আবার বিবর্তনবাদকে অস্বীকার করে মানুষের বর্তমান অবয়বকে আকস্মিক সৃষ্টি হিসেবে দাবি করা হয়; কোনো কোনো প্রাচীন বিশ্বাসে তো পৃথিবীকে সমতলও মনে করা হয়। তা সত্ত্বেও মানুষ এই ধারণাগুলোকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে অথবা রূপক অর্থে বিবেচনা করে এর যৌক্তিকতা খোঁজার চেষ্টা করে।
এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে সত্য অন্বেষণের শ্রমবিমুখতা, নিজের লালিত বিশ্বাসে আঘাত না পাওয়ার মানসিকতা এবং যেকোনো বিষয়ের গভীরে গিয়ে (Drill-down) দেখার অনীহা। এই অন্ধত্ব ব্যক্তিজীবনে কতটুকু লাভ বা ক্ষতি বয়ে আনে তা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে; তবে বিশ্বাসের মোহে পড়ে যদি পরম সত্য ঢাকা পড়ে যায়, তাকে বুদ্ধিবৃত্তিক বিপর্যয় বা 'জ্ঞান বৈকল্য' ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়! অন্ধ বিশ্বাসের কারণে যখন ব্যক্তি বা সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন সংঘাতের পথ পরিহার করে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সত্যানুসন্ধানের প্রক্রিয়াকে সচল রাখাই শ্রেয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


