এয়ারপোর্টে মানুষজন গিজগিজ করছে। প্রবাসে অবস্থান করা প্রিয় মানুষটি আজ দেশে আসছে। কষ্ট হলেও সবার মনে এক ধরনের আনন্দ কাজ করছে। উল্লেখ্য এয়ারপোর্টে সাধরণদের বসার জন্য কোন সিটিং এর ব্যবস্থা নেই। তাই ভাবলাম পাশের রাস্তা দিয়ে হাটি। মূল গেটের পাশেই লক্ষ্য করলাম, আমাদের টাকায় পোষা পুষ্ঠ (স্টুপিড) ফুলিশ'রা মাইক্রো থামিয়ে ড্রাইভারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতেছে। ভাবলাম, এ ধরনের কুলআঙ্গারদের কাছ থেকে সাধরণদের রেহাই নেই, এই এয়ারপোর্টেও। 11.30 কোনোই খবর নেই বিমান আসার। আবার গেলাম অনুসন্ধানে। বললাম, শ্রদ্ধেয় ভাইজানরা, যদি সঠিক খবর নাই জানাতে পারেন তাহলে মুখটা বন্ধ রাখেন। মানুষদেরকে আশ্বাসে রাখবেন না। অনুসন্ধান কর্মী মুখটা বাঁকা করে একখানা শুকনো হাসি দিলো। বলল, বিমান আসবে 1.20 এ। আবার অপেক্ষা। প্রচণ্ড গরমে মানুষ হাঁপিয়ে উঠছে। অন্যান্য ফ্লাইটের যাত্রী ও আত্মীয়রা সরগরম করে তুলছে পুরো বর্হিগমন গেট। 1.40 বিমান মহান বাংলার মাটিতে ল্যান্ড করলো। অপেক্ষার শেষ হলো আমাদের। যাক বাবা এক্ষনে ভাইয়ার দেখা পাবো। কিন্তু কোথায় কি? গেট বের হয়ে একের পর এক যাত্রীরা আসছে। ধান্দাবাজরা চারপাশে ইতিউতি করছে। একশ্রেণীর কুলিরা যাত্রীদের মালামাল নিয়ে টানাটানি করছে। কিছু ড্রাইভারা তাদের কাজ হাসিল করার জন্য খদ্দের ডাকছে। আমার ভাইয়া আর আসে না। ভাবলাম ভিতরে হয়তো এয়ারপোর্টের মহান সেবকরা চেকিং-এর নামে গুরুদায়িত্ব পালন করছে। প্রচণ্ড ভিড়ে ভাইয়া আমাদেরকে দেখতে পায়নি। পশ্চিমের গেট দিয়ে একই বের হতে গিয়ে, ধরা পড়ল কিছু বদমাইশদের (কুলি) খপপরে। ভাইয়া বললো, মালামাল আমিই বাইরে নিয়ে যেতে পারবো। কিন্তু মহান দরদী কুলিরা জোর করেই ভাইয়ার মালামাল নিয়ে আমাদের গাড়ির পাশে আসলো। গাড়ির পাশে আমাদের কয়েকজন ছিলো। তাদের সামনেই ভাইয়ার কাছে তারা টাকা দাবী করলো, 500 টাকা। ভাইয়া অনেকদিন বিদেশে থাকে। দেশের দূর্ণতির কথা জানলেও প্রকাশ্যে তেমন একটা পড়েনি। বললো, আমার মাল আমিই আনতে পারতাম, এখন তোমাদেরকে এতো টাকা দিতে হবে কেন? তারা ছিল 4-5 জন। ভাইয়ার ব্যাগ নিয়ে টানাটানি করতে লাগলো। খবর পেয়ে আমরা গাড়ির পাশে আসলাম। অনেক মূলামুলির পর 300 টাকা দিয়ে ক্ষ্যান্ত করলাম। এবার ফিরে যাওয়ার পালা। কিন্তু দেশের মহান সেবকরা (রাজনীতিবিদ) হরতাল আহবান করাতে গাড়ি নিয়ে বের হতে সাহস পেলাম না। 5 টার পর বের হলাম এয়ারপোর্ট থেকে। গাড়ির পিছনের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, এয়ারপোর্টকে পিছনে ফেলে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। পিছনে পড়ে আছে, দেশের দূণর্ীতিতে একনাম্বার হওয়া কারণগুলোর একটি চমৎকার স্থান।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




