somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্যবসায়িক স্বার্থে ধর্মের অপব্যবহার: ধর্মের ব্যবসায়ী নাকি ব্যবসায়ীর ধর্ম

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আত্মসর্বস্ব ও ব্যক্তিস্বার্থের ওপর প্রতিষ্ঠিত মালিকদেরও অনেকে লোক দেখানো নামাজ পড়েন, টুপি মাথায় দেন, বড় দাঁড়ি রাখেন, পাঞ্জাবি পড়েন অথচ মিথ্যা বলেন, ওয়াদা রাখেন না, আমানতের খেয়ানত করেন। মানুষের সম্মান ও ইজ্জতের তোয়াক্কা করেন না লোভী ও স্বার্থপর হয়ে থাকেন। যেখানে মালিক আর কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে এক রুক্ষ,শুষ্ক ও কৃত্রিম সম্পর্ক বিদ্যমান সেখানে সবাই নিজ নিজ স্বার্থ উদ্ধার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এই স্বার্থান্ধতার ফলে মালিক ও অধীন্স্তরা দুটি মারমুখী প্রতিদ্বন্দ্বী দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। মালিক পক্ষের অপরের প্রতি সম্মানবোধ এবং মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাবে মালিক ও বেতনভুক্ত অধীনস্তদের মধ্যে এক নিরন্তর দর কষাকষি চলে। পারস্পরিক সৌহার্দপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে না ওঠায় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্তদের সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক ব্যতিরেকে কোনো প্রতিষ্ঠানের উন্নতি-অগ্রগতি একেবারে অসম্ভব। ইসলামে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা নিরূপিত হয় নৈতিকতা, নিষ্ঠা ও তাক্বওয়ার ভিত্তিতে। কাজেই যে কোন পেশার লোক সম্মানের পাত্র। কেননা সমাজ জীবনে তথা দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্ন পেশার লোকের মুখাপেক্ষী হই। এমনকি অধীনস্থ-মজুর, দাস-দাসী, শিক্ষক, জেলে, তাঁতী ও ব্যবসায়ী প্রত্যেকেরই সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কাজেই প্রত্যেক পেশাজীবির অধিকারের প্রতি আমাদের সমান যত্নবান হওয়া এবং সমান সম্মান প্রদর্শন করা উচিৎ। প্রত্যেক ব্যক্তির নিজস্ব দৈহিক, মানসিক ও কৌশলগত শক্তি আছে। এগুলি কাজে বিনিয়োগ করার নাম শ্রম। শ্রমের বিনিময়ে অর্থ উপার্জনকারী ব্যক্তি অধীনস্থ। শ্রমের দ্বারা মানুষ তার ভাগ্যের দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম হয়। পৃথিবীর সব মহৎ কাজের পিছনে অজস্র মানুষের শ্রম জড়িত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘মানুষ যতটুকু চেষ্টা করবে, ততটুকু সে পাবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) শ্রম দিয়ে জীবিকার্জন করার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করে বলেন, ‘কারও জন্য নিজ হাতের উপার্জন অপেক্ষা উত্তম আহার্য বা খাদ্য আর নেই।

মালিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য
একজন মালিক তার অধীনস্থ অধীনস্থদের প্রতি হবেন সহানুভূতিশীল। তাদের দুঃখ কষ্টে থাকবে মালিকের আন্তরিক সহমর্মিতা। তাদের দুঃখে তিনি দুঃখিত হবেন, তাদের সুখ ও আনন্দে তিনি আনন্দিত হবেন। অধীনস্থের প্রতি যেমন সহানুভূতিশীল হবেন তেমনি অধীনস্থের শ্রমের প্রতিও তিনি মর্যাদা প্রদর্শন করবেন। একজন অধীনস্থ যে কাজই করুক না কেন; সে তো কাজ করে হালাল উপায়ে বেতন নিচ্ছে। সে তো কোন চুরি, রাহাজানি, ছলচাতুরী, অন্যায় বা দুর্নীতি করে অর্থোপার্জন করছে না। সে তো তার শ্রম দিয়ে হালাল উপায়েই মালীকের নিকট হতে অর্থ উপার্জন করছে। তাই, অধীনস্থ যে ধরনের কাজই করুক না কেন তার শ্রমের মূল্যায়ন করা উচিত। অধীনস্থের অন্যায়, অনিয়ম, অনৈতিক ও শৃঙ্খলা বিবর্জিত কাজের জন্য অবশ্যই মালিককে বিধি মোতাবেক তাকে শাসন করবে। তবে শাসন যেন শোষনের পর্যায়ে না পড়ে।মালিকের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য নিম্নরুপ-

শ্রমের কার্যসময় ঠিক করে দেয়া: নিয়মানুযায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্ধারিত কার্যসময় কঠোরভাবে অনুসরণ হওয়া উচিৎ।অফিস কার্যসময়ের পরে কাউকে কোনো কাজে বাধ্য করা নীতিবর্জিত। ন্যায়সঙ্গতভাবে কাজের সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে। অধীনস্থকে শ্রম অনুপাতে বিশ্রাম দিতে হবে। বিশ্রামহীন কাজ করতে বাধ্য করানো যাবে না। নিরবচ্ছিন্ন কয়েকদিন কাজ করলে ছুটি বা অবসর দিতে হবে। রাসূলে কারীম (স.) বলেনঃ “তোমরা সহজপন্থা অবলম্বন কর, কঠোরতা অবলম্বন করবে না”।হযরত ওমরের অভ্যাস ছিল যে, “তিনি প্রত্যেক শনিবার মদীনার আশেপাশে তদারকি করতেন এবং কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কাজে নিয়োজিত দেখলে তার কাজের বোঝা লাঘব করে দিতেন” (মুয়াত্তা মালিক)।প্রখ্যাত ইসলামী রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আল্-মাওয়ারদী এই প্রসঙ্গে সরকারের দায়িত্ব বর্ণনা করেনঃ “সরকারী সুপারভাইজারের উচিত- যদি কোন পুরুষ অথবা নারী অধীনস্থের প্রতি অন্যায় আচরণ করা হয়, তখন তিনি মালিককে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন এবং তাদের সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ নিতে নিষেধ করবেন”।এসব নির্দেশনার পরও হাজিরা খাতায় অফিস সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত লেখা থাকবে, অফিস এন্ট্রি টাইম অবশ্যই নয়টার মধ্যে থাকবে অতচ ডিপারচার টাইম থাকবে না, রাত নয়-দশটা পর্যন্ত কাজ করাবে এটাতো কোন যুক্তিসংগত আচরণ হতে পারেনা। অফিসে আসতে একটু দেরী হলে হলে নানান মৌখিক কৈফিয়ত তলব বা গালাগাল করা হয়। অপমান থেকে পার্সোনাল ফাইলে লাল দাগ পর্যন্ত লাগে। ইনক্রিমেন্ট বন্ধ ও বেতন কর্তন হয়। শেষে চাকুরিচ্যুতির চিঠিও ধরিয়ে দেয়া হয়। পর-পর তিন দিন বিলম্ব হলে একদিনের বেতন কর্তন করা হয়। অফিসে উপস্থিতি সম্পর্কে যেমন কড়াকড়ি আছে তেমন ঘোষিত কার্যসময়ের পরও কোনো কর্মী অফিস ত্যাগ করতে পারেন না। রাত নয়-দশটা পর্যন্ত অফিস চলে। কেউ রাত আটটায় যেতে চাইলে তাকে মালিকের অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি নেয়াও এক ঝক্কি। সেখানে নানাবিধ কৈফিয়ত দিতে হয়। সেক্ষেত্রে মৌখিক তিরস্কার সাধারণ মামুলি ব্যাপার। কেউ কোনো কারণে পূর্বানুমতি ব্যতিরীকে অফিসে যেতে না পারলে তিনি তার চাকুরি আছে কি না সে বিষয়ে আশঙ্কায় অস্থির থাকতে বাধ্য হন। কাটাতে হয় দুঃশ্চিন্তার সময়...আসলে চাকুরি আছে কি না? এসব সম্পূর্ণ অমানবিক ও নীতিবর্জিত।

উপযুক্ত মজুরির নিশ্চয়তা বিধান করা: যেকোন প্রতিষ্ঠানেরই একটি সুসাঞ্জস্যপূর্ণ পদসোপান ও যৌক্তিক বেতনকাঠামো নির্ধারণ হওয়া উচিৎ। পদসোপানের নিচে অবস্থানকারী কর্মীর বেতন-ভাতা অবশ্যই সর্বোচ্চ পদে নিয়োজিত ব্যক্তির বেতন-ভাতার এক তৃতীয়াংশের কম নির্ধারণ করা ন্যায্য নয়। বেকার সমস্যার প্রাবল্য থাকায় বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে উঁচু পদগুলোর ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা একটু ভালো হলেও নিচের পদের লোকদের জন্য তা অনেক অনেক কম। মালিকরা মেধাসম্পন্ন অধস্থনদের মগজ নিঙড়ে বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞান বের করে নিয়ে নিজেদের কৃতিত্ব বলে চালিয়ে দেন। এসকল অনিয়ম অনেক প্রতিষ্ঠানের কমবেশি একটি সাধারণ কালচার। অধীনস্থদের নানান ওয়ার্কলোড দিয়ে প্রচণ্ডরকম চাপে রাখা হয় যাতে তারা অন্যদিকে মনোযোগ দিতে না পারে। তার কাজ-ধ্যান-জ্ঞান হবে মালিকের প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা, যাতে মালিক বড় বড় ‘রসগোল্লা’ খেতে পারেন। এই ওয়ার্কলোড ও কার্যসময়ের অতিরিক্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে কোনোরূপ ওভারটাইম নেই। একটি কাজ শেষ হতে না হতেই আরও কয়েকটি কাজ কাঁধে ফেলে দেয়া হয়। কোনো জটিল কাজ সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন করা হলেও মালিক কোনো ধন্যবাদ দেন না-কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন না বরং মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়ার জন্য তিরস্কার করা হয়। এর ফলে ওই কর্মী ওভারটাইম দাবি করতে সাহস পান না। কেননা ইউরোপের মতো সকালে চাকুরি ছেড়ে বিকেলে অন্য একটি জোগাড় করা এই সমাজে সম্ভব নয়। শুধুমাত্র বেকারত্ব থেকে মুক্তির জন্য অনেক অনেক তরুণ-তরুণী শত লাঞ্ছনা মুখ বুজে সহ্য করে বদমেজাজী মালিকদের অধীনে কাজ করে চলেছেন। এসব অন্যায় বন্ধ হওয়া দরকার। উপযুক্ত মজুরির নিশ্চয়তা বিধান করা প্রত্যেক মালিকের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। অধীনস্থকে কেউ বিনা পারিশ্রমিকে খাটাতে পারে না। তাদের শ্রমের পারিতোষিক তাদের দিতেই হবে। তাদের আর্থিক কিংবা দৈহিক ক্ষতিপূরণ করতে হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে কারো শ্রম প্রতিদানবিহীন বা বিফল-বিনষ্ট হতে পারে না, তা যতই ক্ষুদ্র হোক না কেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:“আমি তোমাদের মধ্যে কোনো কর্মে নিষ্ঠ নর অথবা নারীর কর্মবিফল করি না’। (আল্-ইমরান : ১৯৫)।

সদ্ব্যবহার ও পারফরমেন্সের যথাযথ মূল্যায়ন: মহানবী (সা) আরো বলেছেন, ‘অসদাচরণকারী মালিক বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না।অধীনস্থগণ কাজের ক্ষেত্রে কোনোরকম শারীরিক অসুস্থতা, কোনো কারণবশত বিলম্ব ইত্যাদির ব্যাখ্যা বা যুক্তি তুলে ধরতে চাইলে বলা হয় তর্ক-বিতর্ক করছে। কোন কাজ দেয়ার পর তা যত কষ্টেরই হউক এই কাজ আমার দ্বারা হবে না, এমন কথা কেউ বলতে পারেন না। ফলে দেখা যায়, অনেক বেকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েও ঝাড় দেয়া থেকে শুরু করে মালামাল ওঠানামার কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কোনো পরামর্শ দিলেও যদি তা মালিকের আগে থেকেই নেয়া কোনো একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যায় তবেতো কঠিন পরিস্থিতির তৈরি হয়।মালিকরা অধীনস্থদের মেধা চুরি করে, সব কাজেই তিরস্কার করে, যাতে কোনো কর্মী নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস দেখতে না পায়। ভালো কাজের উপযুক্ত কোনো পুরস্কার দেয়ার ক্ষেত্রে মালিকেরা খুব অনুদার হবার ফলে অধীনস্থরা মানসিকভাবে হীনমন্যতায় ভোগে এবং নতুন কিছু সৃজনের ক্ষেত্রে উৎসাহি থাকে না। তাই দুর্ব্যবহার না করে ও অধীনস্থদের পারফরমেন্সের যথাযথ মূল্যায়ন করাটা মালিকের দায়িত্ব।

