দৃশ্য এক
রাস্তার পাশে একটি গাছে চমৎকার একটি ফুল ফুটে আছে। ওই পথে পর পর তিনজন লোক গেলো, চতুর্থ লোক পাশের বাড়ি থেকে সব দেখছে।
প্রথম লোক, কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ফুলটার সৌন্দর্য উপভোগ করে চলে গেলো।
দ্বিতীয় লোক, ক্যামেরা বের করে ছবি তুলে নিয়ে চলে গেলো।
তৃতীয় লোক, ফুলটিকে ছিঁড়ে দলাই মলাই করে চলে গেলো।
চতুর্থ লোক কোনো প্রতিবাদ না করে ভাবলো, কোন আক্কেলে রাস্তার পাশে গাছ লাগিয়েছে, লোকে তো ছিঁড়বেই।
দৃশ্য দুই
ভীড়ের মধ্যে সুন্দর এক শাড়ি পরা একটি মেয়ে যাচ্ছে।
প্রথম লোক, মুগ্ধ হয়ে শাড়ির আর সুন্দরীর মেলবন্ধন দেখলো।
দ্বিতীয় লোক, মেয়েটিকে দেখে কবিতার প্লট খুঁজে পেলো।
তৃতীয় লোক, মনেমনে এক্সরে করে হাত বাড়িয়ে চাপ দিলো মেয়েটির বুকে।
চতুর্থ লোক, দেখে ভাবলো, সেজেগুজে ভীড়ের মধ্যে এলে লোকে হাত তো বাড়াবেই, কপাল ভালো যে, টান দিয়ে শাড়ি খুলে নেয়নি!
দৃশ্য তিন,
একজন লেখক তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস অবিশ্বাস নিয়ে লিখেছেন।
প্রথম লোক, লেখায় যুক্তি পেয়ে পছন্দ করলো।
দ্বিতীয় লোক, পছন্দ না হলেও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার ভিত্তিতে মেনে নিলো।
তৃতীয় লোক, অনুভূতি আহত হওয়ার নামে চাপাতি নিয়ে লেখকের মাথা শরীর থেকে আলাদা করে দিলো।
চতুর্থ লোক, ভাবলো, বেশ হয়েছে! এই লেখকের চেয়ে হত্যাকারীর অনুভূতি অনেক বেশি মূল্যবান।
প্রতিটি ঘটনায় অপকর্ম তৃতীয় জন করলেও চতুর্থ জনকেও এই একই কাতারে ফেলা যায়। অন্যায় দেখে প্রতিবাদ না করে যে ভিক্টিমের দোষ খোঁজে তার অপরাধকে হাল্কা করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। সময় থাকতেই এদের চিনে রাখুন। প্রতিটি আন্দোলনের পথে এই চতুর্থ শ্রেণী নিজেরা কিছুই করবেনা, কিন্তু বাগড়া ঠিকই দেবে।
মালবিকা শীলার লেখা থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০১৭ সকাল ১১:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



