somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আমি মিন্টু
এই ঘরটির জন্য আমরা কোন স্পেশাল ক্যারেক্টার / ইমোটিকন গ্রহন করছি না।nশুধুমাত্র সংখ্যা ও যে কোন সাধারন ক্যারেক্টার ব্যবহার করুন।n

ইসলাম ধর্মে মোজেস ( শেষ পর্ব )

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যারা আগের পর্বগুলো পড়েন নাই তারা এখানে গুতা মারেন । আর হ্যা সকলে পড়ে কেমন লাগল মন্তব্য করে জানাবেন কিন্তু ।
শুরু করুন আগের পর্ব গুলো এখানে গুতা দিন । :)

ইসলাম ধর্মে মোজেস ( পর্ব ১)

ইসলাম ধর্মে মোজেস ( পর্ব ২)

ইসলাম ধর্মে মোজেস ( পর্ব ৩)

পাঁচটি বিষয়ে দোয়া

হযরত মূসা (আঃ) যখন খোদায়ী কালামের গৌরব অর্জন করেন এবং নবুওয়ত ও রেসালাতের দায়িত্ব লাভ করেন তখন তিনি নিজ সত্তা এবং শক্তির উপর ভরসা ত্যাগ করে স্বয়ং আল্লাহু তাআলারই দারস্থ হন । তাই তিনি আল্লাহু তাআলার দরবারে পাঁচটি বিষয়ে দোয়া করেন ।
প্রথম দোয়াটি হলঃ
হে পরওয়ারদেগার আমার বহ্ম উম্মোচন করে দিন এবং এতে এমন প্রশস্ততা দান করুন যেন নবুওয়তের জ্ঞান বহন করার উপযোগী হয়ে যায় । ঈমানের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌছানোর হ্মেত্রে তাদের পহ্ম থেকে যে কটু কথা শুনতে হয় তা সহ্য করাও এর অন্তর্ভুক্ত ।
দ্বিতীয় দোয়াটি হলঃ
আমার কাজ সহজ করে দিন । আল্লাহু তাআলা যদি ইচ্ছা করেন তবে কারও জন্যে কঠিনতর এবং গুরুতর কাজ সহজ করে দেন এবং তিনি ইচ্ছা করলে সহজতর কাজ কঠিন হয়ে যায় । একারণেই হাদীসে মুসলমানদেরকে এই দোয়ার শিহ্মা দেওয়া হয়ে থাকে বা দেওয়া হয়েছে । তারা নিজেদের কাজের জন্য আল্লাহুর কাছে এভাবে দোয়া করবেন হে আমার আল্লাহু প্রত্যেক কঠিন কাজ সহজ করার ব্যাপারে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন । কেননা প্রত্যেক কঠিন কাজ সহজ করে দেয়া আপনার পহ্মে সহজ ।
তৃতীয় দোয়াটি হলঃ
আমার জিহবার জড়তা দূর করে দিন যাতে লোকেরা আমার কথা বোঝতে পারে । এ জড়তার কাহিনী এই যে হযরত মূসা (আঃ) দুগ্ধ পান করার যমানায় তার জননীর কাছেই ছিলেন এবং জননী ফেরাউনের দরবার থেকে দুধ পান করানোর ভাতা পেতে থাকেন । শিশু মুসা দুধ ছেড়ে দিলে ফেরাউন এবং তার স্ত্রী আছিয়া তাকে পালক পুত্ররূপে নিজেদের কাছে নিয়ে যান । সে সময় একদিন শিশু মূসা (আঃ) ফেরাউনের দাড়ি ধরে তার গালে এক থাপ্পর দেন বা আঘার্ত করে বসেন । কোন কোন তথ্যে আছে তিনি একটি ছড়ি হাতে নিয়ে খেলা করছিলেন । এক সময় ছড়ি দ্বারা তিনি ফেরাউনের মাথায় আঘাত করে বসেন । ফেরাউন রাগান্বিত হয়ে তাকে হত্যা করার আদেশ করেন । কিন্তু স্ত্রী আছিয়া বললেন রাজাধিরাজ আপনি