somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আমি মিন্টু
এই ঘরটির জন্য আমরা কোন স্পেশাল ক্যারেক্টার / ইমোটিকন গ্রহন করছি না।nশুধুমাত্র সংখ্যা ও যে কোন সাধারন ক্যারেক্টার ব্যবহার করুন।n

বঙ্গবন্ধু কবে গিয়েছিলেন আগরতলায়?

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান কবে কখন গিয়েছিলেন আগরতলায় ? কেনই বা তাঁকে সেখানকার জেলে একরাত কাটাতে হয়েছিল? আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিবের পক্ষে লড়ার জন্য ইংল্যান্ড থেকে টমাস উইলিয়ামসকে কীভাবে যোগাড় করা হল?
রোশনারা ব্রিগেড ই বা কীভাবে তৈরি হয়েছিল?
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলির সঙ্গে একটাই নাম জড়িয়ে রয়েছে তা হল ত্রিপুরা বা আরও নির্দিষ্টভাবে বললে আগরতলা। মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রথম প্রামাণ্য চলচ্চিত্রে এই সব প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজা হয়েছে।
ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায় বুধবার রাতে আগরতলায় ওই চলচ্চিত্রটি উন্মোচন করেন।


কী রয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরা ছবিটিতে? প্রায় গত আড়াইটি বছর ধরে এই তথ্যচিত্রটি বানিয়েছেন চিত্র সাংবাদিক রাজু ভৌমিক। তার কথা মত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিপুরার ভূমিকা এতটাই বড় আর বিস্তৃত যে একঘন্টার ছবিতে তা তুলে ধরা অসম্ভব। আমরা চেষ্টা করেছি শুধু মাত্র কয়েকটা বিষয়ের ওপরে ফোকাস করতে। তথ্যচিত্রের জন্য গবেষণা করেছেন আগরতলার সিনিয়ার সাংবাদিক মানস পাল। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ দলিল আমার হাতে আসে শেখ মুজিবুর রহমান ঠিক কবে আগরতলায় আসেন। মানস পাল আগরতলার সিনিয়ার সাংবাদিক । মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ দলিল আমার হাতে আসে শেখ মুজিবুর রহমান ঠিক কবে আগরতলায় আসেন। তিনি একবারই এখানে এসেছিলেন যার সাল ও তারিখ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে নানান মতান্তর রয়েছে। বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন তিনি ১৯৬৩ সালে এসেছিলেন। আমরা খোয়াইয়ের তৎকালীন সাবডিভিশনাল অফিসার স্মরজিৎ চক্রবর্তীর ডায়েরি পেয়েছি যেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের আগরতলায় আসার তারিখ উল্লেখিত আছে। সেই ডায়েরিতে ৫ই ফেব্রুয়ারি ১৯৬২ সাল সোমবার এই তারিখে ইংরেজিতে যা লেখা রয়েছে তার বাংলা এরকম শেখ মুজিবুর রহমান নামে একজন ব্যক্তি এবং তার সঙ্গে আমীর হুসেন এবং টি চৌধুরী মনে করা হচ্ছে তারেক চৌধুরী আসারামবারিতে খোয়াই আর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্ত পৌছেছেন আজ দুপুর একটায় এবং তাদের ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্টেট বা জেলাশাসকের নির্দেশে তেলিয়ামুড়ায় পাঠানো হয়েছে।

শেখ মুজিবুর রহমান যে সেই যাত্রায় আগরতলায় যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর কাছে সমর্থন যোগাড় করতে সেই খবর পৌছেছিল পাকিস্তানি গুপ্তচরদের কাছে। মিঃ পাল বলছিলেন “ত্রিপুরার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিংহ শেখ মুজিবের আর্জি পৌছিয়ে দিয়েছিলেন নেহরুর কাছে। তবে আইএসআই এই খবর জেনে যাওয়ায় তাকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর জন্য কিছুটা আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয়েছিল। তাকে পুশব্যাক করার আগে নিয়মরক্ষার জন্য একরাত আগরতলায় জেলে রাখতে হয়েছিল।


আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
এই মামলার অন্যতম দুই অভিযুক্ত স্টুয়ার্ড মুজিবুর রহমান আর আলি রেজা যে বিলোনিয়া দিয়ে ত্রিপুরায় এসে একজন ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা কর্ণেল মেননের যার আসল নাম কে শঙ্করণ নায়ার বলেই মনে করা হয় যিনি ভারতের বর্হিদেশীয় গুপ্তচর সংস্থা রিসার্চ এন্ড এনালিসিস উইং এর দ্বিতীয় প্রধান হয়েছিলেন সঙ্গে শালবাগানে দেখা করে ভারতের সাহায্য চেয়েছিলেন সেটা অনেকেরই জানা তথ্য।
তবে পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে ওই মামলায় মিথ্যা অভিযোগে জড়িয়ে দেওয়ার পরে ত্রিপুরার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিংহ তার হয়ে বড় ব্যারিস্টার খুজতে যে আগরতলার প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র জাগরণ এর মালিক সম্পাদক জিতেন পালকে কলকাতায় পাঠিয়েছিলেন সেই প্রায় অজানা তথ্য উঠে এসেছে বুধবার প্রকাশিত চলচ্চিত্রটিতে। মানস পালের কথায় “জিতেন পালকে কলকাতায় পাঠানো হয় প্রখ্যাত ব্যারিস্টার এবং কমিউনিস্ট নেতা স্নেহাংশু আচার্যের কাছে যাতে তিনি ঢাকায় গিয়ে শেখ মুজিবের হয়ে মামলা লড়েন। কিন্তু মিঃ আচার্য রাজি হন নি কারণ তাতে ভারতের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়ে যেত পাকিস্তান। তাই তিনি ইংল্যান্ডে নীরদ সি চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ব্রিটিশ সরকারের সহায়তায় শেখ মুজিবের হয়ে ঢাকায় মামলা লড়তে আসেন টমাস উইলিয়ামস।

ব্রিটিশ সরকারের সহায়তায় শেখ মুজিবের হয়ে ঢাকায় মামলা লড়তে আসেন টমাস উইলিয়ামস।
মানস পাল যুদ্ধ চলাকালীন বেশ কিছু গল্প তৈরি করেছিলেন আগরতলার কয়েকজন সিনিয়ার সাংবাদিক।
রোশনারা বেগম নামে একজন অতি সাহসী নারী যোদ্ধার গল্প বানানো হয়েছিল যিনি নাকি বুকে মাইন বেঁধে পাকিস্তানি ট্যাঙ্কের সামনে শুয়ে পড়েছিলেন। মাইন ফেটে ওই ট্যাঙ্ক যেমন ধ্বংস হয়েছিল তেমনই ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল রোশনারা বেগমের দেহ। এইসবটাই আগরতলার কয়েকজন সাংবাদিকের বানানো যাতে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়ানো যায় আর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে এই যুদ্ধে সামিল হওয়া নারী পুরুষের অসীম সাহসের কথা তুলে ধরা যায় ওই তথ্যচিত্রে এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন লেখক ও গবেষক বিকচ চৌধুরী। তিনি দৈনিক সংবাদ কাগজের হয়ে যুদ্ধের খবরাখবর সংগ্রহ করতেন নিয়মিত।


তথ্যচিত্রে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ শিবিরের কথা অথবা কীভাবে রাজ্যের তখনকার জনসংখ্যা ১৫ লক্ষের প্রায় সমান সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া সেইসব তথ্যও। আরো রয়েছে ত্রিপুরার বিধানসভার বিখ্যাত প্রস্তাব যেটিতে বাংলাদেশ যুদ্ধকে সমর্থন করা হয়েছিল।
“আমি নিজে যদিও যুদ্ধের ঠিক দশ বছর পরে জন্মিয়েছি ১৯৮১ সালে, তবে আমার বাবা, দাদুরা যুদ্ধের ঠিক আগেই পূর্ব পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। বাবার কাছে গল্প শুনতাম যুদ্ধের, পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচারের। সেইসব ছবি, ত্রিপুরায় শরণার্থী শিবির, মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ এইসবের স্থির চিত্র নিয়ে বছর কয়েক আগে আগরতলায় একটা প্রদর্শনী হয়। সেটা দেখার পর থেকেই প্রামাণ্য তথ্যচিত্র তৈরি করার বিষয়টা মাথায় আসে। তখনই মানসদা আর আমার স্ট্রিপ্ট রাইটার - নাট্যকার সুভাষ দাসের সঙ্গে যোগাযোগ হয়,” বলছিলেন ছবিটির পরিচালক রাজু ভৌমিক।
মিঃ ভৌমিকের ইচ্ছে রয়েছে আরও যা সব তথ্য যোগাড় হয়েছে, তা দিয়ে পরবর্তীতে আরও দু-তিনটে পর্ব তৈরি করার।


তথ্যসূত্রঃ বিবিসি অনলাইন ।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১:১৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×