
অ্যাডলফ হিটলারের সততা
অ্যাডলফ হিটলার ছোটবেলায় একবার দুষ্টুমি করে তাঁর বন্ধুবান্ধবদের বললেন তাকে জার্মানীর প্রেসিডেন্ট বলে মিছিল দিতে । মিছিল দিলে তিনি সবাইকে মিষ্টি খাওয়াবেন । তো সবাই মিলে হিটলারকে জার্মানীর প্রেসিডেন্ট বলে মিছিল দিলো । পরে কথামত হিটলার তাদের সবাইকে একটা মিষ্টির দোকানে নিয়ে গেলেন এবং সবাইকে মিষ্টি খাওয়ালেন । সবাইকে মিষ্টি খাওনোর পর হিটলার দোকানের বিল না দিয়ে চলে যাচ্ছিলেন; এমন সময় দোকানদার হিটলারকে মিষ্টির বিল দিতে বলল । হিটলার বিল না দিয়ে বললেন, "আমি জার্মানীর প্রেসিডেন্ট, আমার কি বিল দিতে হয়"?
দোকানদার বললো, "কে বলেছে তুমি
জার্মানির প্রেসিডেন্ট"?
তখন হিটলার বললেন, "দেখলেন না সবাই আমাকে জার্মানীর প্রেসিডেন্ট বলে মিছিল দিয়েছে"!
এসব বলে তিনি বিল না দিয়েই চলে গেলেন ।
একসময় এই হিটলার ঠিকই জার্মানীর প্রেসিডেন্ট হলেন । তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, "প্রেসিডেন্ট হবার পর এখন আপনার প্রথম কাজ কী"?
তখন হিটলার বললেন, "আমি ছোটবেলায় দুষ্টুমি করে এক মিষ্টির দোকান থেকে বন্ধুদেরকে মিষ্টি খাইয়েছিলাম, কিন্তু তার বিল দেইনি । তাই আমার প্রথম কাজ হলো, ঐ মিষ্টির দোকানদারের বিল পরিশোধ করা" ।
ফ্যাক্টস
♦জার্মানীর স্বৈরশাসক হলেও হিটলার কিন্তু সেখানে জন্মগ্রহণ করেন নি । তাঁর জন্ম হয় অস্ট্রিয়ায় ১৮৮৯ সালে ।
♦হিটলারের মা যখন হিটলারকে গর্ভধারণ করেন, তখন তিনি গর্ভপাত করতে চেয়েছিলেন । কিন্তু তাঁর ডাক্তার তাঁকে বলে কয়ে গর্ভপাত না করতে রাজি করায় ।
♦হিটলার ছোটবেলায় অ্যডি নামে পরিচিত ছিলেন ।
♦কৈশোরে হিটলার একজন চিত্রশিল্পী হতে চেয়েছিলেন । তিনি দুইবার ভিয়েনা আর্ট একাডেমিতে অাবেদনও করেছিলেন কিন্তু একবারও তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয় নি ।
♦হিটলারের মায়ের মৃত্যু হয় স্তন ক্যান্সারে ১৯০৮ সালে । মায়ের মৃত্যুর পর হিটলার চার বছর ভিয়েনার রাস্তায় নিজের আঁকা পোস্টকার্ড বিক্রি করে জীবনযাপন করতেন ।
♦এটা এখনো নিশ্চিত নয় যে কীভাবে হিটলার ইহুদীবিরোধী মতবাদী হয়ে যান, তবে অনেকে মনে করেন এটা তাঁর দাদার থেকে (তাঁর দাদা কি ইহুদী ছিলেন?) । আবার অনেকে মনে করেন হিটলারের মা এর যখন মৃত্যু হয়, তখন তিনি এক ইহুদী ডাক্তারের অধীনে ছিলেন, যে হিটলারের
মায়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী । আবার অনেকের
ধারণা, ভিয়েনায় হিটলারের জীবনকালে তিনি এই মতবাদে বিশ্বাসী হন ।
♦হিটলার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনীর সার্ভিস এড়াতে মিউনিখ চলে যান । সেখানে তিনি জার্মান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চার বছর অনেক কষ্ট করে কাটিয়ে দেয় । প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তাঁর সাহসিকতার জন্য তাঁকে দুটি লৌহক্রুশ দেয়া হয় ।
