ও মনু ডাইলে লবণ দ্যাছো, না দ্যাবা? এই বিখ্যাত উক্তি থেকে বোঝা যায় বরিশালের সাথে লবণের সম্পর্ক আছে। বই পত্র ঘেটে জানতে পারলাম-পর্তুগীজ ও ইংরেজ আমলে বরিশাল লবণ ব্যবসায়ের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। লবণের বড় বড় স্তূপকে ইংরেজরা 'বরিসলট' বলত। সেই বরিসলট লোকমুখে প্রচার হতে হতে বরিশাল নাম ধারণ করেছে। বাংলার ভেনিস খ্যাত বরিশালের পূর্বনাম ছিল চন্দ্রদ্বীপ। কেউ বরিশালের হলে সাধারণ যে কথাটি মাথায় আসে তা হচ্ছে তাদের মুখস্থ বিদ্যা বেশি। শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এই অঞ্চলের মানুষ। তিনি নাকি একবার কোন কিছু পড়েই তা মুখস্থ করে ফেলতেন। এই শেরে বাংলার প্রভাবেই তাদের মধ্যে মুখস্থ করার প্রবণতা বেশি। তার প্রমান অবশ্য পাওয়া যায় কারণ বাংলাদেশের অধিকাংশ কোরআন এর হাফেজ বরিশালের।
বরিশালে আমি নিজে কখনো যাইনি তবে বরিশালের অনেক মানুষের সংস্পর্শে আসার সুযোগ আমার হয়েছে। স্কুল জীবনের সবচেয়ে কাছের বন্ধুর বাড়ি এই বরিশালে। কিছুদিন আগে এক ছোট ভাই পাই তার বাড়িও বরিশালের। এই পোস্ট লেখার সময় আম্মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম-বরিশালের মানুষ তোমার চোখে কেমন? তিনি বুঝলেন উল্টা। আমাকে ঝাড়ি দিয়ে বললেন- বরিশালের কোন মেয়ের সাথে যেন বালিকা বন্ধুর সম্পর্ক না করি তিনি লঞ্চে চড়বেন না। আরেকটা কথা তিনি বললেন- বরিশালের মেয়েরা শ্বশুর শাশুড়ি দেখতে পারে না। এখন ভালো মন্দ মিলিয়েই মানুষ আছে। কিন্তু পরিসংখ্যান স্যাম্পল সাইজ নিয়ে কাজ করে। বিশাল জনগোষ্ঠী থেকে কয়েকজনকে নিয়ে স্যাম্পল করা হয় এবং তার উপর ভিত্তি করেই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তাই আমার সাথে অনেকে একমত নাও হতে পারেন।
নোয়াখালী মানুষের উদ্যোক্তা হিসেবে সুনাম থাকলেও বরিশালের মানুষ ব্যবসায়ের দিক দিয়ে সফল। ঢাকার মিরপুরে যারা থাকেন তারা 'সেলিমের স্পেশাল টি স্টল' এর নাম শুনে থাকবেন। প্রায় বিশ রকমের চা পাওয়া যায় তার দোকানে। সন্ধ্যা হতেই তার দোকানে ভিড় লেগে যায়। সেদিন কথা হচ্ছিল সেলিম ভাই এর সাথে। এই সেলিম ভাই এর বাড়ি বরিশাল। বরিশালকে BNCC জেলার একটি বলা হয় কারণ তারা নিজেদের জেলার বাহিরে অন্য কোন জেলার সাথে বিয়ের সম্বন্ধ করে না। এই বিষয়টা আসলেই সত্য কারণ এই পর্যন্ত আমি যতগুলো দম্পতি দেখেছি সেখানে স্বামী বরিশালের হলে স্ত্রীও বরিশালের হয়ে থাকে।
আপনার কোন বরিশালের বন্ধু তার বাসায় যদি নিমন্ত্রণ করে থাকে তাহলে খাবার এর সময় হাতের কাছে পানি রাখবেন। বরিশাল এর রন্ধন পদ্ধতি হচ্ছে যত ঝাল তত মজা। তাদের ঝাল জিনিস অনেক পছন্দ। তাই হঠাৎ করে ঝালে মুখ হা হয়ে গেলে তখন হাতের কাছে পানি না পেলে বিপদে পড়বেন। বাজারে যে প্রচলিত ভাপা পিঠা দেখেন এই পিঠা বরিশালে খেতে গেলে দেখবেন তারা অন্যভাবে বানিয়েছে। তারা চালের গুড়া, গুড়, নারকেল একসাথে মিশিয়ে তারপর ভাপা পিঠা বানায়। আমরা যেমন প্রথমে চালের গুড়া এরপর গুড়, এরপর নারকেল এরপর আবার চালের গুড়া মিশিয়ে চুলায় ভাপ দেই। কিন্তু তারা অন্যভাবে বানায়।
জীবনানন্দ বাংলাদেশকে বলেছেন রুপসী বাংলা। তিনি বরিশাল এর সৌন্দর্য দেখেই লিখেছিলেন রূপসী বাংলা। বরিশাল যে আসলেই রুপসী তা বোঝা যায় কারণ বাংলাদেশের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জেলা হচ্ছে বরিশাল। আর এই স্বীকৃতির পিছনে অবদান রয়েছে সদ্য প্রয়াত সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরন।
লেখককে অনুসরণঃ আলামিন মোহাম্মদ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



