somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেনাপোল থেকে ওয়াগা-04

১৩ ই মার্চ, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অমৃতসার মেইল, ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭.১০ এ হাওড়া থেকে ছেড়ে যাবে অমৃতসারের উদ্দেশ্যে। কলকাতা থেকে অমৃতসার- কাগজে-কলমে ৩৬ ঘন্টার পথ কিন্তু লেগে যায় ৪০-৪২ ঘন্টা। এ.সি.-৩ তে ৩৩ এবং ৩৬ দু্থটি স্লিপার আমাদের। বিশাল ভারতের বুক চিরে একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে ছুটছি আমারা পুঁ-ঝিক-ঝিক শব্দ তোলে। আগামী ২ রাত আর ১ দিন কাটাতে হবে এই ট্রেইনে। আমরা এক বগি থেকে অন্য বগিতে ঘুরাঘুরি করছি। রাতের খাবার ট্রেইনেই খেতে হল;কারণ আর কোন উপায় নেই। কোন স্টেশনে থামলেই আমরা চলে যাই দরজায়, এক পলকে দেখে নিই স্টেশনটাকে আর মনে মনে কল্পনা করে নিই শহরটাকে। এভাবে করতে করতেই বেড়ে গেল রাত্রি, ট্রেইনের বাতিও নিভিয়ে দেয়া হল, সুতরাং আমাদের ঘুমানো ছাড়া আর কোন উপায় নেই। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বালিশ-কম্বল দিয়েছে, তাই নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। ভোর পাঁচটায় উঠলাম ঘুম থেকে। উঠেই গেলাম দরজায়, ট্রেইন আস্তে আস্তে চলছে; মাত্র একটা অজানা স্টেশন থেকে ছাড়ল। সবকিছু ঠিকমতই চলছিল, কিন্তু পেটের নিম্নচাপ্টা অলরেডি সতর্ক সংকেত দিচ্ছিল আর এখন বড় কাজটা করা জরুরী হয়ে পড়েছে। কি আর করা ু প্রচন্ড ঝাঁকুনির মাঝেই কোনমতে কাজটা সারলাম; যাই হোক এখন টেনশনমুক্ত। যাত্রা টাকে নতুন করে ভাবতে শুরু করলাম, নতুন স্টেশন, নতুন শহর, নতুন চিন্তা। জানালা দিয়ে চলন্ত-ভারত দেখছি। পাটনা, কাশী, এলাহাবাদ নামগুলো বার বার স্কুল জীবনে নিয়ে যাচ্ছিলো (সামাজিক বিজ্ঞান-এ পড়া)। এসব চিন্তা আর কল্পনার খেলার মাঝে টায়ার্ড হয়ে কখনো বই পড়ি আবার কখনো ঘুমিয়ে পড়ি। এভাবে সময়ও চলে যায় আর আমরাও ক্রমে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলি। দুপুরের দিকে একটা স্টেশনে থামল ট্রেইন, দরজায় দাঁড়িয়ে আযানের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। প্লাটফর্মে নেমে স্টেশনের নাম খুজছিলাম, কিন্তু সব কিছুই উর্দু আর হিন্দি তে লেখা। অবশেষে এক জায়গায় ইংরেজি লেখা খুঁজে পেলাম-LUCKNOW (লক্ষ্ণৌ)। লক্ষ্ণৌ চুক্তির কথার বইয়ে পড়েছি, আর আমি সেই জায়গায় স্বশরীরে উপস্থিত, ভাবতেই অবাক লাগছিল। আবার চলতে শুরু করে আমাদের ট্রেইন, অজানা সব স্টেশন, আবার রাত নামে ; সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল সকাল ৯.০০টায় পৌছে যাবো অমৃতসারে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

লিখেছেন রাজসোহান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×