somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পান্তা বুড়ি ও চোর

০৯ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৯:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পান্তাবুড়ির গল্প শুনেছেন? সম্ভবত ঠাকুরমার ঝুলির গল্প। গল্পটি পড়ার সুযোগ হয়নি, তবে অনেকবার শুনেছি। লিখবো, তাই স্মৃতি ঝালিয়ে নিতে গুগলের কাছে জানতে চাইলাম, গুগল নিয়ে এলো অনেকগুলো ভিডিও। পড়ার মত কিছু নাই। ঈশ্, পড়ার মজা কি ভিডিওতে হয়?

ছোটবেলায় মা আমাদের গল্প বলে ভাত খাওয়াত। একটু বড় হওয়ার পরেও সে অভ্যাস যায়নি। আর ছোট ভাই তখনো ছোট। আমরা দু'জন খেতে বসতাম, আর মা গল্প বলত। তার একটি ছিল পান্তাবুড়ির। যেটুকু মনে পরে, নিজের ভাষায় লিখছি।
**********************
এক ছিল বুড়ি। বুড়ির বয়স হয়েছ, বেশী কাজ করতে পারেনা। তাই একবেলা ভাত রেঁধে তাতে জল ঢেলে রাখত। পরেরদিন সকালে সেই পান্তা খেতো। একদিন সকালে উঠে দেখে কে যেন পান্তা খেয়ে গেছে। পরের দিনও একই ব্যাপার। পরের দিনও। বুড়ি গাঁয়ের লোকের কাছে পরামর্শ চাইলো। সবাই বললো, বুড়ি, তুমি রাজার কাছে বিচার দাও। রাজা চোর ধরে শাস্তি দিবে। বুড়িও তাই ঠিক করলো। পরদিন সকালে লাঠি ঠুকঠুকিয়ে বুড়ি রওনা হলো রাজার বাড়ির উদ্দেশ্যে।

পথের ধারে এক পুকুর। সেখান থেকে এক শিং মাছ বুড়িকে ডেকে বললো, বুড়ি কই যাও?
যাই রাজার বাড়ি। এক চোর প্রতিদিন আমার পান্তা চুরি করে খেয়ে যায়, তাই রাজার কাছে বিচার দিতে।
ফেরার সময় আমাকে নিয়ে যেও।
কেনো? বুড়ি জিগ্গাসা করে।
সে তখনই দেখতে পাাবে।
ঠিক আছে। বলে বুড়ি হাটতে থাকলো।

একটু পরে এক বেলগাছ। তার তলায় পরে থাকা এক বেল বুড়িকে ডেকে বললো, বুড়ি কই যাও?
যাই রাজার বাড়ি। এক চোর প্রতিদিন আমার পান্তা চুরি করে খেয়ে যায়, তাই রাজার কাছে বিচার দিতে।
ফেরার সময় আমাকে নিয়ে যেও।
কেনো? বুড়ি জিগ্গাসা করে।
সে তখনই দেখতে পাাবে।
ঠিক আছে। বলে বুড়ি হাটতে থাকলো।

একটু পরে এক মাঠে গরু চরছিলো। মাঠে পরে থাকা একতাল গোবর বুড়িকে ডেকে বললো, বুড়ি কই যাও?
যাই রাজার বাড়ি। এক চোর প্রতিদিন আমার পান্তা চুরি করে খেয়ে যায়, তাই রাজার কাছে বিচার দিতে।
ফেরার সময় আমাকে নিয়ে যেও।
কেনো? বুড়ি জিগ্গাসা করে।
সে তখনই দেখতে পাাবে।
ঠিক আছে। বলে বুড়ি হাটতে থাকলো।

একটু পরে এক ধানক্ষেত। ষেখানে এক কাস্তে ডেকে বললো, বুড়ি কই যাও?
যাই রাজার বাড়ি। এক চোর প্রতিদিন আমার পান্তা চুরি করে খেয়ে যায়, তাই রাজার কাছে বিচার দিতে।
ফেরার সময় আমাকে নিয়ে যেও।
কেনো? বুড়ি জিগ্গাসা করে।
সে তখনই দেখতে পাাবে।
ঠিক আছে। বলে বুড়ি হাটতে থাকলো।

তারপরে বুড়ি রাজার বাড়ি পৌছালো। রাজার বাড়ির বিশাল দ্বার। দ্বারে মস্ত মস্ত গোঁফওয়ালা প্রহরীরা পাহারা দিচ্ছে। তারা তো বুড়িকে ঢুকতেই দিলনা। দুর দুর করে তাড়িয়ে দিল।
আরে যাও যাও। রাজার খেয়ে দেয়ে কাজ নেই যাবে সামান্য পান্তা-চোর ধরতে। তাঁর কতো কাজ আছে।

