somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গানের প্রতিযোগিতা তিন চাকা ও কিছু ফাও গল্প

১০ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
ব্লগে কৌশিকদার পোস্ট পইড়া আগেই আগ্রহ ছিল তিন চাকায় যাওয়ার। কাল শুক্রবার বাসা থেকে বের হয়েছিলাম সকালে সাতটায়, চ্যানেল আইতে। তখনও বাসায় ফিরিনি, পাইলাম কৌশিকদার ফোন। কইলাম আইতাছি মিরপুর। ফোন দিলাম প্রতুরে। ধরে না। দ্বিতীয় বার ধরলেও বুঝলাম ঘুম থেকে উঠাইছি। কইলাম শ্যামলীতে আসতাছি, আপনে আসেন। চলেন যাই।
২.
লম্বা লাইন, লাইনে দাঁড়িয়ে যার যার মতো করে রিহার্সাল দেওয়া, অডিশন পর্ব, ইয়েস কার্ড পাওয়া বা না পাওয়া এসব তো ছিলই। এবার বাড়তি কিছু তথ্য দেই। ব্লগারদের মধ্যে আরও ছিল সৃজন ও অন্যআনন। মাঝে গেছি চা খেতে। আদা-লেবু চা আছে, আবার বেশি চিনি দেওয়া ডাইল চাও যে পাওয়া যায় সেটাও বুঝলাম। খেতে খেতে দেখি কৌশিকদার মাথা খালি ডাইন-বাম করে। তাকাইয়া দেখি রাস্তায় একজন সাবজেক্ট। সাথে সাথে প্রতুর জন্য পাত্রী দেখার দায়িত্ব বেশ জোরদার হইয়া উঠল। তবে আমরা শেষ পর্যন্ত পেছন ছাড়া দেখতে পারিনাই, কৌশিকদার ভাষায় যা চিটাগং পার্ট। চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়ানো স্থানীয় কেউ একজন সাথে সাথে আমাদের তথ্য জানিয়ে দিল যে, এই মেয়ে পার্লারের, সামনেই নাকি পার্লার। কৌশিকদারে প্রস্তাব দিলাম সে যেন পার্লারে যাইয়া বাকি চুলটুকু কাইটা আসে। দ্বিতীয় দফায় চা খেতে এসে অবশ্য আমরা সামনেও দেখলাম, যা কৌশিকদার ভাষায় কুমিল্লা পার্ট। কুমিল্লায় নাকি টিলা পাওয়া যায়!
৩.
চিটাগং নিয়া সেই গল্পগুলো জানেন তো? প্রথমটা কইলো কৌশিকদা। ঐ খানে নাকি পাখিও এক ডানা দিয়া তার পশ্চাৎদেশ ঢাইকা আরেক ডানা দিয়া উড়াল দেয়।
আরেকটা গল্প বলি। এক লোক চট্টগামে যাইয়া দেখে রাস্তায় একটা আধুলি পড়ে আছে। সে ঐ আধুলি পা দিয়ে ঠেলতে ঠেলতে নিয়া গেল কুমিল্লায়। তারপর সে নীচু হয়ে তুললো আধুলিটা। চিটাগংয়ে নাকি কেউ রাস্তা থেকে কিছু তোলার জন্যও এই পজিশনে যায় না।
৪.
খবর দিলাম মুন্নী সাহাকে। আমরা অবশ্য দুপুর থেকেই যাই যাই করতেছিলাম। বউয়ের ঝাড়ি খাইয়া কৌশিকদার যাওয়ার আগ্রহ ছিল বেশি। মুন্নী আসার পর ওকে মোটামুটি সব বুঝিয়ে দিয়ে আমি আর প্রতু ফিরে চললাম। কৌশিকদা দেখি আর যাইতে চায় না। বিষয়টা রহস্যজনক। দেখি মুন্নীর সঙ্গে ফেইসবুক আর সব কি কি আলাপ করতাছে।
৫.
আরেকটা তথ্য দেই। প্রতুরে কইলাম ব্যাচেলর মানুস, সকাল ১১টা পর্যন্ত ঘুমান, রাইতে আপনার আবার কাম কি? ফুনাফুনি নাকি করছে ভোর ৫টা পর্যন্ত। আমারে কসম খাওয়াইছে আমি কারো মাইয়াটার নাম কইতে পারুম না। যান কারোরেই কইলাম না।
৬.
পরে ছবিতে দেখলাম কৌশিকদা মাথার চুল আরো কম। পার্লারে গেছিলো নাকি?
৭.
এইটা হচ্ছে আজ প্রথম আলোতে ছাপা হওয়া আমার লেখা রিপোর্টটা। -
গোলাপ হোসেন ২০০১ সালে নরসিংদী থেকে ঢাকায় এসেছিল গায়ক হওয়ার আশায়। জীবিকার তাগিদে রিক্সা চালায়। মাঝে ‘কোজআপ-ওয়ানের তোমাকে খুজছে বাংলাদেশ’-প্রতিযোগিতায় নাম লেখালেও টিকতে পারেনি। এখন সে এসেছে রিক্সা চালকদের নিয়ে গানের প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান তিন চাকায়।
