somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তিযোদ্ধাদের তরুণ প্রজন্ম পছন্দ করে না ?

০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


২০২৫ সালের ডিসেম্বরের কথা। একদিন মিরপুরে গেলাম, যে স্কুলে পড়েছি সেটার কী অবস্থা দেখতে গেলাম। এখনো কয়েকজন শিক্ষক আমাকে চেনেন। পুরাতন জায়গা বলে একটা টানও ছিল। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ওই স্কুলের গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন সাবেক এমপি কামাল আহমেদ মজুমদার। তিনি মূলত জামায়াতের এমপি শফিকুর রহমানের এলাকার এমপি ছিলেন। কথিত আছে কামাল আহমেদ মজুমদার একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আবার মিরপুর ১০ এলাকায় কয়েকবার এমন পোস্টারও দেখেছি তিনি রাজাকার ছিলেন। ভূমিদস্যু ছিলেন কি না নিজের চোখে দেখিনি। তিনি শিল্পমন্ত্রীও ছিলেন।

স্কুলে ঢুকেই দেখি কামাল আহমেদ মজুমদারের ছবিতে কালো কালি লেপে দেওয়া হয়েছে, কাচও ভাঙা। খুব একটা অবাক হলাম না। হাওয়া বদলে গেছে। এখন যারা ক্ষমতাবান, স্কুলও তাদের কথাতেই চলবে। কোন শিক্ষক কোন দল সমর্থন করেন, সেটাও একসময় মোটামুটি জানা ছিল। আমার স্কুলের পাশেই একসময় একটা কোচিং ছিল। আমিও শিক্ষকতা করতাম। কয়েকজন পুরোনো ছাত্র আমাকে দেখে চিনে ফেলল। আগের চেয়ে তারা অনেক বড় হয়ে গেছে। আমাকে দেখে বলল, “স্যার, কেমন আছেন?” বললাম, “ভালো আছি।”

এরপর খুব আগ্রহ নিয়ে একজন বলল, “স্যার, এখন আর আমাদের স্টাডি ট্যুরের নামে কামাল আহমেদ মজুমদারের বাগানবাড়িতে যেতে হবে না। উনি তো এখন আর এমপি না।” আমি বললাম, “হ্যাঁ, আমিও গিয়েছিলাম।” কামাল আহমেদ মজুমদার যখন সভাপতি ছিলেন, তখন আমাদের স্কুলে একটা অলিখিত নিয়মই ছিল, স্টাডি ট্যুর হলে কামাল সাহেবের বাগানবাড়িতে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হবে। এখন যারা সামনে এসএসসি দেবে, তারা হয়তো অন্য কোথাও ঘুরতে যাবে।

আমি আবার বললাম, “কামাল আহমেদ মজুমদার কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।” সঙ্গে সঙ্গে একজন বলে উঠল, “তাহলে উনার ছবিতে কালিমা লেপন করার কারণ কী?” আমি বললাম, “এগুলো রাজনীতি। তোমরা বুঝবে না।”

এরপর স্কুল থেকে বের হয়ে চলে এলাম। কিন্তু কথাটা মাথায় থেকে গেল। ছাত্রের কথাও তো মিথ্যা না। কেউ যদি সত্যিই মুক্তিযোদ্ধা হন, তাহলে তার ছবিতে এভাবে কালি লেপে দেওয়া ঠিক হয়েছে ? আবার পরে মনে হলো, কোথায় যেন পোস্টার দেখেছিলাম, সেখানে কামাল মজুমদারকে রাজাকার বলা হয়েছে। আসল ঘটনা আমি জানি না। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, নাকি ছিলেন না, সেটা ইতিহাস ও রাষ্ট্রের নথিপত্রই ভালো বলতে পারবে।

তবে কামাল আহমেদ মজুমদার মিরপুরে অনেক স্কুল কলেজ করেছেন, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমার স্কুলও আওয়ামী লীগ সরকার আসার আগে মাত্র একটি শাখা ছিল। এখন চারটি শাখা হয়েছে, কলেজ পর্যন্ত হয়েছে, হোস্টেলও হয়েছে। আমি যে শাখায় পড়েছি তার পাশেই একটা সরকারি স্কুল হয়েছে।

আওয়ামী লীগ আমলে সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লার মতো নিরক্ষর মানুষও একটি মাধ্যমিক সরকারি স্কুল করে গেছেন। তিনি শিক্ষা নিয়ে কতটুকু বোঝেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। তার নামে একসময় বাজার থেকে চাঁদা তুলতেও দেখেছি। কিন্তু স্কুলটা তো এখনো দাঁড়িয়ে আছে। রাজনীতির ভেতরে অনেক কিছু থাকতে পারে, কিন্তু একটা প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে গেলে সেটারও একটা সামাজিক মূল্য থাকে।

