
নদীর বুক ভরাট হয়ে গেছে বহুদিন
পদ্মার শ্বাসে এখন কাদা আর ক্লান্তি
যেখানে একদিন জোয়ার উঠত দূর জনপদে
আজ সেখানে শুকনো চরের নিঃশব্দ প্রহরী।
বাংলাদেশে এখন জোয়ারের প্রাণ
মূলত দক্ষিণের লবণাক্ত বাতাসে বাঁধা
সুন্দরবনের গোপন খাঁড়ি
পশুর, শিবসা, তেতুলিয়ার ঢেউ
এখনো সমুদ্রের সংবাদ আনে।
আর উত্তরে?
করতোয়া যেন পুরোনো ইতিহাস
আত্রাইয়ের বুকে ধুলোর সংসার
তিস্তা তার ভাঙা কণ্ঠে শুধু স্মরণ করে
কীভাবে একদিন জল কথা বলত।
নদী যেমন ভরাট হয়
রাজনীতিও তেমনি
প্রথমে স্রোত কমে
তারপর ভাষা শুকিয়ে যায়
তারপর মানুষ বুঝতেই পারে না
কখন নদী আর নদী থাকে না
কেবল মানচিত্রে তার নীল রেখা বেঁচে থাকে।
দেশের রাজনীতিতেও আজ
জোয়ার আছে
কিন্তু তা জনতার গভীর নদীপথে নয়
ক্ষমতার মোহনায় সীমাবদ্ধ।
দক্ষিণের জোয়ারের মতো
কিছু স্লোগান এখনো ফুলে ওঠে
মাইক্রোফোনের বাতাসে ঢেউ তোলে
কিন্তু উত্তরের শুষ্ক নদীর মতো
গ্রামের বহু মানুষ
শুধু চেয়ে থাকে
কবে আবার সত্যিকারের পানি নামবে।
একসময় রাজনীতি ছিল বর্ষার নদী
ঘাটে ঘাটে তার শব্দ ছিল
চায়ের দোকানে বিতর্ক উঠত ঢেউয়ের মতো
ছাত্রদের চোখে আগুন জ্বলত।
এখন অনেক কথাই
পোল্ডারের ভেতর বন্দী
বাঁধ আছে, ব্যানার আছে
কিন্তু স্বাভাবিক প্লাবন নেই।
নদীর মতোই
দলগুলোও নিজেদের পলি জমিয়েছে
কেউ ইতিহাসের কাদা
কেউ ক্ষমতার লবণ
কেউ প্রতিশ্রুতির চর তুলে
মানুষের চলার পথ আটকে রেখেছে।
তবু আশ্চর্য
বাংলার মাটি এখনো পুরো মরে যায়নি
ভাটার পর যেমন
দূর দিগন্তে জলরেখা আবার জাগে
তেমনি কোনো এক অচেনা ভোরে
হয়তো মানুষ আবার শিখবে
রাজনীতি মানে কেবল দখল নয়
এটিও নদীর মতো প্রবাহ
যেখানে সবার জন্য পানি থাকে।
সেদিন হয়তো
উত্তরের মৃত নদীতেও
একফোঁটা জোয়ার ফিরবে
আর বাংলাদেশ
আবার নিজের গভীরতায়
নিজেকেই চিনে নেবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



