somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট গল্পঃ তাদের চারু প্রেম

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কাল্পনিক চরিত্র
রোকন, সূচি,রুবি আর মিলা,তারা চার বন্ধু। ওরা তিনজন মেয়ে আর ওদের এই চার বন্ধুর
ভিতরে এক মাত্র রোকনই হলো ছেলে ।সূচির বাবা একটি সরকারি চাকুরি করেন সূচিরা দুই ভাই বোন,সূচি বড় তার ছোট এক ভাই।রুবির বাবা শহরের বড় ব্যবসাহিদের একজন ।রুবির আর কোন ভাই বোন নেই।মিলারও কোন ভাই বোন নেই । মিলা যখন অনেক ছোট তখন ওর বাবা একটা রোড অ্যাকস্রিন্টে মারা যান । মেয়ের দিকে তাকিয়ে মিলার মা অন্য কোথাও বিয়ে থিয়ে বসেন নাই ।ভদ্র মহিলা মিলার মা দিনরাত পরিশ্রম,জীবনের সাথে কঠিন লড়াই করছেন মেয়েকে মানুষ করার জন্য ।

এই তিন বান্ধবীর এক জনই ছেলে বন্ধু এবং স্বপ্নের হবু স্বামী যার নাম রোকন । রোকনেরা দুই ভাই। রোকন ছোট,রোকনের বাবা গ্রামের একটি প্রাইভেট স্কুলের টিচার ।আর রোকনের বড় ভাই গ্রামে থাকেন,ওখানে তাদের ছোট একটি ফ্রাম আছে ওটা দেখা শোনা করেন । রোকন,সূচি,রুবি আর মিলা,ওরা চারজনই ইনভার্সিটিতে পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রী। রোকনের রাশি বোধ হয় প্রেম রাশি তাই কারো কারো ভাগ্যে একটি প্রেম জোটানো কষ্টের হলেও রোকনের ভাগ্যে জোটে তিনজন মেয়ের প্রেম।

একদিন ওরা চারজন আড্ডা দিতেছিল হঠাৎ রুবি বলে উঠল এই রোকন আমরা তিনজনই তোকে ভালোবাসি কিন্তু এই তিনজনের মধ্যে যে কোন একজনকে বেছে নেবার
দায়িত্ব তোর । রোকন বললো দেখ আমার পষন্দের কথা যদি তোরা জানতে চাছ,তাহলে আমি তোদের তিনজনকেই পষন্দ করি,আর যদি বিয়ে করতে হয় তাহলে তোদের তিনজনকেই একসঙ্গে বিয়ে করবো,আর তিনজনকেই সাথে নিয়ে একই ঘরের ছাদের নিচে সংসার বাঁধবো । মিলা রোকনের ডান পাশের গালে আলতো আচড় কেঁটে বললো,দেখ বাঁদড় কোন ধরনের লুলামি বা বাঁদড়ামি চলবে না ।আমাদের যে কোন একজনকে নিয়ে তোর ঘর বাঁধতে হবে ।আর বাকি দুজন আমরা সেটাই মেনে নিয়ে কেঁটে পড়বো ।

সামনে পরিক্ষা আর বেশিদিন বাকি নাই । ঠিক পরিক্ষার দুইদিন আগে সকাল বেলা সূচি ফোন দিলো রুবির কাছে,কিরে কি অবস্থা তোর ? পরিক্ষার জন্য কি পিপারেশন নিলি ?
রুবি বললো নারে তেমন কোন পিপারেশন নিতে পারিনি ।তা সূচি তোর অবস্থা কি ? আর
ওদিকে মিলার অবস্থা কত দূর কিছু বলতে পারোছ ? নারে দোশ্ত আমার অবস্থাও তোর মতই আর মিলাতো মনে হয় পরিক্ষার পিপারেশন ভুলে গিয়ে দেখ যেয়ে রোকনকে নিয়ে মনে হয় ঘর বাঁধার পিপারেশন নিচ্ছে ।কি যে বলিছ তুই ? আচ্ছা দোশ্ত ফোন রাখ আমি কলেজের প্রস্তুতি নিচ্ছি তুইও চলে আস বাকি সব কথা কলেজের আড্ডায় হবে। আর ও হ্যা একবার মিলা ও রোকনকেও ফোন করে আসতে বলিছ ! ঠিক আছে !

দুপুরে কলেজের ক্যানটিনে সূচি,মিলা,আর রুবি ওরা তিন বান্ধবী বসে রোকনের জন্য বেশ কিছুক্ষন থেকেই অপেক্ষা করছে,রোকনের কোন খবর নাই । এর মধ্যে ফোন আলাপ শেষে বাসা থেকে বেরুবার আগে কয়েকবার রোকনকে ফোন দিয়েছে সূচি কিন্তু রোকনের
ফোন সুইচ স্টপ পেয়েছে ।শেষ পযন্ত সেদিন ক্যান্টিনে দুপুরের খাবার আর হলো না ওদের।তিন কাপ চা খেয়ে যে যার যার মত বাসায় চলে গেল ।

পরিক্ষারদিন একটু সকাল করেই বাসা থেকে বেরিয়ে গেল ওরা তিন বান্ধবী।পরিক্ষার হলে
প্রবেশ করার আগে রোকনকে ফোন দিলো কিন্তু ফোন রোকন রিসিভ না করে করলো
রোকনের বাবা । হ্যালো কে ? জি আমি মিলা,রোকনকে একটু দেয়া যাবে ? রোকনের বাবা খুব নরম গলায় বললো ইয়ে মানে রোকন ঘুমাচ্ছে মা এখন ওকে দেয়া যাবে না । মিলা বললো কি বলছেন আঙ্কেল ? আজ ওর পরিক্ষা আর ও এখনো ঘুমাচ্ছে,প্লীজ আঙ্কেল রোকনকে একটু ফোনটি দেন ।রোকনের বাবা বললো ইয়ে মানে মিলা মা তোমরা হয়ত জানোনা রোকনের ভীষন শরীর খারাপ ও এখন হাসপাতালের ব্রেডে শুঁয়ে আছে ।ফোনে রোকনের বাবার মুখে এ কথা শুনে মিলার মাথায় যেন আসমান ভেঙ্গে পড়ল।
মিলা,রুবি ও সূচিকে রোকনের অসুস্থটার কথা জানালো ।ওরা তিন বান্ধবী মিলে
পরীক্ষা না দিয়ে হাসপাতালে রোকনকে দেখার জন্য চলে গেল । ওরা হাসপাতালে যাওয়ার কিছুখন পরেই ডাক্তার রোকনের রিপোট দিলেন,রোকনের রিপোটে দেখা গেল রোকনের
ব্যাল্ড ক্যান্সার হয়েছে ।শেষ পযন্ত কয়েকদিন পরে রোকন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলো।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:০০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×