কামাল মজুমদারের এলাকাতেও অনেক স্কুল কলেজ হয়েছে। সমস্যা হলো, অনেক জায়গায় মনে হয়েছে মেধার চেয়ে লবিং আর টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে একাত্তর টিভির একটি প্রতিবেদনে দেখলাম, আমাদের সেই স্কুলেই স্বামী স্ত্রী মিলে অন্তত ৫০ জোড়া শিক্ষক রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ৫০ জোড়া। স্বামী স্ত্রী এক দুজন না, ৫০ জোড়া। এ ধরনের ঘটনা পৃথিবীতে খুব বেশি পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ আছে। অভিযোগ আছে, এদের অনেকের নিবন্ধন সনদ নেই, কারও আবার সনদের মেয়াদ শেষ। অথচ আমার স্কুলটি এমপিওভুক্ত স্কুল ছিল। কলেজ শাখাটি অবশ্য এমপিওভুক্ত ছিল না।

এবার ফিরে আসি বর্তমান সময়ে ...।

মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে দল মত নির্বিশেষে জামায়াত ছাড়া সবাই সম্মান করেন। বিশেষ করে জামায়াতের বিরুদ্ধে তার বক্তব্য, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার কথা এবং বিভিন্ন সময়ে তার অবস্থান তরুণদের কাছে ভালো লেগেছে। কিন্তু সম্প্রতি নিজের এলাকায় তিনি এমন একটা কথা বলে ফেললেন, যেটা নিয়ে শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

কোটা নিয়ে এত কিছু হওয়ার পর আবার সেই তদবির আর সুপারিশের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার কথা শুনলে তরুণরা হতাশ হবেই। তিনি এলাকার চাকরিপ্রার্থীদের বলেছেন, “তোমরা লিখিত পরীক্ষায় পাস করার সাথে সাথে অ্যাডমিট কার্ডটা আমার কাছে নিয়ে আসবা, আমি সংশ্লিষ্ট জায়গায় ফোন করে দেব।” কথাটা খুব ছোট। কিন্তু এর ভেতরে বাংলাদেশের চাকরির বাজারের একটা বড় বাস্তবতা লুকিয়ে আছে।

বাংলাদেশে এমপি হলে নিজের এলাকার মানুষ চাকরি পাবে, এটা প্রায় স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষা হবে, লিখিত পরীক্ষা হবে, তারপর কোথাও না কোথাও সুপারিশ যাবে। বিশেষ করে এমপির এলাকার প্রার্থীদের জন্য এই সুবিধা বহু বছর ধরেই আলোচনায় আছে। ডিসি অফিস, পৌরসভা বা বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে একই এলাকার মানুষের আধিপত্য নিয়েও বহু অভিযোগ আছে।

পুরোনো এমপিদের মধ্যে খুব কম মানুষই হয়তো এই সংস্কৃতির বাইরে ছিলেন। অন্তত একজন সাবেক মন্ত্রীর( বেগম মতিয়া চৌধুরী) ব্যাপারে বিশ্বাসযোগ্য একটি সূত্র থেকে শুনেছিলাম, তিনি চাকরির জন্য এ ধরনের তদবির করতেন না। এখন তিনি নেই।

নতুনদের মধ্যেও একই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। ভিপি নূর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর স্বচ্ছ নিয়োগ, কোটা বাতিল এবং মেধার কথা বলেছেন। অথচ নিজের এলাকায় একজনকে চাকরি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করতে গিয়ে ডিসির সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে খবর এসেছে। তখন তরুণরা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করবে, মেধার কথা মঞ্চে আর তদবিরের কথা বাস্তবে, এই দুইটা একসঙ্গে কীভাবে চলে?