♦হিটলার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে দুবার মারাত্মকভাবে আহত হন । প্রথমবার ১৯১৬ সালে তিনি একটা গ্রেনেড অ্যটাকে পায়ে আঘাত পান আর দ্বিতীয়বার তিনি গ্যাস আক্রমনে সাময়িকভাবে অন্ধ হয়ে যান । তিনি যখন এর জন্য হাসপাতালে ছিলেন, তখন জার্মানি আত্মসমর্পণ করে । হিটলার এতে প্রচন্ড ক্ষ্রিপ্ত হন ।
♦পরবর্তীতে হিটলার আবার মিউনিখে চলে আসেন, আর একটা ইহুদী বিরোধী পার্টির ৫৫তম সদস্য হন ।
♦পরবর্তীতে তিনি এই পার্টির প্রধান হন, আর এর নাম বদলে ফেলেন; যাকে আমরা নাৎসী পার্টি নামে চিনি । এর প্রতিক ছিল রক্তলাল ব্যকগ্রাউন্ডের উপর স্বস্তিকা চিহ্ন ।
আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
অ্যাডলফ হিটলারের জীবন ঘিরে এমন কতগুলো তথ্য আছে, যা জানলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য । সেরকম সাতটি অজানা তথ্য । এগুলো নিয়ে প্রথম থেকে গুঞ্জন থাকলেও আধুনিক ঐতিহাসিক এবং গবেষকরা মনে করেন, এই তথ্যগুলো সত্যি । যেগুলো নাকি তাঁর ভাবমূর্তির সঙ্গে আপাতভাবে বিরোধী ।
♦ইহুদি প্রেমিকা : হিটলারের প্রথম জীবন অন্ধকারে ঢাকা । জীবনীকাররাও বেশি আলো ফেলতে পারেননি । ভিয়েনা-সহ অস্ট্রিয়ার নানা শহরে কেটেছিলো তাঁর বাল্য এবং কৈশোর । শোনা যায়, ১৬ বছর বয়সে প্রেমে পড়েছিলেন অ্যাডল্ফ, কিশোরী স্তেফানি আইজ্যাকের । পদবী দেখেই বোঝা যাচ্ছে, সে ছিলো ইহুদি পরিবারের কন্যা; কিন্তু লাজুক হিটলার কোনদিন মুখ ফুটে বলতে পারেননি প্রেমের কথা ।
অ্যাডল্ফের প্রেমে নাকি অনেক মেয়েই পড়েছিলো । কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে স্তেফানি কোনদিন পাত্তা দেয়নি তাঁকে । অব্যক্ত প্রেম নিয়ে কবিতা, গানও লিখেছিলেন হিটলার । এমনকী অবসাদে আত্মঘাতী হওয়ার কথাও ভেবেছিলেন । অনেক ঐতিহাসিক বলেন, কৈশোরে ইহুদি কন্যার কাছ থেকে আসা এই আঘাত তাঁর ইহুদি বিদ্বেষের অন্যতম এক কারণ ।
♦ধূম্রপানের বিরোধিতা : রোজ গড়ে ২৫-৪০ টি সিগারেট খেতেন তিনি, কিন্তু ধীরে ধীরে ছেড়ে দেন । নাৎসিরা দেশ জুড়ে স্মোকিং ব্যান করতে উদ্যোগ নেয় । বন্ধ করে দেওয়া হয় প্রকাশ্য ধূমপান । পরে অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যায় । কিন্তু মানুষের মনে তামাকের প্রতি বিদ্বেষ থেকেই যায় ।
♦একটি অণ্ডকোষ : হিটলারের যৌনাঙ্গ নিয়ে প্রথম থেকেই বহু গুজব ছিলো । কিন্তু মৃত্যুর পরে অটোপ্সিতে নাকি প্রমাণিত হয় সত্যিই হিটলারের দেহে একটি অণ্ডকোষ ছিলো । হয়তো রণাঙ্গনেই এই অঙ্গহানি হয়েছিলো তাঁর ।
♦১০০ % নিরামিষাশী : হিটলার ছিলেন সম্পূর্ণ নিরামিষাশী । এমনকী পশুপাখির প্রতি তিনি ছিলেন অত্যন্ত সদয় । পশুদের উপর নির্মমতা রুখতে আইন প্রণয়ন করেছিলেন তিনি । বলা হয়ে থাকে, এই সদয় মনোভাব যদি মানুষের উপর দেখাতেন, পৃথিবীর ইতিহাসে রক্তপাত অনেক কম হতো ।
♦সাধু হওয়ার স্বপ্ন : চার বছর বয়সে একবার জলে ডোবার হাত থেকে তাঁকে বাঁচান এক খ্রিস্টীয় সাধু । তারপর থেকেই হিটলারকে পেয়ে বসে সাধু হওয়ার স্বপ্ন । গির্জায় গিয়ে নিয়মিত ক্যারল গাইতো বালক হিটলার । সেই হিটলার পাল্টে যান তাঁর ভাই এডমুন্ডের মৃত্যুর পর থেকে । সবার থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন । মনে করা হয়, এই বিচ্ছেদ থেকেই হিংস্রতার বীজ তাঁর মনে বাড়তে থাকে ।
