
সরকারি দলের দায়িত্বপ্রাপ্তরা যখন মিডিয়ার সামনে কথা বলেন, তখন তাদের কথায় দেশে কোনো সমস্যা খুঁজে পাওয়া যায় না। বাতাবি লেবুর বাম্পার ফলনের খবর পাওয়া যায় শুধু। কিন্তু যখন সমাজের কাছে যাওয়া হয়, তখন দেখা যায় সমস্যার পাহাড় জমে আছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দাবি করেছে, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মাথায় সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের দুই মাস পূর্ণ হয়েছে।
পদক্ষেপগুলো অবশ্য খারাপ না। যেমন- নারীর ক্ষমতায়নে ৩৭ হাজার পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান, ১০টি জেলায় ২২ হাজার কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া, দেশের সরকারি অফিসগুলোতে শূন্য থাকা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ পূরণের জন্য ৬ মাস থেকে ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেয়া, শিক্ষার্থীদের জন্য পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে ‘ভর্তি ফি’ বাতিল এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বৃত্তির পরিমাণ দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদানের ঘোষণা ইত্যাদি ইত্যাদি।
এই ঘোষণা যখন দেওয়া হচ্ছে, তখন আওয়ামী লীগের সময়কার কথা মনে পড়ে। দলটি উন্নয়ন উন্নয়ন করে মুখে ফেনা তুলত। উন্নয়ন যে হয়নি, তা কিন্তু না। হয়েছে, আবার কোটি কোটি টাকা দুর্নীতিও হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলার অবনতিও হয়েছে। এখনও প্রতিদিন খুন-খারাপির খবর আসে, চাঁদাবাজির খবর আসে। স্টার নিউজ রিপোর্ট করেছে, কেবল কারওয়ান বাজারেই ২৪ ঘণ্টায় কোটি টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে।
ড. ইউনূসের প্রশংসা শোনা গিয়েছিল কিছুদিন। রিজার্ভ নাকি রেখে গেছে রেকর্ড পরিমাণ। অথচ একটা উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়নি। উপদেষ্টা আর সমন্বয়করা সব সাবাড় করে নিয়েছে। এখন অবশ্য সব গোমড় ফাঁস হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে যে ‘অসম’ চুক্তি করেছে, তা জ্বালানি নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ঝুঁকি। ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের অসাধু যোগসাজশে জ্বালানি খাতে তোষণমূলক নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের পরিবর্তে কায়েমি স্বার্থে আমদানিমুখী জ্বালানি নির্ভরতাকে প্রাধান্য দিয়ে এলএনজি নিয়ে আসা হয়েছে। বাপেক্সের মতো প্রতিষ্ঠানকে ঠুঁটো জগন্নাথ করা হয়।
সেসময় যে দেশে মবের রাজত্ব চলেছে, সে কথা বলা যায়নি। বললেই ফ্যাসিস্টের দোসর। আরো কত নাম দেওয়া হয়েছে- প্রেশার গ্রুপ, উত্তেজিত জনতা ব্লা ব্লা।পরে যখন মহামারি রূপ ধারণ করল, তখন আর কথা নেই।
আগে যারা সরকারের সমালোচনা করত তারা এখন চুপ, আগে যারা চুপ ছিল তারা এখন সরব। আর আমজনতার নাভিশ্বাস অবস্থা! খেলা চলতে থাকুক।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


