somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"সর হারামি" অথবা মহামান্য অথরিটির আপ্তবাক্য

০২ রা মে, ২০০৬ বিকাল ৩:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক দল ডেলিগেট এসেছিল কদিন আগে। বিদেশ থেকে। বান্দার দ্্বায়িত্ব ছিল, এয়ারপোর্ট থেকে পিক আপ করা। প্রায় বছর খানেক পর গেছি। অনেক স্বার্থ ছিল ডেলিগেট দের এফিশিয়েনসী দেখানোর। কোম্পানী লোগো টা বড় করে দামী ফটো পেপারের উপর আমার সস্তা প্রিন্টার দিয়ে প্রিন্ট করলাম। ওয়েলকাম টু বাংলাদেশ কথাটা বড় করে লিখলাম।

অনেক ছেলেমানুষি আনন্দ নিয়ে বাংলাদেশ কথাটি লাল আর সবুজে প্রিন্ট করেছিলাম।

যাইহোক, এয়ারপোর্টে গিয়ে দেখি হুলুস্থুল কান্ড। অ্যারাইভাল লাউনজে আর টিকেট কেটে ঢোকার সিস্টেম নেই। পুরোপুরি ঘেরা। আর সেই ঘেরাটোপের বাইরে শত শত মানুষ, অপেক্ষা করছে প্রিয়জন কিংবা অন্য কারো আগমনের আশায়। 11.15 বাজে। আমার ডেরিগেট রা নামবে 11.30 এ।

কোথাও কোন স্কীণ দেখলাম না। অনেক ঠেলাঠেলি করে ভিতরে তাকিয়ে দেখি, একে বারে ফাকা নয়। 30 জনের মত লোক দরজার কিছু দূরে লাইন ধরে দাড়িয়ে আছে। ভাবলাম ওরা পারলে বোধহয় আমারো ওই লাইনে দাড়ানোর চেস্টা করা উচিৎ। গেলাম গেটে দাড়ানো আনসারের কাছে। বললাম প্রথম বারের মত কিছু ফরেন ডেলিগেট আসছেন, আমাকে ওই লাইনে দাড়াতে দিলে তাদের রিসিভ করতে সুবিধা হবে। সে আমাকে কদর্য ভাষায় বলল আমার বাপকেও সে ঢুকতে দেবেনা।

অথরিটি। অপমান লাগলে করবেন টা আর কি? চলে আসছি , এমন সময় এক ক্যাব ড্রাইভার বলল, চা নাস্তার কিছু টাকা দিলে সে "ওস্তাদ" কে বলে আমার ভেতরে ঢোকার ব্যবস্তা করতে পারে। যাহোক ঢুকে পড়েছি এরও দশ মিনিট পর।

প্ল্যাকার্ড উচিয়ে দাড়িয়ে আছি কখন মহারথী রা আসবেন। আমার আশে পাশে দাড়ানো বেশিরভাগ লোকই কোন না কোন মোটামুটি ভাল হোটেলের এমপ্লয়ী। এদের এক জনের সাথে ভালই খাতির জমে গেল। ভদ্রলোক গুলশানের একটা বেশ ভাল হোটেলে চাকরি করেন। কথায় কথায় জানা হল, প্রায়ই এখানে আসা পড়ে ডিউটির খাতিরে। তার আর আমার যাত্রী একই বিমানে আসছেন, এটাও জানলাম। অবতরনে দেরী হবে জেনে তার সাথেই দাড়িয়ে রইলাম।

হঠাৎ ড্রাইভ ওয়েতে সাইরেন । ঘুরে তাকিয়ে দেখি, পুলিশের নতুন জীপ গুলোর একটা এসে থামছে ( পুলিশরা নিশ্চই গড়ি গুলো খুব ভালোবাসে, চক চকে নতুন, বিদেশি পুলিশের মতো টপলাইট আর দুই তিন রকমের সাইরেন, এজন্যই বোধহয়, সুযোগ পেলেই বাজায়)। সাথে সাথেই দেখি লাইনের আর্ধেক লোক হাওয়া। ব্যাপার কি? আমার সহ দন্ডায়মান প্রতিবেশী বোঝালেন ওরা দালাল ছিল, ট্যাক্সির। নতুন পুলিশের গাড়ি দেখে পালিয়ে গেল ( আরও জানলাম ডিউটিতে নতুন পুলিশ সদস্য আসলে ওরা পালায়.. বোঝাপড়া হলে আবার ফিরে আসে)। কিন্তু এই পুলিশ গুলো দেখি করিৎ কমর্া । এসেই বাশি বাজানো শুরু করলো। আর হাতের অস্ত্র সমেত গেটের সামনে থেকে লোক খেদানো শুরু করলো। " সরেন, এখান খেকে সরেন:" "স্যার আসবে, সরেন" " আরে কইলাম না সরেন?" "পায়ে জোর নাই?"

আমার প্রতিবেশী ঘুরে দাড়িয়ে হাঁটতে শুরু করলেন আমি তার সামনে। হঠাৎ হাতে ওয়ারলেস অলা চ্যাংড়া চেহারার একটা পুলিশ পিছন থেকে জোরে তাকে একটা ধাক্কা দিল .. "সর, হারামি"
উনি আমার উপর এসে পড়লেন, আমি ব্যালেনস হারালাম, আর হাত েথকে প্ল্যাকার্ড টা গেল পড়ে।

পুলিশ টা সুন্দর মত আমার প্ল্যাকার্ড টার উপর দিয়ে হেটে গেল।

আমার গেস্ট দের আমি পেয়েছিলাম আরো 45 মিনিট পরে। তারা আমাকে উপদেশ দিলেন, "একটা প্লাকার্ডে লিখে আনলে আরো সহজে তোমাকে আমরা পেতাম"। আমি দুঃখ প্রকাশ করে কাঁধ পেতে হজম করলাম।

কেমনে বলি, প্ল্যাকার্ড একটা ছিল; কিন্তু বাবল জেটে ছাপা সেই চকচকে কাগজে, লাল সবুজ বাংলা লেখার উপর, সুন্দর খয়েরী একটা ডান বুটের ছাপ আছে ।

কেমনে বলি জুতোর তলার ওই বাংলাদেশ আমার দেখাতে মন করেনি।

অথরিটি মজার না? আমার একটা ব্যাজ আছে। আমি হয়তো ম্যাট্রিক পাশ। তাতে কি হয়েছে? স্যার আসবেন... এই এমবিএ পড়া শিক্ষিত মশামাছির দলকে একটু ঠেঙিয়ে না সরালে যে স্যার রাগ করবেন। দেশে চৌদ্দ কোটি মানুষ থাকলে কি হবে? স্যার আসার সময় টার্মিনালে চৌদ্দটা মানুষ ও থাকতে পারবেনা। হঠ শালারা। দূরে যা।

সেলাম পুলিশ ভাই। আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি বাংলাদেশ চিনিনা । আপনি চেনেন। বাই দা ওয়ে আপনার বুটের ট্র্যাক খুব সুন্দর, কাগজে ফোটে। আমি জানতামনা বাংলাদেশে আজকাল এতো ভাল বুট বানায়।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০০৬ বিকাল ৩:২৬
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - প্রমাণ

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:১২



ব্লগার সাহেব আমেরিকা থেকে লিখেছেন, “অমুক আসলে মুক্তিযোদ্ধা নন।”

আমি বন্ধুকে ফোন করলাম।
বললাম, “তুমি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?”

সে বলল, “বুঝতে পারছি না।”

“কেন?” আমি প্রশ্ন করলাম।

“১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×