♦খাবারে ইস্ট্রোজেন : চরিত্রে আগ্রাসন কমাতে নাকি মার্কিন এবং ব্রিটিশ গোয়েন্দারা হিটলারের খাবারে মিশিয়ে দিতেন ফেমিনিন হরমোন ইস্ট্রোজেন । কিন্তু কোনও লাভ হয়নি । ইস্ট্রোজেন দমিয়ে রাখতে পারেনি তাঁকে ।
♦বিড়াল-আতঙ্ক : দোর্দণ্ডপ্রতাপ ফুয়েরার যমের মতো ভয় পেতেন একটি প্রাণিকে । সেটি হল বিড়াল । বিড়াল থেকে ভয় বা Ailurophobia-র শিকার ছিলেন তিনি । হয়তো ছোটবেলার কোনও স্মৃতি তাড়া করে বেড়াত তাঁকে । হিটলারের মতো এই আতঙ্কের শিকার ছিলেন আরও দুই বীর মুসোলিনি এবং নাপোলেয়ঁ বোনাপার্তে ।
♦হিটলার ১৯৩৯ সালে নোবেল
শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত
হয়েছিলেন ।
♦হিটলারের নাম কিন্তু প্রথমে ছিল
Adlof Shicklgruber । তবে তার বাবা
১৮৭৭ সালে তাঁর ছেলের নামের শেষ অংশ পরিবর্তন করে এডলফ হিটলার রাখেন ।
♦হিটলার Chronic flatulence এ আক্রান্ত ছিলেন । এর থেকে প্রতিকার
পেতে তিনি ২৮ ধরণের ওষুধ সেবন
করতেন ।
♦ব্রিটেন ও জার্মানির সম্পর্ক
অতীতে কখনোই তেমন ভালো ছিল
না । প্রথম বিশ্বযুদ্ধে একজন ব্রিটিশ
সেনা একজন জার্মানের প্রাণ
বাঁচিয়েছিল । আর সেই জার্মানটি
ছিলেন অ্যাডলফ হিটলার!
♦হিটলার ইংল্যান্ডের লিভারপুলে
তাঁর ভাগ্নের বাড়ির উপর বোমা
বর্ষণ করেন । কেন জানেন? যাতে
তাঁর ভাগ্নে তাঁর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে
আমেরিকান সেনাবাহিনীতে যোগ
দেয় ও তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ।
♦আমেরিকার সাথে শত্রুতা থাকা
সত্ত্বেও হিটলারের অনুপ্রেরণা
ছিলেন হেনরি ফোর্ড । আমেরিকার এ ব্যক্তি ছিলেন বিখ্যাত ফোর্ড গাড়ি কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা । হিটলারের ডেস্কের পেছনে ফোর্ডের একটা পোট্রেট
ছিল ।
♦জার্মানিতে সে সময় একজন ইহুদী
বংশদ্ভূত চিকিৎসক ছিলেন, যিনি হিটলারের পরিবারের কাছ থেকে চিকিৎসার জন্য অর্থ নেন নি ।
কারণ, হিটলারের পরিবার সেসময়
আর্থিক অনটনে ছিল । পরে ইহুদীদের
প্রতি চরম অত্যাচার চালালেও
হিটলার সে চিকিৎসককে রক্ষা
করেন । তিনি এ ব্যক্তিকে ডাকতেন
‘মহান ইহুদী’ ।
♦ইহুদীদের নির্যাতন করে মারার
জন্য হিটলারের নাৎসি বাহিনী তৈরি করেছিল কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প । তবে অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, হিটলার তাঁর জীবনে কখনোই এসব কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প নিজের চোখে দেখেনই নি!
♦ছোটবেলায় হিটলার চেয়েছিলেন একজন পাদ্রী হতে ।
♦হিটলার ছিলেন ডিজনি নির্মিত
কার্টুনের বিশাল ভক্ত!
সূত্রঃ ইন্টারনেট
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১০:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



