হাতি
-নিচু তলার উকিল
একটা সময় ছিল দুই ঝুড়ি গরুর ঘাস কেটে দিলে পাতিলের শরীরে লেপ্টে থাকা অবশিষ্টাংশ এক প্লেট পোড়া ভাত জুটতো।হক বাড়ীর দেউরি ঘরের মেঝেতে বসে উকিলবাবু কুকুরের মতো চেটেপুটে খেতো।
হক বাড়ীর কাজের ছেলে জলিল সেটা চেয়ে চেয়ে দেখতো।
উকিলবাবু বলতো,"তুই সাক্ষী থাকিস জলিল,আমার সন্তানদের একদিন তুই এই গল্প গুলো শোনাস"।
জলিল বেশ আগ্রহ নিয়ে বলতো শুনিয়ে কী হবে?
উকিলবাবু বলতো,"নিজের অতীতকে ভুলে যাওয়া মানে নিজের শেকড়কে ভুলে যাওয়া নিজের অস্তিত্বকে ভুলে যাওয়া;
ওরাও যেন ওদের পিতার মত একেকটা অমানুষ তৈরি হয়"।
আজো সেই দিনটি আসেনি,তবে আজকাল সময় বদলেছে,বদলেছে বাস্তবতা।
সময়ের শরীরে ভর করে এগিয়ে যায় বাস্তবিক দুনিয়া।
সেই ছোট্ট উকিলবাবুর স্থান আর দেউরি ঘরের মেঝে নয়,নয় পাতিলের অবশিষ্টাংশ পোড়া এক প্লেট ভাত।
রীতিমতো ডাইনিংয়ে বসিয়ে নানানরকম রাজকীয় খাবার হক বাড়ীর বউ নিজের হাতে উঠিয়ে দিতে দিতে বলে,"খাও বাবা খাও গরীবের বাড়ীতে তো হাত্থির(হাতি) পা'ই পড়েনা"।
কই গেলিরে জলিল দ্যাখতো কথা হাচানি?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

