somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নতুন প্রযুক্তি ? আটকাও, বসাও টেক্স

০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক পুরোনো একটা ঘটনা দিয়ে শুরু করা যাক।
১৯৮০ সালের ঘটনা। আমার মামাতো ভাই সৌদি আরব থাকতেন। ভালো আয় করতেন। সেই সময় এক মাসের ছুটি পেয়ে বিদেশ থেকে ফেরার সময় তিনি শখ করে একটি ভিসিআর কিনে এনেছিলেন। তখন বাংলাদেশে ভিসিআর নিষিদ্ধ। যুব সমাজের চরিত্র নষ্ট হবে বলে সরকার এই যন্ত্রটি দেশে আনা নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। আমার মামাতো ভাই মোটা টাকা ঘুষ দিয়ে ভিসিআরটি বিমান বন্দর থেকে ছাড়িয়ে এনেছিলেন। ঘুষ দিয়ে আনতে সেই যন্ত্রটির দাম তখন পড়ে গিয়েছিল প্রায় দেড় লাখ টাকা।
দেশে আনতে পারলে সেই যন্ত্রটি তিনি বাসায় নিতে পারলেন না। আমার মামা ভয়ে তার ঘরে এই যন্ত্র রাখলেন না। বাধ্য হয়ে আমার মামাতো ভাই ভিসিআরটি আমাদের বাসায় রাখলেন। আমরা গোপনে লুকিয়ে ক্যাসেট এনে দেখি।
তবে কিছুদিনের মধ্যে এই অবস্থা কেটে গেল। হঠাৎ করে ভিসিআর এবং পরবর্তীতে ভিসিপি বৈধ হয়ে গেল। এখন এই যন্ত্র কেউ কেনে না। অনেকের ঘরে বা টেকনিশিয়ানদের দোকানে এখন পুরোনো অব্যবহৃত ভিসিআর দেখতে পাওয়া যায়।
আমরা এখন ডিভিডি ব্যবহার করি।
যে কারণে এত কাহিনী - প্রথম অবস্থায় অবৈধ থাকলেও পরবর্তীতে বিদেশ থেকে একটা ভিসিআর আনলে ১ লক্ষ টাকা সরকারকে ট্যাক্স দিতে হত। আর এখন এই ভিসিআর পরিত্যক্ত। নতুন প্রজন্মের অনেকে হয়তো এই যন্ত্রটি চালিয়েও দেখেন নি।
যাই হোক, মূল কথায় আসি। আমাদের দেশের সরকারগুলো সব সময় নতুন প্রযুক্তি আটকায়। আমাদের সরকার বা বেসরকারী খাত কারোই গবেষণায় প্রচুর অর্থ ব্যয় করার ইচ্ছা বা সামর্থ নাই। আমরা সাধারণত নতুন প্রযুক্তি কিনে আনি। যে কোন নতুন প্রযুক্তি যেমন মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করে, তেমনি প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।
কয়েকটা উদাহরণ দেই। আমাদের দেশে ইন্টারনেট দীর্ঘকাল নিষিদ্ধ ছিল। সরকার মনে করেছিল এর ফলে দেশের সব তথ্য পাচার হয়ে যাবে। ভিস্যাট বসাতে মোটা টাকার ট্যাক্স বসানো ছিল। এখন সরকার এই খাতকে উৎসাহিত করতে উঠে পড়ে লেগেছে।
মোবাইল ফোন বা ফোন এক সময় বিলাস দ্রব্য বলে ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। এমনকি কারো ফোন থাকলে তাকে বাধ্যতামূলক ইনকাম টেক্স দিতে হবে বলে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বিধানও জারি করেছিল। অথচ বর্তমানে মোবাইল ফোন প্রযুক্তি লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করেছে।
বর্তমানেও ইন্টারনেট প্রযুক্তি এলেও নতুন প্রযুক্তিকে ঠেকানোর প্রয়াস থেমে নেই। এখনও বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে টাকা গ্রহণ করা যায় না। সেই পুরোনো প্রযুক্তিভীতি - দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে যাবে। আমাদের সরকারগুলো সব সময় নতুন প্রযুক্তি ঠেকায়। আরও অনেক উদাহরণ আছে আমাদের আশেপাশেই।
বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বলে চিৎকার করে কান ঝালাপালা করে দিচ্ছে। অথচ বর্তমান সেন্সর বোর্ড ডিজিটাল সিনেমা গ্রহণ করে না। ৩৫ মিলিমিটারে শুট না করলে নাকি সেটা সিনেমাই না। হলিউড বা বলিউড যেখানে ডিজিটাল সিনেমা বানাচ্ছে, সেখানে আমাদের সেন্সর বোর্ড কেবল প্রযুক্তিভীতির জন্য এই গো ধরে বসে আছে।
মোট কথা হল, আমরা প্রযুক্তি গ্রহণ করতে করতে আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো সেই প্রযুক্তিভিত্তিক সকল ব্যবসা বাণিজ্য ও সুযোগ সুবিধা করায়ত্ত করে ফেলে। যেমন ইন্টারনেটে মেডিক্যাল ট্রান্সক্রিপশন বা কলসেন্টার ব্যবসা করে ভারত ইতিমধ্যেই বিলিয়ন ডলার কামিয়ে নিয়েছে।
আমাদের সরকারের এই প্রযুক্তি ভীতি দূর করা দরকার। পলিসি উল্টে দেয়া দরকার। যে কোন নতুন প্রযুক্তি স্বাগত জানানো দরকার। টেক্স ফ্রি করে দেয়া দরকার। এমনকি যে প্রযুক্তি এখনও দেশে আসেনি, আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সেই প্রযুক্তিকে আগাম টেক্স ফ্রি ঘোষণা করা যেতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে। সেই নতুন প্রযুক্তির কল্যাণে ব্যবসা বাণিজ্য গড়ে উঠবে এবং অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। নচেৎ কেবল ডিজিটাল বাংলাদেশ শ্লোগান দিয়ে কোন লাভ হবে না ।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৩২
১৭টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যুদ্ধে কেউ হারে না

