ফেসবুকে একটা ভিডিও দেখলাম। এক ছেলে এক মেয়েকে হাতে ফুল নিয়ে কিছু একটা বলতে যাচ্ছে। মেয়েটা তখনো জানে না তার ভাগ্যে কি ঘটতে যাচ্ছে। সে হয়তো ভেবেছে ছেলেটি তাকে প্রেম নিবেদন করবে। তার চোখে কিশোরী সুলভ চঞ্চলতা দেখা দেয়। খানিকটা লজ্জাও ধরা পড়ে তাতে। ছেলেটি কিছুক্ষণ আই আই করে শেষে মেয়েটির গালে সজোরে চড় মারলো এবং বলল, আই স্লাপ ইউ (I Slap You)! মেয়েটি এরূপ আশা করে নি। সে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো। আশেপাশে ছেলেটির আরো বন্ধুবান্ধবের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় ভিডিওর সাউন্ড থেকে। মেয়েটির তাৎক্ষণিক মনের অবস্থা শুধু আমরা আন্দাজ করতে পারি। কিন্তু আসলে তার কতটুকু খারাপ লেগেছিল তা সে ছাড়া আর কারো পক্ষে জানা সম্ভব নয়। ঘটনাটি ঘটেছে কোনও ক্লাস রুমে অথবা কোচিং সেন্টারে। কারণ ভিডিওতে পিছনে শিক্ষকদের লেখার বোর্ড দেখা যায়।
কথা হলো, একটা সুস্থ, স্বাভাবিক, শিক্ষিত ছেলে কখনোই কোনও মেয়েকে চড় মারার দৃশ্য ভিডিও করবে বলে আমার মনে হয় না। একজন মনীষী বলেছিলেন (নাম এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না), "কোনো ছেলে যদি তার আশেপাশের মেয়েগুলোকে রাণীর মতো সম্মান করে তবে বুঝতে হবে সেই ছেলে নিজেও কোনো রাণীর হাতেই লালিত পালিত হয়েছে।"
ব্যাপার হলো, সেই ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাসের মতো ছড়াচ্ছে। আমার ফেসবুকের হোম পেইজে দেখলাম প্রায় ১০-১২জন এই ভিডিও শেয়ার করেছে। অনেক বাংলা ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে দ্রুত ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ছে প্রোফাইল থেকে প্রোফাইলে। সেখান থেকে মুঠোফোনে। তারপর যারা ফেসবুকে নেই তাদের মুঠোফোনে।
একটু দাঁড়ান! যে কোনও জিনিস ফেসবুকে আপলোড বা শেয়ার করার পূর্বে আমাদের কি একবারও ভেবে দেখা উচিত নয় যে যেই ভিডিও বা ছবি আমি শেয়ার করছি তাতে আদৌ শিক্ষণীয় কিছু আছে কিনা? এই ভিডিও দেখে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই শিক্ষাই পাবে যে, মেয়েদের চড় মেরে তা আবার ভিডিও করতে হয়! এরপর সেই ভিডিও ইন্টারনেটে দিতে হয়। আচ্ছা, যারা ভিডিওটি আপলোড করছেন বা শেয়ার করছেন তাদের কাছে প্রশ্ন, এই মেয়েটি আপনার বোন হলেও কি ভিডিওটি এভাবে শেয়ার করতেন সবার সাথে? মানুষ তার বেসিক কিছু শিক্ষা বাসা বা ফ্যামিলি থেকে পেয়ে থাকে। সেই ছেলে একজন অমানুষের মতো (হ্যাঁ, আমার এরূপ আচরণকে সুস্থ মানুষের আচরণ বলতে ঘৃণা হচ্ছে) একটা মেয়েকে চড় মারলো আর আপনারা নিজেদের পেইজের কাটতি বাড়ানোর জন্য তা আপলোড করে মানুষকে শেয়ার করার প্রলোভন জাগাচ্ছেন। এতে আপনার সাথেও সেই ছেলের মানসিকতার কোনও পার্থক্য কিন্তু ধরা পড়ে না।
মা, বোন, বউ কিংবা আরও নানা সম্পর্কে জীবনের সবক্ষেত্রেই একজন পুরুষের প্রয়োজন হয় একজন নারীকে। আপনাকে জন্ম দিয়ে পৃথিবীতেও এনেছেন কোনও না কোনও এক নারী। যেকোনো উপায়ে তাকে অপমান করা মানে নিজের জন্মদাত্রীকে অপমানিত করা। নিজের জন্মকে অপমানিত করা।
মানসিকতার উন্নতি ঘটান। শুধু পড়ালেখা করে শিক্ষিত হলেই যে কেউ মানুষ হতে পারে না। মানুষ হতে হলে আরও অনেক অনেক গুণ অর্জন করতে হয়। মেয়েদের সম্মান করাও সেই গুণগুলোর মধ্যে একটি।
পুরো লেখাটি এখানে--------- কেউ এই ভিডিও এর ছেলের পরিচয় দিতে পারেন ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

