somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

***সিনথিয়ার হেরে যাওয়ার গল্প কিংবা আমার প্রশ্ন ***

০৭ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঃExcuse me , আপনি এপি ওবায়দুল্লাহ না ?
চমকে পিছনে তাকাই।
ঃজ্বি আমি ওবায়দুল্লাহ। আপনাকে ঠিক...... ওহ সিনথিয়া , আপনি মানে তুমি মানে তুই এতোদিন পর হঠাত ?
ঃ হা হঠাতই দেখা হলো । তুইতো নাকি ইদানিং এক বালিকার পিছে পাগল হয়ে গেছিস ?
ভার্সিটি থেকে বেড়িয়ে সুফিয়ান স্যারের সাথে দেখা । স্যারের সাথে কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার শান্তিনগর গিয়ে মনে পড়লো নাইম বেতন জমা দেয়নি । নাইমের সাথে ভার্সিটি আসার পর ওকে অফিসে রেখে আমি ছুটলাম বেইলি রোডে বালিকার সাথে দেখা করতে । বালিকার সাথে দেখা করে বালিকাকে রিকশায় উঠিয়ে দেয়ার পর জুয়েল এর সাথে কথা বলতে বলতে যখন মালিবাগ মোড়ের দিকে যাচ্ছি ,তখনই পিছন থেকে নারী কন্ঠের আওয়াজ । প্রথমে ভাবছিলাম ভুল, পরে দেখি না আমাকেই ডাকছে ।
সিনথিয়া , আমার অনেক পুরোনো বন্ধু । হঠাত আজ মৌচাক মার্কেটের পাশে দেখা । এভাবে দেখা হয়ে যাবে ভাবতেই পারিনি । ২০০৯ সালে যখন ইন্টার মিডিয়েট পরীক্ষার পর ঢাকাতে ভবঘুরে আমি , তখন সিনথিয়ার সাথে পরিচয় ।
ঃএপি তুইতো অনেক মোটা হয়ে গেছিস । চেনায় যায়না ।
ঃ আরো মোটা হইছিলাম । এখনতো ৩ কেজি কমে গেছি ।
কথায় কথায় জিজ্ঞেস করলাম মেহরাবের কি খবর ? মেহরাবের কথা বলতেই সিনথিয়ার মুখটা কেমন যেন ভারাক্রান্ত হয়ে গেলো । সিনথিয়া যা বললো তা ঠিক এরকম
ঃ সে আর আসবেনা । সে কোনদিন আর আসবেনা । আমি তার জন্য কি না করেছি । দিনের পর দিন রাতের পর রাত তার ভালোর জন্য চেষ্টা করেছি । তাকে ভালবেসে আমি সব দিয়ে দিয়েছি । বিনিময়ে চেয়েছিলাম একটু ভালবাসা । জানিস এপি, সব মেয়েই টাকা চায়না বাট সবাই চায় । আমি তোকে বুঝিয়ে বলি । যারা সত্যিকারের ভালবাসে তারা চায় ভালবাসার মানুষকে নিয়ে গর্ব করতে ।মেয়েদের অনেক হিংসা থাকে । আমি সবসময় চাইতাম আমার বয়ফ্রেন্ড সবার চেয়ে উপরে থাকুক । আমি সবার সামনে গর্ব করে বলি আমার বয়ফ্রেন্ড এতো ভাল । কিন্তু মেহরাব সেটা বুঝতেই চাইতো না । আমি বার বার তাকে বুঝাতাম কিন্তু সে বুঝতোই না । যখন কোন মেয়ে কোন ছেলেকে ছেড়ে চলে যায় তখন সবাই মেয়েটাকে খারাপ ভাবে কিন্তু কেউ একবারও বুঝার চেষ্টা করে না এই মেয়েটা ছেলেটার জন্য কতকিছু করেছে । আমি মেহরাবের জন্য এমন কিছু নাই যে করিনি । নিজের বাবার টাকা মেরে ওকে দিছি । শুধু এটার জন্য যে ও ভাল কিছু করুক । আমি যেন মানুষের সামনে বড় মুখ নিয়ে মেহরাবের কথা বলতে পারি । মেহরাবকে যেন কেউ নিচু না করতে পারে । আমি যে নিজের জন্য চাইতাম তা কিন্তু নয় , এটা তার জন্যও ভাল ছিলো । কিন্তু সে বুঝতো না । রাতের পর রাত ফেসবুক আর নেট নিয়ে পড়ে থাকতো । মেয়েরা চায় কেউ তাকে একটু কেয়ার করুক । অথচ আমার প্রতি তার কোন খেয়াল ছিলোনা । তোরা পুরুষেরা শুধু মেয়েদের শরীর চিনিস । কিন্তু একটা জিনিসকি জানিস ? মেয়েরা যাকে মন দেয় তাকে সব দিয়ে দেয় । অথচ পুরুষেরা একবারও মেয়েদের মনের কথা জানতে চায় না । একজন মেয়ে যখন একটা ছেলেকে সত্যিকারের ভালবাসে ,তখন ওই মেয়েটার কাছে ছেলেটাই সমগ্র পৃথিবী । সবমেয়েই ভাল আমি সেটা বলছিনা । তার মনে ছিলো প্রচুর সন্দেহ , আর সন্দেহই ভালবাসা ভাঙ্গার অন্যতম কারন । টাকা পয়সায় সব পাওয়া যায় , কিন্তু ভালবাসা না । সব ক্ষেত্রেই সেলিমের ধারনা ছিল সে বেশি বুঝে , অথচ বার বার সে ভুল করতো । আমাকে সে এক প্রকার বন্দীদের মত জীবন দিয়েছিল । আমার প্রতিটি বিষয়েই তার বাধা , নিষেধ আর কৈফিয়ত । কিন্তু ভালবাসা মানেতো এটা নয় যে অন্যের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া । ভালবাসা হলো বিশ্বাস । যদি বিশ্বাসই না থাকলো তা হলে ভালবাসা কোথায় ? মুখে ভালবাসি আর অন্তরে সন্দেহ । আরেকটা বিষয় হলো , দুজন দুজনকে সেক্রিফাইস করতে হবে । যতদিন সেক্রিফাইস থাকে ততদিন ভালবাসাও থাকে । আমি তার জন্য সবসময় সেক্রিফাইস করতাম । এটা ভালবাসা নয়, এটা একপ্রকারের অত্যাচার । আর ভালবাসার অত্যাচার সবচেয়ে বড় যন্ত্রনার । মেয়েরা যেমন শাসন চায়, তেমনি চায় স্বাধীনতা । অনেক চেষ্টা করেছি তার সাথে থাকতে । শেষ পর্যন্ত পারিনি । সবাই আমায় খারাপ ভেবেছে । কিন্তু কেউ একবারও জানার চেষ্টা করেনি আমার মনের ব্যাথা । আমি হেরে গেছি ।সত্যি আমি হেরে গেছি ।
একটানা কথা বলে সিনথিয়া থামলো । হঠাত নাইমের ফোন , টুইন টাওয়ারে স্যার আর নাইম ওয়েট করছে । আমাকে যেতে হবে । বললাম
ঃ ভাল থাকিস ।
ঃ হা ভাল থাকবো । শোন, যদি কাউকে সত্যিকারের ভালবাসতে চাস , তাহলে তার চাওয়া পাওয়ার কথাও একবার ভাবিস । একটা কথা মনে রাখিস । ভালবাসা শতযুদ্ধেও জেতা যায় না। তোর বালিকাকে যদি সত্যিকারের ভালবাসতে পারিস তবেই ভাল বাসিস । তার মুখ উজ্জ্বল করার চেষ্টা করিস । তাকে বুঝার চেষ্টা করিস । নইলে নয় ।

আমি হাটা শুরু করলাম । সিনথিয়ার লাস্ট কথা গুলো কানে বাজছে । বালিকাকে সত্যিকারের ভালবাসিস । আমি কি সত্যিকারের ভালবাসতে পারছি আমার বালিকাকে ? আমি কি একবারও বালিকাকে সত্যিকারের বুঝার চেষ্টা করি ? আমি কি সত্যিই তাকে পাওয়ার চেষ্টায় আছি ?
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুটি হাসিখুশি গল্প: ফাজিল কানাডিয়ান ও মহা সিরিয়াস কানাডিয়ান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩৩


হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্প ছিল তাদের মাকে নিয়ে। তাদের মেঝ ভাই জাফর ইকবাল তখন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে থাকেন। তাদের মা ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছেন। বিকেলে তিনি একা একা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×