somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আলমগীর জনি
সূর্য থেকে অসম্ভব শক্তিশালী আলোকরশ্মি চাঁদের উপর পড়ে। সে চাঁদ কিছুদিন জোছনা বিলায় আমাদের মাঝে।অমাবস্যায় কেউ চাঁদকে ভুলে যায় না।অপেক্ষা করে জোছনা ফিরে আসার ।সূর্য না হই ,মাঝে মধ্যে জোছনা হতে চাই।অমাবস্যায় হাহাকার হতে চাই মানব মনে।

গল্পঃ সংশয়ে

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



-তোদের রিলেশন কতদিনের?
-৪ মাস হবে।
-আচ্ছা ,ছেলেটাকে নিয়ে আসিস বাসায়।
-আজকেই নিয়ে আসব?
-হুম আজকেই।এত প্রশংসা করলি যার তাকে দেখতে মন চাইছে আমার।
-কই আর প্রশংসা। বললাম ও অনেকটা আমার বাবার মত।বাবার মত কবিতা লিখে।কি সুন্দর করে কবিতা আবৃত্তি করে শুনায়।আর জানো মা, তুমি যদি ওকে ওর কালো শালটা পরা দেখতে তুমি বাবার একটা ছায়া দেখতে পেতে তার মধ্যে।নিজেই অবাক হয়েছি বাবার সাথে কিভাবে এত মিলে গেল !

সুফিয়া বেগম মেয়েকে বলল যাতে শীঘ্রই ছেলেটাকে বাসায় নিয়ে আসে।কিন্তু মেয়ের উত্তর লিমন তো ঢাকার বাহিরে।এক মাসের জন্য থাইল্যান্ড গেছে।ফিরলেই নিয়ে আসবে । সুফিয়া বেগম আরো কিছু জানতে চাইল ছেলে সম্পর্কে কিন্তু দিনা তেমন কিছু জানাতে পারছে না ।মেয়েটা তার এত বোকা কেন ? কোন কিছু না জেনেই একটা রিলেশনে চলে গেল !সুফিয়া বেগমের নিজের কথা মনে হলো ।নিজে কি কম ভুল করেছেন এক জীবনে ? সুফিয়া বেগম বুঝলেন মেয়েটার ভুল করাটা তার রক্ত থেকে গেছে । মা করেছে মহা ভুল আর তার মেয়ে করবে মহা মহা ভুল । আর দিনার মেয়ে হলে সে করবে মহা মহা মহা ভুল ।এভাবে ভুল চলতেই থাকবে।এক ভুলের প্রায়শ্চিত্ত কয়েক প্রজন্ম করে।

সুফিয়া বেগমকে এখন বেশ চিন্তিত মনে হচ্ছে।দিনা যেভাবে ছেলেটার প্রশংসা করছে আর বর্ণনা দিচ্ছে তাতে তার অন্য কিছু মনে হচ্ছে।দিনার বাবার আরো একটা স্ত্রী ছিল।এই ব্যাপারে দিনা কিছুই জানে না ।সেই স্ত্রীর ঘরে একটা ছেলেও আছে। সুফিয়া বেগম ছেলেটাকে কখনো দেখেন নি, তার নামও জানেন না কিন্তু তার কেন জানি মনে হচ্ছে এই ছেলেই সেই ছেলে।এত কিছু মিলে কিভাবে।তাহলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে।সুফিয়া বেগম তখন কি করবে? মেয়েকে কিভাবে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন তিনি ।এটা তো কোন ভাবেই সম্ভব না । আমিনুল মানে দিনার বাবা বেঁচে থাকলে জিজ্ঞেস করতেন কি সর্বনাশ করলে তুমি,সে কালে আমি ভুগেছি আর এ কালে আমার মেয়েও ভুগছে।এই এক তুমি আমার জীবনকে তছনছ করে দিয়েছ।শুধু তাই নয় আমার মেয়ের জীবনেও সর্বনাশের ব্যবস্থা করে রেখেছ।আমিনুল তোমাকে বিয়ে করা ছিল আমার সবচেয়ে বড় ভুল।মরে গিয়েও তুমি আমার সর্বনাশ করে যাচ্ছ।

সুফিয়া বেগমের আমিনুলের কথা মনে পড়ছে ।এতক্ষণ দিনা যে ছেলের বর্ণনা দিল তা্র অনেকটাই মিলে যায় আমিনুলের সাথে।আমিনুল মানে সুফিয়া বেগমের স্বামী, দিনার বাবা। আমিনুল নিজেই কবিতা লিখত।এরপর হাঁটতে হাঁটতে রাস্তায় আবৃত্তি করত সেগুলো।এমন না যে কেউ শুনত।গ্রাম থেকে আসা এমন একটা ছেলেকে শহরের সভ্য মানুষেরা পাত্তা দিবে কেন ? শহর হচ্ছে শহর ।এখানে মায়া নাই ,মমতা নাই ,ভালোবাসা নাই ।আচ্ছা, মানুষ কি আছে ?

