somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মহামারী ব্ল্যাক ডেথের গর্ভ হতে জন্ম নেয়া কিছু সাহিত্য ও শিল্প কর্ম নিয়ে একটি পর্যালোচনা।

১৩ ই জুন, ২০২১ রাত ৯:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রচ্ছদ ছবি সুত্র : Click This Link
আমরা অনেকেই জানি ব্ল্যাক ডেথ ( Black Death) নামে পরিচিত মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর একটি মহামারী অস্বাভাবিক মারণক্ষমতা নিয়ে প্যানডেমিক হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বিশ্বে। মধ্য এশিয়া কিংবা মতান্তরে ক্রিমিয়া হতে সিল্ক রুট ধরে কয়েকটি বানিজ্যিক জাহাজে ১৩৪৭ সালে ভয়াবহ প্লেগ পৌঁছে গিয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর কন্সটানটিনোপলে। জাহাজে থাকা কালো ইঁদূরের সঙ্গে প্লেগ কন্সটানটিনোপল থেকে ঢুকে পড়েছিল ভূমধ্যসাগরের দ্বীপ সিসিলিতে। সিসিলি থেকে ১৩৪৮ সালে ব্ল্যাক ডেথ ইতালিতে পৌঁছায় এবং কিছু দিনের মধ্যেই সারা ইতালি ছেয়ে যায় ভয়াবহ প্লেগে। ইতালি হয়ে উঠেছিল মৃত্যুপুরী। এরপর ইতালিকে সেতুবন্ধন করে ব্ল্যাক ডেথ ছড়িয়ে পড়েছিল সারা ইউরোপে। যেমনটি বর্তমানে চীনের কোহান থেকে উৎপন্ন হয়ে কোভিড ১৯ আজকে পেনডেমিক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে সারা বিশ্বে । বিভিন্ন সুত্র ঘেটে জানা যায় দ্বিতীয় ব্ল্যাক ডেথ নামক মহামারীর কারণে মাত্র ৫০ বছর সময়কালে তথা ১৪০০ সালের দিকে বিশ্বের জনসংখ্যা ৪৫০ মিলিয়ন থেকে কমে গিয়ে ৩৫০-৩৭৫ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছিল বলে অনুমিত হয়েছিল সুত্র : Click This Link তখন ইউরোপের অনেক দেশই দেখেছিল মৃতের পাহাড় , মৃতদের সংকারো ছিল কঠীন ব্যপার ।
ছবি-২ : Depiction of dead bodies piled up during the pandemic (Credits: Greatcoursesdaily)


সুত্র : Click This Link
১৩৪৮ সালের সেই বিখ্যাত কালো মৃত্যুর ( Black Death ) হাত থেকে বাঁচার জন্য দশজন যুবক যুবতি দু'সপ্তাহ ধরে প্লেগাক্রান্ত ইটালির ফ্লোরেন্স থেকে দুরে গ্রামাঞ্চলের এক নির্জন ভিলায় পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা দু সপ্তাহ ছিলেন, দিনগুলি অতিক্রম করার জন্য, দলের প্রতিটি সদস্য একটি গল্প শোনাতেন। সপ্তাহে দুই দিন বিশ্রাম বাদ দিয়ে দুই সপ্তাহের ১০ দিবস ছিল গল্প বলার দিন । এভাবে, পনেরো দিন শেষে তারা ১০০ টি গল্প বলেছেন।
ছবি-৩ : ফ্লোরেন্স , ইটালিয়ান রেঁনেসার জন্মন্থান


দশ জন যুবক যুবতির প্রত্যেকেই দশ দিনের মধ্যে এক দিবসের জন্য রাজা বা রানী হিসাবে অভিষিক্ত হতেন। রাজা রানীর দায়িত্ব ছিল সেই দিনের গল্পগুলির থিম তথা বিষয় নির্বাচন করা । দিনের গল্প বলার বিষয়গুলির মধ্যে নিন্মোক্তগুলি ছিল:
ভাগ্যের শক্তির উদাহরণ;
মানুষের ইচ্ছাশক্তির উদাহরণ;
প্রেমের গল্প যা ট্র্যাজিকালি শেষ হয়;
প্রেমের গল্প যা সুখে শেষ হয়;
মজাদার উত্তর যা বক্তার স্বার্থ সংরক্ষণ করে;
মজাদার কৌশল যা মহিলারা পুরুষদের উপর খেলেন;
মজাদার কৌশল যা লোকেরা সাধারণভাবে একে অপরে প্রয়োগ করেন ; এবং
পুণ্যের উদাহরণ।


