somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলাম : অকৃতজ্ঞ জাতির দৃষ্টান্ত (দরবেশ ও বাঘ)

০১ লা এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি ভাল আছেন।


আমার আজকের লেখাটি হল একটি শিক্ষণীয় ঘটনা নিয়ে। যে ঘটনা শিক্ষা দেয় যে কোন অকৃতজ্ঞ জাতিকে সামনের দিকে অগ্রসর হতে দেয়া ঠিক নয়। লেখাটি পড়লে আরো অনেক কিছুই বুঝতে পারবেন।

আর যে বইটি থেকে আমি আপনাদের ঘটনাটি শুনাচ্ছি তা দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

তাহলে শুরু করা যাক...

দরবেশ ও বাঘ

ইংরেজ এই উপমহাদেশের একটি অকৃতজ্ঞ জাতিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল। আর অপর একটি কৃতজ্ঞ জাতিকে পশ্চাৎপদ করে রেখেছিল; কিন' এর ফল যা হয়েছিল তা দেখে পরবর্তী কালে এই ইংরেজগণ শত আফসোস আর দুঃখ করেছে।
এক উচ্চ পর্যায়ের ইংরেজ হাকিম গোরক্ষপুরে সফরে গিয়েছিলেন। সেখানকার জামিদারের ম্যানেজারের কাছে এ প্রসঙ্গে তিনি দুঃখ করে একটি ঘটনা বলেছিলেন। ঘটনাটি হল নিম্নরুপ :
নির্জন কক্ষে এক দরবেশ বাস করতেন। সেই কক্ষে এক ইঁদুর এসে বাচ্চা প্রসব করলো। পরে দরবেশকে দেখতে পেয়ে সব কয়টি পালিয়ে গেল। কিন' একটি ইঁদুরের বাচ্চা রয়ে গেল। বুযুর্গের দয়া হল। তিনি বাচ্চাটিকে দুধ ইত্যাদি পান করাতে লাগলেন। একদিন দেখলেন বাচ্চাটি মন ভার করে বসে আছে। তিনি তার দু:খের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন।
বাচ্চা বললো, “আজ একটা বিরাট ইঁদুর আমাকে ধাওয়া করেছিল, আজ কোন রকমে প্রাণ বাঁচিয়েছি; কিন্তু একদিন সে আমার উপর জয়ী হবে এবং আমার প্রাণ বধ করবে। তাই আমার দু:খ।”
বুযুর্গ বললেন, “তাহলে আমি এখন তোর জন্যে কী করতে পারি?”
বাচ্চা বললো, “ আমাকে বিড়াল বানিয়ে দিন।”
বুযুর্গ তখন আল্লাহ পাকের দরবারে দোয়া করলেন এবং তার শরীরে হাত বুলালেন সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাটি একটি বিড়ালে পরিণত হয়ে গেল।
কয়েকদিন পর দরবেশ দেখলেন বিড়ালটি বিমর্ষ মনে বসে আছে। তিনি আবার তার দু:খের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন।
বিড়াল বললো, “ আজ মহল্লাহর গলিতে গিয়েছিলাম। এক কুকুর আমাকে তাড়া করেছিল। বড় কষ্ট করে প্রাণ বাঁচিয়ে এসেছি। কিন্তু এভাবে কতদিন প্রাণ বাঁচাতে পারবো; তাই আমি চিন্তিত।”
দরবেশ বললেন, “তাহলে তুই এখন কী চাস?”
বিড়াল বললো, “আমাকে কুকুর বানিয়ে দিন।”
বুযুর্গ আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন এবং বিড়ালের গায়ে হাত বুলালেন অমনি বিড়াল কুকুর হয়ে গেল।
পাঁচ সাত দিন পর দেখলেন কুকুরটি বিষন্ন মনে বসে আছে। তিনি কারণ জিজ্ঞাসা করলেন।
কুকুর বললো, “আজ আমি জঙ্গলে গিয়েছিলাম সেখানে একটি নেকড়ে আমার উপর হামলা করেছিল।”
বুযুর্গ বললেন, “তাহলে তুই এখন কী চাস?”
কুকুর বললো, “আমাকে নেকড়ে বানিয়ে দিন।”
বুযুর্গ দোয়া করে তার উপরে হাত বুলালেন। আর অমনি কুকুরটি নেকড়ে হয়ে গেল।