চাকুরির নিরাপত্তা বিধান করা: যখন কোন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন সেখানে কর্মরতদের চাকুরির নিরাপত্তা নিয়ে কোনোকিছু অতিরিক্ত বলার অপেক্ষা রাখে না। হঠাৎ চাকুরি চলে গেলে যিনি নতুন চাকুরির অন্বেষনে বের হন তার কষ্টটা মারাত্মক। কোনোভাবে ভালো চাকুরির সংস্থান করতে না পেরে একরকম পোড়খাওয়া মানুষ ছোটখাটো প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজের সন্ধানে আসেন। দু-একজন ভিন্নও হতে পারে। যে সকল ব্যক্তি চাকুরি পেলে ভেবে নেন যে, বেঁচে থাকার একটি সংস্থান হলো তাঁরা মূলত মুর্খের স্বর্গে বসবাস করেন। কেননা যতদিন অধীনস্থের দেয়ার আছে কিংবা মালিক যতদিন তার কাছ থেকে কিছু আদায় করে নিতে পারেন তা শুষে নিয়ে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। একটি ছুতো বের করলেই হলো। অনেক পোড়খাওয়া ব্যক্তি চাকুরির দুর্মূল্যের বাজারে কোথাও কাজে যোগ দিয়ে তা টিকিয়ে রাখার জন্য শত অপমান-লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সহ্য করে মাটি কামড়ে পড়ে থাকেন। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মালিক পছন্দ না করলে তাকে অবশ্যই বিদায় হতে হয়। কেননা অনেক পুরোনো কাউকে রেখে তার বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও বর্ধিত বেতন-ভাতা দেয়ার চেয়ে ওই টাকায় দু-তিনজনকে নিয়োগ দিতে বেশি আগ্রহী থাকেন অনেকে। এতে প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সংখ্যা বেশি দেখানো যায়। যার কারণে দেখা যায় যে, অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর নতুন নতুন লোকের নিয়োগ এবং পুরোনো লোকের বিদায়। এই প্রবণতা মানবাধিকার নয়, সামাজিকভাবে নানান সমস্যার সৃষ্টি করে চলেছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে মালিকদের চেহারা ও প্রকৃতি দোকান মালিকের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। তবে এ কথাও সত্য যে, সকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ঢালাওভাবে শ্রম অধিকার, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অন্যায়ে সম্পৃক্ত নয়। তবে দেশের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহী পরিষদ আত্মীয় স্বজনে পরিপূর্ণ, কর্মীদের মধ্যে অধিক সংখ্যক তারাই এবং আত্মীয় নন এমন ব্যক্তি তাদের দ্বারা নানাভাবে নিগৃহীত ও শোষণ-বঞ্চনার শিকার। চাকুরির নিরাপত্তা বিধান করা ছাড়া ব্যক্তির কাছ থেকে সর্বোচ্চ সাড়া পাওয়া অসম্ভব।

কাজের ধরন সম্পর্কে অবগত করানো: কাজ করে নেয়ার আগে অধীনস্থকে তার কাজের ধরন সম্পর্কে অবগত করাতে হবে। তাকে এক কাজে নিয়োগ করে তার অনুমতি ছাড়া অন্য কাজে লাগানো উচিত নয়। এমনকি তার সম্মতি ব্যতীত যেকোন কাজে নিয়োগ দান সমীচীন নয়। অধীনস্থ দিয়ে এমন ধরনের কাজ করানো আদৌ সঙ্গত হবে না যা তার জন্য অতি কষ্টকর বা সাধ্যাতীত। সর্বদা মনে রাখতে হবে অধীনস্থ মালিকের হাতের ক্রীড়নক নয়, বরং সে তারই সমমর্যাদার অধিকারী স্বাধীন এক সত্তা। অধীনস্থের পেশা পরিবর্তন বা কর্মস্থল পরিবর্তনে অধিকার থাকবে। এতে কারও হস্তক্ষেপ অর্থই তার স্বাধীন সত্তায় বাধা দানের শামিল। অধীনস্থশ্রেণী উৎপাদনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও মুনাফা লুটে নেয় মালিক শ্রেণী। রাসূলুল্লাহ (সা:) ঘোষণা করেন, ‘অধীনস্থদেরকে তাদের শ্রমার্জিত সম্পদ হতেও অংশ দিও। কারণ আল্লাহর মজুরকে বঞ্চিত করা যায় না’।

স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখা: সমাজের সদস্য হিসাবে অন্যসব মানুষের ন্যায় অধীনস্থেরও মৌলিক অধিকার রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ক্ষেত্রে। এ অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করা মালিকদের একান্ত কর্তব্য। অধীনস্থের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটবে এমন ধরনের কাজ তাদের নিকট হ’তে গ্রহণ করা অনুচিত। এ সম্পর্কে প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ইবনে হাযম (রহঃ) বলেন, ‘মালিকের জন্য উচিৎ অধীনস্থের নিকট থেকে ততটুকু কাজ নেওয়া, যতটুকু সে সামর্থ্য অনুযায়ী অনায়াসে সুষ্ঠুভাবে করতে পারে। এমন কোন কাজ করতে তাকে বাধ্য করা যাবে না, যার ফলে তার স্বাস্থ্যহানি ঘটে অথবা তার ক্ষতি হয়।

প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা: অধীনস্থদেরকে সুদক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা মালিক পক্ষের কর্তব্য। অনুরূপভাবে সমাজের অন্যান্য লোকের সন্তানের ন্যায় তাদের সন্তানরাও যেন উপযুক্ত শিক্ষা লাভ করে জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে সে সুযোগ করে দেওয়াও কর্তব্য।

স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়া: অধীনস্থরা যেন নিদ্রা ও বিশ্রামসহ সুস্থ থেকে মনযোগের সঙ্গে কাজ করতে পারে, সে ব্যবস্থা করার দায়িত্ব মালিকের উপর বর্তায়। মালিকের পক্ষ থেকে এটি এক ধরনের অনুগ্রহ মনে হ’লেও প্রকৃতপক্ষে এটি তাদের প্রাপ্য অধিকার। ওমর (রাঃ) সরকারী কর্মচারীদেরকে নির্দেশ দিতে গিয়ে বলতেন, ‘সবচেয়ে ভাল এবং সৎ সে-ই যার অধীনস্থ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার সাথে থাকে। আর সবচেয়ে খারাপ সেই, যার অধীনস্থরা অভাব ও অশান্তিতে দিন যাপন করে।

ক্ষতিপূরণের নামে শোষণ না করা : শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করা: যে কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে মুনাফা হবার সাথে সাথে লোকসানের সম্ভাবনা থাকে। অনেক সময় যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল বা মালিকের সম্পদের ক্ষতি সাধিত হতে পারে। এতে অর্থপিপাসু ও আত্মসর্বস্ব মালিকগণ জঘন্য লালসার বশবর্তী হয়ে অধীনস্থগণের কাজ খারাপের অভিযোগ এনে ক্ষতিপূরণের নামে শোষণ করতে তৎপর হয়ে উঠে। এটা যথারীতি অধীনস্থের অধিকার হরণ। তাদের শ্রমের যতকিঞ্চিত অবমূল্যায়ন করা যেন না হয় সেদিকে মালিকগণের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ইমাম ইবনে হাযম (রহঃ) বলেন, ‘যাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অধীনস্থ হিসাবে রাখা হয়েছে, তার হাতে যদি ক্ষতি বা কোন কিছু নষ্ট হয়ে যায়, তবে ক্ষতি পূরণের দায়িত্ব অধীনস্থের উপর বর্তায় না। হ্যাঁ, সে যদি ক্ষতি করার ইচ্ছা নিয়ে তা করে তবে অন্য কথা। আর এই ব্যাপারে কোন সাক্ষী না থাকলে মজুরের কথাই গ্রহণযোগ্য হবে কসম সহ’।

পারিশ্রমিক না কমানো: অধীনস্থকে নির্দিষ্ট মজুরীর বিনিময়ে নিয়োগ করার পর, উৎপাদন ঘাটতি হলেও তাদের মতামত ব্যতীত সামান্যতম পারিশ্রমিক কম করা যাবে না। ঘাটতির লোকসান মালিককেই বহন করতে হবে। অধীনস্থের পারিশ্রমিক নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইসলামী অর্থনীতি একটি সুন্দর ও সমাজের কল্যাণকর বিধান নির্ধারণ করেছে। মালিকরা তাদের অধীনস্থের পারিশ্রমিকের হার যতদূর সম্ভব বৃদ্ধি করবে। যাতে করে অধীনস্থরা তাদের জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে কোন সমস্যায় না পড়ে।আর শ্রমের অনুপাতে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। কেউ অতিরিক্ত বা অতি উত্তম কাজ করলে তার জন্য অতিরিক্ত মজুরি বা পুরস্কার দিতে হবে।

বিপর্যয় সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকা: অধীনস্থগণের চাকুরীর নিরাপত্তা বিধান করা তাদের অন্যতম অধিকার হিসাবে গণ্য। মালিকগণ ইচ্ছামত অধীনস্থকে চাকুরীচ্যুত করবে কিংবা কথায় কথায় চাকুরী ছাড়ার নোটিশ দিবে এটা মানবতা বিরোধী। তাই অধীনস্থগণ যাতে নিশ্চিন্ত মনে চাকুরী করতে পারে এ ব্যাপারে নিয়োগকারী সংস্থা অভয়বাণী প্রদান করবে। অপরপক্ষে অধীনস্থগণ অসুবিধার কারণে চাকুরী ছাড়তে চাইলে সে সুযোগ তাদের দিতে হবে। এমনিভাবে নিয়োগকারী সংস্থার মারাত্মক অসুবিধা দেখা দিলে সে অধীনস্থের সাথে কৃতচুক্তি বাতিল করতে পারে। এই সকল পরিস্থিতিতে সবকিছু ন্যায়নীতির ভিত্তিতে হচ্ছে কি-না সে দিকে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় সতর্ক দৃষ্টি রাখবে মালিকগণ, যাতে কোন রকমের বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়।

দাবী-দাওয়া পেশের সুযোগ দেয়া: অধীনস্থদের অর্থ-উপার্জনের একমাত্র পথ শ্রমের বিনিময় গ্রহণ। মালিকগণ অধীনস্থদের যে অর্থ প্রদান করে থাকে, এতে যদি তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ না হয়, তবে সে স্বীয় প্রয়োজন পূরণার্থে মালিকের নিকট দাবী-দাওয়া পেশ করার অধিকার রাখে। তাদের যথোপযুক্ত দাবী পূরণের কথা উল্লেখ করে মহানবী (ছাঃ) বলেন, ‘অধীনস্থদেরকে যথারীতি খাদ্য ও পোষাক দিতে হবে’।

বৃদ্ধ বা অসুস্থকালীন ভাতা প্রদান: বৃদ্ধ বা অসুস্থকালীন ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা লাভ অধীনস্থগণের সবচেয়ে বড় প্রাণের দাবী। শ্রমই অধীনস্থগণের একমাত্র পুঁজি। অধীনস্থ বৃদ্ধ বা অসুস্থ হয়ে পড়লে তার জীবিকা নির্বাহের কোন পথই থাকে না, যা দিয়ে সে অন্ন সংস্থানের ব্যবস্থা করবে। সে তখন একেবারে অসহায় দিশেহারা হয়ে পড়ে। খাদ্যের জন্য সে তার যৌবনের উষ্ণ রক্ত ও শক্তি-সামর্থ্য ব্যয় করে আজ সে নিঃস্ব ও রিক্ত অথচ মালিকগণ ভুলেও তার করুণ দৈন্যদশার দিকে ফিরে তাকায় না। তাই বৃদ্ধ, পঙ্গু, অসুস্থ, অসহায় ও দুর্বল লোকদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব মালিকের ওপরও বর্তায়।