গল্পের মূল প্লটগুলির মধ্যে রয়েছে পাদ্রিদের লালসা ও লোভকে ঠাট্টা করা, নতুন ধনী বণিক শ্রেণী ও মহৎ পরিবারগুলির মধ্যে ইতালীয় সমাজে উত্তেজনা এবং ভ্রমণ ব্যবসায়ীদের বিপদ ও দুঃসাহসিকতার কথা অন্তর্ভুক্ত করা । এগুলিতো চতুর্দশ শতকে শুরু হওয়া ইটালিয়ান রেঁনেসার মুল সুরেরই প্রতিধ্বনি।

ইটালীর রেঁনেসা যুগের সাহিত্যিক জিওভান্নি বোকাচ্চিওর (Giovanni Boccaccio) ১৩৪৮ সালে লেখা ডেকামেরন (Decameron) উপন্যাসে উঠে এসেছিল ব্ল্যাক ডেথের ভয়ঙ্কর উপসর্গগুলির সাথে মিল রেখে অনেক গল্পকথা । ডেকামেরনে রয়েছে ১০০ টি গল্পের একটি সংকলন ( সুত্র : https://en.wikipedia.org/wiki/The_Decameron )
ছবি-৪ : রেঁনেসার সাহিত্যিক জিওভান্নি বোকাচ্চিও ( ১৬জুন১৩১৩ - ২১ ডিসেম্বর ১৩৭৫)


ছবি সুত্র : https://en.wikipedia.org/wiki/The_Decameron
ডেকামেরন এর গল্পগাথা অনুসরনে জন উইলিয়াম ওয়াটারহাওস কর্তৃক কেনভাসের উপর অঙ্কিত একটি বিখ্যাত তৈল চিত্র ।
ছবি-৫ : A tale from the Decameron by John William Waterhouse


সুত্র : https://en.wikipedia.org/wiki/The_Decameron#/media/File:Waterhouse_decameron.jpg
বর্তমানে চিত্র কর্মটি Lady Lever Art Gallery, Port Sunlight, UK তে সংরক্ষিত ।
ইটালীর রেঁনেসা যুগের এই বিখ্যাত লেখকের ডেকামেরন উপন্যাসে থাকা গল্প অবলম্বনে প্রায় পাঁচশত বছর পরে আর এক বিশ্ববরেন্য ইংরেজ রোমান্টিক কবি জন কিটস ( John Keats) লিখেন ইসাবেল বা তুলসি পাত্র ( Isabel, or Pot of Basil) শিরোনামে একটি বর্ণনামুলক কবিতা, প্রকাশকাল ১৮১৮ সাল ।
উল্লেখ্য জন কিটস যক্ষাক্রান্ত হয়ে মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা যান । এই স্বল্প জীবন কালেই তিনি রেখে যান কিছু কালজয়ি কবিতা ।
ছবি-৬ : জন কিটস (৩১ অক্টোবর ১৭৯৫ - ২৩ ফেব্রুয়ারী ১৮২১)


সুত্র : উইলিয়াম হিলটনের আঁকা জন কিটসের ছবি https://bn.wikipedia.org/wiki /জন_কিটস#/media/John_Keats_by_William_Hilton.jpg
জন কিটস এর ‘ইসাবেলা বা পট অফ বাসিল‌’ কবিতাটিতে একজোড়া প্রেমিক প্রেমিকার বিয়োগান্তক করুণ প্রেমের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে । সুন্দরী যুবতী ইসাবেলার পরিবার তাকে উচ্চ অভিজাত বংশীয় ধনবান লোক ও তার জলপাই গাছের সাথে বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিল। কিন্তু যুবতি ইছাবেলা তার বিত্তশালী ব্যবসায়ী ভাইদের এক কর্মচারী লরেঞ্জোর প্রেমাসক্ত হয়ে পড়ে । ইসাবেলা এবং লোরেঞ্জোর মধ্যে প্রস্ফুটিত প্রেম নিয়ে ইসাবেলার ভাইএরা হয় অসন্তুষ্ট । তাই তার ভাইয়েরা লোরেঞ্জোকে বেড়ানোর নাম করে নির্জন স্থানে পাঠিয়ে হত্যা করে জঙ্গলের মধ্যে মাটিতে পুতে রাখে । পরে লরেঞ্জো ভূত রূপে উপস্থিত হয়ে ইসাবেলার কাছে তার সমাহিত দেহটি কোথায় খুঁজে পাবে সেসব কথা বলে দেয়। ইসাবেলা সমাহিত স্থানটি খনন করে লরেঞ্জোর মাথা কেটে নিয়ে আসে এবং তুলসী গাছ লাগানো একটি পাত্রে সমাহিত করে। নীজের চোখের অশ্রু দিয়ে তাতে জল সিঞ্চন করে। অবশেষে তার ভাইএরা সন্দেহপ্রবন হয়ে পরে ,তারা পাত্রটি চুরি করে পালিয়ে যায়। ইসাবেলা দুঃখে পাগল হয়ে মারা যায়। কবিতাটিতে পরিষ্ফুট হয় যে সত্যিকারের প্রেম মসৃণ গতিতে চলতে পারেনা, একটি করুন বিয়োগান্তক ঘটনার মধ্য দিয়ে তার পরিসমাপ্তি ঘটে।