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩০


বেশ কয়েক বছর দেশে যাই না, এবার ভাবছিলাম দেশে গিয়ে ঘুরে আসব! সামারে আমাদের ছুটি থাকে লম্বা তিন মাস, কোন ক্লাস নেই। আমেরিকায় একাডেমিক লাইনে এটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যরাতের যাত্রী

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১৪


আজ সুমনার কাজ একটু দেরী করেই শেষ হয়েছে। নার্সিং হোমের এই কাজে আছে প্রায় এক দশক ধরে। কাজ শেষ করতে প্রতিদিনই বেশ রাত হয়ে যায়। বৃদ্ধ রোগীদের দেখাশোনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা অলমোস্ট ধ্বংসের পথে | It's time for a new middle east B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৪৬



আপনারা সবাই জানেন যে ইরানের পোষা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বছরের পর বছর ধরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে; মধ্যপ্রাচ্যের এমন কোন দেশ নেই যারা কোন না কোন ভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ ও আমেরিকার ডলার সংকট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:২৩



মধ্যপ্রাচ্যেতে থাকা প্রচুর বাংলাদেশী আছেন যারা আট দশ বছরেও দেশে আসতে পারছেন না। করোনার কারণে অর্থনৈতিক ভাবে হাত পা ভেঙ্গে গিয়েছে। এরা স্ত্রী সন্তান রেখে বছরের পর বছর যুগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজান ২০২৬ এর সাত দিন ও আমার ইফতার প্লাটারস..... :) :) :)

লিখেছেন শায়মা, ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৫১

সেই যবে থেকে আমি এই ব্লগে পদার্পন করেছিলাম তবে থেকেই আমি রোজা রমজানে আর কিছু না হোক আমার ক্রিয়েটিভিটির নানা রকম ইফতার ও তার রেসিপি দিয়ে আসছিলাম। কালের বিবর্তনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×