![]()
কিছু কিছু মানুষ উচ্চশিক্ষিত হলে নাকি সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। বিশাল বিশাল সব বইয়ের লাইনের ফাকে ফাকে কি এমন তথ্য, যুক্তি পায় যে এক তুড়িতে বলে বসে যে, সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নেই!!! আমার বুঝে আসে না। ভাগ্যিস তাদের মত তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত হয়ে যাই নি।
একবার আচার্য্য জগদীশ চন্দ্র বসু ভারতের কোন এক কলেজের ল্যাবে হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন সহযোগে পানি বানিয়ে দেখান। তারপর বলেন যে, এই সামান্য পানি বানাতে দশ টাকা খরচ হয়ে গেল!! এমনকি এই পানি বিশুদ্ধ ও না, বিষ। অথচ দেখ ছাত্রেরা, তোমাদের আশে পাশে রাশি রাশি বিশুদ্ধ পানির অফুরন্ত যোগান। নিশ্চয়ই কেউ একজন আছেন মহাবিজ্ঞানী যিনি এসব সৃষ্টি করেছেন!
ওই ক্লাশে উপস্থিত ছিলেন শামসুল হক নামের এক ছাত্র। তিনি ক্লাশ শেষে সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেন কলেজ শেষে তিনি বিখ্যাত দেওবন্দ মাদ্রাসায় পড়তে যাবেন। যেই ভাবা, সেই কাজ। চলে গেলেন। তারপর পড়া শেষে আবার চলে আসলেন বাংলাদেশে। তার ওস্তাদ বিখ্যাত পীর আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) বলেছিলেন, “বাংলাদেশে এক জ্ঞানের জাহাজ পাঠিয়ে দিলাম।”
তিনি হলেন গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা শামসুল হক সাহেব ফরিদপুরী (রহঃ), যাকে লোকজন “সদর সাহেব হুজুর” নামে চেনে।
ভাই, মোদ্দা কথা হল ডিরেকশন বুঝতে হবে। একই তথ্য কাউকে ইমানদার বানিয়ে দেয় আবার ভুল ডিরেকশনে সেই তথ্যই কাউকে নাস্তিক বানাবার জন্য যথেষ্ট।
আইস্টাইন এর E=mc2 আবিষ্কার এর আগে, নিউটন এর সূত্রগুলো আবিষ্কারের আগে, কাটিং এজ জেনেটিক্স এর সূত্রগুলো আবিষ্কারের আগে প্রকৃতিতে কি এগুলোর অস্তিত্ব ছিল না!! সবাই জানি, ছিল। এখনো অনেক কিছু আছে যা মানুষের বোধের, জ্ঞানের বাইরে।
ধুম করে একটা আবিষ্কার করে আপনি বলে বসতে পারেন না, সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসের দরকার নেই। এটা সংকীর্ন মনের পরিচয়, মুক্তমনের নয়।
বিজ্ঞানের যে পরিমান শাখা প্রশাখা আছে, তার ক্ষুদ্র একটা অংশ নিয়ে স্টাডি করতে গেলেই যুগ যুগ পার হয়ে যাবে। আর কেউ সেই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশের সামান্য কিছু অধ্যয়ন করে এমনই পন্ডিত হয়ে গেল যে, যুক্তির ধাক্কায় সৃষ্টিকর্তাকেই নাই করে দিল!!!
ওরে আবালের বাচ্চা আবাল! এত নাক উঁচু কেন তোদের! নিজেদের চেয়ে সুপিরিয়র কারও অস্তিত্ব আছে ভাবতে বুঝি কষ্ট হয় বেকুবের দল!! কোন মরনব্যাধি শরীরে বাসা বাঁধুক, আল্লাহ্ আল্লাহ্ বলে দৌড় শুরু করে দেবে এরা, পীর-ফকির-দরবেশ কিছুই বাদ দেবেনা!! নাস্তিকতা বুঝি ফ্যাশন!!
নাস্তিকতা আসলে একটা পথ। ধর্মের কঠিন নিয়মের বেড়াজাল ভেঙ্গে নিজের মন মত জীবনযাপন করার একটা পথ। বিবেককে পাশ কাটানোর একটা শর্টকাট রাস্তা এইটা। আর কিছু না।
আইনস্টাইন এর কথা দিয়ে শেষ করি, “The more I study science, the more I believe in God”
“I want to know God's thoughts; the rest is not important”
নে খা!! নবীদের না মানতে পারিস, এই পেজাতুলো চুলওয়ালা লোকটা কে তো ভক্তি করিস। নাকি বলবি, বুড়োর মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


