যাচ্ছিলাম মিরপুর থেকে পল্টন। ১৭ নম্বর , বিকল্প সার্ভিসে। সকাল ১১টায়। রাস্তায় তো থেকে থেকে জ্যাম। মহাবিরক্ত! সময় মতো পৌছঁতে পারবোনা ভেবে বারবার আত্ কে উঠছি। বারবার ফোন আসছে, মিথ্যা বলতে হচ্ছে। এটা জ্যামে বসে থেকে ফোনে কথা বলার কমন প্র্যাকটিস। যাক, কিন্তু জ্যামতো আর কমেনা।
কেন যেন মনে হলো, আজ শুধু আমার তাড়া নয়, বাসের অন্যান্য যাত্রীরাও আছেন তাড়াহুড়ার মধ্যে। এর মধ্যে বাসের হেলপার ছেলেটা চেচামেচি শুরু করে দিয়েছে। তার বাসের পাশ দিয়ে যাওয়া কালো ক্যাবটা তাকে সাইড দিচ্ছেনা। কালো ক্যাব, যাকে লোকাল ভাষায় বলা হয়ে থাকে- প্লাস্টিক। সেই প্লাস্টিকের চালক আর বাসের হেলপারের মধ্যে চলছে তুমুল গালাগালি। এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়ে যাবে এমন আশংকা।
লেগে গেলো, লেগে গেলো এমন অবস্থায় হেলপার যেই ক্যাব চালককে মারতে উদ্ধত, আমরা যাত্রীরা সবাই তাকে বারণ করি। হেলপার ছোড়াটা তো ছাড়বেইনা। ক্যাব চালকের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে আর বলছে- তোর প্লাস্টিকের মায়রে বাপ....! যাক বাসের ভেতরের যাত্রীদের বকাঝকায় হেলপার গাড়িতে ফিরে এলো।
গাড়ি যাচ্ছে , যাচ্ছে । সেই একই ক্যাবচালকের সাথে হেলপারের দেখা হলো হাইকোর্টের সামনে। বাস যখন পল্টনের দিকে মোড় নিবে তখন। আবার জ্যাম, পাশাপাশি কালো সেই ক্যাব ও আমাদের বাস। হেলপারতো এবার হুংকার দিয়ে উঠলো। ক্যাব চালকও। এবার হেলপার আর কারো কথা শুনলো না। ক্যাবচালকও গাড়ি থেকে বের হয়ে এলো।
তারপর ফুটপাতের ওপরেই শুরু হলো ধস্তাধস্তি। মাটিতে পড়ে গেলো দুজন। আমরা গাড়িতে বসা দর্শক। মাটি পড়ে তার একজন অন্যজনের ওপর উঠে গড়াচ্ছে। এমন সময় আমাদের বাসের ড্রাইভার আর থাকতে পারলো না। স্টার্ট বন্ধ করে, হাতে একটা মোটা লাঠি নিয়ে সেও নেমে গেলো যুদ্ধে। নিজের হেলপারকে বাঁচানোর যুদ্ধে। টান টান উত্ তেজনা।
মারমুখী ড্রাইভার তার হাতের লাঠি দিয়ে বেধড়ক বাড়ি দেয়া শুরু করলো। আমরা খুবই বিরক্ত। এক সময় শেয় হলো মারামারি। তারপর ড্রাইভার এসে বসলো তার আসনে। আর হতভাগা হেলপার চুপচাপ এসে পেছনের সিটে আমার পাশে এসে বসলো। আমি হাসি সংবরন করে তাকে জিজ্ঞেস করলাম,
- কি মামা, ভালোইতো দেখাইলেন!
- আর কইয়েন না। বোকাচোদা নিজের লোক চিনে না। একবার না হয় ভুল হতে পারে, তিনবার ভুল হয় ক্যামনে। বোকাচোদার বাল। পিঠটা জ্বলতাছে।....
মানে, ড্রাইভারের লাঠির বাড়ি একটাও ক্যাবচালকের পিঠে লাগেনি, লেগেছে বেচারা হেলপারের। মাটিতে ধস্তাধস্তির সময় ড্রাইভার যখনই ক্যাবচালককে বাড়ি দিতে গ্যাছে, ক্যাবচালক চলে গেছে হেলাপারের নিচে!!
আসলে, ইদানীং অসহায় ব্লগ কর্তৃপক্ষ,তাদের হাদারামগিরি, কিছু কাঁদাছোঁড়াছুড়ি প্রিয় ব্লগারদের অবস্থা দেখে আমার এ কাহিনীটি মনে পড়লো।
আলোচিত ব্লগ
প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ওরা ভয়ংকর

বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!
শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন
জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন
আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন
জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন
ভাংগুক অচলায়তন

ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।
ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।
নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।