রিক্সা না চালিয়ে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে জানতে চাইলে গোলাপ হোসেন বললো, ‘জীবনে অনেক সময় নষ্ট করছি এই গানের জন্য। সেই তুলনায় একদিন তো কিছুই না’। গোলাপ হোসেন অডিশন পর্বে ইয়েস কার্ড পেয়েছে।
রিক্সাচালকদের এই গানের প্রতিযোগিতায় জমকালো মঞ্চ ছিল না। ছিল না কোনো জাক জমক। মিরপুর এক নম্বরে উপশহর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ছোট এক ঘরে অডিশন নেওয়া হয়েছে। তবে আর সবই ছিল। সকাল থেকে লম্বা লাইন, দুই জন বিচারক আর গান পাগল কিছু রিক্সাচালক।
আয়োজক শিশির বিন্দু নামের একটি অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান। এ জন্য তারা প্রায় ৭০ হাজার পোস্টার ছাপিয়ে রাজধানীর রিক্সার পেছনে লাগিয়ে দিয়েছিল। আর সেই পোস্টার পড়েই নিবন্ধন করে প্রায় ১২শ রিক্সাচালক। তবে গতকাল শুক্রবার অডিশন দিয়েছে প্রায় সাড়ে তিনশ রিক্সাচালক। ঢাকার বাইরে থেকেও এসে অডিশনে অংশ নিয়েছেন এমন রিক্সাচালকও আছেন একাধিক। বাবুল মিয়া এসেছেন সিরাজগঞ্জ থেকে। এজন্য তার খরচ হয়েছে প্রায় সাতশ টাকা। বাবুল মিয়া নিজের লেখা ও সুর করা ছাড়া গান করেন না। বাবুল মিয়া জানান, গান গেয়ে পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। শহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলো লাইনে দাঁড়িয়ে। সে এসেছে কুড়িগ্রাম থেকে। সখের গায়ক শহিদুল এতদূর থেকে এসেছে কেবল গানের জন্যই।
ইয়েস কার্ড পেয়েছে মাইজুর রহমান। মিরপুর এক নম্বরে রিক্সা চালায় সে। আর এই আয় দিয়ে সপ্তাহে একদিন যায় গানের স্কুলে, গান শিখতে। এজন্য দিতে হয় মাসে ৩শ টাকা। রিক্সা চালানোর আয় থেকে ৩শ টাকা দিতে কষ্ট হলেও এ জন্য কোনো আফসোস নেই মাইজুর রহমানের।
গোলাপ হোসেন রিক্সার পেছনে লাগানো পোস্টার দেখেছিল মিরপুর ১০ নম্বরে। কাগজ কলম নেই। তাই যোগোযোগ করার জন্য পোস্টারে দেওয়া ফোন নম্বর মুখস্ত করার জন্য সে ঐ রিক্সার পেছনে খামার বাড়ি পর্যন্ত যেতে হয়েছে তাকে। গোলাপ হোসেনের জীবনে ল্য একটাই, একটা ক্যাসেট বের করা। যাতে দেশের মানুষ তার গান শুনতে পারে।
ইয়েস কার্ড পায়নি হেলাল উদ্দিন। সে নিজেই গায়ক-গীতিকার ও সুরকার। অডিশন রাউন্ডের প্রথম প্রতিযোগি হিসেবে যে গান গাইলো তার বিষয়বস্তু রেখা নামের কোনো এক মেয়ের হেলালকে ছেড়ে যাওয়া কেন্দ্র করে বিরহ-যাতনা। বিচারকরা আরেকটা গান গাইতে বললে সে গানেরও পাত্র-পাত্রী রেখা ও হেলাল। ইয়েস কার্ড না পেয়ে হেলাল উদ্দিন দীর্ঘসময় বসে ছিল স্কুলের সামনের গাছের নীচে।
আয়োজন শিশিরবিন্দুর নির্বাহী পরিচালক শিশির সালমান জানালেন তারা ঢাকা দুটি অঞ্চলে ভাগ করে অডিশন নিচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার ছিল পশ্চিমাঞ্চলের অডিশন। আগামি ২৩ মে হবে পূর্বাঞ্চলের অডিশন। ইয়েস কার্ড যারা পাবেন তাদের নিয়ে হবে দ্বিতীয় পর্ব। চূড়ান্ত পর্বে থাকবে সাত জন। এই সাতজনকে নিয়ে আয়োজকরা বের করবে গানের একটি মিশ্র অ্যালবাম। আর প্রথম যিনি হবেন তার জন্য পুরস্কার ১০ হাজার টাকা ও একটি একক অ্যালবাম বের করার সুযোগ। সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী কিছু করার ভাবনা নিয়েই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন। শিশির সালমান জানান, আগামি জুনের শেষ দিকে বসবে চূড়ান্ত আসর।


সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৪:১০
৩৪টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যুদ্ধ বিরোধী কবিতা: তোমরা বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো

লিখেছেন অর্ক, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪২



আর আমি ভীষণ দুঃখ পেলাম দেখে
দল বেধে বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো
কুয়াশাচ্ছন্ন বরফসাদা হিম রাত শীতের
তোমরা বিরাটকার কালো আলখাল্লা পরা
উলের ভারি দস্তানা ও মুজো হাতে পা’য়ে;
পাশবিক উল্লাসে শীর্ণকায় শিশু বিড়ালটিকে
কামড়ে আঁচড়েহাঁচড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অমর একুশে বই মেলা: প্রযুক্তির যুগে ছাপার বই: প্রয়োজন, না কি স্মৃতির অবশেষ: নাকি সমন্বয়ের ভবিষ্যৎ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৫০


মানবসভ্যতার জ্ঞানভাণ্ডার দীর্ঘকাল ধরে বহন করে এনেছে মুদ্রিত বই। কাগজে ছাপা অক্ষরের বই একসময় ছিল জ্ঞানের প্রধান বাহন, সংস্কৃতির ধারক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার অপরিহার্য মাধ্যম। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:২৫



জল পড়ে পাতা নড়ে- বলেছেন কবি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শৈশব বেলায়,
বালক মতিত্বে তাঁর কাব্যের ভেলায়
প্রাথমিক আরোহন কি চমৎকার!
যে হয় সে হয় মূর্ত সাফল্যের ছবি
শুরু থেকে। তার যাত্রা জীবন মেলায়
রাজকিয় হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি সরকার মেয়াদ পূর্ন করতে পারবে কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৩



এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়।
বিএনপির অতীত ইতিহাস মোটেও ভালো না। এরা যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন শুধু দূর্নীতি করেছে। দেশের উন্নয়ন হয়নি। গত ১৭ বছর আওয়ামিলীগ বিএনপিকে কোনঠাসা করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Narrative warfare এর যুগে আপনাকে স্বাগতম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩২


২০২৫ সালের মে মাসে যখন ভারত পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল, তখন দিল্লির একটি প্রেস কনফারেন্স রুমে দাঁড়িয়ে ছিলেন দুজন নারী সামরিক কর্মকর্তা। একজন হিন্দু, একজন মুসলিম। ক্যামেরার সামনে তারা কাঁধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×