somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এয়ারপোর্টে একদিন

০৫ ই জুলাই, ২০০৬ ভোর ৫:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার খালাতে ভাইয়া। সে অনেক দিন ধরে প্রবাসে আছে। গতকাল সে দেশে বেড়াতে এসেছে। আগেই জানিয়ে রেখেছিলো 4 তারিখ 9 টার সময় বাংলাদেশ বিমান জিয়া এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করবে। বিড়ম্বনার শুরু হরতালকে দিয়ে। যেহেতু গতকাল হরতাল ছিলো, তাই খুব ভোরেই সিএনজি নিয়ে চলে গেলাম এয়াপোর্টে। মফস্বল থেকে আত্মীয়রা এসে পৌছেছে ভোরের দিকেই। (কারণ হরতাল)। 9 .30 পর্যন্ত বসে আছি, বাংলার বিমানের কোনো খবর নাই। গেলাম অনুসন্ধানে, দেখি দুজন কর্মী বসে আয়েসী ভঙ্গিতে বসে গল্প করছে। লোকজন ডাকাডাকি করেও তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারছে না। কেউ গালিও দিচ্ছে, কিন্তু তাদের এদিকে কোনোই খেয়াল নেই। কিছুক্ষণ পর তাদের গল্প শেষ হল। বলল, বাংলাদেশ বিমান লেট হয়েছে, তাই 11.30 আসবে। আবারো অপেক্ষার পালা।
এয়ারপোর্টে মানুষজন গিজগিজ করছে। প্রবাসে অবস্থান করা প্রিয় মানুষটি আজ দেশে আসছে। কষ্ট হলেও সবার মনে এক ধরনের আনন্দ কাজ করছে। উল্লেখ্য এয়ারপোর্টে সাধরণদের বসার জন্য কোন সিটিং এর ব্যবস্থা নেই। তাই ভাবলাম পাশের রাস্তা দিয়ে হাটি। মূল গেটের পাশেই লক্ষ্য করলাম, আমাদের টাকায় পোষা পুষ্ঠ (স্টুপিড) ফুলিশ'রা মাইক্রো থামিয়ে ড্রাইভারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতেছে। ভাবলাম, এ ধরনের কুলআঙ্গারদের কাছ থেকে সাধরণদের রেহাই নেই, এই এয়ারপোর্টেও। 11.30 কোনোই খবর নেই বিমান আসার। আবার গেলাম অনুসন্ধানে। বললাম, শ্রদ্ধেয় ভাইজানরা, যদি সঠিক খবর নাই জানাতে পারেন তাহলে মুখটা বন্ধ রাখেন। মানুষদেরকে আশ্বাসে রাখবেন না। অনুসন্ধান কর্মী মুখটা বাঁকা করে একখানা শুকনো হাসি দিলো। বলল, বিমান আসবে 1.20 এ। আবার অপেক্ষা। প্রচণ্ড গরমে মানুষ হাঁপিয়ে উঠছে। অন্যান্য ফ্লাইটের যাত্রী ও আত্মীয়রা সরগরম করে তুলছে পুরো বর্হিগমন গেট। 1.40 বিমান মহান বাংলার মাটিতে ল্যান্ড করলো। অপেক্ষার শেষ হলো আমাদের। যাক বাবা এক্ষনে ভাইয়ার দেখা পাবো। কিন্তু কোথায় কি? গেট বের হয়ে একের পর এক যাত্রীরা আসছে। ধান্দাবাজরা চারপাশে ইতিউতি করছে। একশ্রেণীর কুলিরা যাত্রীদের মালামাল নিয়ে টানাটানি করছে। কিছু ড্রাইভারা তাদের কাজ হাসিল করার জন্য খদ্দের ডাকছে। আমার ভাইয়া আর আসে না। ভাবলাম ভিতরে হয়তো এয়ারপোর্টের মহান সেবকরা চেকিং-এর নামে গুরুদায়িত্ব পালন করছে। প্রচণ্ড ভিড়ে ভাইয়া আমাদেরকে দেখতে পায়নি। পশ্চিমের গেট দিয়ে একই বের হতে গিয়ে, ধরা পড়ল কিছু বদমাইশদের (কুলি) খপপরে। ভাইয়া বললো, মালামাল আমিই বাইরে নিয়ে যেতে পারবো। কিন্তু মহান দরদী কুলিরা জোর করেই ভাইয়ার মালামাল নিয়ে আমাদের গাড়ির পাশে আসলো। গাড়ির পাশে আমাদের কয়েকজন ছিলো। তাদের সামনেই ভাইয়ার কাছে তারা টাকা দাবী করলো, 500 টাকা। ভাইয়া অনেকদিন বিদেশে থাকে। দেশের দূর্ণতির কথা জানলেও প্রকাশ্যে তেমন একটা পড়েনি। বললো, আমার মাল আমিই আনতে পারতাম, এখন তোমাদেরকে এতো টাকা দিতে হবে কেন? তারা ছিল 4-5 জন। ভাইয়ার ব্যাগ নিয়ে টানাটানি করতে লাগলো। খবর পেয়ে আমরা গাড়ির পাশে আসলাম। অনেক মূলামুলির পর 300 টাকা দিয়ে ক্ষ্যান্ত করলাম। এবার ফিরে যাওয়ার পালা। কিন্তু দেশের মহান সেবকরা (রাজনীতিবিদ) হরতাল আহবান করাতে গাড়ি নিয়ে বের হতে সাহস পেলাম না। 5 টার পর বের হলাম এয়ারপোর্ট থেকে। গাড়ির পিছনের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, এয়ারপোর্টকে পিছনে ফেলে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। পিছনে পড়ে আছে, দেশের দূণর্ীতিতে একনাম্বার হওয়া কারণগুলোর একটি চমৎকার স্থান।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন-উচাটন

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫০


তিড়িং বিড়িং ফাল পাড়ি,
যাচ্ছে রে মন কার বাড়ি?
পুড়ছে তেলে কার হাঁড়ি,
আমি কি তার ধার ধারি!

পানে চুনে পুড়ল মুখ,
ধুকছে পরান টাপুর-টুপ;
তাই বলে কি থাকব চুপ?
উথাল সাগর দিলাম ডুব।

আর পারি না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×