কাল্পনিক চরিত্র
রোকন, সূচি,রুবি আর মিলা,তারা চার বন্ধু। ওরা তিনজন মেয়ে আর ওদের এই চার বন্ধুর
ভিতরে এক মাত্র রোকনই হলো ছেলে ।সূচির বাবা একটি সরকারি চাকুরি করেন সূচিরা দুই ভাই বোন,সূচি বড় তার ছোট এক ভাই।রুবির বাবা শহরের বড় ব্যবসাহিদের একজন ।রুবির আর কোন ভাই বোন নেই।মিলারও কোন ভাই বোন নেই । মিলা যখন অনেক ছোট তখন ওর বাবা একটা রোড অ্যাকস্রিন্টে মারা যান । মেয়ের দিকে তাকিয়ে মিলার মা অন্য কোথাও বিয়ে থিয়ে বসেন নাই ।ভদ্র মহিলা মিলার মা দিনরাত পরিশ্রম,জীবনের সাথে কঠিন লড়াই করছেন মেয়েকে মানুষ করার জন্য ।
এই তিন বান্ধবীর এক জনই ছেলে বন্ধু এবং স্বপ্নের হবু স্বামী যার নাম রোকন । রোকনেরা দুই ভাই। রোকন ছোট,রোকনের বাবা গ্রামের একটি প্রাইভেট স্কুলের টিচার ।আর রোকনের বড় ভাই গ্রামে থাকেন,ওখানে তাদের ছোট একটি ফ্রাম আছে ওটা দেখা শোনা করেন । রোকন,সূচি,রুবি আর মিলা,ওরা চারজনই ইনভার্সিটিতে পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রী। রোকনের রাশি বোধ হয় প্রেম রাশি তাই কারো কারো ভাগ্যে একটি প্রেম জোটানো কষ্টের হলেও রোকনের ভাগ্যে জোটে তিনজন মেয়ের প্রেম।
একদিন ওরা চারজন আড্ডা দিতেছিল হঠাৎ রুবি বলে উঠল এই রোকন আমরা তিনজনই তোকে ভালোবাসি কিন্তু এই তিনজনের মধ্যে যে কোন একজনকে বেছে নেবার
দায়িত্ব তোর । রোকন বললো দেখ আমার পষন্দের কথা যদি তোরা জানতে চাছ,তাহলে আমি তোদের তিনজনকেই পষন্দ করি,আর যদি বিয়ে করতে হয় তাহলে তোদের তিনজনকেই একসঙ্গে বিয়ে করবো,আর তিনজনকেই সাথে নিয়ে একই ঘরের ছাদের নিচে সংসার বাঁধবো । মিলা রোকনের ডান পাশের গালে আলতো আচড় কেঁটে বললো,দেখ বাঁদড় কোন ধরনের লুলামি বা বাঁদড়ামি চলবে না ।আমাদের যে কোন একজনকে নিয়ে তোর ঘর বাঁধতে হবে ।আর বাকি দুজন আমরা সেটাই মেনে নিয়ে কেঁটে পড়বো ।
সামনে পরিক্ষা আর বেশিদিন বাকি নাই । ঠিক পরিক্ষার দুইদিন আগে সকাল বেলা সূচি ফোন দিলো রুবির কাছে,কিরে কি অবস্থা তোর ? পরিক্ষার জন্য কি পিপারেশন নিলি ?
রুবি বললো নারে তেমন কোন পিপারেশন নিতে পারিনি ।তা সূচি তোর অবস্থা কি ? আর
ওদিকে মিলার অবস্থা কত দূর কিছু বলতে পারোছ ? নারে দোশ্ত আমার অবস্থাও তোর মতই আর মিলাতো মনে হয় পরিক্ষার পিপারেশন ভুলে গিয়ে দেখ যেয়ে রোকনকে নিয়ে মনে হয় ঘর বাঁধার পিপারেশন নিচ্ছে ।কি যে বলিছ তুই ? আচ্ছা দোশ্ত ফোন রাখ আমি কলেজের প্রস্তুতি নিচ্ছি তুইও চলে আস বাকি সব কথা কলেজের আড্ডায় হবে। আর ও হ্যা একবার মিলা ও রোকনকেও ফোন করে আসতে বলিছ ! ঠিক আছে !
দুপুরে কলেজের ক্যানটিনে সূচি,মিলা,আর রুবি ওরা তিন বান্ধবী বসে রোকনের জন্য বেশ কিছুক্ষন থেকেই অপেক্ষা করছে,রোকনের কোন খবর নাই । এর মধ্যে ফোন আলাপ শেষে বাসা থেকে বেরুবার আগে কয়েকবার রোকনকে ফোন দিয়েছে সূচি কিন্তু রোকনের
ফোন সুইচ স্টপ পেয়েছে ।শেষ পযন্ত সেদিন ক্যান্টিনে দুপুরের খাবার আর হলো না ওদের।তিন কাপ চা খেয়ে যে যার যার মত বাসায় চলে গেল ।
পরিক্ষারদিন একটু সকাল করেই বাসা থেকে বেরিয়ে গেল ওরা তিন বান্ধবী।পরিক্ষার হলে
প্রবেশ করার আগে রোকনকে ফোন দিলো কিন্তু ফোন রোকন রিসিভ না করে করলো
রোকনের বাবা । হ্যালো কে ? জি আমি মিলা,রোকনকে একটু দেয়া যাবে ? রোকনের বাবা খুব নরম গলায় বললো ইয়ে মানে রোকন ঘুমাচ্ছে মা এখন ওকে দেয়া যাবে না । মিলা বললো কি বলছেন আঙ্কেল ? আজ ওর পরিক্ষা আর ও এখনো ঘুমাচ্ছে,প্লীজ আঙ্কেল রোকনকে একটু ফোনটি দেন ।রোকনের বাবা বললো ইয়ে মানে মিলা মা তোমরা হয়ত জানোনা রোকনের ভীষন শরীর খারাপ ও এখন হাসপাতালের ব্রেডে শুঁয়ে আছে ।ফোনে রোকনের বাবার মুখে এ কথা শুনে মিলার মাথায় যেন আসমান ভেঙ্গে পড়ল।
মিলা,রুবি ও সূচিকে রোকনের অসুস্থটার কথা জানালো ।ওরা তিন বান্ধবী মিলে
পরীক্ষা না দিয়ে হাসপাতালে রোকনকে দেখার জন্য চলে গেল । ওরা হাসপাতালে যাওয়ার কিছুখন পরেই ডাক্তার রোকনের রিপোট দিলেন,রোকনের রিপোটে দেখা গেল রোকনের
ব্যাল্ড ক্যান্সার হয়েছে ।শেষ পযন্ত কয়েকদিন পরে রোকন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলো।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




