somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্যামদেশে সালতামামি-১

১১ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সময়ের পায়ে বেড়ি পরানো বড় মুশকিল কাজ। শ্যামদেশে পড়তে এসে ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে ৩৬৫ টি দিন যে কিভাবে হাওয়া হয়ে গেল তা এখনো ঠাহর করে উঠতে পারিনি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে দু-দু’টো সেমিস্টার পাড়ি দিয়ে তৃতীয়টাতে বসে হাওয়া খাচ্ছি। আজ হঠাৎ লিখতে বসে মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে শত শত স্মৃতি। কিভাবে শুরু করি, কোনটা রেখে কোনটা বলি –সবকিছু যে আওলাইয়া যাইতাছে! একেবারে শুরু থেকেই শুরু করি, ক্রমানুসারে বলতে থাকবো তাহলে কোন সমস্যা হবেনা।

০৯ আগস্ট, ২০১১ বিকেল ৪.০০ টায় কুলিং বেডের লেভেল ঠিক করছি। স্টীলমিলের গ্রীজ আর কালি মিশে একাকার পুরো শরীর। হঠাৎ করে আমার ফোনটা বেজে উঠল। ভাবছি, এইডা কেডা- ফোন করবার আর টাইম পাইলনা। বহুত কষ্টে পকেট থেকে ফোনটা বের করে দেখি একটা বিদেশি নাম্বার। ধরার পরে দেখি বেটা বাংলায় কথা কয়। বলে সে থাইল্যান্ডের এ আই টি থেকে কথা বলছে। আমাকে নাকি কি একটা স্কলারশিপের অফার লেটার পাঠানো হয়েছে, আর আমাকে আজকের মাঝেই জানাতে হবে – আমি স্কলারশিপটা গ্রহন করছি নাকি করছিনা। কথা বলা শেষে আমি তাড়াতাড়ি স্মৃতির পাতাগুলো একটু রি-ওয়াইন্ড করে বের করলাম থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি - তে মাস্টার্স করার জন্য আবেদন করেছিলাম কিন্তু ওরা কোন স্কলারশিপ ছাড়া সেলফ ফাইন্যান্স এ পড়ার জন্য আমাকে এডমিশন লেটার পাঠিয়েছিল। ওই লেটারে আমি ডিক্লাইন –অর্থাৎ ‘আপনার প্রস্তাবে আমি রাজি নহি’-লিখে স্ক্যান করে পাঠিয়ে দিয়ে ছিলাম। এবার হুশ এল, ইয়াহু আমি মাস্টার্স এর স্কলারশিপ পেয়েছি। তাড়াতাড়ি ইমেইল চেক করতে গেলাম অফিসরুমে। ইমেইল খুলে দেখি আসলেই আমি কিং’স স্কলারশিপ পেয়েছি। আমার ক্লাস অলরেডি শুরু হয়ে গেছে, আমাকে আগামী এক সপ্তাহের মাঝে রিপোর্ট করতে হবে। এ দেখি মহা মুসিবত। আমি ভিসা নিবো কখন, শপিং করব কখন, বন্ধু-বান্ধব-আত্মীয়-স্বজনদের জানাব কখন। আবার মাত্র ১০-১২ দিন পরই ঈদ, এই ঈদকে সামনে রেখে চলে যাব বিদেশে? না এ হতেই পারেনা। আমি ইমেইল করে জিজ্ঞেস করলাম, অমুক তারিখের পর (মানে ঈদের পর) আসলে কোন অসুবিধা হবে কিনা। ওই বেটা আমাকে বলল ‘আপনি যত তাড়াতাড়ি পারেন চলে আসেন, আপনার ক্লাস শুরু হয়ে গেছে, দেরি করলে আপনারই ক্ষতি হবে।’ ওই বেটারে মনে মনে একশো-হাজার গালি দিলাম (প্রসঙ্গতঃ বলে নেই পরবর্তীতে এ আই টি তে এসে জেনেছি এই বেটা হচ্ছে আমাদেরই এক বন্ধু, নাম দেবাপী কুমার ঘোষ। সে গ্রীষ্মের ছুটিতে কিছুদিন এডমিশন ইউনিটে কাজ করেছে) । কিভাবে কিভাবে ভিসা করতে, আরো অন্যান্য কাগজ-পত্রাদি একাট্টা করতে করতেই চলে এল ঈদ। তার মানে এই ঈদ টা আমি বাংলাদেশেই করতে পারছি।

চলবে.........
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×