সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০০৬ সকাল ৯:১০
আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলি-2
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর প্রথম ক্লাস করতে ক্যাম্পাসে পা রেিেছলাম খুব সম্ভবত 1 জুলাই (তারিখটা 8 জুলাইও হতে পারে) 2000ইং। সেদিন জীবনের সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতাটাই মনে হয় আমার এ ক্যাম্পাসে হয়েছিল। মহসীন হলের মাঠে পড়ে থাকতে দেখেছিলাম দুটি তরতাজা লাশ। ক্যাম্পাস দখল দারিত্বের রাজ্য কায়েম করতে, নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসেরই দুটি অঞ্চলের দুটি গ্রুপের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছিল এ দুজন। তবে এদের কেউই ছাত্র ছিলনা। এরা ছিল টোকাই মাস্তান কিংবা ভাল করে বললে বলা যায় অস্ত্রধারী ক্যাডার। এরা টাকার বিনিময়ে যে কারো পক্ষ হয়ে যে কারো বিপক্ষে লড়াইয়ে নেমে পড়তে পারে অস্ত্র নিয়ে। জীবনের পরোয়া এরা করেনা। খুব সম্ভবত এরাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকাগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথাকথিত কিছু নেতার তত্বাবধানে ছিনতাই, রাহাজানি সহ বিভিন্ন অপরাধ করে থাকে। পুলিশ এসে লাশ দুটি নিয়ে চলে গেল। এতে আমি অবাক হলাম না। আমি অবাক হলাম অন্য কারনে। এতকিছুর পরেও এ অস্বাভাবিক পরিবেশটাকে আমার স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। এটাই ছিল অস্বাভাবিক। সবাই যার যার মত ক্লাসে যাচ্ছে, কেউ এখানে সেখানে বসে ডেটিং করছে, কেউ দেদারছে আড্ডা দিচ্ছে। কিছুক্ষন আগে যে এখানে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে দুজন নিহত হয়েছে সে বিষয়ে কারো কোন খেয়ালই যেন নেই। এক সময় আমিও মিশে গেলাম এসব মানুষের ভিড়ে। ডিপার্টমেন্টে গেলাম। কিন্তু ক্লাস না হওয়াতে ফিরে এলাম। (উল্লেখ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অনেক শিক্ষক আছেন যারা বিন্দুমাত্র অজুহাত পেলেই ক্লাস স্থগিত করতে তৎপর হয়ে উঠেন। হয়তো সেদিনের ক্লাসটাও এসব শিক্ষকদের কারনেই.....)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।
যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?
আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।
দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।
ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন
কটা দুলাল

বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফাউ টাকার গল্প
সময় ২০১৪ সাল...
ভার্সিটিতে আজ ক্লাস শেষে আমি, মেহনাজ, তামিম আর শাওন গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ কোত্থেকে শেতু এসে হাজির। এসেই ডিরেক্ট ঘোষণা! আজ নাকি সে আমাদের সবাইকে স্টার... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন পর্ব -১

(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।