তবু সুফিয়া বেগমের চোখ এড়ায় নি।স্কুল কলেজ একা একা কাটানো সুফিয়া ভার্সিটিতেও একা একা বসে থাকত আর এই ছেলেটিকে দেখত।কি মুগ্ধতা ছড়াত ছেলেটা!পাখির বাসার মত মাথাটা চুলে ভর্তি ছিল।একটা ফুলহাতা ফতুয়া।আর তখন শীতকাল চলছিল।গায়ে সবসময় থাকত ফুটপাত থেকে কেনা একটা কালো চাদর।ওই যে দিনা ছেলেটার গায়ের চাদরের যে বর্ণনা দিয়েছিল অবিকল তেমন । ছেলেটা কারো সাথে মিশত না।একা হাঁটত , একা গাইত।সুফিয়া একদিন সাহস করে বলল- একটা কবিতা শোনাবেন?আমি প্রতিদিন দেখি আপনি কবিতা আবৃত্তি করেন একা একা ।দূর থেকে আমি শুনি .আজকে মনটা ভালো নাই ,তাই কাছে আসলাম । আমিনুল শহরে তার প্রথম শ্রোতা পেয়ে গেল।সে একটু লজ্জিত মুখে বলল - মন ভালো নাই কেন ? কলেজ পেরোনো সুফিয়া সেদিন জবাব দিয়েছিল- জানি না । আমিনুল শুরু করল রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর অভিমানের খেয়া কবিতাটি -

এতোদিন কিছু একা থেকে শুধু খেলেছি একাই,
পরাজিত প্রেম তনুর তিমিরে হেনেছে আঘাত
পারিজাতহীন কঠিন পাথরে।
প্রাপ্য পাইনি করাল দুপুরে,
নির্মম ক্লেদে মাথা রেখে রাত কেটেছে প্রহর বেলা__
এই খেলা আর কতোকাল আর কতোটা জীবন!
কিছুটাতো চাই ,হোক ভুল, হোক মিথ্যে প্রবোধ,
আভিলাষী মন চন্দ্রে না-পাক জোস্নায় পাক সামান্য ঠাঁই,
কিছুটাতো চাই, কিছুটাতো চাই।

সুফিয়া মুখে হাত দিয়ে কবিতা শুনছিল আর মুগ্ধ হচ্ছিল।
সুফিয়া আমিনুল কে বলল- কি চান এত?
আমিনুল বলল- কই কিছু না তো ।
এরপর থেকেই তারা এক সাথে ভার্সিটি শেষ করেছে।সেদিনকার আমিনুলকে জোস্নায় সামান্য ঠাঁইয়ের বদলে সুফিয়া সারাজীবনের জন্য তার আলোতে ঠাঁই দিতে চেয়েছিল।

কিন্তু বিপত্তি বাঁধল অন্য জায়গায় । আমিনুল গ্রামে থাকতেই আর একটা বিয়ে করেছিল।সুফিয়া বেগম যখন কাজী অফিসে গিয়ে আমিনুলকে বিয়ে করে তখনও তার কল্পনায় ছিল না সে আমিনুলের দ্বিতীয় বউ হতে যাচ্ছে।সুফিয়া যখন জানতে পারল তখন তাঁর পেটে দিনা । এই মেয়ে জন্ম হওয়ার পর দেখবে তাঁর বাবা নাই এটা সুফিয়া বেগম সেদিন মেনে নিতে পারছিলেন না।তাই তার অনাগত মেয়ের জন্য সেদিন আমিনুলকে ক্ষমা করেছিলেন । তবে তিনি আজও সন্দিহান তিনি কি আসলে আমিনুলকে ক্ষমা করতে পেরেছিলেন ? এভাবে কি কাউকে ক্ষমা করে দেয়া উচিত ?

এসব ভাবতে ভাবতেই সুফিয়া বেগমের দিন কেটে যাচ্ছিল ।কিন্তু এই ভাবনাটা তিনি কোনভাবেই নিতে পারছিলেন না । তিনি না পারছেন মেয়েকে সব কিছু খুলে বলতে ,না পারছেন একা একা সব গিলে ফেলতে।সুফিয়া বেগম যেদিন হাসপাতালে ভর্তি হলেন তার আগে তিনি মেয়েকে একবারও বলেন নি তিনি ছেলেটাকে দেখতে চান। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর শুধু বললেন ছেলেটাকে আমি দেখে যেতে চাই, দিনা।দিনা তখন হাউ মাউ করে কাঁদছিল।বুঝতে পারছে মার হয়ত সময় শেষ। দিনা লিমনকে ফোন দিলো।লিমন ফোন ধরছে না । দিনা ফোন নিয়ে ব্যস্ত আর সুফিয়া বেগম তখন মৃত্যুযমের সাথে যুদ্ধ করছেন, দিনাকে ডেকে কি জানি বলতে চাইছেন।দিনা শুনছে না,সে ফোন করাতে ব্যস্ত।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৩
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঘুমিয়ে আছে কারা

লিখেছেন আরমান আরজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৫




এখানে ঘুমিয়ে আছে কে?
আমি তো দেখছি সবাই জেগে
চাঁদ সূর্য হতে শুরু করে এ্যমাজন বনের অদ্ভুত প্রজাপতিটিও
ভিনগ্রহের শত বছর আয়ুর বাসিন্দারা
প্রতিটি ধূলিকণা এমনকি অদৃশ্য পবনও
গভীর সায়রের মৎস্যকন্যা হতে শুরু করে বিস্তৃত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলরেখার নীচে

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫১

পৃথিবী প্রতিদিন একটি নতুন উচ্চতা আবিষ্কার করে।
কোনো জানালায় আলো জ্বলে,
কোথাও কাচের গায়ে সাঁটা হয় আরেকটি সাফল্যের বিকেল।
সিঁড়িগুলো মানুষের পদচিহ্নে মসৃণ হতে থাকে।

আমি দূর থেকে দেখি—
যেন আমার চোখই কেবল যাত্রা করে,
শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মান্তরের ক্ষুধা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:০৮




ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, সেই সাথে গুমোট আকাশ। মেঘাচ্ছন্ন  আবহ । একটানা টুপটাপ আওয়াজ ছাড়া চারদিক সুনসান।বৃষ্টি তার ক্লান্তি কাটাতে  যেই একটু থমকে দাঁড়িয়েছে অমনি বুনো শালিকেরা নেমে এলো খাবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×