somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অনির্বান শিখা
আমি এক ফেরিওয়ালা ভাই।স্বপ্ন ফেরি করে বেড়াই । লাইফ ইজ এ গেম । এখানে জেতাটাই বড় কথা,কিভাবে জিতলেন সেটা নয় । https://www.facebook.com/Dr.Obaydullah

রেললাইন কিংবা আত্বহত্যার গল্প

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হঠাত করেই সিদ্ধান্ত আত্বহত্যা করবো । মালিবাগ রেলগেট থেকে হাটতে হাটতে কাওরান বাজার পার হয়ে আমি যে এরিয়াতে আছি সেটার নাম জানিনা। রেললাইনে বসে আছি । কত কথা কত স্বপ্ন সব মনে পড়ছে । বালিকার কথা বাবা মা ভাই বোনের কথা । জানিনা ক্যান এমন সিদ্ধান্ত নিলাম । হঠাত পাশে একজন লোক এসে বসলো
ঃ ভাই আপনি আত্বহত্যা করতে এসেছেন ?
ঃ হ্যা, বাট আপনি কিভাবে জানলেন?
? ঃআমি জানি, আমি অনেক কিছুই জানি । আত্বহত্যা করবেন , বাট আপনিতো বালিকাকে কথা দিয়েছিলেন আর এমন চিন্তা মাথায় আনবেন না ।
ঃআপনি বালিকার কথা জানেন ? কে আপনি ?
ঃ আসুন চা খেতে খেতে গল্প করি । লোকটা দুই কাপ চা নিয়ে আসলো । দুইজন চা খাচ্ছি আর কথা বলছি । চা টা কেমন যেন গন্ধ । ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা । লোকটা বলতে থাকে
ঃ ভাই চা টা কি আপনার খারাপ লাগছে ?
ঃ ঠিক তা নয় , বাট কেমন যেন একটু
ঃ হুম , লাশের গন্ধ তাইনা ?
ঃ হুম,সেরকমই
ঃ আসলে এটা লাশের চা পাতা ।
ঃ লাশের চা পাতা ?
লোকটা আমায় বুঝিয়ে বলে বিদেশ থেকে যখন লাশ আসে ,অথবা এই দেশেই লাশ হিমাগারে রাখতে কষ্ট হয় তখন চা পাতা দিয়ে লাশ ঢেকে রাখা হয় ,তাহলেই পচে না। আর অসাধু লোকজন সেই পাতা লাশ থেকে নিয়ে দোকানে বিক্রি করে । এটা তেমনই চা পাতা । শুনে ক্যান জানি বমি আসতে নিলো । হঠাত করেই একটা সুন্দরী মেয়ে এসে পাশে বসলো । এরপর আরেকটা ছেলে । ছেলেটাকে পরিচিত মনে হচ্ছে । আমাকে বলে উঠলো
ঃ দাদা চিনতে পারছেন ?
ঃ না মানে হ্যা মানে না । আপনি মানে তুমি হরিদাশ না ?
ঃএইতো দাদা এতো বছর পরেও মনে রেখেছেন ।
ঃকিন্তু তুমিতো শুনেছি ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছিলে।
। ঃ হা হা হা হা দাদা । একেতো হিন্দু তার উপর মুচি, প্রেম করছিলাম এক মুসলমানের মেয়ের সাথে ।তারাই মেরে রেললাইনে ফেলে রেখে যায় ।
আমি কেমন যেন ঘোরের মধ্যে চলে যাচ্ছি । মেয়েটাকেও চেনা চেনা লাগছে । কোথায় যেন দেখেছি । হ্যা , এতো সিনথিয়া
। ঃসিনথিয়া তুই এত রাতে রেললাইনে ?
ঃহ্যারে এপি । রেললাইনইতো আমার ঘর । আমি এখন এখানেই থাকি।
। হঠাত পাশের লোকটা কথা বলা শুরু করে
ঃ দাদা ,জন্ম মৃত্যু সব উপরওয়ালার হাতে । নিজে নিজে এমন করা ঠিক না । কিন্তু আমাদের প্রিয় মানুষগুলো এমন কিছু করে ফেলে ,মানুষ বাধ্য হয় সুইসাইড করতে ।
ঃ কিন্তু আমিতো এমনেই এসেছি
ঃ মিথ্যে বলবেন না । আপনি বালিকা আর আপনার কাছের মানুষদের উপর অভিমান করে এসেছেন ।
ঃজানিনা ক্যান এসেছি।
। ঃ আমি জানি , কারন আমিও এমন সময়েই এসেছিলাম । সবার একই কারন, ভালবাসা । আমি ভালবাসতাম বাট সে কেন জানি বাসতো না । মাঝে মাঝে মনে হত বাসে আবার মনে হত বাসেনা। এদিকে আমার বন্ধুরা অনেক কথা বলতো । মনে করুন তার নাম সাগরিকা । সাগরিকার জন্য আমি সব করতে পারতাম । বন্ধুরা এটা চাইতোনা । আমি সবার থেকে একা হয়ে গেলাম ।এক পর্যায়ে দেখলাম আমি যার আশায় পথে নেমেছি সে আমার নয় । আমি দোটানায় পড়ে গেলাম । না পারছি ছাড়তে না পারছি ধরতে । তাকে ধরে রাখার যোগ্যতা নেই,আবার ছেড়ে দেয়ার সাহস নেই । সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেলো । হঠাত একদিন অনেকটা পাগলের মতই রেললাইনে হাটছিলাম । হঠাত ট্রেন চলে আসলো । বুঝতে পারলাম না । সব শেষ হয়ে গেলো । মরার পর একবার তাকে দেখতে গিয়েছিলাম । সে সুখেই আছে ।
ঃ তার মানে ? আপনি মারা গেছেন ?
ঃহ্যা,শুধু আমি না । আরো যারা ছিলো সবাই মৃত আত্বা ।
ঃসিনথিয়া ?
ঃহ্যা , সিনথিয়া একজনকে ভালবেসে সব দিয়েছিলো । এক পর্যায়ে পেটে বাচ্চা চলে আসে ।বাট ছেলেটি অস্বীকার করে । হঠাত রাতের আধারে ট্রেনের নিচে শুয়ে পড়ে । জানেন মাথাটা অনেক দূরে পড়েছিল । পেট কেটে সন্তান বের হয়ে গিয়েছিল
। লোকটা বলতেই থাকে ।আমি নিরব হয়ে শুনতে থাকি । পিঠের মধ্যে হালকা স্রোত বয়ে যাচ্ছে ঠান্ডা । পিছনে মনে হচ্ছে কে যে দাঁড়িয়ে আছে । এই বুঝি পিঠে ছুড়ি মারবে ।
ঃ বুঝলেন দাদা । ভালবাসা বলতে কিছু নেই । সব টাকার খেলা । টাকা দিয়ে ভালবাসা কেনা যায়না এটা যেমন ঠিক,তেমনি টাকা ছাড়াও ভালবাসা হয়না এটাও ঠিক । জগতে টাকাই সব....
.. আমি ভাবতে থাকি । আমি কি আত্বহত্যা করবো নাকি করবো না । রেললাইনের ঠিক মাঝখানে বসে আছি । পাশে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই। এমনকি যে চায়ের দোকান থেকে চা এনেছিলাম সেই দোকানটাও হাওয়া । কেমন যেন ভয় লাগতে থাকে । ভাবতেছি উঠে দাড়াবো । হঠাত ট্রেনের হুইসেল । কখন যে ট্রেন গায়ের উপর এসে পড়েছে টের পাইনি ......
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৩৪
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×