অধীনস্থের ভূল ত্রুটি ক্ষমা করা:’ নবী (সা) এক হাদীসে বলেছেন, ‘মজুর চাকরদের অপরাধ অসংখ্যবার ক্ষমা করা মহত্ত্বের লক্ষণ।’ মালিক পক্ষকে অধীনস্থের মনোভাব, মনের অবস্থা, মনের গতি, তাদের ইচ্ছা-বাসনা ইত্যাদি অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। তাহলেই মালিক অধীনস্থের মাঝে সম্পর্ক ভাল ও সুমধুর হবে। তাদের উভয়ের মাঝে সম্পর্ক যথেষ্ট উন্নত হবে। প্রতিষ্ঠানে কাজ কর্মের জন্য পারস্পরিক ভাল ও সুমধুর পরিবেশ সৃষ্টি হবে। মালিককে হতে হবে দয়াবান ও ক্ষমাশীল। অধীনস্থরা ভূল-ভ্রান্তি করতেই পারে। একজন মালিক হিসাবে তা অত্যন্ত ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে তাকে মার্জনা করবে। মালিক হবে অত্যন্ত সহিঞ্চুশীল। অধীনস্থের প্রতি সহিঞ্চুতাই মালিকের পরম আদর্শ। তিনি হবেন সহনশীল। অধীনস্থদের কাজ-কর্ম, ভূল-ভ্রান্তিতে তিনি হবেন অশেষ সহন ক্ষমতাশালী। ক্ষমাই হবে মালিকের প্রকৃত ও পরম ধর্ম। অধীনস্থের অন্যায় ও অপরাধ তিনি নিজ হাতে ক্ষমা করে দেবেন। সাহাবীগণ নবীজি (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন কোন খাদেম অপরাধ করলে তার প্রতি কি আচরণ করব; উত্তরে নবীজি (স.) জানালেন, একজন খাদেম দিনে সত্তর বার অপরাধ করলেও তাকে ক্ষমা করে দিও। এ হচেছ অধীনস্থের প্রতি মনিবের মমতাবোধ।

অধীনস্থকে তার সাধ্যানুযায়ী দায়িত্ব অর্পণ: ওভারটাইম পদ্ধতির বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো কর্মীকে অতিরিক্ত কাজের ওয়ার্কলোড দেয়া অমানবিক। মালিক অধীনস্থদের ভরণপোষণের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করার অজুহাতে কর্মচারীদের উপর স্বকীয় শক্তিবলে অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপিয়ে দিতে পারবে না। আর যদি চাপিয়ে দেয়, তাহলে তাকে সাহায্য করতে হবে। অতিরিক্ত মজুরিও দিতে হবে। মহানবী (সা) বলেছেন, ‘মজুরদের সাধ্যের অতীত কোন কাজ করতে তাদের বাধ্য করবে না। অগত্যা যদি তা করাতে হয় তবে নিজে সাহায্য কর।’অধীনস্থের ওপর ততটুকু কাজ বা দায়িত্ব অর্পন করা উচিত যতটুকু সে সম্পন্ন বা বহন করতে পারবে। অধীনস্থ দায়িত্ব বা বোঝা বহন করতে পারবে না এমন কোন দায়িত্ব বা বোঝা তার ওপর অর্পন বা বোঝা চাপিয়ে দেয়া ঠিক হবে না। অধীনস্থ কাজ করার সময় তার ধারে-কাছে থাকাই ভাল। প্রয়োজনে তার কাজে সাহায্য বা সহযোগীতা করা উচিত।কাজ করতে করতে ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে গেলে তাকে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম করতে দেয়া উচিত। নামাজ বা এবাদতের সময় হলে তাকে তা আদায় করার সুযোগ দেয়া উচিত। রোজার সময়ে রোজাদার অধীনস্থকে হালকা কাজ দেওয়া উচিত; যেন সে রোজা রাখতে পারে।

কাজ শেষেই পারিশ্রমিক প্রদান: মহানবী (সা) বলেছেন, ‘মজুরকে তার গায়ের ঘাম শুকাবার আগেই মজুরি পরিশোধ করে দাও।’ অধীনস্থের মজুরী কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিশোধ করে দেওয়া উচিত। তার শরীরের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তাকে তার পারিশ্রমিক প্রদান করা উচিত। কাজের শেষে বা দিবসের শেষে তাকে মুজুরী প্রদানের মাধ্যমে হাসিমুখে, উত্ফুল্ল চিত্তে অধীনস্থকে বিদায় দেয়া উচিত।যথাসম্ভব ত্বরিৎ মজুরি পরিশোধ করাতে অনেক কল্যাণ নিহিত। মজুরি শোধ করতে অকারণে কিছুমাত্র বিলম্ব করা সঙ্গত নয়। এই ব্যাপারে কোনরূপ ধোঁকা বা প্রতারণার আশ্রয় নেয়া পরিষ্কার জুলুম। অন্য হাদীসে আছে:“ধনীর সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পরের হক আদায় করতে বিলম্ব করা জুলুম ”।

কাজ শুরুর পূর্বে পারিশ্রমিক নির্ধারণ: অধীনস্থের পারিশ্রমিক বা মজুরী তার কাজ শুরু করার পূর্বে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করে নেওয়া উচিত।রাসূলে কারীম বলেন:“যে ব্যক্তি কোন অধীনস্থকে কাজে নিয়োগ করতে চায়, সে যেন পূর্বেই তার পারিতোষিক নির্ধারণ করে নেয় ”। অর্থাৎ অধীনস্থের বেতন যতক্ষণ পর্যন্ত স্থিরীকৃত না হবে এবং সন্তুষ্ট মনে সে তা গ্রহণ না করবে, ততক্ষণ বলপূর্বক তাকে কাজে নিয়োগ করা যাবে না। হযরত শোয়াইব (আ.) হযরত মুসা (আ.) কে চাকুরীর শর্তাবলী শোনানোর পরে একজন মালিক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে এই নিশ্চয়তা প্রদান করেছিলেন: “আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। আল্লাহর মর্জি তুমি আমাকে সদাচারী পাবে” (কাসাসঃ ২৭)। অর্থাৎ যেসব শর্ত স্থিরিকৃত হয়েছে তা আমি যথাযথভাবে অনুসরণ করব। তার চাইতে অধিক শ্রম তোমার কাছে চাইব না এবং যে পারিতোষিক নির্ধারণ করা হয়েছে তার পুরোটাই পরিশোধ করব। এ ব্যাপারে তুমি আমাকে খাঁটি ও সদাচারী পাবে।

কাজের যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা : অধীনস্থকে শুধুমাত্র অধীনস্থ মনে না করে তাকে একজন মানুষ হিসাবেও গন্য করা উচিত। আল্লাহর সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব হিসাবে বিবেচনা করা উচিত। অধীনস্থ তার নিজ শ্রম বিনিয়োগ করে কাজ করছে। সেই কাজের প্রতি যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা উচিত। হালাল কোন কাজকেই খাট বা অবজ্ঞতার দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়। দেখা যাবে; মালিকের চেয়ে অধীনস্থই তার কাজের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট অধিক নৈকট্য ও সন্তুষ্ট্যি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। হাদিসে আছে, হযরত নো'মান ইবনে বশীর (রা.) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, নবীজি (স.) বলেছেন, একে অন্যের প্রতি দয়া প্রদর্শনে, প্রেম ভালোবাসায়, মায়া-মমতায় এবং একের সাহায্যে অন্যের ছুটে আসায় সব ঈমানদারকে তুমি একটি দেহের অনুরূপ মনে করবে। দেহের কোন অঙ্গে ব্যথা লাগলে সমস্ত দেহই অনিদ্রা ও জ্বরে তার শরীক হয়ে যায়।সব মানুষের মেধা ও দক্ষতা সমান নয়। এ কারণে সবার উৎপাদন ক্ষমতাও সমান নয়। আবার বিভিন্ন পরিমাণ উৎপাদনের জন্য সমান পারিশ্রমিক প্রদান যুক্তিসঙ্গত নয়। সমান কাজের জন্য সমান পারিশ্রমিক প্রদানের নীতিমালা গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিগ্রাহ্য। প্রত্যেকের কর্মানুযায়ী তার মর্যাদা নির্ধারিত হয়। কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছেঃ“প্রত্যেকের মর্যাদা তার কর্মানুযায়ী, এটা এ জন্য যে, আল্লাহ প্রত্যেকের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেবেন এবং তাদের প্রতি অবিচার করা হবে না”- (আহ্ক্বাফঃ১৯)।

অধীনস্থদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা: কর্মক্ষেত্রে অধীনস্থদের অধিকার সম্পর্কে অধিক অজ্ঞতা তাদের প্রতি মালিকদের বৈষম্যের মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে দেয়, যা কাম্য নয়। এসবের সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে কর্মসংস্থানের স্বল্পতা, সস্তা শ্রম ও স্বল্প মজুরি। দেশে অধিক বেকারের ফলে মালিকরাও ইচ্ছা করলেই যখন তখন অধীনস্থ ছাঁটাই ও পাইকারি হারে মাত্র তিন থেকে চার হাজার টাকায় অধীনস্থ নিয়োগ করতে পারছেন। অনুরূপভাবে দক্ষ অধীনস্থদের স্বল্পতা ও ঘাটতির কারণেও অধীনস্থরা যখন তখন অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রবণতাও অধিক পরিলক্ষিত হচ্ছে। মালিক সচেতন থাকলে মজুর নিজেকে খাটো মনে করবে না। মালিকও নিজেকে কোন দিক দিয়েই শ্রেষ্ঠ মনে করবে না। মূলতঃ পণ্য ও উৎপাদনে মূলধন ও শ্রম দুটোই অপরিহার্য। তাই তারা একে অপরকে সহযোগী মনে করবে। সর্বোপরি একে অপরকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করবে। অধীনস্থ-মালিকের মধ্যে চিরদ্বন্দ্ব মিটিয়ে ইসলামের নবী ‘অধীনস্থ-মালিক সম্পর্ককে ভ্রাতৃত্বের বাঁধন পরিয়ে দিয়েছেন। অতএব, তাদের আচরণ হবে ভাইয়ের সাথে ভাইয়ের সাথে আচরণ।

বাসস্থান ও পোশাক দিয়ে আন্তরিকতা প্রদর্শন: মহানবী (সা) বলেছেন, ‘মজুর-অধীনস্থ ও ভৃত্যদের যথারীতি থাকা ও পোশাক দিতে হবে।অর্থাৎ মজুরির পরিমাণ এরূপ হবে যেন তা কোন দেশ ও যুগের স্বাভাবিক অবস্থা ও চাহিদা অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত হয় এবং উপার্জনকারী তার উপার্জন দ্বারা অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারে। এক কথায় মালিক তার লালন-পালনের পরিপূর্ণ যিম্মাদার। তিনি আরো বলেছেন, ‘যারা তোমাদের কাজ করছে তারা তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন।’-বুখারী। মহানবী (সা) অধীনস্থকে আপনজনের সাথে তুলনা করে বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের আপনজন ও আত্মীয়স্বজনদের সাথে যেমন ব্যবহার কর, তাদের সঙ্গে অনুরূপ ব্যবহার করবে।’ একই কথা মহানবী (সা) আরেক হাদীসে উল্লেখ করেছেন এভাবে, ‘তোমরা অধীনস্থদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে এবং তাদেরকে কোন রকমের কষ্ট দেবে না। তোমরা কি জান না, তাদেরও তোমাদের মতো একটি হৃদয় আছে। ব্যথা দানে তারা দুঃখিত হয় এবং কষ্টবোধ করে। আরাম ও শান্তি প্রদান করলে সন্তুষ্ট হয়। তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা তাদের প্রতি আন্তরিকতা প্রদর্শন কর না।’-বুখারী।

