গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে যেতো প্রায়ই। ছাড়া ছাড়া অর্থহীন স্বপ্ন দেখতে দেখতে একসময় জেগে উঠতাম। অনুভব করতাম পরিচিত বিছানায় শুয়ে আছি। চারিদিকে সুনশান নীরবতা। কোন কোন রাতে অপূর্ব জোছনা হতো। সারা বিছানা নরম আলোয় ভাসতো। মনে হতো আজ পূর্ণিমা রাতে একা একা হারিয়ে যাবো দূর কোথাও।
মাঝে মাঝে এতো বৃষ্টি নামতো যে সেগুলিকে একঘেয়ে কান্নার সূরের মতো মনে হতো। মনে হতো বৃষ্টিরাও বুঝি কাঁদে ? সব মিলিয়ে হৃদয়টা হা-হা করে উঠতো। আদিগনত্দ বিস্তৃত শূণ্যতায় কি বিপুল বিষন্নতাই না অনুভব করতাম।
এমনি লগনে আসলে তুমি। আসত্দে আসত্দে স্বপ্ন দেখালে। আমিও দেখালাম তোমায়, পৃথিবীটা খুবই সুন্দর। একটি বিষাদমাখা ঘটনা দিয়ে জীবনকে মূল্যায়ন করা যায় না। তুমিও বুঝলে, সাথে আমিও। আমরা সাজিয়ে রাখলাম সুন্দর একটি জীবন। যেখানে শুধু তুমি আর আমি।
খুব বেশী দিন হয়নি আমরা পরিচিত হয়েছিলাম। কিন্তু সবকিছুই বালির বাঁধের মতো ভেঙ্গে যেতে লাগলো। হয়তো শক্ত প্রাচীর গড়ো নি অথবা গড়তে চাওনি।
আম্মু বলতো তুই এমন কেনো ? বিশ্বাসের বাঁধ গড়তে গড়তে তো নিজেকে শেষই করে দিলি ! মনে নেই চার বৎসর আগের কথা ? বলতাম আম্মু বাদ দিন না ওসব কথা। দেখবেন একদিন এই না পাওয়ারাই পাওয়া হয়ে এসে আমাকে ভরিয়ে দিবে।
মাঝে মাঝে আম্মু কাঁদতো !
আম্মু কাঁদেন কেনো ?
তোর জন্য ! তুই সুখী হ্।
একটা জিনিস বুঝেছি পৃথিবীতে সুখী হওয়াটা যত সহজ তার চাইতে বেশী সহজ দুঃখের সাথে মিতালী গড়া। চাইলেই সুখ কিনা যায় না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




