অভিনয়, শিল্প কিংবা সাহিত্য ---- যাই বলি না কেন, যারাই এতে জড়িত থাকেন তাদের কল্পনাশক্তি প্রখর হয়ে হয়।যে যত প্রখর হন তার সৃষ্টি তত নির্ভুল হবার সম্ভাবনা থাকে। অবশ্যই তারা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হন। তবে বাস্তবকে সে ধীশক্তির সাথে সমার্থক করে তুলতে যে যোগ্য নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত সততার প্রয়োজন হয় তা বেশীরভাগ মানুষেরই নেই। একথায় যাদের ঝাঁঝ লাগলো, নিজ মনের আয়নায় নিজের চেহারা দেখে একবার নিজেকে যাচাই করে দেখবেন।
যাহোক মুল প্রসঙ্গে ফিরে আসি, এই যারা সৃষ্টিশীল গুণীজন,
তাঁরা যদি সুবিধাবাদী হয়ে ওঠেন, তবে সবচেয়ে প্রবঞ্চক তারাঁই হন। একটা কথা স্মর্তব্য যে, মানুষ মাত্রই স্বার্থপর।
তবে এ স্বার্থ অন্যকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করছে, সে ব্যপারটা অবশ্যই যিনি বিবেচনা করতে পারেন তিনি সুশাসক।
এবার আসি মাননীয় মন্ত্রী প্রসঙ্গে। ব্যক্তি জীবনে উনি একজন মধ্যম মানের আইনজীবী ও পরিচিত অভিনয় শিল্পী ছিলেন। অবশ্যই বিখ্যাত কেউকেটা তিনি ছিলেন না। তবে উনি যেটা করতে পেরেছেন সেটাও কম নয়,
উনার অবস্থান পুঁজি করে সরকারের দলের অংশীদার হতে পেরেছেন, পেরেছেন মন্ত্রী হতে।এ পর্যন্ত সব ঠিক আছে।
সমস্যা হলো তারপর। অবস্থান দৃঢ় বা নিশ্চিত করতে যা প্রয়োজন তা হলো, আরো পরিচিতি। যেটা নিজেকে আরো অঢেল ক্ষমতাধর ও অর্থশালী করবে। এ কাজটি করার দুটো উপায় আছে, একটা হলো কষ্টসাধ্য ---- কাজ করে, প্রজ্ঞা দিয়ে অবস্থান তৈরি করা।অপরটি তুলনামূলক সহজ, সেটা হলো বিতর্কিত কিছু করে চুপ করে বসে থাকা। উনি পরের কাজটি করেছেন। প্রতিটি কাজেরই ভালো মন্দ দুটো দিক থাকে। স্যোশাল সাইট গুলো বন্ধ হয়ে কিছু উপকার তো অবশ্যই হয়েছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে সেটা কতটুকু এটা বিবেচনার দাবীদার। কিন্তু আমার মতো ছোট মাথার লোকের মাথায় যা আসে সেটাতে সরকারের ভাবমূর্তির ক্ষতি ছাড়া কিছু তো পাইনা।
কিছু সংকট দেশে তো অবশ্যই আছে,তবে এটা যে স্যোশাল মিডিয়া বন্ধ করে সমাধান করা যাচ্ছে এ যুক্তি নিতান্তই হাস্যকর। কারণ সন্ত্রাসবাদীরা এতটা কাঁচা হলে সেটা কেবল নাটক হতো, বাস্তবিক মৃত্যু মানে পুনরায় জেগে উঠে পরবর্তী চরিত্রের জন্য মেকাপ দেয়া নয়। দেশেও এত আইন রক্ষাকারী বাহিনীরও প্রয়োজন হত না তাদের দমনের জন্য,
সব যদি এত সহজই হতো।
এ কাজটি করার পর এপর্যন্ত যতবার উনার নাম উচ্চারণ হয়েছে, অন্য কোনো মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী মহোদয়গণের নাম সে তুলনায় অনুচ্চারিতই বলব। কিছু পেশাজীবী যারা আইটির সাথে বা অন লাইন শপিং এর সাথে জড়িত তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি তো আছেই, সেটা ও আমলে নেয়া প্রয়োজন। মানুষের মনের কথা বাদই দিলাম। দেশের ডিজিটাল ভাবমূর্তি কতটুকু ক্ষুন্ন হচ্ছে সেটাও গোচরীভূত হওয়া উচিৎ। এমনিতেই দেশের বাইরে আমাদের ভাবমূর্তি সংকট আছে আর মাঝে এরকম স্বসৃষ্ট আপদ কতটা লাভজনক হবে সেটাই দেখার বিষয়।
কুখ্যাত ও বিখ্যাত দুইপ্রকার মানুষেরাই স্মরিত হন। কে কি প্রকারে হবেন ভবিষ্যৎ সেটা কিন্তু নির্ধারণ করেন বর্তমান কালের আচরণের নিরিখেই।
সবার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক, সবাই ভালো থাকুন।
কষ্ট করে পড়বার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




