somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্তব্ধ জীবন

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কারো জন্য নিজের জীবনকে স্তব্ধ করে দেয়াটা হচ্ছে নির্বুদ্ধিতা ... আর নির্বুদ্ধিতার দণ্ড টাও করুন ..আর কেউ যদি জেনেশুনে করে তাহলে তার অবস্থা আরও করুন ও ভয়াবহ .... তবুও অনিচ্ছা সত্তেও কারো কারো জন্য হঠাৎ জীবন টা স্তব্ধ হয়ে যায় ... সমগ্র দেহ জুড়ে তার ভালবাসা রক্ত কনিকার মত প্রবাহিত হয় ... জীবনের অস্তিত্তের মধ্যে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় ... বাস্তবিকতার থেকে সপ্নে তার আনাগোনা বেড়ে যায় ... পরিবার , সমাজ , বন্ধু বান্ধব সব কিছুর ভালবাসা তখন তাকে স্পর্শ করতে পারে না... জীবনের মহত্ত ও লক্ষ্য তখন ভালবাসার মধ্যে বিলীন হয়ে যায় ... তার ভালবাসায় ও স্নেহ রসে নিজেকে ডুবাইয়া রাখিতে ইচ্ছে হয় ... তার ভালবাসা তার স্নেহ সিন্ধন পাবার জন্য মন ব্যকুল হয়ে যায় ... জীবন তখন এককেন্দ্রিক হইয়া পরে , জীবনের সমস্ত আশা ভরসা ভালবাসা একজনের পায়ে লুটাইয়া পড়ে ... সকাল বেলার নিস্তব্ধ ফুলের গাছ টিকে সচেতন করে তোলার জন্য বাতাস যেমন একবার এইপাশ হইতে একবার ওইপাশ হইতে একটু আধটুকু নাড়াচাড়া করতে থাকে তেমনি হয় তার মনের অবস্থা ... তার ভালবাসা পাবার আশা অনুরুপ বাতাসের ন্যায় হৃদয় কে নাড়াচাড়া করতে থাকে ... কিন্তু ভালবাসাটা যখন অসম প্রেমের গল্প হয়ে দারায় তখন চেতনা হয় ... অসম্ভব নামক বাক্য টি সামনে এসে স্থির হয় ....যখন বুঝতে পারে যে সে ভুল ঘাটে তার তরী ভিড়িয়েছে .. তখন নিজেকে অসহায় ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না ... বাচ্চা শিশুর মত কাঁদতে ইচ্ছা হইলেও সেটা করা যায় না ... জীবনের প্রতিটা বিষয় কে শূন্য জ্ঞ্যান বলে মনে হয় ... পৃথিবীতে নিজেকে নিদারুণ একা বলিয়া মনে হয় ... মনে হয় যেন দেহ হতে কেহ প্রান বাহির করিল ... নিথর দেহে অন্ধকার রজনীতে চক্ষু যুগল কে ক্রন্দনে ভাসানো ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না .. তখন পৃথিবীকে ও ভালবাসাকে আগাগোড়া মিথ্যা ও শূন্য বলে মনে হয় ... এমন কি অতিতের সমস্ত স্বপ্ন , ইচ্ছা ও ভালবাসার কথা স্মরণ করে অত্যন্ত নিরস কঠিন নিরাপদ হাসি একটা তিক্ষ ছুরির মত হৃদয়ে দাগ কেটে যায়... মাঝে মাঝে নিজের মধ্যে ভাবোদয় হয় এতদিন যাকে হৃদয় এ লালন করেছি সে কি এতটা আবেগের যোগ্য ছিল ... যার ভালবাসাকে এতখানি বলে মনে হল ... যার জন্য মনে এত আদর এত গাঢ়তা ,যার একটু দুরুত্ত এত মর্মান্তিক ছিল , যার একটু সংস্পর্শ এত আনন্দময়য় ছিল তার কাছে এই ভালবাসা কতখানি গুরুত্ত পেয়েছিলো ... নাকি ইহার জন্য সে বিব্রত ও বিরক্ত হয়েছিল ... তার ও নিজের একটু প্রচেষ্টায় কি