somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অস্পষ্ট ভালোবাসা - ৫

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১০:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা তিন বন্ধু হাটছি .........
একজন মেয়ে পাগল , একজন খাওয়া পাগল আরেকজন ...... থাক নিজের টা বা না বললাম ।
রিকশায় চড়ে কমলাপুর রেলস্টেশন যেতে ১০ মিনিট সময় আর ৩০ টাকা লাগে। কিন্তু রিকশা কই ?
প্রয়োজনের সময় আপনি সেটা পাবেন না এটাই নিয়ম । নিয়ম আপনাদের ক্ষেত্রে খাটে কি না কে জানে , কিন্তু আমার বেলায় সেই রকম ভাবে খাটে । এইতো সেদিনের কথা আর্ট করার ইচ্ছা হইলো , পেন্সিল নাই । যেটা আছে ওইটা কেবল কম্পাসে ঢুকিয়ে ব্যাবহার করা যাবে ।
কবিতা লিখতে বসছি , দু তিন লাইন লেখার পর কলমের কালি শেষ । সামনের কলমদানী তে ৭/৮ টা কলম পরে আছে কিন্তু একটাও লেখায় না । এমনকি শহরের দিক হাটার সময় একবার প্রচন্ড বেগে টয়লেট পেয়েছিলো , আমি টয়লেট খুজে পাচ্ছিলাম না ।
যাহোক আমরা হাটছি । রিফাত হাটছে পুরা হিরো স্টাইলে তার চোখে সানগ্লাস , হাতে ব্রেসলেট কে জানে হয়তো সে নিজেকে বাংলা সিনেমার হিরো ভাবাও শুরু করে দিয়েছে । সাদিক হাটছে পায়ের শব্দ করে , সে যতই আগাচ্ছে ততই কেমন যেন তার পা থেকে খসখস আওয়াজ হচ্ছে । অদ্ভুত ভাবে সেটা ড্রামের ত্রি বিটের মতো শোনাচ্ছে । সাদিকের ঘাড়ে একটা ব্যাগ আর ডান হাতে একটা গিটারের ব্যাগ । কে জানে হয়তো অতিরিক্ত ওজনের কারনে সে ঐভাবে হাটছে । আমি বললাম ,
- দোস্ত গিটার টা দে ।
সে বলা মাত্র দিয়ে দিলো । এই ইলেক্ট্রিক গিটার গ্রামে নিয়ে গিয়ে সে কি করবে ?
- দোস্ত গিটার সাথে নিলি ক্যান ?
- আরেহ এক বড়ভাই কিনতে দিছিলো ।
কিছুক্ষন হাটার পর আমার পা থেকেও কেমন যেন থ্রি বিটের আওয়াজ আসছিলো । প্রায় অর্ধেক রাস্তা হাটার পর একটা রিকশা পেলাম । রেল স্টেশনে এসে দেখি ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে । ট্রেন ধরতে গিয়ে একটা " দিলোয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে" এর সিন তৈরী হলো । যাহোক আমরা তিনজনে ট্রেনে উঠলাম , হঠাৎ খেয়াল হলো আরেহ টিকিটই তো নাই । কি হবে ?
সাদিক বললো - ব্যাপার না আমি ম্যানেজ করে নেবো ।
আমাদের বগিটার ভেতরের দিকে তাকালাম । সবার মনে কেমন জানি এক ধরনের অজানা ভয় কাজ করছে , কে জানে কি হইছে । দেখে মনে হচ্ছে এটা কোন ট্রেনের বগি নয় , ক্যান্সার রোগীর রুম । আমি গিটার আর আমার ব্যাগটা রেখে আবার দরজায় এসে দ্বাড়ালাম । বাইরে থেকে ধুলো আর ঠান্ডা বাতাস এক সাথে আসছে । ঠান্ডা বাতাস এ খুব আরাম লাগছে আবার ধুলোও চোখে ঢুকছে । বাধ্য হয়ে চোখ বন্ধ করে নিলাম ।আহহ ! নিজেকে মনে হচ্ছে আকাশে উড়ে বেড়া কোন ঘুড়ি । শা শা শব্দে বাতাস আমার কানে লাগছে , সারা শরীরে এক ধরনের শীতল অনুভুতি । মাঝে মাঝে বড় বড় বালি কণার আঘাত লাগছে আমার মুখে । টেন চলছে এক নির্দিষ্ট ছন্দে , ট্রেনের শব্দ এক ধরনের মিস্টি সুর তৈরী করেছে , সেটা বাতাসে শা শা শব্দে সাথে মিশে অন্য ধরনের মিউজিক এর সৃষ্টি করেছে । কিছুক্ষন পর আমি বসে পড়লাম ট্রেনের দরজায় , আমার পা দুটো ট্রেনের বাইরে । নিচের দিকে তাকালাম । রেললাইনের পাথর গুলো মনে হয় একটা আরেকটা ধরার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে , আর আগেরটা তার আগেরটাকে ধরার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কেউ কাউকে ধরতে পারছে না । আপনি কি জিনিসটা লক্ষ্য করেছেন ?
ট্রেনের দরজায় বসে বসেই তিনটা সিগারেট শেষ করে ভেতরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম । ঘুম ভাংলো সাদিকের ডাকে ,
- ওঠ ব্যাট্টা আইসা পড়ছি ।
আমি চোখ খুলে দেখি ট্রেন থেমে গেছে , লোকজনের চিৎকার চেচিমেচি শোনা যাচ্ছে , রাহেলা তোর ব্যাটাক আগে চড়াও , এই বাদাম বাদাম , এই যে নিবেন চিরুনি রুমাল , কে জানি বল্লো " ঐ মোর সেন্ডেল চিড়ি দিলু ক্যানে ? "
যাইহোক নেমে পড়লাম । ট্রেন থেকে নেমেই যা দেখলাম তাতেই আমি শুধু অবাকই নই চোখ পুরো চরক গাছে ওঠার জন্য রেডি হয়ে আছে , যেন আমাকে বলছে " বস হুকুম দ্যান এবার আমি গাছে উঠি "
দেখি যে সে " মিস কিন্ডার গার্ডেন "
আচ্ছা সে এখানে কেন ?
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১০:২২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাকে দিয়ে সেলস হবে না

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৫৫

আমাকে বাংলাদেশের এক ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি তাদের সেলসে সহায়তা করার অনুরোধ করেছে। কোম্পানি ভালো, বাজে কোন রেকর্ড নেই। আমার কাজ হচ্ছে, আমার পরিচিত মানুষদের সাথে তাদের মার্কেটিং টিমের যোগাযোগ করায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×