কিটস এর কবিতাটি মোট ৬৩টি স্তবকে লিখিত । এখানে সেই বিশাল কবিতাটি হতে প্রথম, মাঝের ও শেষ দিকের কয়েকটি স্তবকের একটি বঙ্গানুবাদ তুলে ধরে ইসাবেলার মর্মান্তিক জীবন কাহিনীর শুরু ও শেষটার কিছু মহুর্তের কথা তুলে ধরা হয়েছে । এখানে বলে রাখি, কিটসের মত জগত বিখ্যাত কবির কবিতায় ব্যবহৃত অপুর্ব ব্যঞ্জনাময় ও মহুমুখী ভাবধারা সম্পন্ন শব্দ সমুহ, সে সাথে মাঝে মাঝে বেশ কিছু পুরাতন ইংরেজী শব্দ মিশ্রিত কবিতাটির সহি বাংলা অনুবাদ করা আমার পক্ষে বেশ কঠীন বিষয়, তবে আলোচনার প্রয়োজনে যতটুকু পারা যায় কবিতাটির একটি সরল বঙ্গানুবাদ, বলতে গেলে ভাবানুবাদ এখানে গ্রথিত করা হলো ।

এখানে উল্লেখ্য যে, এই কবিতার অনেক জায়গায় একই চরণে লরেঞ্জো ও ইসাবেলার তৃতীয় লিঙ্গকে He এবং She দিয়ে প্রকাশ করায় এর একটি মাত্র বাংলা প্রতিশব্দ ‘সে’দিয়ে প্রকাশ করা বেশ কঠিন । তাই প্রয়োজন অনুযায়ী শব্দ দুটিকে লরেঞ্জো( যুবক) ও ইসাবেলা ( যুবতি) দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। মনে হচ্ছে বাংলা ভাষায় He এবং She এর সঠিক লিঙ্গ বিভাজন বোধক শব্দ উদ্ভাবন করা প্রয়োজন। এই লিংক ফলো করে আগ্রহী পাঠকগন সম্পুর্ণ মূল কবিতাটি পাঠ করে নিতে পারবেন ।
https://genius.com/John-keats-isabella-or-the-pot-of-basil-annotated









ছবিটি প্রি-রাফেলাইট চিত্রকর্মের রুটের সাথে যুক্ত ।



প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বিভিন্ন পর্বে লেখা ডেকামেরনে অনেক মজার মজার গল্প কথার সমাহার রয়েছে। ডেকামেরনের গল্পগাথা হতে সে সময়কার অনেক কবি সাহিত্যিক ও চিত্রকরেরা বেশ কিছু সুন্দর সুন্দর চিত্র কর্মও সৃজন করেছেন। ডেকামেরন এর গল্পগাথা অনুসরনে জন উইলিয়াম ওয়াটারহাওস কতৃক কেনভাসে অঙ্কিত একটি বিখ্যাত তৈল চিত্র উপরে পুর্বেই দেখানো হয়েছে।

