somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চিঠিটি তার জন্যই লেখা ছিল।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ৯:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অচেনা তুমি,

ছয়টি মাস পার হয়ে গেল। আমাদের অসমাপ্ত ভালোবাসাকে অসম্পূর্ণ রেখে তুমি চলে গেলে। আজো বুঝি না কেন চলে গেলে। নাকি বুঝেও না বোঝার ভান করি কে জানে। ভেতরের কথা জানি না, বাহ্যিক ভাবে কোন পরিবর্তন আসেনি আমার মাঝে। এখনো হোঁচট খাইনি এই কোলাহলের নগরীতে। তবে হ্যাঁ আজ আমি মিথ্যে বলতে শিখেছি। শিখেছি কিভাবে চোখের পানি আটকে, ঠোঁটের কম্পন লুকিয়ে বলতে হয় “আমি ভালো আছি।” এমন কি আজ সবচেয়ে কাছের বন্ধুকেও এভাবে অনর্গল মিথ্যে বলে যাই। ‘ভাগ করলে কষ্ট কমে’ এই মহৎ বাণীটি মুছে ফেলেছি জীবনের খাতা থেকে। এখন আর সেই আগের মত চোখ নামিয়ে, ঠোঁট ফুলিয়ে কোন আব্দার করিনা। স্বপ্ন নামের প্রজাপতিটাকে আর তাড়িয়ে বেড়াই না। কেন না প্রজাপতিটা ঠিক তোমার মত আমার স্পর্শের বাইরে।


.................................................................................................

ভেব না বলছি তোমায় স্পর্শ করার আকুতি আছে আমার মাঝে, না আছে তোমার ভালোবাসা পাবার ইচ্ছা। মিথ্যে আশা আজ আমি আর করিনা। হ্যাঁ তুমিই আমায় বাস্তবতা শিখিয়েছ। বুঝিয়ে দিয়েছো যে কতটা বোকা ছিলাম আমি, কতটা সহজ ছিল আমায় ভাঙ্গা।


.................................................................................................


অবাক হলে? ঠিক ধরেছ। এখনো ভাঙ্গিনি আমি। এখনো ঝুলে আছি প্রানপণে। থাকবো না কেন, ভেবেছিলাম তুমি চলে গেলে জীবনটা বুঝি এখানেই থেমে যাবে। কিন্তু না, দেখ আমি বেঁচে আছি। আমার স্বত্তা, আমার অস্তিত্ব এখনো জানান দিচ্ছে যে আমি বেঁচে আছি। তাহলে কেন অর্ধমৃত জীবন ধারণ করবো। অনেক কষ্ট এভাবে এগিয়ে চলা। জানো তো, একটি গাছের শেকড় উপঁড়ে তাকে অন্যস্থানে প্রতিস্থাপন করলে খুব কম সময়ই তা বেঁচে থাকে। মৃত্যু যখন আবধারিত তখন বিষাক্ত মাটিতে তিলতিল করে মরার চেয়ে একবার বাঁচার চেষ্টা করলে ক্ষতি কি! পুরনো মৃত স্মৃতিগুলোকে তো পুনরুজ্জীবিত করতে পারবো না, তারচেয়ে নতুন করে শুরু করে দেখি।


...................................................................................................


স্বস্তির শ্বাস ফেলছো, ভাবছো ভুলে গেছি তোমায়? না ভুলিনি, পাবার আশাও করিনা। হয়তোবা পেতেও চাই না। জানি না কি চাই আমি। আমার ভাষা আজ আমার কাছেই অস্পষ্ট। জানিনা কেন আজো কেদেঁ বেড়াই, কেন জীবনটাকে ছুঁড়ে ফেলছি এখানে সেখানে। সবটা কি তোমার দোষ ছিল? না, কিছুটা আমার বোকামিও বটে। কেন যে ভুলে গিয়েছিলাম এসময়ের ভালোবাসা সৈকতের পাড়ে তৈরি বালিঘরের মত। ভাটার টানে ঠিক একদিন হারিয়ে যাবে। নীলচে আকাশ আর সাদা মেঘের খেলা দেখতে দেখতে খেয়াল করিনি কখন যে ভাটা এল। হ্যাঁ, আমায়ও টেনে নিয়েছিল প্রায়। হয়তো ভেসে যেতাম যদি আমার জীবনের সেই প্রিয়মুখগুলো সামনে এসে না দাঁড়াতো।


...................................................................................................


কিন্তু দেখ কেমন পোড়া কপাল আমার, জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় মুহূর্তগুলো যে তোমার সাথে। তাই ভুলতেও পারিনা তোমায়। সবাই বলে নতুন মুহূর্ত দিয়ে পুরনো স্মৃতি মুছে ফেল। আমি বলি তা কি এতই সহজ? নতুন বইয়ের নতুন পাতা তো আকর্ষণীয় হবেই, তাই বলে কি তা কখনো পুরনো সেই বইয়ের পাতার স্পর্শ, তার মাঝে বোনা স্বপ্ন ও গল্পগুলো ভুলিয়ে দিতে পারে!? তবে একটি উপায় আছে, বইটি পুড়িয়ে দিলেই চলে। কিন্তু তুমি তো আমায় চেন, সেই সাহস অন্তত আমার নেই। পুরনো জিনিসগুলোকেই আকঁড়ে রাখতে আমি বেশি পচ্ছন্দ করি। ভয় হয় যদি এই মুহূর্তগুলো ফিরে না আসে তো কি নিয়ে আমি এগিয়ে যাব। স্মৃতিশূণ্য হয়ে কি মানুষ বাঁচে? না,তা সম্ভব নয়। মাঝে মাঝে সেই স্মৃতির পাতা উলটে নিজমনে মুচকি হেসে উঠি। সবাই ভাবে শোকে পাগল হয়ে গেলাম নাকি, না… এতটা পাবার যোগ্য তুমি নও। বুঝে উঠি না তুমি আজ আমার কাছে কি। বলব না তোমায় ভালোবাসি, কিন্তু এটাও বলব না যে তোমায় ঘৃণা করি। অদ্ভুত…তাই নাহ?


..................................................................................................


যাই হোক দিনতো কেটে যাচ্ছে। এইবা কম কি। কিন্তু জানো মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হয় এ ভেবে, একদিন আমার জীবনে নিশ্চয়ই এমন এক মানুষ আসবে যে আমায় অনেক বেশি ভালোবাসবে। তবে আমি কি পারবো সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে, তাকে সেভাবে ভালোবাসতে? যে বিশ্বাস তুমি ভেঙ্গেছ তা জোড়া লাগিয়ে তাকে বিশ্বাস করতে? জানিনা…ভালোবাসা নামক অনুভূতিটাকে আজ আমি ভীষণ ভয় পাই। সেই ঘুটঘুটে অন্ধকার কিংবা সেই আটতলা ছাঁদ থেকে নেমে যাওয়া উচ্চতার চেয়েও বেশি। তাও ঠিক করেছি দেখে যাব শেষটা। এতো সহজে হারব না তোমার কাছে। হয়তো জীবনের সাথে যুদ্ধ করার মানসিকতা নেই, মেনে নিচ্ছি সব। তাও হারব না আমি…কিছুতেই না।


ইতি,

সেই আমি।



আমার লেখা এই চিঠি ১৭ মার্চ ভালোবাসার ডাকপিয়নে প্রকাশিত!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:০৯
৪৫টি মন্তব্য ৩৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×