কেমন আছেন প্রিয় পাঠক। ভাল আছেন নিশ্চয়ই। সামহোয়্যার ইন ব্লগে লিখতে শুরু করেছি মাত্র কয়েকদিন। এর মধ্যে সবার সাড়া পেয়ে আমি অভিভূত। পাঠ প্রতিক্রিয়ায় কিছু ভয়ংকর অভিযোগ পাচ্ছি। ডাক্তার বলে ডাক্তারির ব্যপারে এসব ভীতিকর অভিযোগ এড়িয়ে যেতে চাই না। আমার ২১ এপ্রিলের লেখায় একজন সহৃদয় পাঠক খুবই শংকাকর অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন_ কোন এক বড় বিখ্যাত ডাক্তারের ছেলে নাকি তার পিতার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে বসে দিব্যি বাপের প্যাডে প্রেসক্রিপশন লিখছেন। বাপের নামেই বড় অঙ্কের ফি নিচ্ছেন। কোন রকম শর্ত ছাড়াই আমি নিন্দা জানাই এই ঘটনার। খুবই দু:খজনক ঘটনা। অভিযোগ কারী সাম হোয়্যার ইন ব্লগ-পাঠক জানাচ্ছেন নিম্নরুপ। তার নাম
মুহাম্মদ এরশাদুল করিম ।
তিনি বলেছেন:
আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনে করি বাংলাদেশের বেশিরভাগ ডাক্তারই ভালো এবং মানবসেবার ব্রত নিয়ে এই মহান পেশায় আছেন।
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয় নিয়ে আমার নিজের আগ্রহ আছে প্রচুর। কারণ আমার এক ভাই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিল এবং সে জন্য আমি ঢাকাতে মোটামুটি অনেক মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক ডাক্তারের কাছে গেছি, ইনাদের অনেকেই খুব নামকরা এবং খ্যাতিমান (!!)। সত্যি বলতে আমার অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো নয়। ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে মিরপুরে ১১ নাম্বারে এক নামকরা ডাক্তারের ক্লিনিক আছে। উনার কাছে নিয়ে যাওয়ার পরে দেখলাম, প্রাইভেট কোন মেডিকেল থেকে পাশ করা নিজের ছেলেকে দিয়ে রোগী দেখাচ্ছেন, আর ছেলে বাপের প্যাড়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন। বাপের নামে রোগী আসে আর পোলা চিকিৎসা দেয়। বাপে কোন খবর রাখে না রোগীর, পোলা বাপের প্যাডে সমানে 'সিজোফ্রিন' নামক অষুধ লেখে, আর বাপের নাম দিয়া ৫০০ টাকা করে বিল বানায়। নিজের চারতলা হাসপাতালে কোন রোগী সহজে ছাড়ে না, ব্যবসা কমে যাবে বলে। ছোটলোক কত প্রকারের হতে পারে বলেন। আমাদের মতো অসহায় আর গরীব লোকেদের থেকে এইভাবে প্রতারণা করে যে টাকা আয় করবে, সে টাকায় কি কোন বরকত বা সুখ থাকবে? আমি অবশ্য আন্তরিকভাবে ঐ ডাক্তার নামের পশু আর তার গোষ্টীরে বদদোয়া করে আসছি। দেশের যেই অবস্থা আমাদের তো এছাড়া আর কিছু করার নাই।
আমার কথায় আহত হলে মাফ করবেন। """"
একজন চিকিৎসক হিসেবে আমার বক্তব্য