উল্লেখ্য ১৮৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রি-রাফেলাইট ব্রাদারহুড (Pre-Raphaelite Brotherhood) নামে ইংরেজ চিত্রশিল্পী, কবি এবং শিল্প সমালোচকদের একটি গ্রুপ ছিল।কবিতাটি প্রি-রাফেলাইট চিত্রশিল্পীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল,যদিও কবিতা কোন চিত্রকল্পের বিষয় নয়, ভাববোধ বা ভাব সৃষ্টির বিষয়ই হলো কবিতা। তাইতো কবিতাটির ভাববোধ বা সৃষ্টভাবের অনুসরনে বেশ কজন নামকরা চিত্রশিল্পী এর কয়েকটি পর্বের বিশেষ মহুর্তের চিত্র রংতুলিতে তুলে ধরেছিলেন।এদের মধ্যে প্রচ্ছদে দেখানো শিল্পকর্মটি উইলিয়াম হলম্যান হান্ট সৃজিত ইসাবেলা বা পট অফ বাসিল, যা সমসাময়িককালে বেশী খ্যাতি পায়।এই কবিতাটি অবলম্বনে আরেক খ্যতিমান চিত্রশিল্পী জন উইলিয়াম ওয়াটার হাউস Isabella and the Pot of Basil শিরোনামে সৃস্টি করেন আরো একটি সুন্দর চিত্রকর্ম ।
ছবি -৭ : জন উইলিয়াম ওয়াটারহাউস অঙ্কিত Isabella and the Pot of Basil


সুত্র : Click This Link
কিটসের কবিতা অবলম্বনে John Everett Millais ‘ইসাবেলা’( লরেঞ্জো ও ইসাবেলা নামেও পরিচিত )শীরোনামে একটি তৈল চিত্র সৃষ্টি করেন ।প্রি-রাফেলাইট শৈলীতে অঙ্কিত জন এভারেট মিল্লাইসের চিত্রকর্মটি ১৮৪৯ সালে রয়্যাল একাডেমিতে প্রথম প্রদর্শিত হয়েছিল এবং এখন এটি রয়েছে লিভারপুলের ওয়াকার আর্ট গ্যালারী সংকলনে।
চিত্রটিতে ইসাবেলাকে খুবই বিমর্ষ দেখাচ্ছিল যখন তার একজন ভাই ক্রোধের বশবর্তী হয়ে তার কুকুরটিকে লাথি মারে। মিল্লাইস সৃষ্ট ‘ইসাবেলা মধ্যযুগীয় বিবরণ প্রকাশের দক্ষতার এক চমকপ্রদ উদাহরণ, চিত্রে দেখানো ইসাবেলার বিমর্ষ , পাতলা চেহারাটি রেনেসাঁস ম্যাডোনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
ছবি -৮ : এভারেট মিল্লাইস অঙ্কিত ইসাবেলা (লোরেঞ্জো এবং ইসাবেলা নামে পরিচিত)



গিউভান্নী বোকাচ্চিউর ডেকামেরন উপন্যাস ‘লিসাবেত্তা ই ইল টেস্টো ডি বাসিলিকো’ (১৩৪৯ – ১৩৫৩) পর্বের কাহিনীর বিশেষ মহুর্তগুলি কিটসের কবিতা ইসাবেলা বা পট অফ বাসিল দ্বারা পুনরুজ্জিবিত করা হয়েছিল,যেখানে মধ্যযুগীয় ধনী ব্যবসায়ীদের বোন ইসাবেলা এবং তাদের কর্মচারী লরেঞ্জোর মধ্যকার সম্পর্কের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এখানে মিল্লাসের চিত্রকর্মটি সেই মুহুর্তটি চিত্রিত করেছে যেখানে ইসাবেলার ভাইরা বুঝতে পেরেছিলেন যে ইছাবেলা ও লরেঞ্জোর মধ্যে একটি প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে, একারণে লরেঞ্জোকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল যাতে করে তারা ইসাবেলাকে একজন ধনী আভিজাত্যের সাথে বিয়ে দিতে পারে ।
জন এভারেট মিল্লাইস ১৮৪৮-৯ সালে প্রি-রাফেলাইট চিত্রকলার প্রথম প্রবন্ধে এই বিষয়টির অবতারনা করেছিলেন। মিল্লাইস অঙ্কিত নীচের ’চিত্রকর্মটিতে দেখা যায় মধ্যযুগীয় নিন্মশেণীর প্রেমিকগন তাদের চারপাশের অন্যদের কাছে ছিল অবহেলিত, যেমন ইসাবেলা লোরেঞ্জোকে লজ্জাজনকভাবে মলিনমুখে একটি প্লেটে রক্তের কমলা পরিবেশন করছে দেখা যায় ।
ছবি - ৯ : Isabella and her lover, whose head ultimately ends up in a pot of basil.