অধীনস্থদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার: রাসূল (সাঃ) এর একান্ত খাদেম হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, আমি দশ বছর রাসূল (সাঃ)-এর খেদমতে ছিলাম। তিনি কখনও উহ্ শব্দ উচ্চারণ করেননি এবং এও বলেননি যে তুমি এটা কেন করলে বা কেন করনি। রাসূল (সাঃ) তো অধীনস্থের সঙ্গে উত্তম আচরণের নজির দেখিয়ে গেছেনই, তার সাহাবায়ে কেরামও তাদের অধীনস্থদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহারের অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। একদা হযরত ওমর (রাঃ) আপস চুক্তি সম্পাদনের জন্য যখন বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে রওনা হলেন তখন তিনি এবং তার ভৃত্য পালাক্রমে উটের ওপর সওয়ার হয়ে মদিনা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত দীর্ঘপথ অতিক্রম করেছিলেন। এমনকি বায়তুল মুকাদ্দাসে পৌঁছার পর সেখানকার লোকেরা বুঝতে পারেনি এ দু’য়ের মধ্যে কে আমীরুল মুমিনীন!।আবু মাসুদ আনসারী বলেন, একদিন আমি আমার কৃতদাসকে মারধর করছিলাম। এমন সময় পেছনের দিক থেকে আওয়াজ এলো হে আবু মাসুদ! জেনে রাখ, আল্লাহ তোমার চেয়ে অধিক শক্তিশালী, আমি মুখ ফিরিয়ে তাকিয়ে দেখি স্বয়ং রাসূল (সাঃ) আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন। সঙ্গে সঙ্গে নিবেদন করলাম হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য আমি এ কৃতদাসকে আজাদ (মুক্ত) করে দিলাম। রাসূল (সাঃ) বললেন, তুমি এরকম না করলে দোজখের আগুন তোমাকে ঝলসে দিত।

অধীনস্থের সম্মান রক্ষা করা: শ্রমগ্রহীতার আরেকটি কর্তব্য হলো, অধীনস্থের সম্মান রক্ষা করা। অতএব তাকে কোনো অবমাননা বা লাঞ্ছনাকর কিংবা দাসসুলভ কাজে খাটানো যাবেনা। ইসলাম এবং ইসলামের মহান ব্যক্তিদের জীবনে এমন অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে যা এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও ব্যক্তিতে সমানাধিকারের মূলনীতিকে সমর্থন করে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধীনস্থ ও কাজের লোকের সঙ্গে আহার গ্রহণ করতেন। তার কাজের বোঝা লাঘবে সরাসরি সহযোগিতা করতেন। তেমনি অধীনস্থকে প্রহার বা তার ওপর সীমালঙ্ঘনেরও অনুমতি নেই। যদি তাকে প্রহার করে তবে তাকে এ জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

অধীনস্থকে লাভের অংশ দেয়া: রাসূলে কারীম (স.) অধীনস্থকে মজুরিদান করার পরেও তাকে লাভের অংশ দেয়ার জন্যও উপদেশ দিয়েছেন। “কর্মচারীকে তাদের লভ্যাংশ দাও। কেননা, আল্লাহর অধীনস্থদের বঞ্চিত করা যায় না”- (মুসনাদে আহমাদ)। অন্য একটি হাদীসে রাসূল (স.) বলেনঃ “তোমার ভৃত্য যদি তোমার জন্য রান্না করে এবং তা নিয়ে তোমার কাছে আসে, রান্না করার সময় আগুনের তাপ এবং ধোঁয়া তাকে কষ্ট দিয়েছে, তখন কষ্টকে কিছু লাঘবের জন্য তোমার সঙ্গে বসিয়ে তাকে খাওয়াবে”।যে কষ্ট স্বীকার করে রান্না করে তার যেমন রান্না করা খাদ্যদ্রব্য খাওয়ার অধিকার আছে, তেমনি যে অধীনস্থ টেক্সাইলে কাজ করে, তার শ্রম দিয়ে মালিকের যে মুনাফা হয়, বেতনের বাইরেও তার ওই মুনাফার একটি অংশ ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী তার প্রাপ্য।

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা: একজন মালিকের কী ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি থাকা উচিত, সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ সূরা : কাসাসে হজরত শোয়াইব ও হজরত মুসা (আ.) এর ঘটনা বর্ণনা করে ব্যাপক অর্থবহ ইঙ্গিত দিয়েছেন। হজরত মুসা (আ.) অনেক দিন পর্যন্ত শোয়াইব (আ.) এর অধীনস্থ হিসেবে কাজ করেছেন। তাকে নিয়োগ করার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আপনার ওপর অহেতুক কষ্টের বোঝা চাপিয়ে দিতে চাই না। আল্লাহর মর্জিতে আপনি আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।’ ওই আয়াত থেকে এ কথা সুস্পষ্ট প্রতিভাত হয় যে, একজন মুসলমান শিল্প মালিকের কাঙ্খিত লক্ষ্য টাকা-পয়সা নয়, বরং তাকে দরদি ও সৎকর্মশীল হতে হবে। তিনি অধীনস্তদেরকে শুধু খাটিয়ে মারবেন না। অথচ যদি কেউ নিজেকে ইসলামপন্থী দাবি করেন আবার ব্যক্তিজীবনে বিলাসী জিন্দেগী যাপন করেন, অপচয় ও অপব্যয় করেন, অঝথা বকা ঝকা করেন, গালিগালাজ করেন, অন্যের প্রাপ্য দিতে গড়িমসি করেন তাকে কি বলা যায়? সে নি:সন্দেহে মুনাফিক ও প্রতারক।

অধীনস্থের প্রতি সহনশীল হওয়া: ইসলাম মালিককে সহনশীল হতে শিক্ষা দেয়। দোষত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে মাফ করে দিতে উৎসাহিত করে। একদিন এক সাহাবি এসে নবী করিম (সা.) কে প্রশ্ন করেন, হুজুর চাকর-খাদিমদের অপরাধ কতবার ক্ষমা করব? নবী করিম (সা.) চুপ করে রইলেন। ওই সাহাবি আবার প্রশ্ন করলে নবী করিম (সা.) ব্যাকুল হয়ে বলে উঠলেন, প্রত্যেক দিন ৭০ বার হলেও ক্ষমা করো। হজরত আনাস (রা.) বলেন, আমি নবী করিম (সা.) এর সঙ্গে ১০ বছর অতিবাহিত করেছি, তার সেবা করেছি কিন্তু তিনি কোনোদিন আমাকে ভর্ৎসনা করেননি, কোনো দিন বলেননি, এটা এভাবে কেন করেছ? বা ওটা ওইভাবে কেন করনি? নবী করিম (সা.) আরও বলেন, তোমরা যা পরিধান করবে, যা খাবে তোমাদের চাকরদেরও তা পরিধান করাও এবং তা খাওয়াও। সাহাবায়ে কেরাম যেন এর বিপরীত ভাবতেই পারতেন না। অথচ কেউ যদি নিজেকে ইসলামের ধারক বাহক হিসাবে দাবি করেন, নিজেকে দাঈ ইলাল্লাহ হিসাবে পরিচয় দেন অথচ সর্বত্র বৈষম্য চর্চা করেন, ন্যায্য অধিকার থেকে অপরকে বঞ্চিত করেন, যৌক্তিকতা ও আইন লংঘন করেন-তাকে কি বলা যায়?

একসঙ্গে খেতে ঘৃণা বোধ না করা: হজরত ওমর (রা.) একবার বলেছিলেন, আল্লাহ ওই জাতিকে লানত করুন, যারা নিজেদের চাকরদের নিয়ে একসঙ্গে খেতে ঘৃণা বোধ করে। এ কথা শুনে হজরত সাফওয়ান (রা.) বলে উঠলেন আল্লাহর কসম, আমরা এ ঘৃণাবোধ করি না। অধিকন্তু নিজেদের ওপরও আমরা তাদের প্রাধান্য দিয়ে থাকি। ইসলাম অধীনস্থকে বলে নিজের মালিকের হক আদায়ে সচেষ্ট থাকতে। সে যেন তাতে কোনো প্রকার ফাঁকি না দেয়। অপরদিকে মালিককে সহনশীল, হৃদয়বান এবং সহানুভূতিসম্পন্ন হতে শিক্ষা দেয়। মালিক নিজের মনের মধ্যে অধীনস্থকে কোনো প্রকার শোষণের অভিপ্রায়ও রাখতে পারবে না। স্বাস্থ্যহানিকর ও তার সাধ্যাতীত কোনো কাজে তাকে নির্দয়ভাবে নিযুক্ত করতে পারবে না বরং সে অধীনস্থের কষ্টকে নিজের কষ্ট বলে মনে করবে। সমব্যথী হয়ে তার কল্যাণ সাধনে সচেষ্ট থাকবে, নিজের আনন্দের ভাগী হবে, তাকে আত্মীয়তার স্নিগ্ধ পরিবেশে রাখবে, যাতে সে কোনো রকমের হৃদ্যতার অভাব অনুভব না করে। সর্বোপরি একজন অধীনস্থকে সে নিজের সহোদরের মর্যাদায় রাখবে, যার চেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আর কিছুই হতে পারে না।




অধীনস্থদের দায়িত্ব ও কর্তব্য
একজন অধীনস্থের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হ’ল- চুক্তি মোতাবেক মালিকের প্রদত্ত কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার সাথে সম্পাদন করা। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,‘আল্লাহ ঐ অধীনস্থকে ভালবাসেন যে সুন্দরভাবে কার্য সমাধা করে’। অধীনস্থের ব্যাপারে ইসলামের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা হ’ল, ‘কোন ক্ষতি করা চলবে না, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না’।অধীনস্থ নিজের উপর মালিকের কাজের দায়িত্ব নিয়ে এমন এক নৈতিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয় যে, এ কাজ সে অর্থ উপার্জনের জন্য করে না; বরং এর সাথে পরকালের সফলতা জড়িত বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে। চুক্তি পূর্ণ করার ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করো। নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। অধীনস্থের দায়িত্ব চুক্তি মোতাবেক মালিকের প্রদত্ত কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার সাথে সম্পাদন করা। ইরশাদ হচ্ছে, ‘অধীনস্থ হিসাবে সেই ব্যক্তি ভাল, যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত’ । অধীনস্থ দায়িত্ব গ্রহণের পর কাজে অলসতা প্রদর্শন করলে তার মারাত্মক পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তাদের জন্য দুর্ভোগ, যারা ওযনে কম দেয়। ওযন নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে এবং দেওয়ার সময় কম করে দেয়। অধীনস্থ তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে আঞ্জাম দিবে এটা তার কর্তব্য। আর এ কর্তব্য সুচারুভাবে পালন করকোন কোন অধীনস্থ মালিকের কাজে ফাঁকি দিয়ে নিয়মিত হাযিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতন উত্তোলন করে থাকে, যা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এজন্য তাকে ক্বিয়ামতের মাঠে অবশ্যই বিচারের সম্মুখীন হ’তে হবে। আর যদি অধীনস্থ তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করে, তাহ’লে তার জন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দ্বিগুণ পুরস্কারের কথা ঘোষণা করে বলেন,‘তিন শ্রেণীর লোকের দ্বিগুণ ছওয়াব প্রদান করা হবে। তাদের মধ্যে এক শ্রেণী হ’ল - ‘ঐ অধীনস্থ যে নিজের মালিকের হক্ব আদায় করে এবং আল্লাহর হক্বও আদায় করে’। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরো বলেন, ‘সৎ অধীনস্থের জন্য দু’টি প্রতিদান রয়েছে’। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, ‘যেই সত্তার হাতে আবূ হুরায়রার প্রাণ তার কসম! যদি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ, হজ্জ ও আমার মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহারের ব্যাপারগুলো না থাকত, তাহ’লে আমি অধীনস্থ হিসাবে মৃত্যুবরণ করতে পছন্দ করতাম’।


