somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈমানদার অমানুষ (দুই)

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ১১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কথায় বলে মাছ খাওয়ায়ে কাউকে সন্তুষ্ট করতে চাইলে আমন্ত্রণ করে খাওয়াতে হয় আর প্রতিদিন মাছ খাবে এমন ব্যবস্থা করতে মাছ চাষ শেখাতে হয়। অনেক হুজুর অন্যের বাড়িতে দাওয়াত পেলে আনন্দিত হন, খেয়ে তৃপ্তি লাভ করেন, আর অন্যকে নেক কাজে আঞ্জাম দেয়ায় গর্বিত হন। অথচ রাসুলের (সা: ) অনেক সাহাবী নামাজ পরিয়েছেন আবার বড় ব্যবসায়ীও ছিলেন। মানুষ যখন শুধু পেয়ে আনন্দিত হয় তখন সে শুধু নেয়ার ধান্ধায় থাকে, দেয়ার আনন্দ সে বুঝেনা। যে কষ্ট করেনা, চিন্তা ভাবনা করে চলেনা তারপক্ষে বহু বছরের অর্জিত মান সম্মান কয়েকমিনিটেই নষ্ট করা সম্ভবপর হয়। কোন মানুষ যদি ভোগ বিলাস আর পাশবিক উন্মাদনায় ১০ বছরের সঞ্চয় ১০ মিনিটে খরচ করে তখন সে আর স্বাভাবিক মানুষ থাকে না। উত্তরণ অনেক কঠিন, উপরে ওঠার জন্যে পরিশ্রম ও চেষ্টা সাধনা লাগে কিন্তু অবতরণ খুবই সহজ।

সোনালী ব্যাংক, হলমার্ক কিংবা ডেসটিনির কেলেংকারীর সাথে সম্পৃক্ত কোন ব্যক্তিকেও আপনি জিজ্ঞেস করেন আপনি কি মুসলমান? বলবে হ্যাঁ। এরশাদ শিকদার, মুরগি মিলন কিংবা বাংলা ভাই যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে- আপনি কি আল্লাহ আছে বিশ্বাস করেন? সম্ভবত তারা উত্তর দিতেন- হ্যাঁ। আর্সেনিক যুক্ত পানি উত্তপ্ত করলেও বিষের মাত্রা যেমন বাড়তেই থাকে, বিমান দুর্ঘটনায় যেমন রিকসা দুর্ঘটনার চেয়ে বিপদের ঝুঁকি বেশি থাকে তেমনি ভেতরের ঈমান যদি বাইরে কাজ না করে তবে তার দ্বারা ক্ষতির ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেতেই থাকে। আপনি জিজ্ঞেস করবেন- কি ভাই আপনারা কেন মারামারি করছেন; আপনারা কি ইসলাম ধর্মের অনুসারী? বলবে- হ্যাঁ। আপনারা কি বাংলাদেশের নাগরিক?-বলবে হ্যাঁ। উত্তর শুনে কেউ যদি মনে করেন ধর্ম ও দেশের চাইতে তাহলে বড় কিছু আছে। সেটা কি দল কিংবা অঞ্চল, বংশ কিংবা বর্ণ? যদি বলেন- হ্যাঁ। তবে কি এসব কোনটাই না হয়ে যে মানুষ হয়েছে সেই বেশি শ্রদ্ধার পাত্র হবেনা?

যুদ্ধবিধ্বস্ত ভিয়েতনামও অনেক উন্নত হয়ে যায় পরিশ্রমী নারী পুরুষের অবদানে। বৈষম্য জিইয়ে রেখে আমরা নারীকে অর্থমূল্য আছে এমন উৎপাদনশীল কর্মকান্ড থেকে দূরে রাখি। যদিও এর সুফল হিসাবে ইভটিজিং ও ধর্ষণমুক্ত সমাজের নিশ্চয়তা বিধান হয়না। বাংলাদেশের পর্দানশীল নারী মালয়েশিয়ার পর্দানশীল নারীর মতো গাড়ির ড্রাইভার হেলপার হয়না। বিধর্মের দেশেও দিন রাত ২৪ ঘন্টা শংকামুক্তভাবে নারী অবাধ বিচরণ করতে পারে কোন যৌন হয়রানির আশংকা ছাড়াই। ডেনমার্কে ৪২ বছর আগে ১টি অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে, ৪২ বছরে ১টিও অস্বাভাবিক মৃত্যুর রেকর্ড নেই। বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য প্রদানকারী জাপান বাংলাদেশ থেকে ৠণের একটি টাকাও ফেরৎ নেয়নি এদেশে এখনো চরম দরিদ্র ও নি:স্ব মানুষ আছে বলে, নিয়মানুযায়ী সরকার ৠণের টাকার কিস্তি বৎসরে দেয় কিন্তু তারা স্বেচ্ছায় তা আবার ফেরৎ দেয় এই দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজে লাগানোর জন্যে। এখন কারো যদি অভদ্র ঈমানদারের চাইতে ভদ্র মানুষদের (বেঈমান) বেশি ভাল লাগে তা কি অযৌক্তিক হবে?।।।

আমার খুব কষ্ট লাগে যখন শুনি যে দেশে জুম্মার নামাজের পর কতল কার্য কর করার জন্যে জল্লাদ রেডি থাকে সেখানেও গৃহকর্মীরা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। সৌদি আরবের কথা বাদ দিলেও পৃথিবীতে বাংলাদেশ অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম দেশ। অথচ এখানে এমন অবস্থা বিরাজমান যে দৈনিক গড়ে খুন হয় ১১টি, আত্মহত্যা হয় ২১টি। ফকির থেকে বড়লোক হবার জন্যে একেকজন একেক ধরনের মেশিন ব্যবহার করেন। যে মেশিনের একদিক দিয়ে শূণ্য পকেট ও খালি হাতে ঢুকলেও আরেকদিক দিয়ে পকেট ভর্তি টাকা ও হাত ভর্তি ফুলের মালা নিয়ে বের হওয়া যায়।। যেমন: রাজনীতি মেশিন, এনজিও মেশিন, মাজার মেশিন ইত্যাদি। কেউ যদি জাতে ফকির আর ভাবে জমিদার হয় তার যে দশা আমাদের অনেকেরই সেই দশা। যেই সুইডেনের কেউ ৩০ বছর কোন কাজকর্ম না করলেও রিজার্ভের টাকায় চলতে পারবে তাদের পরিশ্রমে জাত যায়না অথচ আমাদের অনেকে নিজের জুতাটা নিজে কালি করেন না, নিজের মশারি নিজে টানান না, নিজের চা নিজে বানিয়ে খান না। এমন অনেকে আছেন ভিন দেশে যেয়ে ভিন জাতির জুতা কালি করেন, হোটেলে কাজ করেন, গাড়ি পরিষ্কার করেন, টয়লেটগুলোকে ব্যবহার উপযোগী রাখতে পারদর্শীতা দেখান অথচ নিজ দেশে গোপনীয় লোম কাটতেও পরের সাহায্য নেন। আসলে এটি বিকৃত রুচি ও বিকৃত চিন্তা।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ১১:১৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×