somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাঙিয়ে তুলুন ঘরের দেয়াল ...

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শরৎ-এর এই স্নিগ্ধ নির্মল দিনগুলো কেটে যাচ্ছে বেশ আনন্দেই। তো সেই মনের রং দেওয়ালে ছিটকে এসে লাগুক না। একটা রঙিন মেকওভারে রাঙিয়ে তুলুন আপনার প্রিয় ঘরটি...

গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আসছে শীত। আজকাল বিকাল হতে না হতেই শীতের একটা হালকা আমেজ যেন শরীরে ছোঁয়া দিয়ে যায়। আর শীতের শুরুতে বর্ষার ছোপ ধরা, চটা ওঠা চাকচিক্যহীন দেওয়াল একদমই যেন মানায় না। ওয়ালপেপার, ছবি দিয়ে খুঁত আর কত ঢাকবেন? এ দিক-ও দিক থেকে ঠিকই তারা উঁকি দিয়ে নিজের অস্তিত্বকে জানান দিয়ে যাবে। তার চেয়ে বরং গোটা বাড়িটাকেই রং করিয়ে নিন। দেখবেন, শীতের কমলা রোদের মধ্যে কেমন এক গাল হাসি মেখে দাঁড়িয়ে থাকবে আপনার সাধের বাড়িখানা।


ঘর রাঙানোর খুঁটিনাটি
রং করতে হলে চুক্তির ভিত্তিতেই এগোনোই ভাল। এতে ঝক্কি অনেক কম থাকে। সাধারণত যাদেরকে রং করার দায়িত্ব দেওয়া হবে, তারা এসে বাড়ি নতুন না পুরনো, কোথাও ড্যাম্প আছে কি না, কতটা জায়গায় রং করতে হবে এই সব দেখে মাপ নিয়ে নেয়। এর ওপর প্রতি স্কোয়্যার ফুট অনুযায়ী লেবার চার্জ সহ খরচের একটা আনুমানিক হিসেব ধরিয়ে দেবে। ভাল কোম্পানির রং এবং সেই সঙ্গে দ্ক্ষ লোক দিয়ে ঘর রং করানোর সুবিধে হল এরা রংয়ের ব্যাপারে বেশ কয়েক বছরের ওয়ারেন্টি দেয়। রং বাছার আগে শেড কার্ড দেখে রং নির্বাচনের দায়িত্ব আপনার। তবে আগে দেওয়ালের একটুখানি জায়গায় লাগিয়ে দেখে নেবেন। কারণ অনেক সময়েই শেড কার্ডের সঙ্গে দেওয়ালের রঙের কিছুটা তফাত থাকে।

রঙের রকমফের

আগে থেকেই এই রং ভাল, এই রং খারাপ এটা ধরে বসে থাকবেন না। প্রত্যেক রঙের একটা নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। কিন্তু রং পছন্দ করার সময় কিছু বিষয়কে অবশ্যই মাথায় রাখতে হয়। ঘরে কতটা আলো ঢোকে, ফার্নিচার কী কী রয়েছে, এবং ঘরের বাসিন্দা কারা এর ওপর নির্ভর করে সেই ঘরে কী রং লাগানো যেতে পারে। অবশ্যই এ ক্ষেত্রে এক ষাটোর্ধ দম্পতির ঘরের রং নববিবাহিতদের থেকে আলাদা হবে। আবার বেশ বড়সড় ছড়ানো ঘরে উজ্জ্বল রং লাগালেও সেটা মনে খুব বেশি প্রভাব ফেলে না। কিন্তু ছোট্ট ফ্ল্যাটে বেশি চড়া রং মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষে মোটেই ভাল নয় । ঘরের যেকোনও একটা দেওয়াল হাইলাইট তো ওখন মোটামুটি সবাই করেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে খুব বেশি কনট্রাস্ট-এর দিকে না যাওয়াই ভাল। অন্যান্য দেওয়ালগুলোর রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটু গাঢ় রং দিয়ে হাইলাইট করলে দেখতেও ভাল লাগে, আবার চোখের পক্ষেও তা আরামদায়ক হবে। টেক্সচারড ওয়াল তো বেশ কিছু দিনধরেই জনপ্রিয়। অনেক রকমের টেক্সচার পেন্টিং হয়। সাধারণত দেওয়ালের কোনও সমতল জায়গা বেছে নিয়ে তার ওপর গ্র্যানিউলস আর পেন্ট মিশিয়ে একটা লুক দেওয়া হয়। এ ছাড়াও ব্লক, স্প্রে বা আঁচড়ের দাগের মতো লুকও দেওয়া যায়। কিন্তু টেক্সচারড ওয়ালকে এখন অনেকটা পিছনে ফেলে দিয়েছে পেন্টেবল ওয়াল পেপার। এই ধরনের ওয়ালপেপার লাগিয়ে তার ওপর রিং, বক্স, জিওমেট্রিক মোটিফ যেমন খুশি ডিজাইন দেওয়া যায়। আর বাচ্চাদের ঘরে ওয়ালপেপার লাগানোই ভাল। চট করে পরিষ্কারও করা যাবে, আবার পছন্দ না হলে খুলে ফেলে রং করিয়ে নেওয়াও যাবে।

