somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চোর ধরার রোমঞ্চকর অভিজ্ঞতা

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সন্ধায় শরীরটা কেমন ছেড়ে দিয়েছে। বেডরুমে অন্ধকারের ভিতর চুপ করে শুয়ে আমার অতীত আর ভবিষ্যত নিয়ে নাড়াচাড়া করছি। হাতের কাছে পুরাতন মডেলের নোকিয়া ১২০০। এই তো কিছু দিন আগে এই বেডরুম থেকেই আমার দামী ট্যাব ৩ আর স্যামস্যাং গ্লাক্সি সেট দুইটা চুরি করে নিয়ে গেল। থানায় জিডি করেছিলাম কিন্তু কোন লাভ হয়নি। আমি তিন তলায় থাকি, আমাদের জানালার ঠিক ওপাশে পাঁচতলা পর্যন্ত ভিত্তি স্থাপন করা। দেয়াল ছাড়া খোল ছাদ চোরদের জানালার কাছে আসতে খুব সুবিধা করে দিয়েছে। রাগে ক্ষোভে এবং দুঃখে আমার গৃহিণী খাটটাকে উত্তর-দক্ষিণ দিক হতে ঘুরিয়ে পূর্ব-পশ্চিম করে রেখেছে যেন পাওটা জানালার দিকে দেওয়া যায়। যেহেতু আমার খাটের মাথার পাশটা খুব উঁচু তাই জানালা প্রায় দুই তৃতীয়াংশ ঢেকে গেছে। চোর ইচ্ছা করলেও সুবিধা করতে পারবে না। এগুলো করা হয়েছে মোবাইল সেট চুরি হয়ে যাবার পর থেকেই।

যাই হোক, যে চোর সে কিন্তু আবারো আসবে এবং সুযোগ নিবে এটাই স্বাভাবিক। ড্রইং রুমে আমার বড় ছেলেকে নিয়ে পড়াচ্ছিলেন আমার স্ত্রী। হঠাৎ আমার মাথার কাছে জানালায় দমকা হাওয়া লাগার মতো শব্দ টের পেলাম। প্রথমে চুপ মেরে বোঝার চেষ্টা করলাম বাইরে বাতাস বইছে কি না; বিছানা থেকে নেমে এক পাশে সরে গিয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম। না; বাতাস না অন্য কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। আশ পাশে তাকিয়ে কোন বস্তু খুঁজতে লাগলাম। আমার স্ত্রী ড্রেসিং টেবিলটা পর্যন্ত জানালা ঢাকার কাজে ব্যবহার করেছে। ইতি মধ্যে জানালার স্লাইডার ধরে ঐ পাশ থেকে কাউকে সরাতে টের পেলাম। মুহূর্তের মধ্যে আমার শির দাঁড়া খাড়া হয়ে গেল। চট করে যে সাইডের জানালা সরাতে টের পেলাম সেই পাশে খাটের উপর উঠে দেয়ালের সংগে সেটে দাড়িয়ে রইলাম। আমার জানালায় মশা না ঢোকার জন্য একটা নেট দেওয়া আছে ওটাতেও স্লাইডার লাগানো। চোর প্রথমে ওটাকে একপাশে সরিয়েছিল এর পর থাই গ্লাসের স্লাইডার সরানোর শব্দ টের পেলাম। ভিতরে ভিতরে এক প্রকার রোমাঞ্চ জেগে উঠল। মাথার ভিতর হাজারো পলিসি আসতে লাগল। কি করা উচিত আমার এই মূহুর্তে। আমি অন্য রুমে গিয়ে কিছু আনতে গেলে ও টের পেে চলে যাবে তাই ওর হাত বাড়িয়ে জানালার পর্দা সরানোর অপেক্ষায় রইলাম। ভয়ংকর চোর জানালার ঐ পাশে আর এপাশে আমি দাড়িয়ে অপেক্ষা করছি। দেখতে পেলাম একটা হাত জানালার পর্দা সরানোর কাজে ব্যস্ত। আমি চট করে দু'হাত দিয়ে চোরের হাত ধরে হেচকা টান দিলাম। আমার ইচ্ছা ছিল হাতটা জানালার গ্রিলের সংগে এমন ভাবে চাপ দেওয়া যেন হাতটা ভেঙ্গে যায়। চোর হতবিহ্বল হয়ে সজোরে তার হাতটাকে টান দিল। ইতি মধ্যে আমি চোর চোর বলে চিৎকার দিয়ে উঠেছি। হঠাৎ হাতটা আমার হাত থেকে সরে গেল। জানলা দিয়ে দেখলাম জিন্সের প্যান্ট পরা ভদ্র লোকের মতো দেখতে একজন যুবক দৌড়ে নেমে যাচ্ছে। আমি বিদ্যুৎ বেগে তিন তলা থেকে নীচে নেমে গেলাম। আমার দুই পাশে বিল্ডিং এর সারি পার হয়ে রাস্তায় এক নিঃশ্বাসে পৌঁছে গেলাম। ওইতো সেই চোর! আস্তে আস্তে হেটে যাচ্ছে। আমাকে হন্ত দন্ত হয়ে ছুটে আসতে দেখে ও দৌড় দিল। আমি চিৎকার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে উদ্দেশ্য করে বললাম মোবাইল চোর, মোবাইল চোর। আমিও দৌড়াচ্ছি আর চোরও দৌড়াচ্ছে। এভাবে ২০০ গজ দৌড়ানোর পর সামনে থেকে একদল লোক ওকে ঘিরে ধরল। উপায়ন্ত না পেয়ে দুই বিল্ডিং এর মাঝে সরু জায়গা দিয়ে সে একটা দেয়াল টপকে চলে যেতে সক্ষম হল। একটুর জন্য আমি তাকে ধরতে পারলাম না!! এই দুঃখ আমাকে জীবন ভর তাড়া করবে। আজ হয়তো আমার হারিয়ে যাওয়া দামী মোবাইল দুইটা উদ্ধার করতে পারতাম।

পাশের বাসার খোলা ছাদ আমাদের নিরাপত্তার চরম ব্যঘাত ঘটালেও আমাদের কিছুই করার নাই। প্রতি নিয়ত ছাদের সাথে লাগোয়া জানালা থেকে মোবাইল সহ দামী দামী জিনিস চুরি হচ্ছে। আমার স্ত্রী রাতের বেলায় আমার অবর্তমানে ভীষন ভয়ে ভয়ে রাত পার করে। আমি থাকলে মনে সাহস পায়; তবে এমন পরিস্থিতির স্বীকার সে যদি কখনো হয় তাহলে নাকি বেহুঁশ হয়ে পড়ে থাকবে !!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:০৯
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় স্বার্থপর হয়ে গেছে! আগেই কি ভালো ছিলাম?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক বা স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে! আগে এমনটা দেখা গেলেও গত কয়েক বছর এটা অতি বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে। কেন??

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশি খারাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×