অবুঝ শিশুর অপরাধ ধরবেন না । সে তো এখনও ভাল মন্দের পার্থক্যও বোঝে না । আপনি ইচ্ছা করলে পরীহ্মা করে দেখতে পারেন । ফেরাউনকে পরীহ্মা করানোর জন্যে আছিয়া একটি পাত্রে জলন্ত অঙ্গার এবং অপর পাত্রে মণিমুক্তা এনে মূসা (আঃ) -এর সামনে রেখে দিলেন । উদ্দেশ্য এই যে সে অবুঝ শিশু । শিশুসুলভ অভ্যাস অনুযায়ী সে জলন্ত অঙ্গারটির উজ্জ্বল এবং সুন্দর মনে করে তা ধারার জন্যে হাত বাড়াবেন । মণিমুক্তার চাকচিক্য শিশুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মত হয় না । এতে ফেরাউন বোঝতে পারবেন যে সে যা করেছেন অজ্ঞতাবশতই করেছেন । কিন্তু এখানে কোন সাধারণ শিশু ছিল না ছিলেন আল্লাহুর ভাবী রসূল যার স্বভাব প্রকৃতি জন্মলগ্ন থেকেই সাধারণত অন্য স্বভাবের ছিল । মূসা (আঃ) আগুনের পরিবর্তে মণিমুক্তাকে ধরার জন্য হাত বাড়াতে চাইলেন কিন্তু জিবরাঈল তার হাত অগ্নিস্ফুলিঙ্গের পাত্রে রেখে দিলেন এবং মূসা (আঃ) তথহ্মণাৎ আগুনের স্ফুলিঙ্গ তুলে মুখে দিলেন । ফলে তার জিব্বা পুড়ে গেল । এতে ফেরাউন বিশ্বাস করল যে মূসা (আঃ) এর এই কর্ম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় এটা ছিল নিতান্তই বালকসুলভ অজ্ঞতাবশত । এই ঘটনা থেকেই মূসা (আঃ) এর জিহবায় এক প্রকার জড়তা সৃষ্টি হয়ে যায় । এটা দূর করার জন্যেই মূসা (আঃ) দোয়া করেন ।
চতুর্থ দোয়াটি ছিলঃ
আমার পরিবারবর্গ থেকেই আমার জন্য একজন উযীর করুন । এই চতুর্থ দোয়া রেসালাতের করণীয় কাজ আনজম দোয়ার জন্য উপায়াদি সংগ্রহ করার সাথে সম্পর্ক রাখে ।
পঞ্চম দোয়াটি ছিলঃ
হযরত মূসা (আঃ) তার প্রথম দোয়ায় প্রথমে অনির্দিষ্টভাবে বলেছেন যে আমার পরিবারবর্গ থেকেই আমার জন্যে একজন উযীর করুন । অতঃপর নির্দিষ্ট করে বলেছেন যে আমি যাকে উযীর করতে চাই তিনি আমার ভাই হারূন যাতে রেসালাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদিতে আমি তার কাছ থেকে শক্তি অর্জন করতে পারি । হযরত হারূন (আঃ) হযরত মূসা (আঃ) থেকে তিন বা চার বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন এবং তিন বছর পূর্বেই ইন্তেকাল করেন । মূসা (আঃ) যখন এই দোয়া করেন তখন তার ভাই মিসরে অবস্থান করছিলেন । আল্লাহু তাআলা মূসা (আঃ) এর দোয়ার ফলে তাকেও পয়গম্বর করে দেন । ফেরেশতার মাধ্যমে তিনি মিসেরই এ সংবাদ প্রাপ্ত হন । মূসা (আঃ) কে যখন মিসরে ফেরাউনকে দাওয়াত দেয়ার জন্যে প্রেরণ করা হয় তখন হারূন (আঃ) কে মিসরের বাইরে এসে তাকে অভ্যর্থনা করার জন্যে আদেশ দেওয়া হয় ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ২:০০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×