somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুখী

২৫ শে মার্চ, ২০০৭ ভোর ৪:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

1. একটি ভুল ও অনুশোচনা....

স্বীকার করেই নিলাম যে আমি পশু তুল্য। পশুদের রাজ্যে এরকম অপকর্মের কোনো ইতিহাস আছে কিনা- আমার অজানা। তবে মানব ইতিহাসে অমানবিকতার যে কলঙ্ক তিলক আমি স্থাপন করলাম- মানুষ কখনোই আমাকে ক্ষমা করবে না। আমার মা একজন নারী, আমার বোনও। আমি যাকে নিছক প্রতিশোধ প্রবণ হয়ে ধষর্ণ করেছিলাম সেও একজন নারী। তখন সে ছিলো সুসজ্জিত নিষ্পাপ- মায়াবী মুখের এক তরুণী; এখন ছোট্ট মেয়ে সুখীর মা। সুখী আমার মেয়ে। ঘটনার ( ধষর্ণের) তিনদিন পর গ্রামের গণ্যমান্যরা প্রাইমারি স্কুলের মাঠে যখন সালিশি বৈঠক বসালো তখন আত্মহত্যায় ব্যর্থ হয়ে রাহেলা উপজেলা হাসপাতালের একটি ছোট কামরায় অচেতন হয়ে পড়েছিল- চিকিৎসারত। আমি কাঠফাটা রোদে নপুংসকের মতো সালিশ চক্রের মাঝখানটায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। ইতোমধ্যে বাবার দেয়া ত্যাজ্যতার সার্টিফিকেট আর স্বজনদের ভালোবাসা থেকে চিরতরে বঞ্চিত হলাম আমি। মনুষ্যত্ব বিবর্জিত কোনো প্রাণীর কি মানব সানি্নধ্যের আর কোনো প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে? তাই অবধারিতভাবেই আমার পক্ষে কেউ ছিলো না। শুধু বৈঠকচক্র ভেদ করে কোথথেকে বারবার একটা নেড়ি কুকুর আমার পায়ের কাছে এসে উসখুস করছিলো। নোংরা শীর্ণকায় ঐ কুকুরটিই সালিশে আমার অবস্থান সম্পর্কে মানব সমাজকে অবহিত করে দিলো। আমি হাত জোড় করে রাহেলাকে চাইলাম, ভিক্ষা চাইলাম মানবজীবন। আমার কুকর্মের পরামর্শদাতা রইস ও আফতাব দীর্ঘদিন পালিয়ে ছিলো। রইস এখন বড় বাজারের ছোট্ট একটি সেলুনের নাপিত, আর আফতাব ভোলা শহরে রিক্সা চালায়।
অনুশোচনা দগ্ধ হয়ে বাঁচার তাগিদে ওরাও এখন গিয়ে দাঁড়িয়েছে মানবতার পক্ষে, পেয়েছে সমাজের সহযোগিতা।

2. একটি সতীত্ব ও স্বাধীনতা......

মুক্তিযুদ্ধের সময় শুনেছিলাম পাক বাহিনী কতর্ৃক নির্যাতিত হয়েছিলেন আমার বাবা। পরবতর্ীতে হারিয়েছিলেন বাকশক্তি। তার বাকশক্তিহীনতার বদৌলতে রক্ষা পেয়েছিলো আমার মায়ের সতীত্ব। এ দেশও একদিন স্বাধীন হয়েছিলো। অথচ তার সন্তান হয়ে আমি একদিন......ছিহ......ছিহ.....ছিহ.....ঈশ্বর.....ঈশ্বর..!!

3. একটি পরিচয় ও প্রত্যাশা.....

স্বাধীন দেশের ছোট্ট নাগরিক সুখী। তার দাদার বাকরুদ্ধতা এ দেশকে এনে দিয়েছে স্বাধীনতা। এখন তার একটি পারিবারিক, সবের্াপরি একটি দৈশিক পরিচয় আছে। এখানে দুঃখ আছে যন্ত্রণা আছে, আছে বেচে থাকার নিরন্তর আশাবাদীতা। ব্যক্তির একটি ভুল থেকে পরিবার- সমাজ-রাষ্ট্র বিভ্রান্ত হতে পারে, ছিন্ন হতে পারে সকল মানব বন্ধন।
সুখী কখনো ভুল করবে না। মুছে যাবে তাকে ঘিরে থাকা যতো দুখি বিশেষণ।

বিঃদ্রঃ ' সুখীর সুখী বাংলাদেশ' শিরোনামে পাক্ষিক অন্যদিনে প্রকাশিত, বিপ্রতীপ শিকদার ছদ্মনামে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী, কিন্তু ঘরে ফিরে তিনি একজন বাবা

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২৩



বেশিরভাগ মানুষ বিজ্ঞানীদের জীবনের সাফল্যটাই দেখে; কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে কত বছরের শ্রম, ত্যাগ আর ব্যক্তিগত জীবনের কত কিছু বিসর্জন দিতে হয়েছে, সেই গল্পটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের অজানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবাদপত্র

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩



একালে কি কেউ কেউ সাতসকালে এখনো অপেক্ষায় থাকেন কখন আসবে সংবাদপত্র?
একদা যিনি সংবাদপত্র বয়ে আনতেন তার সাথে কতো মান- অভিমানের খেলা!
এমনও হয়েছে বিলম্ব দেখে তার আগমনী পথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ, উদ্বাস্তু এবং রোহিঙ্গা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২



দেশভাগের অনেক পরে আমার জন্ম।
আমি দেশভাগের ইতিহাস জানি। দেশভাগের পরে যা হয়েছে, অতি মন্দ সব ঘটনা ঘটেছে। লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার নারী নির্যাতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭


এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

একটা সময় ছিল- শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করলেই কারও চোখে ক্ষোভ, কারও মনে শ্রদ্ধা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযোদ্ধাদের তরুণ প্রজন্ম পছন্দ করে না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৮


২০২৫ সালের ডিসেম্বরের কথা। একদিন মিরপুরে গেলাম, যে স্কুলে পড়েছি সেটার কী অবস্থা দেখতে গেলাম। এখনো কয়েকজন শিক্ষক আমাকে চেনেন। পুরাতন জায়গা বলে একটা টানও ছিল। দীর্ঘ প্রায় ১৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

×