somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রোটোপ্লাজমিক ডিজঅর্ডার

২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৯:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছিলাম জাইগোট।
তার কিছুক্ষন আগের কথা,
যখন প্রেমিকার সাথে মিলিত হবার তীব্র বাসনা নিয়ে ছুটে আসছিল প্রেমিকের দল, ছন্দময় দ্রুতগতিতে, সংকীর্ণ পথে;
আমরন।

অবশেষে বিজয়ী প্রেমিক মিলিত হল প্রেমিকার সাথে,
আর তার সাথে সাথে এক মানবাত্মার পথচলা হল শুরু।
পরিনত হলাম জাইগোটে,
এখন আমি আরো পরিনত দেহধারী অস্তিত্ব।

আচ্ছা, হেরে যাওয়া প্রেমিকের দলের কোন কেউ কি এখনকার আমার চেয়ে
আরও সুচারু কোন অস্তিত্বের বিকাশ ঘটাতে পারত?
কি জানি? আমি নিশ্চিত নই।

সেই জাইগোট,
যা এখন বিপরীতমুখি শত চরিত্রের অন্ধকারাচ্ছন্ন অসম্পুর্ন অবয়ব।
কোষীয় উপাদানের বিশৃঙ্খলার বেড়াজালে আটকে বেড়ে ওঠা-
রক্ত, মাংস এবং আত্মা- এই ত্রিত্বের মনুষ্যাকৃতি।

আমি এবং আমার আত্মার পাচখন্ড নিয়ে
ছোট এক ডিঙ্গি নৌকায় করে মহাসাগর পাড়ি দিয়ে
পৌছালাম সিল্লার কাছে; বিতৃষ্ণার হাত থেকে রেহাই পেতে।
কিন্তু কোথায় তার সেই আস্ফালন? কেউ এল না।
হাজার বছরের অনড় নিয়মের বত্যয় ঘটল আমায় ঘিরে।


সেই জাইগোট,
যা এখন অমোঘ নিয়তির কাছে পরাজিত ব্যর্থ, হতাশ হৃদয়।
সাধারনত্ব এবং অসাধারনত্বের অসহায় সম্মিলনের সামনে লজ্জাবনত,
আমিই যার পরিনত এবং রুপান্তরিত আবাস।

শোকে কাতর, হতাশায় নিমজ্জিত, রোগে দুর্বল মুমূর্ষ এক আত্মার সূক্ষ্মরূপ সেই আদিকোষ;
যার গহীন অভ্যন্তরে চলমান চির বিশৃঙ্খলা জন্ম দেয় এমন এক অস্তিত্বের, যে চারপাশের
ছুড়ে ফেলা মৃত ভুলগুলো তুলে সাজিয়ে রাখার এক শবাধার।
যার মৌলিকত্ব প্রমান করার কষ্টিপাথর খুঁজে পাওয়া বিরল এক ভাগ্যের অদৃশ্য রূপ,
পরিচিত মুখগুলোর অবমাননা যাকে ধৈর্য্যের শেষ সীমায় উপনীত করে আবার ফিরিয়ে আনে
তার আদি এবং অকৃত্রিম ধূসর সীমানায়।
আর সেই সীমানার প্রান্তে এখন ঘনিয়ে আসছে বিষণ্ণ কালো ছায়া, যার মাঝে প্রস্ফুটিত হচ্ছে
তার মত অযুত-নিযুত আত্মার বৃথা হাহাকার; যাদের দুঃখ বোঝার কেউ নেই।
যারা একেকজন অন্তহীন দুঃখ রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি।

সেই জাইগোট,
যা এখন মর্যাদাহীনতার গ্লানিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত আর্তচিতকাররত আত্মার বীভৎস, কুৎসিত রূপ।
যার পরিণত মনুষ্যাবয়ব এখন আঁধার এবং দুঃখের প্রকৃত রূপ খুঁজে ফেরে উজ্জ্বল আলোয় উদ্ভাসিত
রাজ্যের আলোকিত পথের বাঁকে বাঁকে।
যেখানে তাদের অবদমিত করে রাখে জগতের সব আলো আর সুখ।

চাওয়া এবং পাওয়ার আদিম দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত ছায়ামানুষের মৃতদেহকে ঘিরে উৎসবরতদের
বিশৃঙ্খল ভিড়ে নিজেকে খুঁজে না পেয়ে আমি খুশি; উৎসবে যোগ না দেওয়া আত্মাদের মধ্যমণি
হবার বাসনা নিয়ে তাদের খুঁজে না পেয়ে একাই উৎসব করি।
অন্তর চোখে দেখি সেই পরাজিত আত্মার স্বর্গীয় উজ্জ্বল রূপ; যার হাসিমুখ এখনো অমলিন আর সুন্দর।
যেন আমাকে বলে, ‘এগিয়ে যাও। তুমিই একদিন জিতবে। এই দুঃখ-জরাগ্রস্থ পৃথিবী তোমারই মত
শুভ্রচিন্তার মানুষের জন্য টিকে আছে। আমাদের মত দুঃখের নির্মম কষাঘাতে জর্জরিত, দুঃখ সাগরের পবিত্র পানিতে
গোসল সেরে পবিত্র হওয়া আত্মাদের ভিড়ে তুমিই হবে মধ্যমণি। তুমি তাই পেরেছ, আমরা যা পারিনি। বিদায়।’

আমি হাত নাড়ি আর ভাবি নেতিবাচক সব ভাবনা, যেগুলোকে মনে হয় ধ্রুব সত্য।
মনে হয়,
আমি সেই জাইগোটের পরিণত সংস্করণ,
যেখানে হয় লক্ষ-কোটি শুভ্র চিন্তার এক হতাশাজনক সমাপ্তি।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৯:১২
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×