সুত্র: Click This Link)
পরে জন হোয়াইট আলেকজান্ডার তাঁর ১৮৯৭ সনে প্রকাশিত এক কবিতায় ইসাবেলা এবং পট অফ বাসিলের কবিতাটি চিত্রিত করেছেন, বর্তমানে বোস্টনের ফাইন আর্টস মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে ।


ছবি সুত্র : Click This Link

বিপরীতে, উইলিয়াম হান্টের চিত্রটি যেন একটি ঘন কাল কেশবতী ভূমধ্যসাগরীয় চেহারাযুক্ত বহিরাগত মহিলার চিত্র ।এখানে ইসাবেলা খোলাকাশের তাকিয়ে আছে, তার বাহুদুটি কোমলভাবে মাথার খুলি দিয়ে সজ্জিত একটি পাত্রকে আলিঙ্গন করেছে, যা হান্ট ফ্লোরেন্সে দেখেছেন এমন উদাহরণের ভিত্তিতে। সে একটি গাউন জাতীয পোশাক পরে আছে, তার বক্ররেখার উপর জোর দিয়ে নাইট ড্রেস আঁকড়ে ধরেছে এবং তার পদযুগল খালি রয়েছে, যা এই চিত্রটির আরও বেশি কামুক সংস্করণ তৈরি করেছে।

উইলিয়াম হলম্যান হান্ট অঙ্কিত চিত্র কর্মটির ইতিবৃত্ত নিয়ে দু চারটি কথা প্রসঙ্গক্রমে এখানে বলা যায় ।
পুর্বেই বলা হয়েছে ইসাবেলা,বা পট অফ বাসিল অবলম্বনে চিত্রকর্মটি সম্পন্ন হয়েছিল ১৮৬৮ সালে। এটিতে নায়িকা ইসাবেলা একটি তুলসী পাত্রে তার খুন হওয়া প্রেমিক লরেঞ্জোর কাটা মাথাটি সমাহিত করে তার বেদীতে মাথা রেখে শোকাতুর থাকার দৃশ্যাবলি চিত্রিত করেছেন। উইলিয়াম হলমেন হান্ট ছিলেন প্রি-রাফেলাইট ব্রাদারহুড গ্রপের একজন খ্যতিমান ইংরেজ চিত্রশিল্পী ।
ছবি -১০ : উইলিয়াম হলমেন হান্ট ( ২ এপ্রিল ১৮২৭- ৭ সেপ্টেম্বর ১৯১০)


সুত্র Click This Link
প্রাক-রাফেলাইট ব্রাদারহুড প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের পরে ১৮৪৮ সনে হান্ট এই কবিতাটি অবলম্বনে একটি চিত্র তুলে ধরেছিলেন, তবে তিনি সেটিকে একটি সম্পূর্ণ চিত্রকর্মে পরিণত করেননি। চিত্রটিতে কিছু আলাদা দৃশ্যে চিত্রিত হয়েছিল যথা ইসাবেলার ভাইরা যখন তাদের ব্যবসায়ী অ্যাকাউন্টস এবং ক্রয়াদেশগুলি পর্যালোচনা করছিন সে সময় সেখানে লরেনজোকে তাদের একজন সাধারণ কর্মচারী হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে হান্ট তাঁর বিয়ের কিছু পরে ১৮৬৬ সালে পুনরায় এই কবিতায় ফিরে আসেন, যখন তিনি বেশ কয়েকটি আবেগঘন ঘ বিষয় আঁকতে শুরু করেন। এই সময়ে তিনি তাঁর গর্ভবতী স্ত্রী ফ্যানির সাথে ইতালিতে ভ্রমণে যান । ১৮৬৬ সালের ডিসেম্বরে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা ফ্যানি মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর কয়েক মাস পরে অবিচ্ছিন্নভাবে চিত্রকর্মটি নিয়ে কাজ করেন , ১৮৬৭ সালে ইংল্যান্ডে ফিরে এসে অবশেষে ১৮৬৮ সালের জানুয়ারিতে এটি সম্পন্ন করেছিলেন। চিত্রকর্মটি আর্নেস্ট গাম্বার্ট নামে একজন বিত্তবান চিত্র ব্যবসায়ী কিনেছিলেন এবং এর একটি প্রদর্শনী করেছিলেন। উল্লেখ্য চিত্রকর্মটি ২০০৪ সনে লন্ডনে অনুষ্ঠিত নিলামে ৪.৪৬ মিলিয়ন ডলারে ডাক উঠেছিল । বর্তমানে এটি Laing Art Gallery, Newcastle Upon Tyne এ প্রদর্শনীর জন্য সংরক্ষিত আছে ।


