
জম্মানোর পর দু বছরের মাথায় জানা গেল যে সন্তানটি বধির । তার শ্রবন ক্ষমতা প্রায় বলতে গেলে নেই । শ্রবনের জন্য তার শ্রবন যন্ত্রের প্রয়োজন । একই সমস্যায় ভুগছিলেন অভি , প্রবাল, মাসুদ, রত্না, তন্ময়, সুরা্ইয়াসহ আরো অনেক পরিবারের সদস্যরা , মহাখালী শ্রবনপ্রতিবন্ধী শিক্ষন স্কুলের অভিজ্ঞতায় এরকমটি জানা যায় । তারা সকলেই জানান, সন্তান জম্মের অনেক পরে এমনকি এক/দুই বছর পরে তারা যখন কথা বলেনা, মা ,বাবা বলে ডাকেনা তখন ডাক্তারের সরনাপন্য হয়ে জানতে পারেন তাদের দুর্দসার কথা । জানতে পারেন তাদের সন্তান বধির ।
প্রায় সব ক্ষে্ত্রেই পরিবারের লোকজনকে জানানো হয় ছেলে মেয়ে দেরকে মহাখালী 'সাহিকে' নিয়ে যেতে । সেখানে পরিক্ষার পর জানানো হয় বাচ্চা বধির । শ্রবনযন্ত্র ছাড়া সে শুনতে পারবেনা । কারো কোন কথা বুজতে পারবেনা বা নীজেও কথা বলতে পারবেনা । এর ফলে সে সমাজের আর দশটি সুস্থ স্বাভাবিক বাচ্চার মত শুনতে ও কথা বলতে পারবেনা । তার স্বাভাবিক জীবন যাপন ও লেখাপড়া হবে বিঘ্নিত ।
শুধুই কি তাই, কোনমতে শ্রবনযন্ত্র ব্যবহার শুরু করলেও পরে এর সঠিক ব্যবহার কৌশল জানা না থাকায় বার বার বিকল যন্ত্রের ভুক্তভোগী হতে হচ্ছে প্রতিবন্দী শিশু ও তার পরিবার লোকদেরকে, শাড়িরিক, মানষিক ও আর্থিক সবদিক থেকেই ।
দেশে প্রতি দিন হাজার হাজার বধির শিশু জম্ম নিচ্ছে । কিন্ত বাবা মায়ের সচেতনার অভাবে সন্তান জম্মের সংগে সংগেই সদ্য নবজাতকদের পরীক্ষা না করানোতে সমস্যা বেড়েই চলেছে । সদ্যজাত সন্তান শুনতে পারছে কিনা তা জন্মানোর সংগে সংগে বাড়ীতে বা হাসপাতালে পরীক্ষা করে নেয়া প্রয়োজন । যদি সময়মত বধিরতা ধরা পরে তাহলে বিশেযজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শ্রবনের জন্য উপযুক্ত শ্রবন যন্ত্র ও উন্নত প্রযুক্তির ককলিয়ার প্লান্ট ( অভিবাবকের সামর্থ অনুযায়ী )স্থাপন করলে ভাল সুফল পাওয়া যাবে । অনুরূপভাবে বধিরতা সনাক্ত হওয়ার পরে উপযুক্ত স্পিচ থেরাপীর মাধ্য়মে বধির বাচ্চাকে কথা বলানো শিক্ষা দেয়া যেতে পারে ।

ককলিয়ার ইনপ্লান্ট
ককলিয়ার ইনপ্লান্ট, এর সফল প্রয়োগে শ্রবন ও বাক প্রতিবন্ধী একটি শিশু প্রায় অন্য স্বাভাবিক শিশুর মতই শুনতে ও কথা বলতে পারবে ।
তাই সকলেরই উচিত অত্যাবশ্যকীয়ভাবে নবজাতকের শ্রবন পরীক্ষা করা । সে সমস্ত ক্লিনিকে বা হাসপাতালে বাচ্চা প্রসব সংক্রান্ত সেবা দেয়া হয় তাদের জন্য এটা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে । এরকম করা হলে বার্তাটি সমাজের প্রায় সকল স্তরেই পৌছে যাবে । উপকার হবে সমাজের লক্ষ লক্ষ শ্রবন ও বাক প্রতিবন্ধী শিশুর ।
সামহয়ারইন ব্লগার এর সকল ভাইবোনদের প্রতি আকুল আবেদন, তারা যদি নীজ নীজ সৃজনশীল সৃষ্টি যথা কবিতা, গল্প, শিল্পকর্ম, আলোচনা, প্রচারনা, ফেসবুক , টুইটার প্রভৃতি মাধ্যমে একটি বড় ধরনের সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলেন তাহলে হয়ত অগনিত ভাগ্যাহত শিশু মুক্তিপাবে তাদের নীজ ইচ্ছা বহির্ভুত আনাকাংখিত ভয়ানক দুর্দশার হাত থেকে ।
ঢাকার মহাথালীতে অবস্থিত দেশের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সাহিক’ শ্রবন প্রতিবন্ধী সনাক্তকরন (Society for Assistance to Hearing Impaired Children (SAHIC) এর ক্ষেত্রে একটি বিশেষ বিশেষ ভুমিকা রাখছে । নিম্মের লিংক থেকে যে কেও বিস্তারিত জানতে পারবেন ।
http://sahicbd.org/index.php/sahic-projects/national-centre-for-hearing-speech-for-children
এছাড়াও আন্তর্জাতিক ফোরাম আমাদের এই সমস্যাটি নিয়ে কি ভাবছে ও করছে তা দেখার জন্য London School of Hygiene and Tropical Medicine এর
“The Key Informant Child Disability Project in Bangladesh and Pakistan Main Report 2013”
শীর্ষক একটি রিপোর্ট নিম্মের লিংক থেকে দেখতে পারেন ।
file:///C:/Users/Admin/Downloads/Key-Informant-Child-Disability-Study-Main-Report1.pdf

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