ডিজাইনার ওয়াল
ওয়াল ফ্যাশনের ধারণা এখন ভীষণ ভাবে জনপ্রিয় হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত পেন্টিংয়ের ওপর নানা ধরনের মোটিফ ফুটিয়ে তোলা হয়। বিশেষ করে খুদেদের ঘরে এক আজব দুনিয়া তৈরি করতে ওয়াল ফ্যাশনের জুড়ি নেই। এক দিকের দেওয়াল বরাবর সান্টা, বাটারফ্লাই, পরি, মিকি, টম এন্ড জেরী, স্পাইডারম্যান-এর মতো ফিগার দিয়ে সাজিয়ে তোলা যায় এদের পুঁচকে দুনিয়া। চাইলে আস্ত একখানা রূপকথার বইও তুলে আনতে পারেন চার দেওয়াল জুড়ে। তা ছাড়া তার আজব চিন্তাগুলো যাতে দেওয়ালে মনের আনন্দে এঁকে ফেলতে পারে এ জন্য চকবোর্ড পেন্টিং বাজারে এনেছে বিভিন্ন কোম্পানিগুলো। এতে দেওয়াল নষ্ট হওয়ারও বিন্দুমাত্র ভয় থাকবে না। লিভিং রুম বা বেড রুমের দেওয়ালেও পছন্দ মতো ফ্লোরাল মোটিফ, সমান্তরাল বা উল্লম্ব চওড়া স্টাইপ, জ্যামিতিক প্যাটার্ন নানা ধরনের নক্শা ফুটিয়ে তোলা যায়। হাল্কা উজ্জ্বল কোনও বেস কোটের ওপর এক দিকের দেওয়াল বরাবর ফুটিয়ে তুলতে পারেন প্রজাপতি, দিয়া, ফুল, ফ্রেম বা কোনও সুন্দর মেসেজ।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুতাপ (ছোট গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯

একনাগাড়ে ৪-৫ বছর কাজ করার পর রহিমের মনে হলো, নাহ! এবার আরেকটা চাকরি দেখি। লোকাল একটা কোম্পানিতে কাজ করত সে। কিন্তু কোনকিছু করার জন্য শুধু ভাবনাই যথেষ্ট নয়। সে চাকরির... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


করোনার সময় নানান উত্থান পতন ছিল আমাদের, আব্বা মা ছোটবোন সহ আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় মরে যেতে যেতে বেঁচে গিয়েছিলাম শেষ মুহূর্তে, বেঁচে গিয়েছিল আমাদের ছোট্ট সোনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৩)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



সূরাঃ ১৩ রাদ, ১১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১। মানুষের জন্য তার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে। উহারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×