কয়েকদিন পর দেখলেন আবার সে মন খারাপ করে বসে আছে।
বুযুর্গ জিজ্ঞাসা করলেন, “মন খারাপ হওয়ার কারণ কী?”
নেকড়ে বললো, “আমি জঙ্গলে গিয়েছিলাম সেখানে একটি বাঘ আমাকে ফেড়ে খাওয়ার জন্যে তাড়া করেছিল।”
বুযুর্গ বললেন, “এখন তুই কী চাস?”
নেকড়ে বললো, “আমাকে বাঘ বানিয়ে দিন।”
দরবেশ আল্লাহর দরবারে দোয়া করে তার গায়ে হাত বুলালেন তখন নেকড়েটি বাঘ হয়ে গেল। বাঘ হয়ে সে মনের আনন্দে জঙ্গলে গেল। জঙ্গলে যেতেই আগের সেই বাঘটি তাকে দেখে বলে উঠলো, “আরে বহুরূপী! খুব রূপ বদলিয়েছিস বটে, কিন্তু তোর মধ্যে আর আমার মধ্যে এখনও পার্থক্য রয়েছে। তুই হলি মানুষের তৈরী বাঘ, আর আমি হলাম আল্লাহর তৈরী বাঘ। (দরবেশের তাছাররূফের মাধ্যমে তৈরী বাঘ আর) আল্লাহর তৈরী আসল বাঘের ক্ষমতা এখনই পরীক্ষা হবে। হাকীকত (বাস্তবতা) এখনই খুলে যাবে দাঁড়া!”
এই কথা শুনে সে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বললো, “তাহলে আমার প্রাণে বাঁচার কি কোন পথ নাই?”
বাঘ বললো, “একটি মাত্র পথ আছে। আগে তুই তাকে খতম করে আয় যে খোদার উপর খোদকারী করেছে, তোকে ইঁদুর থেকে বাঘ বানিয়েছে। আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে যে হস্তক্ষেপ করেছে তাকে খতম করলেই তোকে ছাড়বো।”
দরবেশের তৈরী বাঘটি চললো। জঙ্গল থেকে দরবেশের কামরায় এসে উপস্থিত হলো। বুযুর্গ দেখলেন বাঘটি নখ বাহির করে থাবা প্রস'ত করে সামনে এস ঘড় ঘড় করছে।
তিনি বললেন, “আজ তোর এ কি অবস্থা ?”
বাঘটি বললো, “আজ তোমকে খাবো।”
বুযুর্গ বললেন, “আমার আগের সকল দয়া এবং উপকারের কথা কি ভুলে গিয়েছিস?”
বাঘটি বললো, “ধ্যাৎ তোর উপকার! এখন আমার জান যায়, উপকারের কথা ভেবে জান হারাতে পারি না। সেই বাঘের সঙ্গে আবার দেখা হয়েছে। সে হলো আসল বাঘ। আর আমি যে ইঁদুর থেকে বাঘের রূপ ধারণ করেছি তা সে জানতে পেরেছে। আমাকে বলেছে, “আল্লাহর সৃষ্টিতে যে হস্তক্ষেপ করে তোকে ইঁদুর থেকে বাঘ বানিয়েছে তাকে খতম করে আয় না হলে তোর রক্ষা নাই।”
বুযুর্গ বললেন, “ও আচ্ছা এই কথা ? ঠিক আছে তুমি বস, স্থির হও। তোমার জান রক্ষা হবে। আমি ব্যবস্থা করছি।”
তখন এই বাঘ স্থির হয়ে বসলো। বুযুর্গ সুযোগ পেয়ে দোয়া করলেন এবং তার গায়ে হাত বুলালেন। অমনি বাঘ আবার ইঁদুর হয়ে সকল বিশৃঙ্খলা দূর হয়ে আবার শান্তি ফিরে আসলো।

এই ঘটনা ব্যক্ত করে সেই হাকিম সাহেব বললেন, “এটা আমাদেরই দোষ যে আমরা এই অকৃতজ্ঞ জাতিকে অগ্রসর করতে এমন এক স্থানে পৌঁছিয়ে দিয়েছি যেখানে দাঁড়িয়ে আজ তারা আমাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহার করে চলেছে। এই জাতিটি বাস্তবিকই অকৃতজ্ঞ।
সুতরাং এই ঘটনা থেকে মুসলানদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিৎ।

-আল এফাযাতুল এওয়ামিয়াহ, খন্ড: ৫, পৃ: ১৯৮।

আমার এই রকম আরও লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

সবাইকে ধন্যবাদ।

আল্লাহ হাফেজ।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×