somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্ণবৃষ্টি ~ ০২

২৮ শে জুন, ২০১৩ রাত ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুপুর থেকেই আকাশে বেশ মেঘ করেছে। যদিও সেটাই বর্ণের দৌড়ানোর কারণ নয়। বর্ণকে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে হবে। বিকেল প্রায় হয় হয়। ইতিমধ্যেই দেরী হয়ে গেছে কিনা কে জানে। বর্ণের হাতে ঘড়ি নেই। গতসপ্তাহে ক্রিকেট বল লেগে হাতঘড়িটা ভেঙ্গে গেছে। বাবাকে বলার সাহস পায়নি বর্ণ। এখন টিফিন খরচা বাঁচিয়ে টাকা জমাচ্ছে। ঘড়িটা মেরামত করতে হবে। ঘড়িটা থাকা এখন খুবই প্রয়োজন ছিল। সে সময় দেখতে পারছে না। সময়টা জানা জরুরী। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওকে বাসায় পৌঁছাতে হবে। ঠিক বাসায় না, বাসার ছাদে। স্যার খামোখা ক্লাসে একটা অংক বেশি করাতে গিয়ে দেরী করিয়ে দিল। বর্ণের তখন খুব রাগ হচ্ছিল। সে রাগে এক্সট্রা অংকটা খাতায় তোলে নি। রাতে অংকটা ভোগাবে অনেক।

বর্ণ ইতিমধ্যেই হাঁপিয়ে উঠেছে। পিঠের ভারি ব্যাগটা আরো ভারি মনে হচ্ছে। তবু থামার উপায় নেই। ওদের চারতলার ছাদটা দেখা যাচ্ছে।

মাথার চুলটা একটু হাত বুলিয়ে ঠিকঠাক করে ছাদে উঠে এল বর্ণ। এদিক ওদিক তাকিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ল একটা। যাক এখনো আসেনি। ওপাশের ছাদে বেশ কয়েকটা কাপড় হালকা বাতাসে দুলছে। বর্ণ একটু হাসে। পেটে খিদেটা মোচড় দিয়ে আসছে। কিন্তু মাকে বলে এসেছে খিদে নেই। খেতে বসলে দেরী হয়ে যেতে পারত। সে রিস্ক নেয়ার প্রশ্নই ওঠেনা। যেকোন সময় চলে আসতে পারে। সামন্য এগিয়ে ছাদের রেলিংয়ের কাছে দাঁড়ায় বর্ণ। আকাশটা আরো কালো হয়ে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃষ্টি নামতে পারে। বর্ণের বৃষ্টি খুব ভালো লাগে। তবু এখন ও মনে মনে চাইছে না বৃষ্টি নামুক। বৃষ্টি নামলে মেয়েটা নাও আসতে পারে। তখন বর্ণের মনটা আরো খারাপ হয়ে যাবে।

আনমনা হয়ে আকাশ দেখছিল বর্ণ। হঠাৎ তাই মেয়েটাকে দেখে চমকে উঠল ও। প্রার্থিত কিছু হঠাৎ চোখের সামনে পেলে মানুষ ঠিক হয়তো এমনটাই চমকায়। তবে বর্ণ বেশ চতুর ছেলে। ঠিকই সামলে নিল ধাক্কাটা। মেয়েটা ছাদের কাপড়গুলো গুছোচ্ছে। বর্ণ জানে এরপর মেয়েটা রেলিংয়ের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে। দুবার কপালের চুলগুলো আঙ্গুল দিয়ে সরাবে। তারপর দু’মিনিট পনের সেকেন্ড আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকবে। এরপর একপলক এদিকে ফিরে বর্ণকে দেখবে তিন সেকেন্ড, চোখের ভুরুটা একটু কুঁচকাবে। সাথে সাথে একজন মহিলার কন্ঠ শোনা যাবে, বৃষ্টি, কি হল। তাড়াতাড়ি আয়। মেয়েটা আরেকবার ওর দিকে তাকিয়ে আরেকবার ভুরু কুঁচকিয়ে কাপড়গুলো নিয়ে চলে যাবে। এই সময়টুকু বর্ণ সরাসরি ওদিকে তাকায় না। আড়চোখে দেখে। সরাসরি তাকাতে ওর সংকোচ লাগে।

টিপটিপ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টি কাপড় গুছাচ্ছে। এখন বর্ণের সবই ভাল লাগছে। খিদেটাও এখন আর মালুম হচ্ছে না। কাপড় উঠানো হয়েছে, বর্ণ আড়চোখে লক্ষ্য করে। এখন নিশ্চয়ই মেয়েটা রেলিংয়ের দিকে যাবে। কিন্তু, বৃষ্টি কাপড় গুছিয়ে আজ আর রেলিংয়ের দিকে গেল না। সরাসরি সিঁড়ির দিকে রওনা হল। বর্ণের সব এলোমেলো হয়ে গেল। বৃষ্টি আজ একবারও ওর দিকে তাকাল না!

বর্ণ একটু ভাল করে দেখার জন্য সামান্য বামে সরতে গেল। আর তখনই হঠাৎ একটা পড়ে থাকা ইটের টুকরোয় হোঁচট খেয়ে বিকট শব্দে আছাড় খেল।

যখন ও উঠে বসছে তখন বৃষ্টির বেগ অনেকটা বেড়েছে। ওর বিভিন্ন জায়গায় কেটে ছড়ে রক্ত পড়ছে। আর মনে হচ্ছে পুরো পৃথিবীটা মাথার ভেতর বনবন করে ঘুরছে। বর্ণ ভাবতে লাগল মারা যাচ্ছি নাতো! হঠাৎ পাশের বাড়ির ছাদে চোখ যেতেই চমকে উঠল বর্ণ।

মেয়েটা উদ্বিগ্ন চোখে ওর দিকে চেয়ে ঝুম বৃষ্টিতে ভিঝছে। আর এই বৃষ্টির জলের মাঝেও ওর চোখের জল আলাদাভাবে চেনা যাচ্ছে।

বর্ণের সে জল মুছে দিতে খুব ইচ্ছে হল।।



বর্ণবৃষ্টি ~ ০২

।।সা।ত।কা।হ।ন।।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমিও পারি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৬



জ্ঞানী মানুষ পড়ালেখা করে বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে। কেউবা পড়ালেখা করে একটি ভালো জবের জন্যে, কেউবা জ্ঞান আহরণের জন্যে, আবার কেউবা করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্যে। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভোজ

লিখেছেন ইসিয়াক, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৪০


গতকাল শরীরটা ভালো ছিলো না। তার জেরেই সম্ভবত ঘুম থেকে উঠতে বেশ বেলা হয়ে গেল। ঘুম ভাঙলেই আমি প্রথমে মোবাইল চেক করে দেখি কোন জরুরী কল এসেছিল কিনা। আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরার ট্রেন

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:১২


ঈদের ছুটিটা যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। বারোটা দিন—ক্যালেন্ডারের হিসেবে ছোট, কিন্তু হৃদয়ের হিসেবে এক বিশাল পৃথিবী। সেই পৃথিবীতে ছিল হাসি, ছিল কান্না, ছিল ঘরের গন্ধ, ছিল প্রিয় মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক: একটি প্রগতিশীল (?) অগ্রযাত্রা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৮


আমি আসলে জন্মগতভাবেই খুব আশাবাদী মানুষ। সত্যি বলছি। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা জারি করল, আমি মনে মনে বললাম , অবশেষে কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×