হ্যা, আমি একজন ডাক্তার বলছি। সম্প্রতি বারডেমে চিকিৎসক নির্যাতনের পর ধর্মঘট করেন ডাক্তাররা। তারপর থেকে ফেসবুকে, ইনটারনেটে ব্লগে এই পেশার লোকজনদের নিয়ে কতরকম মন্তব্য করে চলেছেন সাংবাদিক-ব্লগারসহ অনেকে।
এটা অবশ্যই মানছি যে--চিকিৎসক ধর্মঘট কোন অবস্থাতেই কাম্য নয়। ডাক্তারি হল জরুরি সেবা খাত। এখানে ধর্মঘট করে হাজারো মানুষের সমস্যা সৃষ্টি না করাই কাম্য। একজন বেশ রঙ্গ করে বলেছেন-- ডাক্তারের হাতে রোগী মরলেও নাকি শুকর আলহামদলিল্লাহ বলতে হবে। কেননা, তার দাবি--কোথায় কোন ডাক্তার নাকি দাবি করেছেন_রোগী বাচলে কেউ বলে না ডাক্তার বাচিয়েছে--বলে, আল্লাহ বাচিয়েছেন। আর রোগী মরলেই নাকি বলা হয় ডাক্তার মেরেছে।
এভাবে তিলকে তাল করে নানা গল্প গুজব ছড়িয়ে তর্কবিতর্কের কোন মানে নেই। যুক্তর নিরিখেই সব কিছু দেখা দরকার।
ডাক্তারি একটা বিজ্ঞান। আধুনিকতম বিজ্ঞান। এরপাশাপাশি রয়েছে চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা আবিস্কার। সহসাই বিশ্ব চিকিৎসা বিজ্ঞান নতুন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাবে। কৃত্রিম রক্ত আবিস্কারের দ্বারপ্রান্তে চিকিৎসা বিজ্ঞানিরা। রক্তরোগীদের শরীরে এই কৃত্রিম রক্ত ব্যাবহার করে পরীক্ষা নীরিক্ষার উদ্যোগ চলছে। একথা একারনেই বলা যে-- বিজ্ঞানকে বিজ্ঞান হিসেবে দেখাই ভাল। এরমধ্যে আধ্যাত্মিকতা না আনাই ভাল। রোগী ভাল হলে অবশ্যই আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু ডাক্তারদের অক্লান্ত চেষ্টাকেও মূল্যায়ন করতে হবে। তেমনি রোগী সুচিকিৎসা না পেলে ডাক্তারকেও জবাবদিহি করা দরকার। সেটা করলে চিকিৎসা আরও উন্নত হবে। মান বাড়বে। সাধারণ মানুষের মাঝে পেশা আরও সম্মানিত হবে।
কিন্তু সমস্যা হয় অন্য জায়গায়--সেটা হল রোগীদের নানারকম ক্ষমতা প্রয়োগ। তারা বল থাকলে বল দেখায়। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে কারও কারও ক্ষমতা থাকলে তারা ক্রিটিক্যাল রোগীকেও মুহুর্তের মধ্যে সুস্থ দেখতে চান। তাদেরকে রোগীর কন্ডিশন বুঝানো হয়। তারা বুঝতে চান না। বরং অতি বিকৃত ভঙ্গিতে জানতে চান_ তাইলে কিসের ডাক্তারি শিখছেন। শক্তি দিয়ে তারা মরনাপন্ন রোগীর সুস্থতা নিশ্চিত করতে চান। সেটা তো সম্ভব নয়। ডাক্তাররা যাদুকর নন। ইশ্বরও নন। তারা তাদের জ্ঞানমত চিকিৎসা করেন।
এটা কেউ অস্বীকার করেন না দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজে এখনও সেরা ছাত্ররা পড়েন। সেখানে ভালই শিক্ষা দেয়া হয়। মাঝে মধ্যে বৃটেন ইউরোপ থেকে পর্যবেক্ষন করে দেখা হয়-- ডিএমসি, সিএমসি, সলিমুল্লাহ মেডিকেলে মান কেমন। সে অনুযায়ী সনদও দেয়া হয়। সুতরাং দেশের চিকিৎসা শাস্ত্র এশিয়ার অন্য কোন দেশের চেয়ে পিছিয়ে নেই। সমস্যা চিকিৎসা সেবা ব্যাবস্থা। ডাক্তারদের দোষ আছে অবশ্যই। রোগীদের সময় দেয়া হয় না। চেম্বারে কেউ কেউ ৫/৭ মিনিট সময় দেন। কিন্তু একজন রোগী দেখতে কত সময় দরকার সেটা বোঝেন ডাক্তারই। রোগী আত্মীয় স্বজন সেটা বুঝতে গিয়ে বলপ্রয়োগ করেন, তাকি কখনও ভাল ফল বয়ে আনবে!
আজকের প্রসঙ্গ আর বাড়াবো না। ডাক্তারদের ধর্মঘট আর হবে না যদি কতিপয় রোগীর আত্মীয় স্বজন পেশী শক্তি না দেখান। তারা যদি নানাভাবে তাদের অশুভ ক্ষমতার দাপট দেখান, ডাক্তারদের বাধ্য হয়ে ধর্মঘট জাতীয় অনাকাঙ্খিত কর্মসূচি পালন করতে হয়। দেশের ও সাধারণ মানুষের ভাল ও কল্যানের জন্য সবাইকে নিজ নিজ সীমা বুঝতে হবে। নইলে তা সকলের জন্যই অকল্যান বয়ে আনবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