সুত্র: Click This Link
পেইন্টিংয়ে চিত্রিত ইসাবেলা ঘুমাতে পারছে না, একটি অর্ধ-স্বচ্ছ নাইটগাউন পরে সবেমাত্র তার বিছানা ছেড়ে গেছে, সে লরেনজোর পায়ের কাছে একটি বেদী তৈরি করেছেন, তার উপরে প্রচুর পরিমাণে সূচিকর্মযুক্ত কাপড় স্থাপন করা হয়েছে। কাপড়ের উপর মাজোলিকার পাত্রটি রয়েছে, খুলি দিয়ে সজ্জিত, এতে লরেঞ্জোর মাথাটি অন্তর্নিহিত। ইসাবেলার প্রচুর চুল পাত্রের ওপরে এবং বাড়ন্ত তুলসি গাছের চারপাশে পতিত , চিত্রটি কিটসের এই কথা প্রতিফলিত করে যে ইসাবেলা "তার প্রিয় তুলসী চিরকাল ধরে ঝুলিয়ে রেখেছিল / এবং কান্নায় ভিজিয়ে দিয়েছিল"। চিত্রকর্মটিতে কামুকতা, সমৃদ্ধ রঙ এবং বিস্তৃত আলংকারিক বিষয়াদির উপর জোরালো ছাপ সমুহ হান্টের প্রাক-রাফেলাইট সহযোগীদের যথা জন এভার্ট মিলাস এর Pot Pourri, এবং দান্তে গাব্রিয়েল রোসেটির Venus Verticordia চিত্র কর্ম সমুহের ছাপ রয়েছে ।
ছবি – ১১ : এভার্ট মিল্লাত অঙ্কিত Pot Pourri


সুত্র : Click This Link
দান্তে গাব্রিয়েল রোসেটি‌র Venus Verticordia, কাজের বিকাশমান নান্দনিক আন্দোলন এবং অনুরূপ বৈশিষ্ট্যগুলি প্রতিফলিত হয়েছে
ছবি – ১২ : দান্তে গাব্রিয়েল রোসেটি অঙ্কিত ভেনাস ভার্টিকর্ডিয়া


সুত্র: Click This Link)#/media/File:Dante_Gabriel_Rossetti_-_Venus_Verticordia.jpg
Russell-art gallery and museum in Bournemouth, England চিত্র কর্মটি সংরক্ষিত আছে ।
দান্তে গ্যাব্রিয়েল রোসেটে অঙ্কিত ভেনাস ভার্টিকর্ডিয়া ঘন সবুজ বাগানে গোলাপী ফুল ঘেরা সুন্দর স্বর্নালী চুলের এক যুবতি মহিলা যা দেবী ভেনাসেরই একটি অর্ধ-নগ্ন চিত্র। তার বাম স্তনটি দৃশ্যমান, ডানদিকে অস্পষ্ট সোনালী আপেল যা তিনি তার বাম হাতে ধরেছেন। চিত্রটির মর্মার্থ হলো ভেনাসের ক্ষমতা রয়েছে মহিলাদের হৃদয়কে পূণ্যের দিকে ধাবিত করা 'Venus, Changer of the heart', derives from Latin and refers to Venus's ability to turn women's hearts towards virtue.
চিত্রটির নান্দনিক আন্দোলন হান্টের প্রাক-রাফেলাইট সহযোগী জন এভারেট মিল্লাইস এর পট পুরি এবং দান্তে গ্যাব্রিয়েল রোসেটির ভেনাস ভার্টিকর্ডিয়াতে থাকা একই রকম বৈশিষ্ট্যগুলি প্রতিফলিত করে।

এখানে প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে শুধুমাত্র চিত্রশিল্পীগনই নন এই কবিতাটিতে জন কিটসেরই অপর একটি কবিতা যথা “ সেন্ট অ্যাগনেস অফ দ্য ইভের” পূর্বসূর নিহীত রয়েছে। মধ্যযুগের বিপজ্জনক রোম্যান্স আর উদ্বেগ মিশ্রিত জন কিটসের এই কবিতাটি ১৮২০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। কবিতাটিকে কিটসের অনেক সমসাময়িক এবং ভিক্টোরিয়ান্স উত্তরসূরিগন অন্যতম সেরা কবিতা হিসাবে বিবেচনা করেছিলেন এবং ১৯ শতকের সাহিত্যে বেশ প্রভাবশালী কবিতা হিসাবেই স্বীকৃতি পেয়েছিল ।
ছবি-১৩ : Eve of St Agnes, John Everett Millaisc. 1863


সুত্র :https://www.wikiart.org/en/john-everett-millais/the-eve-of-saint-agnes-1863