বুড়ি মনের দুঃখে ফিরে চললো। ফেরার পঠে কাস্তে, গোবর, বেল, এবং শিং মাছ নিয়ে যেতে ভুললো না।

বাড়ি আসতেই কাস্তে বললো, বুড়ি আমাকে উঠানে ঘাসের মধ্যে রাখো। বুড়ি তাই রাখলো।
ঘরে ঢুকতে গোবর বললো, বুড়ি আমাকে দরজার পাশে রাখো। বুড়ি তাই রাখলো।
ভাত রান্না করে হাঁড়ি নামাতে বেল বললো, বুড়ি আমাকে চুলোর মধ্যে রাখো। বুড়ি তাই রাখলো।
খাওয়ার পরে বাকি ভাতে জল ঢালতে শিং মাছ বললো, বুড়ি আমাকে ভাতের হাঁড়িতে রাখো। বুড়ি তাই রাখলো।

রাতে বুড়ি ঘুমিয়ে পরলে চোর আসলো। প্রতিদিনের মতো পান্তা খেতে হাঁড়িতে হাত ঢুকাতেই -- শিং মাছ ফুটিয়ে দিলো কাঁটা।
ঊহ্ । হাতের ব্যাথায় চোর গেলো চুলার পাশে, হাতটা সেঁকে নিতে। আর অমনি-- বেলটা ফেটে চোরের চোখেমুখে ছিটে এলো।
ওরে বাবারে মারে। লাফিয়ে উঠলো চোর। এখানে থাকা যাবেনা। পালাই এখান থেকে। চোর দৌড়ে বেরুতে গেলো দ্বরজা দিয়ে। সেখানে ছিলো গোবর । তাতে পা পরতেই-- ধপ্পাস্।
উহুহুহূ, পায়ের গোবরটা না মুছলে দৌড়ে পালানো যাবেনা। তাই সে গেলো ঘাসে পা মুছতে। আর কাস্তেতে পা গেলো কেটে।
আর পারলোনা চোর। চিৎকার করে উঠলো বাপরে মারে বাঁচাওরে বলে। ছুটে এলো গ্রামের লোক। তারপরে চোরকে আ্যয়সা পিটুনি দিয়ে গ্রামের বার করে দিলো।
**********************

যাক। খুশি হলাম চোরের উপযুক্ত শাস্তি হওয়ায়। যেমন কর্ম, তেমন ফল।
ওমা, ছোট ভাইএর চোখ দেখি ছলছল করছে। থেমে গেছে ভাত খাওয়াও।

কিরে, তোর কি হলো? কাঁদছিস কেন? মা প্রশ্ন করে।

মা, চোরকে কি কেউ খেতে দিতনা? সে তো ক্ষুধার জন্যই পান্তা চুরি করেছিলো। সে কি খাবে?

তাইতো, চোরেরও তো ক্ষুধা পায়। তার ভাতের কি উপায় হবে?

মা তখন গল্পের শেষটা অন্যরকম করে দিত।

*************
বুড়িও লাঠি হাতে চোরকে মারতে এলো। চোর কেঁদে উঠলো। বুড়িমা, আমাকে মেরোনা। ওদের থামতে বলো। আমার ঘরে ভাত নেই, আমাকে খেতে দেওয়ার কেউ নেই, তাই চুরি করে খাই। আর তোমার পান্তা চুরি করবোনা।

হ্যারে হতভাগা চোর, আমি বুড়ো মানুষ, কষ্ট করে একবেলা রেঁধে দু'বেলা খাই, আর তুই সেই পান্তা চুরি করিস!! কেনো কাজ করে খেতে পারিসনা?

বুড়িমা অনেক কাজ খুঁজেছি। কোথাও পাইনি। তাই তো চুরি করে খাই।

আচ্ছা ঠিক আছে। তুই এখন থেকে আমার ভাত রান্না করে দিবি? পান্তা খেতে আর ভালো লাগেনা। তুই যদি রান্না করে দিস, তবে আমিও গরম ভাত পাই, তোকেও খেতে দিতে পারি।

চোর রাজি হলো। এখন চোরও খুশি, বুড়িও খুশী।

-----------------------
খুশি আমরাও। চোর এবং বুড়িকে ভাত খাইয়ে, আমরা দু'ভাই-বোন ভাত খেয়ে উঠে গেলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:৩৬
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানবজমিন, পার্থিব, চক্র: শীর্ষেন্দুকে যেমন পড়লাম

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯



শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা শুরু করেন সাধারণত খুব অদ্ভুতভাবে।

যেমন তিনি চক্র উপন্যাস শুরু করেছেন একটি সাপের দৃষ্টিকোণ থেকে। হঠাৎ পড়ে বোঝা যায় না তিনি কার কথা বলছেন, কী বলছেন। সাপ চলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×