হঠাত করেই সিদ্ধান্ত আত্বহত্যা করবো । মালিবাগ রেলগেট থেকে হাটতে হাটতে কাওরান বাজার পার হয়ে আমি যে এরিয়াতে আছি সেটার নাম জানিনা। রেললাইনে বসে আছি । কত কথা কত স্বপ্ন সব মনে পড়ছে । বালিকার কথা বাবা মা ভাই বোনের কথা । জানিনা ক্যান এমন সিদ্ধান্ত নিলাম । হঠাত পাশে একজন লোক এসে বসলো
ঃ ভাই আপনি আত্বহত্যা করতে এসেছেন ?
ঃ হ্যা, বাট আপনি কিভাবে জানলেন?
? ঃআমি জানি, আমি অনেক কিছুই জানি । আত্বহত্যা করবেন , বাট আপনিতো বালিকাকে কথা দিয়েছিলেন আর এমন চিন্তা মাথায় আনবেন না ।
ঃআপনি বালিকার কথা জানেন ? কে আপনি ?
ঃ আসুন চা খেতে খেতে গল্প করি । লোকটা দুই কাপ চা নিয়ে আসলো । দুইজন চা খাচ্ছি আর কথা বলছি । চা টা কেমন যেন গন্ধ । ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা । লোকটা বলতে থাকে
ঃ ভাই চা টা কি আপনার খারাপ লাগছে ?
ঃ ঠিক তা নয় , বাট কেমন যেন একটু
ঃ হুম , লাশের গন্ধ তাইনা ?
ঃ হুম,সেরকমই
ঃ আসলে এটা লাশের চা পাতা ।
ঃ লাশের চা পাতা ?
লোকটা আমায় বুঝিয়ে বলে বিদেশ থেকে যখন লাশ আসে ,অথবা এই দেশেই লাশ হিমাগারে রাখতে কষ্ট হয় তখন চা পাতা দিয়ে লাশ ঢেকে রাখা হয় ,তাহলেই পচে না। আর অসাধু লোকজন সেই পাতা লাশ থেকে নিয়ে দোকানে বিক্রি করে । এটা তেমনই চা পাতা । শুনে ক্যান জানি বমি আসতে নিলো । হঠাত করেই একটা সুন্দরী মেয়ে এসে পাশে বসলো । এরপর আরেকটা ছেলে । ছেলেটাকে পরিচিত মনে হচ্ছে । আমাকে বলে উঠলো
ঃ দাদা চিনতে পারছেন ?
ঃ না মানে হ্যা মানে না । আপনি মানে তুমি হরিদাশ না ?
ঃএইতো দাদা এতো বছর পরেও মনে রেখেছেন ।
ঃকিন্তু তুমিতো শুনেছি ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছিলে।
। ঃ হা হা হা হা দাদা । একেতো হিন্দু তার উপর মুচি, প্রেম করছিলাম এক মুসলমানের মেয়ের সাথে ।তারাই মেরে রেললাইনে ফেলে রেখে যায় ।
আমি কেমন যেন ঘোরের মধ্যে চলে যাচ্ছি । মেয়েটাকেও চেনা চেনা লাগছে । কোথায় যেন দেখেছি । হ্যা , এতো সিনথিয়া
। ঃসিনথিয়া তুই এত রাতে রেললাইনে ?
ঃহ্যারে এপি । রেললাইনইতো আমার ঘর । আমি এখন এখানেই থাকি।
। হঠাত পাশের লোকটা কথা বলা শুরু করে
ঃ দাদা ,জন্ম মৃত্যু সব উপরওয়ালার হাতে । নিজে নিজে এমন করা ঠিক না । কিন্তু আমাদের প্রিয় মানুষগুলো এমন কিছু করে ফেলে ,মানুষ বাধ্য হয় সুইসাইড করতে ।
ঃ কিন্তু আমিতো এমনেই এসেছি
ঃ মিথ্যে বলবেন না । আপনি বালিকা আর আপনার কাছের মানুষদের উপর অভিমান করে এসেছেন ।
ঃজানিনা ক্যান এসেছি।
। ঃ আমি জানি , কারন আমিও এমন সময়েই এসেছিলাম । সবার একই কারন, ভালবাসা । আমি ভালবাসতাম বাট সে কেন জানি বাসতো না । মাঝে মাঝে মনে হত বাসে আবার মনে হত বাসেনা। এদিকে আমার বন্ধুরা অনেক কথা বলতো । মনে করুন তার নাম সাগরিকা । সাগরিকার জন্য আমি সব করতে পারতাম । বন্ধুরা এটা চাইতোনা । আমি সবার থেকে একা হয়ে গেলাম ।এক পর্যায়ে দেখলাম আমি যার আশায় পথে নেমেছি সে আমার নয় । আমি দোটানায় পড়ে গেলাম । না পারছি ছাড়তে না পারছি ধরতে । তাকে ধরে রাখার যোগ্যতা নেই,আবার ছেড়ে দেয়ার সাহস নেই । সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেলো । হঠাত একদিন অনেকটা পাগলের মতই রেললাইনে হাটছিলাম । হঠাত ট্রেন চলে আসলো । বুঝতে পারলাম না । সব শেষ হয়ে গেলো । মরার পর একবার তাকে দেখতে গিয়েছিলাম । সে সুখেই আছে ।
ঃ তার মানে ? আপনি মারা গেছেন ?
ঃহ্যা,শুধু আমি না । আরো যারা ছিলো সবাই মৃত আত্বা ।
ঃসিনথিয়া ?
ঃহ্যা , সিনথিয়া একজনকে ভালবেসে সব দিয়েছিলো । এক পর্যায়ে পেটে বাচ্চা চলে আসে ।বাট ছেলেটি অস্বীকার করে । হঠাত রাতের আধারে ট্রেনের নিচে শুয়ে পড়ে । জানেন মাথাটা অনেক দূরে পড়েছিল । পেট কেটে সন্তান বের হয়ে গিয়েছিল
। লোকটা বলতেই থাকে ।আমি নিরব হয়ে শুনতে থাকি । পিঠের মধ্যে হালকা স্রোত বয়ে যাচ্ছে ঠান্ডা । পিছনে মনে হচ্ছে কে যে দাঁড়িয়ে আছে । এই বুঝি পিঠে ছুড়ি মারবে ।
ঃ বুঝলেন দাদা । ভালবাসা বলতে কিছু নেই । সব টাকার খেলা । টাকা দিয়ে ভালবাসা কেনা যায়না এটা যেমন ঠিক,তেমনি টাকা ছাড়াও ভালবাসা হয়না এটাও ঠিক । জগতে টাকাই সব....
.. আমি ভাবতে থাকি । আমি কি আত্বহত্যা করবো নাকি করবো না । রেললাইনের ঠিক মাঝখানে বসে আছি । পাশে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই। এমনকি যে চায়ের দোকান থেকে চা এনেছিলাম সেই দোকানটাও হাওয়া । কেমন যেন ভয় লাগতে থাকে । ভাবতেছি উঠে দাড়াবো । হঠাত ট্রেনের হুইসেল । কখন যে ট্রেন গায়ের উপর এসে পড়েছে টের পাইনি ......
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