কিটস তাঁর Eve of St Agnes কবিতাকে লোক-বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে তুলেছিলেন। উল্লেখ্য দরবেশ অ্যাগনেস ছিলেন ভার্জিনের পেটরন সেন্ট ।কোন মেয়ে তার স্বপ্নের ভবিষ্যতে স্বামীকে দেখতে পারে যদি সে সেন্ট অ্যাগনেস এর সমীপে নিয়মাচার মেনে প্রার্থনা করে । নিয়মটি হলো কুমারী মেয়েটি কোন প্রকার নৈশভোজ না করে বিছানায় গিয়ে প্রভুর প্রতি প্রার্থনা করার সময় পিনকুশন থেকে একটি একটি করে পিন তুলে নীজ হাতাতে (sleeve) ফুটায় আর প্রভু সেন্ট অ্যাগনেসের কাছে কাছে প্রার্থনা গীতে বলে "অ্যাগনেস মিষ্টি, এবং অ্যাগনেস ফেয়ার, এখানে, এখনই নজর দিন ; বনি অ্যাগনেস, যে বালকটি আমাকে বিয়ে করবে তাকে দেখতে দিন।" এমনভাবে নিয়মাচার মেনে প্রার্থনা করলে মেয়েটির কাছে তার কাঙ্খিত স্বামী স্বপ্নে উপস্থিত হতেন।

মোদ্দাকথা হলো, কবিতা কবিতার জন্ম দেয়, জন্ম দেয় শিল্পের , জাগিয়ে তুলে মানুষের মনে সুকুমার শিল্প সত্তার, মানুষ হয় বিনয়ী উচ্চ বিত্ত ও নিন্ম বিত্তের মাঝে বিভেদের দেয়াল ভেঙ্গে করে খান খান, জগত পায় মুক্তির দিশা । কবিতার কথা মালা অনুপ্রানিত করে চিত্রশিল্পকে আর চিত্রশিল্প অনুপ্রানিত করে কথা শিল্পকে । একটি দুর্দান্ত কাব্যগাথা দ্বারা কেমন করে উদ্দীপক সৃজনশীলতা বাড়ানো যায় তার একটি উদাহরণ হলো ১৮৯৩ সালে উইলিয়াম ওয়াটারহাউস অঙ্কিত নীচের চিত্রিটি ।
ছবি-১৪ : La Belle Dame sans Merci 1893


সুত্র : Click This Link).jpg
কোভিড ১৯ পেনডেমিক আকার ধারণ করেছে । এখন পর্যন্ত দুনিয়া জুরে ১৭.৫৬ কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন ,৩৭.৯০ লক্ষাধিক মানুষ মৃত্যুবরন করেছেন( তথ্যসুত্র ওয়ার্ল্ডোমিটার), এর মধ্যে বাংলাদেশে ৮.২২ লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন যার মধ্যে ১৩হাজার মানুষ মৃত্যুবরন করেছেন। করোনার বিস্তার এখনো উর্দ্র্বমুখী। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যথাযথ টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে মানবদেহে এর জীবননাশী ক্ষমতা বিনাশ করতে। সকলে চেষ্টা করছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও বিবিধ প্রকারে সামাজিক দুরত্ব ও কোয়ানেন্টাইন মেনে চলে নীজে বাঁচ, পৃথিবীর মানবকুলকে বাঁচাও এ নীতি কঠোরভাবে মেনে চলতে । ব্ল্যাক ডেথের সময়কালে যেমনিভাবে রচিত হয়েছে গল্প গাথা , কবিতা চিত্র কথা, তেমনটি আমরাও গিউভান্নী বোকাচ্চিউর মত সামুর এই প্লাট ফর্মটিকে ব্যবহার করে ফ্লোরেন্সের সেই গল্পকারদের মত বিবিধ ধরনের গল্প কবিতা, চিত্রকর্ম কিংবা গঠনমুলক যে কোন লেখা জোকা দিয়ে উদ্দীপক সৃজনশীলতার চর্চা করতে পারি । অনেকেই কোভিড ১৯ এর করুন গাথা নিয়ে বেশ কিছু সাহিত্য কর্ম রচনা করেছেন এবং প্রকাশ করেছেন সামুর পাতাতে । তাঁদের সকলের প্রতি রইল অপরিসীম ভালবাসা ও শ্রদ্ধা।