ধর্মের দৃষ্টিতে মালিক ও অধীনস্থদের আচরণ
ইসলামই সেই ধর্ম প্রথম যে মানবাধিকারের বিধান প্রবর্তন করেছে। যেমন ইসলামের সংবিধান পবিত্র কুরআনে সূরা বানী ইসরাঈলের ৭০ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে,‘আর আমি তো আদম সন্তানদের সম্মানিত করেছি এবং আমি তাদেরকে স্থলে ও সমুদ্রে বাহন দিয়েছি এবং তাদেরকে দিয়েছি উত্তম রিজিক। আর আমি যা সৃষ্টি করেছি তাদের থেকে অনেকের উপর আমি তাদেরকে অনেক মর্যাদা দিয়েছি।’ এ সুন্দর পৃথিবীর রূপ-লাবণ্যতায় অধীনস্থদের কৃতিত্বই অগ্রগণ্য। কিন্তু সভ্যতার কারিগর এ শ্রেণীটি সর্বদাই উপেক্ষিত, অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত। উদয়াস্ত খেটে যে অধীনস্থ তার মালিকের অর্থযন্ত্রটি সচল রাখে, সেই মালিকেরই অবিচারে অধীনস্থদের অচল জীবনটি আরো দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এটাকে সেই মৌমাছির সাথে তুলনা করা যায়, যারা দীর্ঘ পরিশ্রমের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে চাকে সঞ্চয় করে, কিন্তু তার ভাগ্যে একফোঁটা মধুও জোটে না।

মালিক কিংবা শ্রমিক সবারই উপার্জনটা হালাল হতে হবে। হালাল জীবিকা উপার্জনের প্রধান উপায় হচ্ছে শ্রম। পার্থিব জীবন যাতে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত না হয় সেজন্য ইসলাম পরিশ্রম করাকে উৎসাহিত করেছে, একই সাথে এটিকে ইবাদাত হিসেবেও গণ্য করা হয়েছে। আল কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর মানুষের প্রাপ্য শুধু তা, যার জন্য সে চেষ্টা ও শ্রম করেছে। চেষ্টা ও শ্রম অবশ্যই গুরুত্ব পাবে এবং চেষ্টা ও শ্রমকারীকে তার পূর্ণমাত্রার প্রতিফলন অবশ্যই দেয়া হবে। শ্রমের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোর তাগিদ দিয়ে আল কুরআনে আরো বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা ফরজের পরে ফরজ। (বায়হাকী)

শুধু ইবাদত-বন্দেগী নিয়ে মশগূল না থেকে ছালাত শেষে জীবিকার্জনের জন্য পৃথিবীতে বের হয়ে পড়ার কথা আল্লাহ বলেছেন। তবে ন্যায় নীতির পথে চলতে হবে। নীতিহীন ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা অবশ্যই বন্ধ করা প্রয়োজন। এজন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণসহ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া একান্ত জরুরি। শ্রম আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন হলে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতসসহ সকল ধরনের শোষণ-বঞ্চনা, নিপীড়ন-নির্যাতন, চাকুরিচ্যুতি প্রবণতা বন্ধ হতে বাধ্য।সাপ্তাহিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ছুটির দিনে অফিসিয়াল কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার নিয়ম থাকলেও তা অনেক প্রতিষ্ঠান মানেনা। ওই সব দিন কার্যে বাধ্য করা হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও নির্বাহী পরিষদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে অধিক মাত্রায় ড্রপআউট কিংবা চাকুরিচ্যুতির মাত্রা বাড়াটা খুব ভাল লক্ষণ নয়।

নবী করিম (সা.)অধীনস্থ-মালিকের সম্পর্কের ব্যাপারে বলেছেন, যারা তোমাদের কাজ করবে তারা তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ এদের তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ, এদের সঙ্গে তোমাদের সম্পর্ক প্রভু-ভৃত্যের নয় বরং এরা আর তোমরা ভাই ভাই। একজন ভাই তার সহোদর থেকে যা কিছু আশা করতে পারে, পেতে পারে তারাও তোমাদের কাছে তাই আশা করতে পারে। তাই তাদের জন্য কষ্টকর হয় এমন কাজের বোঝা তাদের ওপর চাপিয়ে দিও না। অগত্যা তা যদি করাতেই হয় তবে নিজে তাদের সর্বতোভাবে সাহায্য কর। অথচ ছুটির দিনেও বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানো, কোন বিনিময় ছাড়া অতিরিক্ত সময় খাটানো এমনকি জরুরী প্রয়োজনেও ছুটি না দেয়ার মত জঘন্য মানসিকতার নীচু প্রকৃতির লোকজন যখন নিজেদেরকে ইসলাম প্রেমিক বলে প্রচার করে তা রীতিমত হাস্যকর হয়ে ওঠে।

ইসলামে মালিক-অধীনস্থ সম্পর্ক হবে পিতা-সন্তানের ন্যায়। নিজের পরম আত্মীয়ের মতোই অধীনস্থের সাথে আন্তরিকতাপূর্ণ আচরণ করা, পরিবারের সদস্যদের মতই তাদের আপ্যায়ন করা, অধীনস্থের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার প্রতিটি মুহূর্তের প্রতি মালিকের খেয়াল রাখা এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা বিবেচনা করা মালিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। ওমর (রাঃ) প্রয়োজন ও দেশের অবস্থার প্রতি দৃষ্টি রেখে বেতন নির্ধারণ করে দিতেন। অনেক সময় অধীনস্থদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মালিকগণ উপযুক্ত মজুরী প্রদান না করে ইচ্ছামত মজুরী দেন এবং অধীনস্থদের প্রবঞ্চিত করেন ও ঠকান। অধীনস্থগণ নীরবে তা সহ্য করে থাকে। এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে। তার মধ্যে একজন হল যে অধীনস্থের নিকট থেকে পূর্ণ শ্রম গ্রহণ করে, অথচ তার পূর্ণ মজুরী প্রদান করে না।অধীনস্থকে তার প্রাপ্য পূর্ণভাবে যথাসময়ে প্রদান করাও মালিকের একটি প্রধান দায়িত্ব।