ফজলুর রহমানের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর অনেকে বলাবলি শুরু করলেন, “উনাকে তো ভালো ভাবতাম। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত কথা বলেন, কিন্তু এখন এসব কী বলছেন?” সমস্যাটা আসলে এখানেই। শুধু ফজলুর রহমান নন, আরও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়েও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। কর্নেল অলি তাদের একজন। তিনি খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। অথচ একটি জনসভায় তিনি শেখ হাসিনাকে নিয়ে এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন, যেটাকে অনেকেই সরাসরি স্লাট শেমিং হিসেবে দেখেছেন।

শেখ হাসিনার অনেক ভুল থাকতে পারে। তার সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দেশে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার রাজনৈতিক দায় নিয়েও আলোচনা হতে পারে। কিন্তু একজন নারী রাজনীতিবিদকে তার যৌনতা বা নারী পরিচয়কে অপমান করে আক্রমণ করা কোনোভাবেই সমালোচনার বৈধ পদ্ধতি হতে পারে না।

আমার কয়েকজন বান্ধবী বিষয়টি নিয়ে খুবই ক্ষুব্ধ। তাদের কথা, এই দেশে এমনিতেই নারীর সম্মান নিয়ে সমস্যা আছে। মেয়েদের তুচ্ছ করে দেখার সংস্কৃতি আছে। সেখানে একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হাজার হাজার মানুষের সামনে একজন নারীকে নিয়ে এ ধরনের কথা বললে তরুণ মেয়েরা সেটাকে কীভাবে নেবে? একজন তো রাগ করে বলেই ফেলেছে, “সে আমার চুলের মুক্তিযোদ্ধা।” আরেকজন বলেছে, “এখন রাজাকারের দলে নাম লিখিয়েছে, এমন মুক্তিযোদ্ধা খেতাব পায় কীভাবে?”

কথাগুলো শুনে হাসিও পায়, আবার খারাপও লাগে। কারণ একটা সময় যাদের দেখে তরুণরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শিখত, এখন তাদের নিয়ে তরুণরাই ঠাট্টা করছে। এই পরিবর্তনটা ভালো কোনো লক্ষণ নয়। আওয়ামী লীগ আমলে যারা নিয়মিত মিডিয়ায় আসতেন, তাদের মধ্যে কয়জন মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের পক্ষে জোরালোভাবে কথা বলেছেন? কয়জন চাকরি তৈরির কথা বলেছেন? কয়জন বলেছেন যে তরুণদের চাকরি নেই, কোটা ব্যবস্থার অপব্যবহার হচ্ছে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি হচ্ছে? আমার চোখে খুব বেশি পড়েনি।

প্রতি বছর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বাড়ছে, এই অভিযোগ বহু বছর ধরে ছিল। মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন ছিল। তাহলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তখন কোথায় ছিলেন? শেখ হাসিনা হয়তো আসল নকল সবসময় বুঝতে পারেনি। কিন্তু যারা সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা, তারা তো অন্তত বুঝতে পারতেন কারা তাদের নাম ব্যবহার করে সুবিধা নিচ্ছে। একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কথা বললেই অনেক কিছু বোঝা যেত। তাদেরই তো সবার আগে প্রতিবাদ করার কথা ছিল।

মিডিয়ায় নিয়মিত আসা অনেক মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। তাদের নিজের সন্তানদের চাকরি নিয়ে সমস্যা ছিল না। তাই হয়তো দেশের লাখ লাখ তরুণের চাকরির সমস্যা তাদের আলোচনায় খুব একটা আসেনি। কোথাও ডাক পড়লে মুক্তিযুদ্ধের গল্প বললেন, রাজাকারদের গল্প বললেন, কিছুক্ষণ পর অনুষ্ঠান শেষ। কিন্তু কেউ যদি বলতেন, “ভাই, দেশ স্বাধীন করেছি। এখন দেখি ছেলেমেয়েদের চাকরি নেই, বাজারে আগুন, প্রবাসীদের অবস্থা খারাপ, তরুণরা হতাশ,” তাহলে হয়তো তরুণরা আরও বেশি আগ্রহ নিয়ে শুনত।

ফজলুর রহমান কোনো টকশোতে গেলে যদি রাজাকারের সন্তান নিয়ে দশ মিনিট কথা বলেন, তারপর বাকি সময় শেষ হয়ে যায়, তাহলে নতুন প্রজন্মের কাছে সেই কথার মূল্য কতটুকু থাকবে? এখনকার তরুণরা শুধু ১৯৭১ শুনতে চায় না। তারা জানতে চায় ২০২৬ সালে তাদের চাকরি কোথায়। এটা বুঝতে না পারলে দ্রুত সম্মান হারাতে হবে।

আপনি এমপি হয়ে নিজের এলাকার একজনকে চাকরি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করতে পারেন। কিন্তু একজন তরুণ যখন দিনের পর দিন পড়াশোনা করে, পরীক্ষা দেয়, লিখিত পরীক্ষায় পাস করে, তারপর জানতে পারে কারও ফোনে চাকরি হয়ে গেছে, তখন তার কাছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনিয়ে খুব বেশি লাভ হবে না। আর এটাই সম্ভবত সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।

তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করতে চায় না। বরং তারা মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের মতো করে সম্মান করতে চায়। কিন্তু তারা মুক্তিযুদ্ধের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়াকে সম্মান করতে চায় না। কামাল মজুমদারের ছবিতে কালো কালি দেখে আমার সেই ছোট ছাত্রগুলোর কথা মনে পড়ে। তারা হয়তো জানে না কামাল আহমেদ মজুমদার আসলে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না। আমিও নিশ্চিতভাবে জানি না। কিন্তু তারা একটা প্রশ্ন করেছে, যার উত্তর দেওয়া কঠিন।

যদি তিনি সত্যিই মুক্তিযোদ্ধা হয়ে থাকেন, তাহলে তার ছবিতে কালি কেন? আর যদি তিনি মুক্তিযোদ্ধা না হয়ে থাকেন, তাহলে এতদিন তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলো কেন? এই প্রশ্নের উত্তর ছাত্রদের জানা দরকার। কারণ আগামী প্রজন্ম যেন একজন মুক্তিযোদ্ধার ছবিতে কালি লেপে আনন্দ না পায়, সেই দায়িত্ব শুধু তাদের নয়, মুক্তিযোদ্ধাদেরও।

কেউ যদি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে সুবিধা নেয়, অনিয়ম করে, চাকরি নেয় বা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ভোগ করে, তাহলে তার প্রতিবাদ সবার আগে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদেরই করা উচিত। কারণ মুক্তিযোদ্ধারা নিজেরাই যদি ভুয়াদের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, তাহলে তরুণরা বুঝবে যে মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা আর মুক্তিযোদ্ধার ব্যক্তিগত সুবিধা এক জিনিস নয়। না হলে একসময় তরুণরা সবাইকে একই পাল্লায় মাপা শুরু করবে।

তাতে হয়তো মুক্তিযুদ্ধের অসম্মান হবে না। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে একটা অবিশ্বাস তৈরি হবে। আর সেই জায়গাটা তৈরি হওয়ার আগেই সাবধান হওয়া ভালো। কারণ কোনো তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা পরাতে যায় না। এসব কাজ সাধারণত রাজাকাররাই করে। কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধা যদি নিজের সম্মান নিজেই নষ্ট করেন, তাহলে রাজাকারকে মোকাবিলা করতে গিয়ে তরুণদের আর কাউকে সামনে পাওয়া যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধের সম্মান তাই শুধু ১৯৭১ সালের গল্প বলার মধ্যে নেই। মুক্তিযুদ্ধের সম্মান আছে আজকের তরুণের সামনে দাঁড়িয়ে মেধার মূল্য দেওয়া, অন্যায় তদবিরের বিরুদ্ধে কথা বলা, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা এবং একজন নারীকে অপমান না করার মধ্যে;এই জায়গাটুকু মুক্তিযোদ্ধারা ধরে রাখতে পারলে তরুণরা তাদের সম্মান করবে। কালি দিয়ে কারও ছবিতে কালিমা লেপন করলে তার সম্মান কমে যায় না । কিন্তু সম্মান একবার মুছে গেলে সেটা আবার ছবির কাচ পাল্টে ফিরিয়ে আনা যায় না।

ফটোকার্ড : সংগৃহীত
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পেটে লাথি মারলে, স্লোগান তো উঠবেই !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৬


ভয়ের কিছু নেই। এখনো পরিস্থিতি খারাপ হয়নি । তবে সাধু সাবধান। দেশ জুড়ে স্লোগান দেওয়া শুরু হলে সবকিছু ভেঙে পড়তে খুব বেশি সময় লাগবে না।সরকার এখন ঢাকা সহ দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামের জ্ঞানদীপ : যুক্তির আরব্য-ফারসী নবযাত্রা প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য -৩য় পর্ব

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:১৭

জাতীয় জন্মসনদে ভুলের ভূত আর সাভারের জালিয়াতি চক্র: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কি কোনোদিন থামবে না?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০০



আজ ৬ অক্টোবর, জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। অথচ বাস্তবতা যেন এই স্লোগানের একদম উল্টো! সরকারি নথিতে যখন সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ, উদ্বাস্তু এবং রোহিঙ্গা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২



দেশভাগের অনেক পরে আমার জন্ম।
আমি দেশভাগের ইতিহাস জানি। দেশভাগের পরে যা হয়েছে, অতি মন্দ সব ঘটনা ঘটেছে। লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার নারী নির্যাতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭


এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

একটা সময় ছিল- শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করলেই কারও চোখে ক্ষোভ, কারও মনে শ্রদ্ধা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×