
এমনি এক সুখের গল্প মনে পড়ে গেল। অনেক অনেক সপ্ন ছিল সেই মেয়েটির। চোখে ছিল অনেক আশা, মনে ছিল অনেক ভালবাসা। সেই স্বপ্ন ঘেরা জীবনটা অনেক সুন্দর ছিল। কিন্তু মা বাবার একটু ভূলের কারনে ভেঙ্গে গেল তার সব আশা। হয়ত তার বাবা মা তার ভালই করতে চাইছিলেন কিন্তু এত ভাল তার কপালে সইলনা।
হঠাৎ করে ছোট্ট মেয়েটিকে অন্য একটি বাসাই দিয়ে আসা হলো এবং বলা হল তারাই তার বাবা মা। এতদিন যাদের কাছে সে ছিল তারা তার বাবা মা না। ছোট্ট শিশু কিছুদিন কান্নাকাটি করে নতুন বাবা মার আদর যত্নে সব কিছু ভুলে গেলো কিন্তু সে বুঝতে পারলনা যে তাকে তার বাবা মা বিক্রি করে দিয়েছে। কি বা করবে অভাবের সংসার এত সন্তান লালন পালন করবে কি করে। শিশুটিকে, যে সন্তানহীন দম্পতি নিয়েছিলেন তারা শিশুটিকে অনেক ভালোবাসত। বাবা মার চোখের মনি ছিল মেয়েটি। পড়াশোনাতেও অনেক ভালো ছিল মেয়েটি। সব কিছু মিলিয়ে অনেক ভাল কাটছিলো তার দিনগুলো। ধীরে ধীরে মেয়েটি বড় হতে লাগল। নিজের অজান্তে একটি ছেলেকে ভালোও লাগলো মেয়েটির। মেয়েটি ছেলেটিকে অনেক ভালবাসত। ছেলেটিও মেয়েটিকে ছাড়া কিছুই বুঝত না। কিন্তু মেয়েটি তো জানতোনা যে তার এই সুখ বেশিদিনের নয়। সে যখন এস এস সি পরীক্ষা দেবে ঠিক তখনি হঠাৎ করে তার পালিত মা প্রেগনেন্ট হলেন। যদিও এমন হওয়ার কোন সম্ভবনা ছিল না তারপরেও এমনটায় ঘটলো। সবাই অনেক খুশি । মেয়েটিও অনেক খুশি হল। তা নিয়ে তার পরিকল্পনার শেষ নেই। তার ভাই হবে না বোন হবে, নাম কি রাখবে, আরও কতো কি? এভাবে তার দিনগুলো অনেক ভালো যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে তার বাবা-মা তার সাথে খুব খারাপ আচরণ করতে লাগল। এতটাই খারাপ যে মানুষ কাজের মানুষের সঙ্গেও এতটা খারাপ আচরণ করেনা। মেয়েটি ভাবছিল তার মায়ের শরীর খারাপ বলে হয়ত এমনটা করছে পরে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু না দিনে দিনে তার উপর অত্যাচার বেড়েই চলেছে। মেয়েটি কিছুই বুঝতে পারছিল না। তাকে আর স্কুলে যেতে দেওয়া হচ্ছে না, তাকে সবাই বিরক্তির চোখে দেখছে, সে তো কোন অন্যায় কাজ করেনি তবে কেন তার বাবা-মা তার সাথে এমনটা করছে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলনা সে।
আসলে মেয়েটির পালিত বাবা-মা টাকা, পয়সা,বাড়ি সব কিছু মেয়েটির জন্য লিখে দিয়েছিল। আর এটাই ছিল তাদের ভয়। আর এ কারনে তারা মেয়েটিকে বাসা থেকে তাড়িয়ে দিতে চাচ্ছিল। মেয়েটি বিষয়টি জানতে পারলো তার দাদির কাছে। তার দাদি তাকে খুব ভালবাসত। এ কথা জানতে পেরে তার মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। জীবনের সবচাইতে বড় কষ্টটা সে পেয়েছে। কান্নায় ভেঙ্গে পরলো মেয়েটি। সে তখনো মেনে নিতে পারছিলনা যে তার বাবা তাকে দত্তক নিয়েছে। আর যদি তাই হয় তবে এতদিন যে ভালবাসা ছিল সেগুলো তো মিথ্যা ছিলনা। যাই হোক সে কোন ভাবেই তার বাবা মাকে ভুলতে পারবেনা। সে সবকিছুর বিনিময়ে শুধু তার বাবা মাকেই চায় কিন্তু তার এই কমল হৃদয় এর স্পন্দন শোনার