আইনের আলোকে মালিক ও অধীনস্থদের সম্পর্ক

বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫তে আছে, কর্মের অধিকার অর্তাত্ কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিবেচনা করে যুক্তিসংগত মজুরির বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার; যুক্তিসংগত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার। অনুচ্ছেদ ২০-এ আছে, কর্ম হইতেছে কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের পক্ষে অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয়, এবং প্রত্যেকের নিকট হইতে যোগ্যতানুসারে ও প্রত্যেককে কর্মানুযায়ী- এই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেকে স্বীয় কর্মের জন্য পারিশ্রমিক লাভ করিবেন। অনুচ্ছেদ ৩৪-এ আছে, সকল প্রকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ; এবং এই বিধাণ কোনভাবে লংঘিত হইলে তাহা আইনত: দন্ডনীয় অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর দ্বিতীয় অধ্যায়ে আছে,
(৭) কোন অধীনস্থকে স্থায়ী অধীনস্থ বলা হইবে যদি কোন প্রতিষ্ঠানে তাহাকে স্থায়ীভাবে নিযুক্ত করা হয়, অথবা প্রতিষ্ঠানে তিনি তাহার শিক্ষানবিশীকাল সনত্দোষজনকভাবে সমাপ্ত করিয়া থাকেন।
৫। কোন মালিক নিয়োগপত্র প্রদান না করিয়া কোন অধীনস্থকে নিয়োগ করিতে পারিবেন না, এবং নিয়োজিত প্রত্যেক অধীনস্থকে ছবিসহ পরিচয়পত্র প্রদান করিতে হইবে।
১১। যদি কোন অধীনস্থের চাকুরী ছাটাই, ডিসচার্জ, অপসারণ, বরখাসত্দ, অবসর, পদত্যাগ বা অন্য কোন কারণে অবসান হয় এবং যদি তাহার কোন বাৎসরিক ছুটি পাওনা থাকে, তাহা হইলে মালিক ঐ পাওনা ছুটির পরিবর্তে এই আইনের বিধান অনুযায়ী ছুটিকালীন সময়ে উক্ত অধীনস্থের যে মজুরী প্রাপ্য হইত তাহা প্রদান করিবেন।
১৯। যদি কোন অধীনস্থ কোন মালিকের অধীন অবিচ্ছিন্নভাবে অন্ততঃ ০২(দুই) বৎসরের অধিককাল চাকুরীরত থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, তাহা হইলে মালিক মৃত অধীনস্থের কোন মনোনীত ব্যক্তি বা মনোনীত ব্যক্তির অবর্তমানে তাহার কোন পোষ্যকে তাহার প্রত্যেক পূর্ণ বৎসর বা উহার ০৬ (ছয়) মাসের অধিক সময় চাকুরীর জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৩০(ত্রিশ) দিনের এবং প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় অথবা কর্মকালীন দুর্ঘটনার কারণে পরবর্তীতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মজুরী অথবা গ্রাচুইটি, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিবেন, এবং এই অর্থ মৃত অধীনস্থ চাকুরী হইতে অবসর গ্রহণ করিলে যে অবসর জনিত সুবিধা প্রাপ্ত হইতেন, তাহার অতিরিক্ত হিসাবে প্রদেয় হইবে।
২০। (১) কোন অধীনস্থকে প্রয়োজন অতিরিক্ততার কারণে কোন প্রতিষ্ঠান হইতে ছাঁটাই করা যাইবে। (২) কোন অধীনস্থ যদি কোন মালিকের অধীনে অবিচ্ছিন্নভাবে অনূ্যন এক বৎসর চাকুরীতে নিয়োজিত থাকেন, তাহা হইলে তাহার ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে মালিককে- (ক) তাহার ছাঁটাইয়ের কারণ উল্লেখ করিয়া এক মাসের লিখিত নোটিশ দিতে হইবে, অথবা নোটিশ মেয়াদের জন্য নোটিশের পরিবর্তে মজুরী প্রদান করিতে হইবে; (খ) নোটিশের একটি কপি প্রধান পরিদর্শক অথবা তৎকর্তৃক নির্ধারিত কোন কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিতে হইবে, এবং আরেকটি কপি প্রতিষ্ঠানের যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধিকে, যদি থাকে, দিতে হইবে; এবং (গ) তাহাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ তাহার প্রত্যেক বৎসর চাকুরীর জন্য ত্রিশ দিনের মজুরী বা গ্রাচু্যইটি যদি প্রদেয় হয়, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিতে হইবে। (৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ১৬(৭) এর অধীন ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) (ক) এর উলি্লখিত কোন নোটিশের প্রয়োজন হইবে না, তবে ছাঁটাইকৃত অধীনস্থকে উপ-ধারা (২) (গ) মোতাবেক প্রদেয় ক্ষতিপূরণ বা গ্রাচু্যইটির অতিরিক্ত হিসাবে আরোও পনের দিনের মজুরী দিতে হইবে। (৪) যে ক্ষেত্রে কোন বিশেষ শ্রেণীর অধীনস্থকে ছাঁটাই করার প্রয়োজন হয় সে ক্ষেত্রে, মালিক এবং অধীনস্থের মধ্যে এতদসংক্রান্ত কোন চুক্তির অবর্তমানে, মালিক উক্ত শ্রেণীর অধীনস্থগণের মধ্যে সর্বশেষে নিযুক্ত অধীনস্থকে ছাঁটাই করিবেন।
২৬৷ (১) এই অধ্যায়ের অন্যত্র বিধৃত কোন পন্থা ছাড়াও মালিক- (ক) মাসিক মজুরীর ভিত্তিতে নিয়োজিত অধীনস্থের তেগত্রে, একশত বিশ দিনের, (খ) অন্য অধীনস্থের তেগত্রে, ষাট দিনের, লিখিত নোটিশ প্রদান করিয়া কোন স্থায়ী অধীনস্থের চাকুরীর অবসান করিতে পারিবেন৷ (২) এই অধ্যায়ের অন্যত্র বিধৃত কোন পন্থা ছাড়াও মালিক- (ক) মাসিক মজুরীর ভিত্তিতে নিয়োজিত অধীনস্থের ক্ষেত্রে, ত্রিশ দিনের, (খ) অন্য অধীনস্থের ক্ষেত্রে, চৌদ্দ দিনের, লিখিত নোটিশ প্রদান করিয়া কোন অস্থায়ী অধীনস্থের চাকুরীর অবসান করিতে পারিবেন, যদি না এই অবসান যে অস্থায়ী কাজ সম্পাদনের জন্য অধীনস্থকে নিযুক্ত করা হইয়াছে উহা সম্পূর্ণ হওয়া, বন্ধ হওয়া, বিলুপ্ত হওয়া বা পরিত্যক্ত হওয়ার কারণে হয়৷ (৩) যে ক্ষেত্রে মালিক বিনা নোটিশে কোন অধীনস্থের চাকুরীর অবসান করিতে চাহেন সে ক্ষেত্রে, তিনি উপ-ধারা (১) অথবা (২) এর অধীন, প্রদেয় নোটিশের পরিবর্তে নোটিশ মেয়াদের জন্য মজুরী প্রদান করিয়া ইহা করিতে পারিবেন৷ (৪) যে ক্ষেত্রে এই ধারার অধীন কোন স্থায়ী অধীনস্থের চাকুরীর অবসান করা হয় সেক্ষেত্রে, মালিক অধীনস্থকে তাহার প্রত্যেক সম্পূর্ণ বত্সরের চাকুরীর জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে ত্রিশ দিনের মজুরী, অথবা গ্রাচ্যুইটি, যদি প্রদেয় হয়, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিবেন এবং এই ক্ষতিপূরণ এই আইনের অধীন অধীনস্থকে প্রদেয় অন্যান্য সুবিধার অতিরিক্ত হইবে৷
২৭৷ (১) কোন স্থায়ী অধীনস্থ মালিককে ষাট দিনের লিখিত নোটিশ প্রদান করিয়া তাহার চাকুরী হইতে ইস্তফা দিতে পারিবেন৷ (২) কোন অস্থায়ী অধীনস্থ- (ক) মাসিক মজুরীর ভিত্তিতে নিয়োজিত অধীনস্থের ক্ষেত্রে, ত্রিশ দিনের, (খ) অন্য অধীনস্থের ক্ষেত্রে, চৌদ্দ দিনের, লিখিত নোটিশ মালিকের নিকট প্রদান করিয়া তাহার চাকুরী হইতে ইস্তফা দিতে পারিবেন৷
(৩) যে ক্ষেত্রে অধীনস্থ বিনা নোটিশে চাকুরী হইতে ইস্তফা দিতে চাহেন সে ক্ষেত্রে, তিনি উপ-ধারা (১) অথবা (২) এর অধীন প্রদেয় নোটিশের পরিবর্তে নোটিশ মেয়াদের জন্য মজুরীর সমপরিমাণ অর্থ মালিককে প্রদান করিয়া ইহা করিতে পারিবেন৷
[ (৩ক) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন অধীনস্থ বিনা নোটিশে অথবা বিনা অনুমতিতে ১০ দিনের অধিক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকিলে মালিক উক্ত অধীনস্থকে ১০ দিনের সময় প্রদান করিয়া এই সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করিতে এবং চাকুরীতে পুনরায় যোগদানের জন্য নোটিশ প্রদান করিবেন এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত অধীনস্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান বা চাকুরীতে যোগদান না করিলে সংশ্লিষ্ট অধীনস্থকে তাহার আত্নপক্ষ সমর্থনের জন্য আরো ৭দিন সময় প্রদান করিবেন। তাহাতেও যদি সংশ্লিষ্ট অধীনস্থ চাকুরীতে যোগদান অথবা আত্নপক্ষ সমর্থন না করেন তবে, উক্ত অধীনস্থ অনুপস্থিতির দিন হইতে অব্যহতি গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।] (৪) যে ক্ষেত্রে এই ধারার অধীন কোন স্থায়ী অধীনস্থ চাকুরী হইতে ইস্তফা দেন সে ক্ষেত্রে, মালিক উক্ত অধীনস্থকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে তাহার প্রত্যেক সম্পূর্ণ বত্সরের চাকুরীর জন্য- (ক) যদি তিনি পাঁচ বত্সর বা তদূর্ধ্ব, কিন্তু দশ বত্সরের কম মেয়াদে অবিচ্ছিন্নভাবে মালিকের অধীন চাকুরী করিয়া থাকেন তাহা হইলে, চৌদ্দ দিনের মজুরী; (খ) যদি তিনি দশ বত্সর বা তদূর্ধ্ব সময় মালিকের অধীনে অবিচ্ছিন্নভাবে চাকুরী করিয়া থাকেন তাহা হইলে, ত্রিশ দিনের মজুরী; অথবা গ্রাচ্যুইটি, যদি প্রদেয় হয়, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিবেন, এবং ক্ষতিপূরণ এই আইনের অধীন অধীনস্থকে প্রদেয় অন্যান্য সুবিধার অতিরিক্ত হইবে৷
৩০৷ অবসর, ডিসচার্জ, ছাঁটাই, বরখাস্ত এবং চাকুরীর অবসান ইত্যাদি যে কোন কারণে অধীনস্থের চাকুরীর ছেদ ঘটার পরবর্তী সর্বোচ্চ ত্রিশ কর্ম দিবসের মধ্যে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত অধীনস্থের প্রাপ্য সকল পাওনা পরিশোধ করিতে হইবে৷
৩১৷ সাময়িক ও বদলী অধীনস্থ ব্যতীত, অন্য কোন অধীনস্থ তাহার ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত, অপসারণ, অবসর গ্রহণ বা চাকুরীর অবসানের সময় মালিকের নিকট হইতে চাকুরী সংক্রান্ত একটি প্রত্যয়নপত্র পাইবার অধিকারী হইবেন৷
৩৩৷ (১) লে-অফ, ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত, অপসারণ অথবা অন্য যে কোন কারণে চাকুরীর অবসান হইয়াছে এরূপ অধীনস্থসহ যে কোন অধীনস্থের, এই অধ্যায়ের অধীন কোন বিষয় সম্পর্কে যদি কোন অভিযোগ থাকে এবং যদি তিনি তত্সম্পর্কে এই ধারার অধীন প্রতিকার পাইতে ইচ্ছুক হন তাহা হইলে তিনি, অভিযোগের কারণ অবহিত হওয়ার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে অভিযোগটি লিখিত আকারে রেজিিস্ট্র ডাকযোগে মালিকের নিকট ৪৫[ প্রেরণ] করিবেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, যদি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি সরাসরি গ্রহণ করিয়া লিখিতভাবে প্রাপ্তি স্বীকার করেন, সেই ক্ষেত্রে উক্ত অভিযোগটি রেজিিস্ট্র ডাকযোগে না পাঠাইলেও চলিবে৷ (২) মালিক অভিযোগ প্রাপ্তির ৪৬[ ত্রিশ] দিনের মধ্যে অভিযোগ সম্পর্কে তদন্ত করিবেন এবং সংশ্লিষ্ট অধীনস্থকে শুনানীর সুযোগ দিয়া তত্সম্পর্কে তাহার সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে অধীনস্থকে জানাইবেন৷ (৩) যদি মালিক উপ-ধারা (২) এর অধীন কোন সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হন, অথবা সংশি¬ষ্ট অধীনস্থ যদি উক্তরূপ সিদ্ধান্তে অসন্তষ্ট হন, তাহা হইলে তিনি উপ-ধারা (২) এ উলি¬খিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে অথবা, ক্ষেত্রমত, মালিকের সিদ্ধান্তের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে লিখিতভাবে অভিযোগ পেশ করিতে পারিবেন৷ (৪) শ্রম আদালত অভিযোগ প্রাপ্তির পর উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করিয়া অভিযোগটি সম্পর্কে তাহাদের বক্তব্য শ্রবণ করিবে এবং উহার বিবেচনায় মামলার অবস্থাধীনে যেরূপ আদেশ দেওয়া ন্যায়সঙ্গত সেরূপ আদেশ প্রদান করিবে৷ (৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ দ্বারা আদালত, অন্যান্য প্রতিকারের মধ্যে, অভিযোগকারীকে, বকেয়া মজুরীসহ বা ছাড়া, তাহার চাকুরীতে পুনর্বহাল করার নির্দেশ দিতে পারিবে এবং কোন বরখাস্ত, অপসারণ বা ডিসচার্জের আদেশকে ধারা ২৩(২) এ উল্লিখিত কোন লঘুদণ্ডে পরিবর্তিত করিতে পারিবে৷ (৬) শ্রম আদালতের কোন আদেশ দ্বারা সংতগুব্ধ কোন ব্যক্তি আদেশের ত্রিশ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের নিকট আপীল দায়ের করিতে পারিবেন, এবং এই আপীলের উপর উহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে৷ (৭) এই ধারার অধীন কোন অভিযোগ বা আপীল দায়েরের জন্য কোন কোর্ট-ফিস প্রদেয় হইবে না৷ (৮) এই ধারার অধীন কোন অভিযোগ এই আইনের অধীন কোন ফৌজদারী অভিযোগ বলিয়া গণ্য হইবে না৷ (৯) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ২৬ এর অধীন প্রদত্ত চাকুরীর অবসানের আদেশের বিরম্নদ্ধে কোন অভিযোগ করা যাইবে না, যদি না অবসানের আদেশটি সংশ্লিষ্ট অধীনস্থের ট্রেড ইউনিয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে অথবা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে প্রদত্ত হইয়াছে বলিয়া অভিযোগ করা হয়, অথবা যদি না তিনি উক্ত ধারার অধীন প্রাপ্য সুবিধা হইতে বঞ্চিত হন৷
১০০। কোন প্রাপ্তবয়স্ক অধীনস্থ কোন প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ দৈনিক আট ঘণ্টার অধিক সময় কাজ করিবেন না বা তাহাকে দিয়ে কাজ করানো যাইবে নাঃ তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ১০৮ এর বিধান সাপেৰে কোন প্রতিষ্ঠানে উক্তরূপ কোন অধীনস্থ দৈনিক দশ ঘণ্টা পর্যনত্দ ও কাজ করিতে পারিবেন।
১০১। কোন প্রতিষ্ঠানে কোন অধীনস্থ- (ক) দৈনিক ছয় ঘণ্টার অধিক কাজ করিতে বাধ্য থাকিবেন না, যদি না উক্ত দিনে তাহাকে বিশ্রাম বা আহারের জন্য এক ঘণ্টা বিরতি দেওয়া হয়; (খ) দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার অধিক কাজ করিতে বাধ্য থাকিবেন না, যদি না উক্ত দিনে উক্ত উদ্দেশ্যে তাহাকে আধা ঘণ্টা বিরতি দেওয়া হয়, অথবা (গ) দৈনিক আট ঘন্টার অধিক কাজ করিতে বাধ্য থাকিবেন না, যদি না উক্ত দিনে উক্ত উদ্দেশ্যে তাহাকে দফা (ক) এর অধীন একটি বিরতি অথবা দফা (খ) এর অধীন দুইটি বিরতি দেওয়া হয় ৭৬[ ;(ঘ) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নির্মাণ, রি-রোলিং, ষ্টিল মিলস, জাহাজ ভাঙ্গা, ঝালাই (welding) সহ শারীরিক ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিশ্রমী কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন ধরণের কারখানায় বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকার কর্মঘণ্টা ও বিশ্রামের সময় নির্ধারণ করিবে।]
১০২। (১) কোন প্রাপ্তবয়স্ক অধীনস্থ কোন প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ সপ্তাহে আটচলিস্নশ ঘণ্টার অধিক সময় কাজ করিবেন না বা তাহাকে দিয়ে কাজ করানো যাইবে না। (২) ধারা ১০৮ এর বিধান সাপেৰে, কোন প্রাপ্তবয়স্ক অধীনস্থ কোন প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে আটচল্লিশ ঘণ্টার অধিক সময়ও কাজ করতে পারিবেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, কোন সপ্তাহে উক্তরূপ কোন অধীনস্থের মোট কর্ম-সময় ষাট ঘণ্টার অধিক হইবে না, এবং কোন বৎসরে উহা গড়ে প্রতি সপ্তাহে ছাপ্পান্ন ঘণ্টার অধিক হইবে নাঃ আরও শর্ত থাকে যে, কোন সড়ক পরিবহণ প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত কোন অধীনস্থের সর্বমোট অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা বৎসরে একশত পঞ্চাশ ঘণ্টার অধিক হইবে নাঃ আরও শর্ত থাকে যে, বিশেষ বিশেষ শিল্পের ৰেত্রে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা আরোপিত শর্তে, এ ধারার বিধান শিথিল করিতে অথবা উহা হইতে এককালীন সর্বোচ্চ ছয় মাস মেয়াদের জন্য অব্যাহতি দিতে পারিবে যদি সরকার এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, জনস্বার্থে/অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে উক্ত শিথিল/অব্যাহতি প্রয়োজনীয়।
১০৩। কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোন অধীনস্থ- (ক) দোকান, বাণিজ্য বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৰেত্রে প্রতি সপ্তাহে দেড় দিন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানের ৰেত্রে একদিন ছুটি পাইবেন; (খ) সড়ক পরিবহণ প্রতিষ্ঠানের ৰেত্রে, প্রতি সপ্তাহে অবিচ্ছিন্ন চবি্বশ ঘণ্টার একদিন ছুটি পাইবেন; এবং উক্তরূপ কোন ছুটির জন্য তাহার মজুরী হইতে কোন কর্তন চলিবে না ৭৭[ ; (গ) উপরোক্ত দফা (ক) ও (খ) এর আওতায় কোন ছুটির জন্য অধীনস্থের মজুরী হইতে কোন কর্তন করা যাইবে না।]
১০৪। যে ৰেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানকে বা উহাতে কর্মরত অধীনস্থগণকে ধারা ১০৩ এর বিধান হইতে অব্যাহতি প্রদান করিয়া জারীকৃত কোন আদেশের ফলে অথবা এই আইনের অধীন প্রণীত কোন বিধির ফলে কোন অধীনস্থ উক্ত ধারার অধীন তাহার প্রাপ্য কোন ছুটি হইতে বঞ্চিত হন সে ৰেত্রে, উক্ত অধীনস্থকে অবস্থা অনুযায়ী যথাশীঘ্র সম্ভব উক্তরূপ ছুটির দিনের সম সংখ্যক ছুটি মঞ্জুর করিতে হইবে।
১০৮। (১) যে ক্ষেত্রে কোন অধীনস্থ কোন প্রতিষ্ঠানে কোন দিন বা সপ্তাহে এই আইনের অধীন নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্ত সময় কাজ করেন, সে ক্ষেত্রে তিনি অধিকাল কাজের জন্য তাহার মূল মজুরী ও মহার্ঘভাতা এবং এডহক বা অন্তবর্তী মজুরী, যদি থাকে, এর সাধারণ হারের দ্বিগুণ হারে ভাতা পাইবেন। (২) যেক্ষেত্রে কোন অধীনস্থকে কোন প্রতিষ্ঠানে ঠিকা-হার ৭৮[ (পিস রেট)] ভিত্তিতে মজুরী দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে মালিক এই ধারার প্রয়োজনে অধীনস্থ প্রতিনিধিবৃন্দের সহিত আলোচনাক্রমে যতদূর সম্ভব উক্তরূপ অধীনস্থগণের গড় উপার্জনের হারের সমান সময় হার নির্ধারণ করিবেন এবং উক্তরূপ নির্ধারিত হার উক্তরূপ অধীনস্থগণের সাধারণ মজুরী হার বলিয়া গণ্য হইবে। (৩) এই ধারার বিধান পালন নিশ্চিত করার লক্ষে সরকার কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রক্ষণীয় রেজিস্টার বিধিদ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।
১১০। প্রধান পরিদর্শকের বিনা অনুমতিতে এবং তৎকর্তৃক আরোপিত শর্ত ব্যতীত, কোন প্রাপ্ত বয়স্ক অধীনস্থকে একই দিনে একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করিতে দেওয়া হইবে না।
১১১। (১১) কোন প্রতিষ্ঠানে কোন দিনের কাজের নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা পরে যদি কোন অধীনস্থ কাজে হাজির হন তাহা হইলে মালিক উক্ত অধীনস্থকে উক্ত দিনের কাজে নিয়োগ করিতে অস্বীকার করিতে পারিবেন।
১১৫। প্রত্যেক অধীনস্থ প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে পূর্ণ মজুরীতে দশ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি পাইবার অধিকারী হইবেন, এবং উক্তরূপ ছুটি কোন কারণে ভোগ না করিলেও উহা জমা থাকিবে না এবং কোন বৎসরের ছুটি পরবর্তী বৎসরে ভোগ করা যাইবে নাঃ তবে শর্ত থাকে যে এই ধারার কোন কিছুই চা-বাগানের অধীনে নিযুক্ত কোন অধীনস্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
১১৬। (১) সংবাদ পত্র অধীনস্থ ব্যতীত, প্রত্যেক অধীনস্থ প্রত্যেক পঞ্জিকা বৎসরে পূর্ণ মজুরীতে চৌদ্দ দিনের পীড়া ছুটি পাইবার অধিকারী হইবেন। (২) প্রত্যেক সংবাদ পত্র অধীনস্থ তাহার চাকুরীর মেয়াদের অনু্যন এক- অষ্টাদশ অংশ সময় অর্ধ-মজুরীতে পীড়া-ছুটি পাইবার অধিকারী হইবেন। (৩) উক্তরূপ কোন ছুটি মঞ্জুর করা হইবে না যদি না মালিক কতর্ৃক নিযুক্ত একজন রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক অথবা উক্তরূপ চিকিৎসকের অবর্তমানে অন্য কোন রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক পরীৰানত্দে এই মর্মে প্রত্যয়ন করেন যে, সংশিস্নষ্ট অধীনস্থ পীড়িত এবং তাহার চিকিৎসা বা আরোগ্যের জন্য প্রত্যয়নপত্রে উলিস্নখিত সময় ছুটির প্রয়োজন। (৪) উক্তরূপ ছুটি জমা থাকিবেনা এবং কোন বৎসর ভোগ করা না হইলে পরবতর্ী বৎসর উহা আর ভোগ করা যাইবে না।
১১৭। (১) কোন প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে এক বৎসর চাকুরী পূর্ণ করিয়াছেন এমন প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক অধীনস্থকে পরবর্তী বারো মাস সময়ে তাহার পূর্ববর্তী বারো মাসের কাজের জন্য মজুরীসহ নিম্নবর্ণিত হারে গণনার ভিত্তিতে ছুটি মঞ্জুর করিতে হইবে, যথাঃ-
(ক) কোন দোকান বা বাণিজ্য বা শিল্প প্রতিষ্ঠান অথবা কোন কারখানা অথবা সড়ক পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, প্রতি আঠার দিন কাজের জন্য একদিন; (খ) কোন চা বাগানের ক্ষেত্রে, প্রতি বাইশ দিন কাজের জন্য একদিন; (গ) কোন সংবাদপত্র অধীনস্থের ক্ষেত্রে প্রতি এগার দিন কাজের জন্য একদিন। (২) কোন প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে এক বৎসর চাকুরী পূর্ণ করিয়াছেন এমন প্রত্যেক অপ্রাপ্ত বয়স্ক অধীনস্থকে পরবর্তী বারো মাস সময়ে তাহার পূর্ববর্তী বারো মাসের কাজের জন্য মজুরীসহ নিম্নবর্ণিত হারে গণনার ভিত্তিতে ছুটি মঞ্জুর করিতে হইবে; যথাঃ- (ক) কোন কারখানার ক্ষেত্রে, প্রতি পনর দিন কাজের জন্য একদিন; (খ) কোন চা-বাগানের ক্ষেত্রে, প্রতি আঠার দিন কাজের জন্য একদিন; (গ) কোন দোকান বা বাণিজ্য অথবা শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, প্রতি চৌদ্দ দিন কাজের জন্য একদিন। (৩) এই ধারার অধীন মঞ্জুরকৃত কোন ছুটির সময়ের মধ্যে যদি অন্য কোন ছুটি পড়ে তাহা হইলে উক্ত ছুটি ও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে। (৪) যদি কোন অধীনস্থ কোন বারো মাস মেয়াদের মধ্যে উপ-ধারা (১) অথবা (২) এর অধীন তাহার প্রাপ্য কোন ছুটি সম্পূর্ণ বা অংশত ভোগ না করেন তাহা হইলে উক্তরূপ প্রাপ্য ছুটি পরবর্তী বারো মাস মেয়াদে তাহার প্রাপ্য ছুটির সহিত যুক্ত হইবে। (৫) উপ-ধারা (৪) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন প্রাপ্ত বয়স্ক অধীনস্থের এই ধারার অধীন ছুটি পাওনা বন্ধ হইয়া যাইবে যখন তাহার পাওনা অর্জিত ছুটি- (ক) কোন কারখানা অথবা সড়ক পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, চলিস্নশ দিন হয়; (খ) কোন চা-বাগান, দোকান বা বাণিজ্য অথবা শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, ষাট দিন হয়। (৬) উপ-ধারা (৪) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক অধীনস্থের এই ধারার অধীন ছুটি পাওনা বন্ধ হইয়া যাইবে যখন তাহার পাওনা অর্জিত ছুটি- (ক) কোন কারখানা অথবা চা-বাগানের ক্ষেত্রে, ষাট দিন হয়; (খ) কোন দোকান বা বাণিজ্য অথবা শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, আশি দিন হয়। (৭) কোন অধীনস্থ অর্জিত ছুটির জন্য দরখাসত্দ করিলে যদি মালিক কোন কারণে উহা না-মঞ্জুর করেন, তাহা হইলে উক্ত না-মঞ্জুরকৃত ছুটি সংশিস্নষ্ট অধীনস্থের হিসাবে উপ-ধারা (৫) অথবা (৬) এ উলিস্নখিত সীমার অতিরিক্ত পাওনা হিসাবে যুক্ত হইবে। (৮) এই ধারা প্রয়োজনে, কোন অধীনস্থ কোন প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে কোন সময়ের জন্য কাজ সমপূর্ণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন যদিও বা উক্ত সময়ে নিম্নলিখিত কারণে তাহার কাজ ব্যাহত হইয়া থাকে, যথাঃ- (ক) কোন বন্ধের দিন; (খ) কোন মজুরীসহ ছুটি; (গ) পীড়া বা দুর্ঘটনার কারণে মজুরীসহ বা মজুরী ছাড়া কোন ছুটি; (ঘ) অনধিক ষোল সপ্তাহ পর্যনত্দ প্রসূতি ছুটি; (ঙ) কোন লে-অফ; (চ) আইন সম্মত কোন ধর্মঘট বা বে-আইনী কোন লক-আউট।
১১৮। (১) প্রত্যেক অধীনস্থকে প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে এগার দিনের মজুরীসহ উৎসব ছুটি মঞ্জুর করিতে হইবে। (২) বিধি দ্বারা নির্ধারিতভাবে মালিক উক্ত ছুটির দিন ও তারিখ স্থির করিবেন। (৩) কোন অধীনস্থকে কোন উৎসব ছুটির দিনে কাজ করিতে বলা যাইতে পারিবে, তবে ইহার জন্য তাহাকে ধারা ১০৩ এর বিধান অনুযায়ী দুই দিনের মজুরীসহ ৰতিপূরণ ছুটি এবং একটি বিকল্প ছুটি মঞ্জুর করিতে হইবে।
১১৯। (১) এই আইনের অধীন কোন অধীনস্থকে মঞ্জুরকৃত ছুটি বা বন্ধের জন্য যে হারে মজুরী প্রদেয় তাহা হইবে-তিনি তাহার ছুটির অব্যবহিত পূর্ববতর্ী মাসে যে দিন গুলিতে কাজ করিয়াছন সেই দিনগুলির জন্য প্রদত্ত, অধিকাল ভাতা ও বোনাস ব্যতীত, তাহার পূর্ণ সময়ের মজুরী এবং মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অনত্দবতর্ী মজুরী, যদি থাকে, এর দৈনিক গড়ের সমানঃ তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোন প্রতিষ্ঠানের কোন অধীনস্থ খাদ্য শষ্য সরবরাহের সুযোগের পরিবর্তে কোন নগদ অর্থ পাইতে অধিকারী হন তাহা হইলে ইহা তাহার মজুরীর সঙ্গে সংযুক্ত হইবে। (২) যদি কোন প্রাপ্ত বয়সক অধীনস্থকে একসঙ্গে অনু্যন চার দিনের এবং কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক অধীনস্থকে একসঙ্গে অনূ্যন পাঁচ দিনের বাৎসরিক ছুটি মঞ্জুর করা হয় তাহা হইলে, যতদুর সম্ভব, তাহার ছুটি শুরম্ন হইবার পূর্বে তাহাকে ছুটির মজুরী প্রদান করিতে হইবে।
১২০। বিষয় অথবা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই অধ্যায়ে "মজুরী" বলিতে ধারা ২(৪৫) এ মজুরী বলিতে যে অর্থ করা হইয়াছে তাহা, এবং নিম্নলিখিত পাওনাগুলিও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে, যথাঃ- (ক) নিয়োগের শর্ত মোতাবেক প্রদেয় কোন বোনাস অথবা অন্য কোন অতিরিক্ত পারিশ্রমিক; (খ) ছুটি, বন্ধ অথবা অধিকাল কর্মের জন্য প্রদেয় কোন পারিশ্রমিক; (গ) কোন আদালতের আদেশ অথবা পৰদ্বয়ের মধ্যে কোন রোয়েদাদ বা নিষ্পত্তির অধীনে প্রদেয় কোন পারিশ্রমিক; (ঘ) চাকুরীর অবসান, উহা ছাটাই, ডিসচার্জ, অপসারণ, পদত্যাগ, অবসর, বরখাসত অথবা অন্য যে ভাবেই হউক না কেন, এর কারণে কোন চুক্তি বা এই আইনের অধীন প্রদেয় কোন অর্থ; এবং (ঙ) লে-অফ অথবা সাময়িক বরখাসতের কারণে প্রদেয় কোন অর্থ।
১২১। প্রত্যেক মালিক তৎকর্তৃক নিযুক্ত প্রত্যেক অধীনস্থকে , এই আইনের অধীন পরিশোধ করিতে হইবে এরূপ সকল মজুরী পরিশোধ করিবার জন্য দায়ী থাকিবেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, ঠিকাদার কর্তৃক নিযুক্ত কোন অধীনস্থের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল অধীনস্থের ক্ষেত্রে, কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক অথবা উহার তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের জন্য মালিকের নিকট দায়ী অন্য কোন ব্যক্তিও উক্তরূপ পরিশোধের জন্য দায়ী থাকিবেনঃ আরো শর্ত থাকে যে, ঠিকাদার কর্তৃক নিযুক্ত কোন অধীনস্থের মজুরী উক্ত ঠিকাদার কর্তৃক পরিশোধ না করা হইলে সেই ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের মালিক কর্তৃক উক্ত অধীনস্থের মজুরী পরিশোধ করা হইবে, যাহা ঠিকাদারের নিকট হইতে সমন্বয় করা হইবে।
১২২। (১) ধারা ১২১ এর অধীন মজুরী পরিশোধের জন্য দায়ী প্রত্যেক ব্যক্তি উক্তরূপ মজুরী পরিশোধ সমপর্কে মজুরীকাল স্থির করিবেন। (২) কোন মজুরীকাল এক মাসের উর্ধে হইবে না।
১২৩। (১) কোন অধীনস্থের যে মজুরীকাল সমপর্কে তাহার মজুরী প্রদেয় হয় সেই কাল শেষ হওয়ার পরবর্তী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাহার মজুরী পরিশোধ করিতে হইবে। (২) যে ক্ষেত্রে কোন অধীনস্থের চাকুরী তাহার অবসর গ্রহণের কারণে অবসান হয়, অথবা মালিক কর্তৃক তাহার ছাটাই, ডিসচার্জ, অপসারণ, ৮১[ অধীনস্থ কর্তৃক চাকুরীর অবসান অথবা] অন্য কোন কারণে উহার অবসান করা হয় সে ক্ষেত্রে উক্ত অধীনস্থকে প্রদেয় সকল মজুরী তাহার চাকুরী অবসানের তারিখ হইতে পরবর্তী ৮২[ ত্রিশ] কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করিতে হইবে। (৩) সকল মজুরী কর্মদিবসে পরিশোধ করিতে হইবে।
২৭২৷ এই আইন বা কোন বিধির অধীন কোন চাঁদা বা খরচ প্রদানে বাধ্য কেবলমাত্র এই কারণে মালিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন অধীনস্থের প্রাপ্য মজুরী বা অন্য কোন সুযোগ-সুবিধা কমাইতে পারিবেন না৷
২৮৯৷ (১) কোন মালিক একাদশ অধ্যায়ের অধীন ঘোষিত নিম্নতম মজুরী হারের কম হারে কোন অধীনস্থকে মজুরী প্রদান করিলে, তিনি এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷ (২) যে ক্ষেত্রে আদালত উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন দণ্ড আরোপ করে, সেক্ষেত্রে, আদালত উহার রায় প্রদানকালে, উক্তরূপ কোন লঙ্ঘন না হইলে সংশ্লিষ্ট অধীনস্থকে যে মজুরী প্রদেয় হইত এবং উক্তরূপ লঙ্ঘন করিয়া মজুরী হিসাবে যে অর্থ প্রদান করা হইয়াছে উহার পার্থক্যের পরিমাণ অর্থ তাহাকে প্রদান করিবার আদেশ দিতে পারিবে৷
৩৩২৷ কোন প্রতিষ্ঠানের কোন কাজে কোন মহিলা নিযুক্ত থাকিলে, তিনি যে পদমর্যাদারই হোন না কেন, তার প্রতি উক্ত প্রতিষ্ঠানের অন্য কেহ এমন কোন আচরণ করিতে পারিবেন না যাহা অশ্লীল কিংবা অভদ্রজনোচিত বলিয়া গণ্য হইতে পারে, কিংবা যাহা উক্ত মহিলার শালীনতা ও সম্ভ্রমের পরিপন্থী৷
৩৪৫৷ কোন অধীনস্থের জন্য কোন মজুরী নির্ধারণ বা নিম্নতম মজুরীর হার স্থিরীকরণের ক্ষেত্রে, একই প্রকৃতির বা একই মান বা মূল্যের কাজের জন্য ১৮৪[ মহিলা, পুরুষ এবং প্রতিবন্ধী] অধীনস্থগণের জন্য সমান মজুরীর নীতি অনুসরণ করিতে হইবে; এবং এতদসংক্রান্ত কোন বিষয়ে ১৮৫[ নারী-পুরুষ-প্রতিবন্ধী] ভেদের কারণে কোন বৈষম্য করা যাইবে না৷

অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি, ১৯৬৬-এর প্রথম পরিচ্ছেদের অনুচ্ছেদ ৭ এ আছে, বর্তমান চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষসমূহ প্রত্যেক ব্যক্তির ন্যায়সংগত ও সুবিধাজনক কর্মের শর্ত উপভোগের অধিকার স্বীকার করে; অনুরূপ শর্তাদি বিশেষভাবে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ নিশ্চিত করবে: (ক) সকল অধীনস্থের জন্য পারিশ্রমিকের এমন ব্যবস্থা যার মধ্যে কমপক্ষে থাকবে- (i) ন্যায্য মজুরি এবং কোনরূপ তারতম্য না করে সমান মানের কাজের জন্য সমান পারিশ্রমিক; বিশেষ করে নারীদেরকে সমান কাজের জন্য সমান বেতনসহ পুরুষদের অপেক্ষা নিকৃষ্ট নয় এমন কর্মের শর্তাবলি সম্পর্কে নিশ্চয়তা দান; (ii) বতর্মান চুক্তির বিধানাবলি অনুসারে অধীনস্থদের এবং তাদের পরিবারের জন্য সন্তোষজনক জীবিকার সংস্থান ; (খ) নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ; (গ) কেবল জ্যেষ্ঠ্যতা ও যোগ্যতার শর্ত সাপেক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তির চাকুরিক্ষেত্রে যথোপযুক্ত উচ্চতর পদে পদোন্নতি লাভের সমান সুযোগ; (ঘ) বিশ্রাম,অবকাশও যুক্তিসংগত কর্মসময় এবং নির্দিষ্ট সময়ান্তরে বেতনসহ ছুটি ও সরকারি দিনসমূহের জন্য পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা৷