এই অসম্ভব কে সম্ভব করা যেত না .... নাকি সমাজ তার ও আমার মধ্যে যে সম্পর্ক ভেবেছিলো সেও তাই বোধ করেছিল ... তার ও আমার এই সম্পর্কটাকে নিরবে আমি কতখানি গভীরে নিয়েছিলাম সেটা তার বোধ গম্য হয় নাই ... তাই ভালবাসাকে নিতান্ত নিদারুণ কষ্টের বিষয় বলে মনে হয় ... ভালবাসা আমার অপেক্ষা মিথ্যাবাদী ও মিথ্যাচারী ... তখন সৃষ্টিকর্তার প্রতি মনের মধ্যে একটা শুল্ক অসাড়তা সঞ্চার হয় ... সমস্ত দোষ যেন সৃষ্টিকর্তার ... তখন সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশে চিৎকার করিয়া বলতে ইচ্ছে হয় '' হে সৃষ্টিকর্তা সে যদি আমার হবার নয় তবে তার জন্য এ হৃদয় এ কেন ভালবাসার সঞ্চার করিলে ... তুমি তো জানিতে সে আমার নয় তবুও তাহাতে কেন আমায় সিক্ত করিলে , আমি কি তোমার কাছে খুব বেশি অন্যায় করেছিলাম যার জন্য পদে পদে আমার কষ্ট আমার শিরোধার্য হচ্ছে ... আমি ক্রমাগত নিঃশোষিত হচ্ছি ... এই জগতে অসম্ভব কে সম্ভব করিবার ক্ষমতা তোমার আছে ... শুধু দরকার তোমার সদিচ্ছার ... আমি নিদারুণ পাপী , আমি অন্যকে নিজের মনে করিয়া সুক্ষজ্ঞ্যানে তাকে সাজিয়ে রেখেছিলাম এই হৃদয় এ ... যার স্থান আমার শিরস্তবকে হওয়ার কথা আমি তাকে হৃদয় এ স্থান দিয়েছি ... কিন্তু ঈশ্বর আমি তাকে সত্যিই খুব বেশি ভালবেসে ফেলেছি ... আমি ফিরে এসেছি তোমার দরবারে আশ্রয় দাও তোমার পদতলে আমি তোমার আরচনায় জীবন করিব অতিক্রম , শুধু তুমি দাওগো তাহাকে নইলে যে আমি পাগল হইবার উপক্রম
... তোমার স্বর্গের হুর আমি চাই না চাইনা রম্বা কোন উর্বশী ... শুধু তাকে পেলেই এই মন প্রান খুশী ... একটু দয়ার সঞ্চার করো হে দয়াময় ... আমি আমার স্তব্ধ জীবন কে সচল করিতে চাই ... আমি নিজেকে রাঙাতে চাই তার রঙে ... এ সমাজ সভ্যতার বাধাকে চূর্ণ করে ভালবাসার ঊর্ধ্বলোকে বাস করিতে চাই ... শুধু তাহাকেই চাই ''

কিন্তু ইশ্বর ঊর্ধ্বলোক থেকে তাহাকে দেখিয়া হাসিতে থাকে ... তিনিও তাহার কর্মকাণ্ড কে মানুষের মত পাগলামি মনে করিয়া আর কোন ভ্রুক্ষেপ করেন না ... ছেলেটি কাঁদিতে থাকে আর ঈশ্বর মজা নেয় ... একসময় ছেলেটি হারিয়ে যায় সমাজ সভ্যতার অবক্ষয়ের অতল গহ্বরে ... হারায় তাহার ভালবাসা ......

আল আমিন (০৭/০৯/১৪)
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা: আমরা সবাই ইনসাফের লোক—যতক্ষণ না নিজের স্বার্থ ছাড়ার প্রশ্ন আসে!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

একজন মানুষ অসুস্থ বোধ করছেন। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাতর কণ্ঠে বলছেন, একটু বসতে দেবেন? শরীরটা ভালো লাগছে না। আশপাশে মানুষ আছে, আসন আছে, চলমান ট্রেন আছে—শুধু তাঁর জন্য একটু জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×