সময় কারো নেই। ইতিমধ্যে তার পালিত বাবা মা তাকে দিয়ে দেওয়ার ব্যাবস্থা করছে তার আসল বাবা মার কাছে। মেয়েটি বিষয়টি বুঝতে পেরে তার বাবা মাকে অনেক অনুরোধ করল সে তার সবকিছু সম্পদ তাদের নামে লিখে দিতে চাইল যেগুলোর জন্য তাকে তারা তাড়িয়ে দিতে চাই। কিন্তু কোন কাজ হয়না। অবশেষে তাকে চলে যেতে হয় তার আপন ঠিকানায় সেখানে সবাই তার আপন জন তবুও সবাই তার কাছে অনেক অচেনা। তার বাবা মাকে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে তার বিয়ে দেবার জন্য। তাই তার জন্য বর খোঁজা হচ্ছে। এখন আর তার ফোনে কোন ফোন আসে না। কারন এখন তার পরিচয় তো আলাদা হয়ে গিয়েছে। এখন তো সে আর বাবা মার একমাত্র সন্তান, অগাধ সম্পদের অধিকারী না। এখন সে অতি নগন্য একটা মানুষ তার ভালবাসার মানুষও তার কাছ থেকে দূরে চলে গেল। কথায় বলে অভাগা যেদিকে চায় সাগর শুকিয়ে যায়। শুনেছি ছেলেটি তারি এক বড়লোক বান্ধবীর সাথে চুটিয়ে প্রেম করছে। এগুলো নিয়ে আর ভাবেনা সে। পড়াশোনাকে খুব মিছ করে সে। যদিও পড়াশোনা করতে আগে একটুও ভালো লাগতনা তার। তারপরেও এখন খুব পড়তে ইচ্ছে করে তার। কিন্তু তাকে পড়াশোনা করানোর ক্ষমতা তার বাবা মার নেই। কোন রকমে একটা বিয়ে দিতে পারলেই তাদের জীবনটা বেঁচে যায়। নিজে নিজের কাছেই বোঝা হয়ে গেছে সে।
তবুও আজও সে সেই সুখের স্বপ্নগুলো দেখে। আজও সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে করে সবই সপ্ন ছিল। কিন্তু আসলে সব কিছুই সত্যি। জীবনের কঠিন বাস্তবতা সে কখনোই মেনে নিতে পারে না। আজও সে তার বাবা মার আদর অনুভব করে। যদিও তারা তাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে তার পরও মেয়েটি তাদের অনেক ভালোবাসে। কখনোই তাদের ঘৃণা করতে পারবেনা সে । মেয়েটি তার বাবা মার জন্য সব সময় দোয়া করে । তারা যেন তাদের সন্তান নিয়ে অনেক সুখে থাকে। সে তো আর তাদের নিজের সন্তান ছিল না। কিন্তু মেয়েটি এখনো তাদের নিজের বাবা মা মনে করে। এখনো সে আশা করে তার বাবা মার ভুল ভাঙ্গবে এবং তাকে নিয়ে যাবে। তার দুঃখ গুলোকে ভোলার জন্য সে সবসময় হাসি খুশি থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু তার ওই চোখের দিকে তাকালেই তার সব কষ্টগুল স্পষ্ট হয়ে ওঠে মানুষের জীবনটা কেন এমন হয়। কেন তার বাবা-মা তাকে দত্তক দিয়েছিল? তাদের সাথে দুবেলা দুমুঠো ভাত খেতো সেটাই তো ভাল ছিল তার। জীবনে থাকতোনা কোন আশা আর থাকতোনা আশা ভঙ্গের বেদনা। আর তাকে যে বাবা মা দত্তক নিয়েছিল তারাই বা এত নিষ্ঠুর হল কিভাবে। কেন তারা তাকে নিজের করে নিলনা। শুধু জন্ম দিলেই কি সব হয়। অর্থ সম্পদ এর লোভ মানুষকে এতটাই নিচে নামিয়ে দেয়। কিন্তু তার পরেও কি তারা সুখে থাকবে। জীবনের কোন না কোন সময় তারা বুঝবে যে তারা অনেক ভুল করেছে। কিন্তু তখন আর সময় থাকবেনা। তাদের একটি ভুলের কারনে আজ একটি মেয়ের জীবনটা ধ্বংস হতে যাচ্ছে। জানিনা কি হবে শেষ পর্যন্ত।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