বলপ্রয়োগমূলক শ্রম কনভেনশন, ১৯৩০ এর অনুচ্ছেদ ২ আছে, ১৷ এই কনভেনশনের প্রয়োজনে "বলপ্রয়োগমূলক বা বাধ্যতামূলক শ্রম" বলতে কোন ব্যক্তির নিকট থেকে শাস্তির ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আদায়কৃত সকল ধরনের কাজ কিংবা সার্ভিস এবং যার জন্য সে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নিজেকে প্রদান করে না, বুঝাবে৷

সমপারিশ্রমিক কনভেনশন, ১৯৫১ প্রস্তাবনা দফা ১ এ আছে, এই কনভেনশনে : (ক) "পারিশ্রমিক" বলতে মালিক কর্তৃক প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে নগদ অর্থে কিংবা দ্রব্যাদির মাধ্যমে অধীনস্থকে দেয় এবং অধীনস্থদের চাকরির জন্য প্রাপ্য সাধারণ মূল কিংবা ন্যূনতম মজুরী কিংবা বেতন এবং অন্যান্য অতিরিক্ত সুবিধাদি বুঝাবে; (খ) সমমানের কাজে পুরুষ ও মহিলা অধীনস্থদের সমান পারিশ্রমিক বলতে লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনরূপ বৈষম্য ছাড়াই নির্ধারিত পারিশ্রমিকদের হার বুঝাবে৷


উপসংহার:
প্রত্যেক নবী-রাসূল পরিশ্রম করে উপার্জন করেছেন। হযরত ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে উল্লেখ আছে, হযরত আদম (আঃ) কৃষিকাজ করতেন, হযরত দাউদ (আঃ) বর্ম তৈরি করতেন, হযরত নূহ (আঃ) কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন, হযরত ইদ্রিস (আঃ) সেলাইয়ের কাজ করতেন এবং হযরত মূসা (আঃ) রাখালের কাজ করতেন।হযরত ইব্রাহীম ও লূত (আ.) কৃষক ছিলেন। হযরত সালিহ (আ.) ছিলেন ব্যবসায়ী এবং হযরত মুসা, শোয়াইব ও মুহাম্মাদ (স.) ছিলেন রাখাল। মহানবী (সাঃ) নিজে মেষচারণ করেছেন, কাপড় সেলাই করেছেন, ঘর ঝাড়– দিয়েছেন, বালতি দিয়ে কূপ থেকে পানি উঠাতেন, এমকি রান্নার কাজও করতেন। হযরত খাদিজার (রাঃ) সহকারী হিসেবে বাণিজ্য করেছেন। নিজের হাতের উপার্জনকে উত্তম খাদ্যও বলা হয়েছে। রাসূল (সাঃ) বলেছেন- ‘নিজের হাতের শ্রমের উপার্জন দ্বারা খাওয়া হতে উত্তম খাবার আর কেউ কোনদিন খায়নি।’ ইসলাম যেমন শ্রমকে উৎসাহিত করেছে, তেমনি শ্রমের ধারক ও বাহক অধীনস্থকে হেয় প্রতিপন্ন করার অধিকার কাউকে দেয়নি, বরং অধীনস্থদের সম্মানের আসনে সামাসীন করেছে। অধীনস্থের অধিকার ও মর্যাদা নির্ধারণ করে দিয়েছে। রাসূলে কারীম (স.) কে সর্বোত্তম উপার্জন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ সৎ ব্যবসায়-লব্ধ মুনাফা ও ব্যক্তির নিজ শ্রমের উপার্জন। যে ব্যক্তি নিজের শ্রমের ওপর জীবিকানির্বাহ করে তার চেয়ে উত্তম আহার আর কেউ করে না। মহানবী (স.) বলেনঃ শ্রমজীবী ও উপার্জনকারী আল্লাহর বন্ধু।ইসলাম এই যে শ্রমনীতি শিক্ষা দিয়েছে তা সার্বজনীন। মালিক-অধীনস্থ উভয়ই যদি ইসলামের শ্রম নীতি মেনে চলেন তাহলে পৃথিবীতে আর বঞ্চিতদের আর্তনাদ শোনা যাবে না, দেখা দেবে না কোন রকম অধীনস্থ অসন্তোষও।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৩:২৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×