না ভাই, আহত হইনি আপনার কথায়। কিন্তু আপনার যে ভয়ংকর অভিযোগ--সেটা আহত করেছে আমাকে। আমাদের চিকিৎসক সমাজকে। এটা ভয়ংকর অন্যায় তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। রীতিমত ক্রিমিনাল অফেন্স। ডাক্তারি কোন পৈত্রিক সম্পত্তি নয় যে বংশানুক্রমে তা ভোগ করা যাবে। বরং বলাই বাহুল্য এটি বিজ্ঞান। এটি অত্যাধুনিক জ্ঞান নির্ভর পেশা। যিনি ব্যপক পড়াশোনা করে , সর্বশেষ চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি সম্পর্কে জেনে এই বিদ্যা রপ্ত করবেন -- সেই অনুযায়ী প্রাকটিস করবেন--রোগী সেবা দেবেন-- তিনিই সঠিক ডাক্তার। কোন অবস্থাতেই বাপের অর্জিত সুনাম-প্যাড-দক্ষতা ব্যাবহার করতে পারেনা তার সন্তান। হ্যা, এটা ঠিক একজন ডাক্তারের সন্তানের ডাক্তার হওয়ার -- দেশের খ্যাতনামা দক্ষ ডাক্তার হওয়ার অবশ্যই অধিকার রয়েছে। অবশ্যই ডাক্তারের সন্তান তার মেধা দক্ষতা দিয়ে তার অবস্থান তৈরী করতে পারে। কিন্তু আমার সন্তান কোন অবস্থাতেই সে ডাক্তার হোক বা না হোক-- আমার প্যাড ব্যাবহার করতে পারে না। পাঠক তার লেখায় সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও তার সন্তান বা ক্লিনিকের নাম উল্লেখ করেন নি। তারপরও তার অভিযোগ সত্য বলে ধারনা করছি।। কেননা এধরনের অভিযোগ আমার চেম্বারে আসা কোন কোন ভুক্তভোগী রোগীর কাছে আমিও শুনেছি। এই বাপের প্যাডে ছেলের চিকিৎসা বিধান--সোজা কথায় এটা সুচিকিৎসা নয়। এটা অপচিকিৎসা । এটা আমার সন্তান করলেও আমি একই কথা বলবো। এটা খুবই লজ্জার ঘটনা।
বাপের প্যাডে ছেলে চিকিৎসা দিলে অপচিকিৎসা কেন.....
এই কারনে এটাকে অপচিকিৎসা বলে সাব্যস্ত করছি যে---একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসাসংক্রান্ত জ্ঞান ও রোগ নির্নয়ের ক্ষমতা আর একজন নবীন ডাক্তারের দক্ষতা এক হওয়ার কথা নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞান নিত্যনতুন জ্ঞান ও অনুশীলন উৎকর্ষ অর্জনের পেশা। এখানে সিনিয়র চিকিৎসকের জ্ঞান দক্ষতা রক্ত সূত্রে সন্তানের অর্জনের কোন সুযোগ নেই। পাঠক লিখেছেন-- পুত্রটি নাকি বাপের প্যাডে সমানে সিজোফ্রিন দিয়ে যাচ্ছে। না, এটা মেনে নেয়া যায় না। মানসিক রোগ যথেচ্ছ চিকিৎসা কোন সেক্টর নয়। কিন্তু ইদানিং এটা ড্রাগ সেন্টার--এর নামে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা ক্লিনিকে বেড়েই চলেছে। এক্ষেত্রে তবু সন্তান নাকি ডাক্তার_- অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তার না হয়েও অনেকে এলাপ্যাথিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। ।এমন অভিযোগ পাই। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে নানা ফোরামে বলি। তারপরও এ নিয়ে সবচেয়ে বেশী দায়িত্ব স্বাস্থ্য প্রশাসনের। তারা এসব ভুয়া অপচিকিৎসা বন্ধের উদ্যোগ নেবেন। এটাই প্রত্যাশা করি।
ভুক্তভোগী রোগীরা কি করবেন.....