উৎসর্গ
এখানে প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে এই ব্লগের একজন ব্লগার ও গুণী কবি খায়রুল আহসান গত ৪ঠা জুন ২০২১ তারিখে ‘কবিতাঃ ‘কভিড-১৯’ - মধ্য একুশে’
শিরোনামে একটি কবিতা লিখেছেন ।কবিতাটি পাঠে এতই অভিভুত হয়েছিলাম যে মন্তব্যের ঘরে আমি বলেছি "করোনা নিয়ে কবিতাটি এমন সময়ে লেখা হয়েছে যখন করোনা নিয়ে শৈল্পিক প্রকাশটি সচরাচর আর কোথাও পরিলক্ষিত হয়না । তাই এটি করোনার ভয়ঙ্কর শৈল্পিক শক্তির এক দুর্দান্ত উদাহরণ বলে মানতেই হয়"। তাঁর কবিতার কথামালায় অনুপ্রানীত হয়ে ভাবতে থাকি একটি কালোর্ত্তীর্ণ কবিতা কিভাবে কবিতার জন্ম দেয়, জন্ম দেয় শিল্পের , জাগিয়ে তুলে মানুষের মনে সুকুমার শিল্প সত্তা সেসব কথা ভাবতে গিয়ে এই পোষ্টের জন্য শুরু করি একটি লেখা । তাই অনুপ্রেরণার কেন্দ্রমুলে থাকা শ্রদ্ধেয় ব্লগার জনাব খায়রুল আহসানের প্রতি লেখাটি উৎসর্গিত।


তথ্য ও ছবি সুত্র :
যথাস্থানে লিংক যুক্ত করা হয়েছে।
পোষ্টে ব্যবহৃত ছবিগুলি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সহ সুত্রে থাকা পাবলিক ডোমেইন হতে নেয়া হয়েছে ।
এছাড়া নিন্মোক্ত সুত্র হতে তথ্যের জন্য সাহায্য নেয়া হয়েছে :
The bibliography of John Keats poetry. Available at Click This Link
( accessed on 07/06/2021)
Isabella, or the Pot of Basil (1818)। Available at Click This Link (accessed on 07/06/2021)
The Decameron , Available at https://en.wikipedia.org/wiki/The_Decameron (accessed on 07/06/2021)
La Belle Dame sans Merci। Available at Click This Link
Accessed on 07/06/21)
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০২১ রাত ১২:২৫
৩৩টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এক মুক্তিযোদ্ধার নিঃশব্দ প্রস্থান

লিখেছেন জুন, ০১ লা আগস্ট, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৪০



১৬ বছরের কিশোর এক ধনীর আদরের দুলাল, সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম, যার পরিবারে রাজনীতির ছায়া মাত্র নেই সেই কি না এক রাতে সবার অগোচরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে সম্ভাবনার লেখা নাই কেন ?

লিখেছেন রক্তহীন, ০১ লা আগস্ট, ২০২১ রাত ৮:১৮



জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে ব্লগে বাংলাদেশকে নিয়ে সম্ভাবনার লেখা দেখিনা। বরং সবাই দেখি দেশকে নিয়ে হতাশ, অর্থনৈতিক দূর্বলতা, সামাজিক সংকট, দুর্ণীতি ও সরকারের দোষ এসব নিয়ে লিখতেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাও তো বটে, আনেটা কে?

লিখেছেন মোঃ মোশাররফ হোসাইন, ০২ রা আগস্ট, ২০২১ রাত ১২:০৪

দেশে বেসরকারি টিভি চ্যানেল চালু হবার পর সবচাইতে বেশী আলোচিত হয় টক শো। প্রতিদিন রাতে ধোয়ামোছা চলে দেশের সরকারের। দেখানো হয় কত সহজেই বাংলাদেশ আবার সোনার বাংলা হতে পারে!! অথচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা ১০ জাতের আম চেনার উপায়

লিখেছেন মামুন নজরুল ইসলাম, ০২ রা আগস্ট, ২০২১ রাত ১২:১৮


আমকে ফলের রাজা বলা হয়। মধু মাসের এ সময়টাতে আম খেতে পছন্দ করেন না এমন বাঙালি পাওয়া দুস্কর। বাজারে বিভিন্ন ধরনের আম রয়েছে। কিন্তু কোনটা যে কি আম, তা চিনতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্যার শব্দে আমাদের এতো সমস্যা কেন?

লিখেছেন আমারে স্যার ডাকবা, ০২ রা আগস্ট, ২০২১ ভোর ৪:০৪

প্রথমেই বলি এই বিষয়ে আমার লেখার ইচ্ছে ছিলো না, কিন্তু এখন না লিখেও পারতেছি না। কিছু মানুষের আচরনে আমি পুরো হতবাক হয়ে গেছি। তাদের লজিক শুনে হাসতে হাসতে ঠোট ফেটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×