
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দণ্ডিত হয়েও ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে লড়াই করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা মহীউদ্দীন খান আলমগীর।২০০৭ সালের ২৬শে জুলাই অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল আওয়ামী লীগের এই নেতা মহীউদ্দীন খান আলমগীরের। পরে তিনি এই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেন। এমন অবস্থায় ২০০৮ সালের ৩ ডিসেম্বর চাঁদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জনাব আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। ৮ই ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনও তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন। পরে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন। ১৫ই ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট খারিজ করে দেয়।তারপর আপিল বিভাগে যান মহীউদ্দীন খান আলমগীর। আর চেম্বার জজ অন্তবর্তীকালীন আদেশে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। ফলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পান তিনি। নির্বাচনে জয়ী হন ম খা আলমগীর।নির্বাচনের পর ২০০৯ সালের ১৫ই জুলাই আলমগীরের পক্ষে দেয়া রায় বাতিল করে নির্বাচন কমিশন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার দেয়া রায় বহাল রাখেন চেম্বার জজ। ফলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যায়। ২০১০ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর পদ বাতিল করে গেজেটও প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।তারপর ২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশের ওপর ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দেয় উচ্চ আদালত। পরে নবম সংসদের পূর্ণ মেয়াদই সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকেন মহীউদ্দিন খান আলমগীর।জরুরি অবস্থা চলাকালে ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত আওয়ামী লীগেরই আরেক নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।মায়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যান। তার আপিলের শুনানি করে ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এবং বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের হাই কোর্ট বেঞ্চ তাকে খালাস দেয়।এরপর ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার পর মায়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মায়া।তবে ২০১৫ সালের ১৪ জুন সে সময়ের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ মায়াকে খালাস দিয়ে দেয়া আদেশ বাতিল করে আবার শুনানির নির্দেশ দেয়।এরপর মায়ার সংসদ সদস্য পদ এবং মন্ত্রিত্বের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৭ জুলাই রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। কিন্তু পরে একই বছরের ১৯ নভেম্বর সে রিট খারিজ করে দেয় হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। এখনও মায়া মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল আছেন।
ছবি গুগল।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ভোর ৪:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