ভুক্তভোগী রোগী বা প্রতারিত রোগী কি করবেন!! তাকে কি আমি আমার চেম্বারে ডাকব। না , আমার চেম্বারে আসতে বলছি না। আমি বরং আসতে বলব-- বংগবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ভার্সিটি হাসপতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগে। এখানে আসুন। সুচিকিৎসা নিন। এখানে এরকম বাপের প্যাডে ছেলের লেখার কোন সুযোগ নেই। এখানে আমার সন্তান কোন অবস্থাতেই আমার রুমে এসে প্রেসক্রিপশন লেখে না। লিখবে না। গ্যারান্টি দিচ্ছি।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল--
আমরা ওই ধরনের ভুয়া ড্রাগ সেন্টার বা প্রতারনার চেম্বারে কেন যাই। তারা কি বংগবন্ধু মেডিকেল ভার্সিটির চেয়ে বেশী বিখ্যাত!! লোকজন কি বিএস এমএম ইউ বা সাবেক পিজির চেয়ে ওই প্রতারনা প্রতিষ্ঠানের নাম বেশী জানে। মিরপুর কি শাহবাগ থেকে অনেক অনেক দুরে। মিরপুর থেকে শাহবাগ আসতে কি শত শত টাকা লাগে!!
আসলে আমাদেরও সচেতন হতে হবে। ভুয়া অপচিকিৎসকদের থেকে দুরে থাকতে হবে। বর্জন করতে হবে। সরকার একা কতটা করবে! কোন সরকার বিশেষকে দোষ দিয়ে কি লাভ! তারা কতটা করবে যদি জনগন নিজে যদি সচেতন না হন। হাদিসেই তো আছে-- আল্লাহ তায়ালা সেই জাতিকে ততক্ষন পর্যন্ত সাহায্য করেন না ---যতক্ষন না তারা নিজেরা সচেতন ও জাগ্রত না হয়।
আবারও বলি প্রতারিত রোগীকে আমার বা আমার কোন সহকর্মীর চেম্বারে আনতেই হবে-- এমন দাবি করছি না। কিন্তু সুচিকিৎসা তার অধিকার। টাকা পয়সা খরচ করে সুচিকিৎসা যেমন পেতে পারেন-- তেমনি অল্প খরচে সুচিকিৎসাও দেশে এখন সুলভ।
আমি অন্তত বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতায় জোর গলায় বলবো-- এই বিএসএম এম ইউর মনোরোগবিদ্যা বিভাগে আমরা সবাই সুচিকিৎসা দেয়ার আপ্রান চেষ্টা করি। পরীক্ষা প্রার্থনীয়। রোগীদের আমরা চেম্বারে ভাগিয়ে নিই না। সর্বসাধারনের জন্য বৈকালিক চেম্বার রয়েছে। সেখানে বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অধ্যাপক -সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চিকিৎসা দেন। সময় নিয়ে সবাই চিকিৎসা দেন। যারা বলেন দেশের চিকিৎসকরা সময় দেন না-- তাদের বলি অন্তত এখানে এসে দেখুন--সময় নিয়ে আমরা দেখি। যেখানে ওই পর্যায়ের একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বার ফি--৭০০-১০০০টাকা-- সেখানে বৈকালিক চেম্বারে মাত্র ২০০ টাকা নেয়া হয়। এটি বর্তমান ভিসি স্যার অধ্যাপক প্রানগোপাল দত্তের অনন্য কাজ। আর আরও কম খরচে আউটডোর চিকিৎসা তো আছেই। সেখানে খরচ মাত্র ৩০টাকা । সব বিভাগে নিবিড় রোগী দেখা হয়। আর আমাদের মনোরোগ বিভাগে তো আমি চ্যালেঞ্জ দিলাম ---সময় দেই--রোগী চেম্বারে যেতে বলি না।
মনোরোগ কোন দৈব বা গায়েবী রোগ নয়। আর দশটা রোগের মত সাধারন রোগ। অন্য রোগে যেমন কেমিকেল অষুধ দেয়া হয়-- মানসিক রোগেও এলোপ্যাথিক ওষুধ খেয়ে দিব্যি ভাল থাকা যায়। দীর্ঘায়ু থাকা যায়।
আমার ইমেইলে আপনার সমস্যা জানাতে পারেন-- সময় সুযোগ মত আমার পরামর্শদেব। আমার ইমেইল ঠিকানা[email protected]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



