
বাংলার ভাওয়াইয়া গানের ভুবনে বিখ্যাত একটি গান -
কিও বন্ধু কাজল ভ্রমরা
কোন দিন আসিবে বন্ধু কইয়া যাও কইয়া যাও..
যদি বন্ধু যাইবার চাও ঘারের ঘামছা থুইয়া যাও, থুইয়া যাওরে ।
গানের এই কথা কয়টি দিয়ে একজন বিরহী প্রেমিকের বিরহগাথা কিভাবে প্রকাশ পায় তা গানটি একবার শুনেলই বুঝা যায় ।
মনে পড়ে যায় । একবার কমন ওয়েল্থ স্কলার হিসাবে এক বিদেশী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ গ্রহণ করতে হয়েছিল । প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশকারীদের বিদায় অনুষ্ঠানে প্রত্যেক অংশগ্রহন কারীকে ( যে যেমনই পারে তেমনভাবেই নীজ নীজ ভাষায় একটি গান ( প্রারম্ভে গানটির একটি পটভুমি ও সংক্ষিপ্ত ইংরেজী অনুবাদ দেয়ার আবশ্যকীয়তা ছিল ) গাওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল । অনুষ্ঠানে ২৭ টি বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারী ছিল, সকলেই যে যার মত গান গাইল । আমার পালা যখন এলো, তখন মনে হলো বাংলার একটি অতি জনপ্রিয় লোক সংগীত ভাওয়াইয়া গাইলে কেমন হয় । কি গাওয়া যায় ঠিক করতে বেশী বেগ পেতে হলোনা । পরিবার থেকে দুরে ছিলাম বলে বেশ কিছুদিনের বিরহ ব্যথা বুকে থাকায় মনে হল ‘কিও বন্ধু কাজল ভ্রমরা’ গানটি গাইলে বেশ হয় । মঞ্চে দাড়িয়ে গানটির পটভুমি ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে মনের সম্পুর্ণ আবেগ মিশিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজকদের অনুরোধের ঢেকী গিললাম । গান শেষে শ্রোতাদের করতালী অবশ্যই মিলল । কিন্তু মনটা খারাপ হলো ডিনার পার্টিতে । খেতে বসে পাশের একজন সহপাঠি যখন ভ্রমর সম্পর্কে তার কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্য দিলেন । তার বিবরণ ও সুত্র অনুসন্ধানে প্রাপ্ত কিছু তথ্য আমাদের প্রিয় সামহয়ারইন ব্লগের ভাই বোনদের উদ্দেশ্য নিবেদন করা হলো । উদ্দেশ্য এই মনোমুগ্ধকর সুদৃশ্য পতংগটি সম্পর্কে একটি সঠিক ধারনা বিনিময় করা এবং এই ক্ষতিকারক পতংগটিকে কিভাবে নিয়ন্ত্রন করা যায় সে বিষয়ে এটি সচেতনতা গড়ে তোলা । তবে পতংগটির বিষয়ে লম্বা একটি ভুমিকা দিয়ে পাঠকের ধৈর্যহানীর জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি । নিচের বিবরণ ও ইমেজ দেখে একে চিনুন, দেখুন , দমন করুন যদি প্রয়োজন মনে করেন । লোকপ্রিয় ভাওয়াইয়ার টানে কিংবা প্রিয় জনের জন্য বিরহ প্রকাশ করার প্রয়োজনে একে বিলুপ্তির হাত হতে টিকিয়েও রাখতে পারা যায় । কতভাবেই তো জীববৈচিত্র নষ্ট হচ্ছে আবার রক্ষাও পাচ্ছে প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে ।
কাজল ভ্রমর ( কারুকার্যময় কাজল ভ্রমর Emerald Ash Borer )

বৈজ্ঞানিক নাম : Agrilus planipennis
কারুকার্যময় এই ভ্রমরটিকে বাংলাদেশে প্রায়শই দেশী কড়ই গাছের কচি পাতা অংশে পাতা ভক্ষনরত অবস্থায়, কিংবা বনের বা গৃহস্থালীর যে কোন গাছেই বিচরণ করতে দেখা যায় । গ্রামীন বন্ধুরা সকলেই এই পতংগটি দেখে থাকলেও আমাদের শহুড়ে বন্ধুদের অনেকেরই হয়ত এই সৃদৃশ্য পতংগটি প্রতক্ষভাবে দেখার সৌভাগ্য হয়নি । এর ইমেজ দেখে হয়ত এটাকে চিনতে পারবেন ।
জীবন চক্র : এই পতংগটি প্রায় ৮ মিমি লম্বা ও ০.৬০মিমি প্রসস্ত । এটি সাধারনত: এক থেকে দুই বছর বাচে । তবে মেয়ে ভ্রমরের আয়ু অনেক কম । সাধারণত মেয়ে ভ্রমর গড়ে বছরে ৬০-৭০টি ডিম দেয় । গাছের পাতা ও নরম অংশ খেয়ে জীবন ধারন করে ।

বিধ্বংসী ক্ষমতা : এই পতংগটি গাছের ডালের অগ্রভাগের কোমল পাতা ও নরম অংশ ভক্ষন করে গাছের বৃদ্ধি রোধের মাধ্যমে প্রভুত ক্ষতি সাধন করে । চিত্রে এর বিধ্বংসী ক্ষমতার একটি নমুনা দেখুন :

গভীর পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে এর গতিবিধি মনিটর করে একে দমন করা যায় । ছবি দেখুন :

বিষাক্ত কিট নাশক প্রয়োগেও একে দমন করা যায় তবে বিষাক্ত কিট নাশকের প্রয়োগ জীব বৈচিত্রে বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে । তাই জৈবিক নিযন্ত্রন ( biological contol) পদ্ধতিকে অধিক শ্রেয় বলে বিজ্ঞানিরা মনে করেন । পরিবেশ সহায়ক অন্য কয়েকটি কিটের পতংগের সংক্রমনে ( যথা Spacious agrill, Oobious agrill , Spathious galinace যেগুলি ভ্রমর জাতীয় কিট পতংগ ছাড়া অন্য় কোন কিট পতংগকে আক্রমন করেনা ) এই ভ্রমরজাতীয় ক্ষতিকর পতংগের বিনাশ সম্ভব বলে পরিক্ষিত হয়েছে । এই দমন প্রক্রয়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে চীন, যুক্তরাষ্ট ও কানাডায় ব্যপকহারে প্রয়োগ করা হচ্ছে । আমাদের দেশের বিজ্ঞানিরাও পদ্বতিটি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

