somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আলী ইমাম
যুক্তি,প্রমাণ,সিদ্ধান্ত

শব্দ আসলে পুতুলটার মুখ থেকেই আসছে

২১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাস্তব জীবনে আমরা যা কিছু দেখি বা শুনি বলে আমাদের কাছে মনে হয়, তার সব কিছুই যে সঠিক সেটার কোন নিশ্চয়তা নেই। অধিকাংশ সময়ই আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো আমাদের সাথে প্রতারণা করে। যেমন ধরা যাক টেলিভিশন দেখার কথা। আপনি যদি একটু ভালোভাবে লক্ষ করেন তাহলে দেখতে পাবেন যে, আমরা যখন টিভিতে ফুটবল বা অন্য কোন খেলা দেখার সময় ভাষ্যকারের ধারাবর্ষ শুনি, তখন যদি ভাষ্যকারকে টিভির পর্দায় দেখায় তাহলে আমাদের কাছে মনে হয় যে কথাগুলো ভাষ্যকারের মুখ থেকেই আসছে। কিন্তু যখন ভাষ্যকারকে না দেখিয়ে খেলোয়াড়দেরকে দেখানো হয়, তখন ধারাবর্ণনা শুনলে বোঝা যায় যে, শব্দগুলো আসলে আসছে টিভির স্পীকার থেকে। অর্থাত্ এক্ষেত্রে আমাদের চোখ আমাদের কানকে ধোঁকা দেয়।
আবার ধরুন সিনেমার গানের কথা। সিনেমাতে সাধারণত নায়ক-নায়িকারা নিজেরা গান গায় না। গান গায় সত্যিকারের শিল্পীরা, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা শুধু গানের সাথে ঠোঁট মিলায় বা লিপ্সিং করে। আপনার যদি প্রচুর সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন যে, গানের মূল শিল্পী যদি পরিচিত না হয় তাহলে কিন্তু আমরা এই ব্যাপারটা ধরতে পারি না। অর্থাত্ আমাদের কাছে মনে হয় অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই গানটা গাচ্ছে। কিন্তু যদি গানের শিল্পী বিখ্যাত কেউ হয়, যার গান শুনেই আমরা বলে দিতে পারি এটা কার গান, তখন নায়ক-নায়িকা যত নিঁখুত ভাবেই ঠোঁট মিলাক না কেন, গানটা আমাদের কাছে কেমন যেন বেমানান মনে হতে থাকে। সারাক্ষণই মনে হতে থাকে গানটাতো আসলে নায়ক বা নায়িকা গাচ্ছে না, গাচ্ছে অন্য কেউ। এক্ষেত্রে আমাদের কান আমাদের চোখকে ধোঁকা দেয়।
এ জাতীয় ঘটনাগুলোর জন্য মূলত দায়ী আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যভাগে অবস্থিত আধা ইঞ্চির চেয়েও কম ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট একটা অংশ যাকে বিজ্ঞানীরা Inferior Colliculus Region বলে থাকেন। এই অংশটা মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে কর্ণ থেকে কর্টেক্স (মস্তিষ্কের কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ) পর্যন্ত যাওয়ার সময় সকল শব্দ তরঙ্গের জন্য একটা স্টেশন হিসেবে কাজ করে। এই অংশটা একই সাথে শব্দ এবং দৃশ্য উভয় প্রকার তথ্য নিয়েই কাজ করে। বিজ্ঞানীদের মতে ভিজুয়্যাল এবং অডিটরি ইনফরমেশনগুলো মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে একই পদ্ধতিতে এনকোডেড হয়ে থাকে এবং সে কারণেই এই ইন্দ্রিয়গুলো একে অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার করে।
এ প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক ইউনিভার্সিটি'স সেন্টার ফর কগনিটিভ নিউরোসায়েন্স (Duke University's Center for Cognitive Neuroscience) এর একজন সহযোগী অধ্যাপিকা জেনিফার গ্রো (Jennifer Groh) বলেন, শ্রবণেন্দ্রিয়র জন্য দৃষ্টি কোথায় নিবদ্ধ আছে সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অপরদিকে জার্মানীর ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিকাল সাইবারনেটিক্স (Max Planck Institute for Biological Cybernetics) এর একজন গবেষক বিজ্ঞানী ক্রিস্টোফ কাইজার (Christoph Kayser) এ সম্পর্কে বলেন, এই ঘটনাগুলো থেকে বোঝা যায় যে মস্তিষ্ক বিভিন্ন ইন্দ্রিয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে না রেখে যথাসম্ভব একত্রিত করে প্রক্রিয়াকরণ করে।

ম্যাজিশিয়ানরা তাদের বিভিন্ন ম্যাজিকে আমাদের মস্তিষ্কের এই ধর্মকে কাজে লাগিয়ে অডিও-ভিজুয়্যাল ইলিউশন সৃষ্টি করে থাকেন। এমনকি ভেন্ট্রিলোকুইস্টরাও (Ventriloquists) তাদের ভেন্ট্রিলোকুইজমে (Ventriloquism - মুখ না নাড়িয়ে এমনভাবে কথা বলার বিদ্যা যেন মনে হয় কথাগুলো অন্য কোন স্থান থেকে আসছে) মস্তিষ্কের এই ধর্মের সুযোগ নিয়ে থাকেন। তাদের মুখ না নাড়িয়ে এবং ভিন্ন ধরনের স্বর কম্পাঙ্ক তৈরি করার বিদ্যা এক্ষেত্রে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু তার চেয়েও বেশি ভূমিকা পালন করে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যাবলি। কারণ আমাদের দৃষ্টি যখন ভেন্ট্রিলোকুইস্টের হাতের আকর্ষণীয় পুতুলটার প্রতি নিবদ্ধ থাকে, তখন আমাদের মস্তিষ্ক আমাদেরকে ভাবতে বাধ্য করে যে ভেন্ট্রিলোকুইস্টের মুখ থেকে নিঃসৃত শব্দ আসলে পুতুলটার মুখ থেকেই আসছে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×