somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আদনান ও তার পিতামহ

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অনেক অপেক্ষা আর সাধনা পর সবার মাঝে এলো আদরের ধন- আদনান। বাবা-মা খুশি, নতুন রূপ সাধন হওয়াতে; দাদা-দাদু খুশি, নাতী এসে দাদা-দাদু হওয়ার সুবাদে।

রাত আনুমানিক ২.৩০ মি.- গভীর রাত। সবার ঘুম ভেঙ্গে গেল। বাবা-মা চেঁচামেচি করছে। বাবুর কি হলো, বাবুর কি হলো? অনেক চেষ্টার পর কান্না বন্ধ হলো। প্রায় সময় রাত-দিন এমন হঠাৎ হঠাৎ বাবুর কান্নায় বাব-মা অস্থির হয়ে যায়। অনেক ডাক্তার দেখানো হলো। কোন কাজে আসছে না। কখনো জ্বর-সর্দি, কখনো নিমোনিয়া, কখনো আবার পেটে সমস্যা; সাথে কান্নার আওয়াজ সবাইকে হাঁপিয়ে তুলছে। সবাই বেশ চিন্তিত। অনেক টাকা-পয়সা খরচ হয়ে যাচ্ছে; কোন ফলপ্রসু হচ্ছে না। বিদেশে নিয়ে যাওয়ারও প্রচেষ্টা করছে সবাই। অবশেষে চিকিৎসা শেষে ফিরে আসে দেশে।

প্রতিনিয়ত ভাল ফল-মূল ঘরে আসে; ভালো খাবার-দাবার হয়। ভালো পোশাক-আশাক; জুতা জোড়ার স্তুপ। বাব-মার কপালে ঠিকমত জোটে না ভালো খাবারের অংশ বা কোন ফলমূল। জোটে না নূন্যতম কাপড়-চোপড়। জোটে শুধু অসহায়ত্বের কালো ছাউনি।

বৃদ্ধ বাবা-মা ঘরে সামান্য অসুখে ভোগছে; সেক্ষেত্রে কোণ খোঁজ খবর নেই। বাবা-মা সন্তানের কাছে নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করছে কাকুতি-মিনতি স্বরে। যখন সন্তান থেকে অপ্রলাপ পায়- আমি ছাড়া কি আপনাদের আর সন্তান নেই; শুধু আমার কাছেই বলেন?
মনের মাঝে কষ্ট দানা বেঁধে যায়। বোবা কান্না মুখে ভর করে। মনের ভিতর বেজে উঠে- “আহ! তুই যেমন তোর ছেলের জন্য এত চেষ্টা করিস; এত কষ্ট করিছ, আমরাওতো তোর জন্য এমনই করেছি। দিন নাই, রাত নাই; কষ্টের সংসারে তোকে কষ্ট করে লালন –পালন করেছি। আজ তুই আমাদের ভূলে যাওয়ার মত হয়েছিস”। কষ্টের দানার আঘাতে হু-হু করে চোখ দিয়ে পানি চলে আসে।

এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটে যায় আমাদের চোখে সামনে। যা নির্বোধ এই বিবেক সাড়া দেয়না। চিৎকার দিয়ে কান্না আসে। সবার বিবেকের কাছে প্রশ্ন করা হলে-

সামান্য প্রচেষ্ঠা হতে পারে বাবা-মার পক্ষ থেকে নিজের জন্য কিছু পাওয়া- আর্শীবাদ (দোয়া)।

আসুন সবাই বাবা-মার সেবা-শশ্রুষার জন্য মহান প্রভূর কাছে প্রার্থণা করি।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০৫
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাধীনতা বলতে আপনি কি বুঝেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৩


২০২৩ সালের কথা। আমরা কয়েকজন মিলে অনলাইনে একজন ইংরেজি স্যারের কাছে কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম। একদিন ক্লাস চলছে, স্যার হঠাৎ বই থেকে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ছোটবেলায় যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৪



বিশেষ দিন গুলো শাহেদ জামালের জন্য কষ্টকর।
যেমন ইদের দিন শাহেদ কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? তার তো কেউ নেই। এমনকি বন্ধুবান্ধবও নেই। তার এমন'ই পোড়া কপাল মেসেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×