somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলাম এবং মা ।

১৪ ই মে, ২০০৭ রাত ৩:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মা সন্তানের জন্য সবচেয়ে বেশি কষ্ট শিকার করেন। এ জন্য পবিত্র কুরআন মাজিদে মাতা পিতা উভয়ের সাথে সুন্দর আচরণের গুরুত্ব বর্ণনা করে মায়ের নজির বিহীন কুরবানি কষ্টের উল্লেখ করে সন্তানকে মায়ের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ওপর বিশেষ ভাবে তাকিদ দেওয়া হয়েছে।

তাদের সামনে ভালবাসার সাথে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলঃ হে পালন কর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশব কালে লালন পালন করেছেন। (সুরা বনী ইসরাঈল ২৪)

আর আমি মানুষকে তার মাতা পিতার সাথে সৎ ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারন করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু বছরে হয় । নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও । অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে।(সুরা লোকমান ১৪)

আমি মানুষকে তার পিতা মাতার সাথে সৎ ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে কষ্ট সহকারে গর্ভে ধারন করছে এবং কষ্ট সহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারন করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ মাস। অবশেষে সে যখন শক্তি সামর্থ্যের বয়সে ও চল্লিশ বছরে পৌছেছে, তখন বলতে লাগল, হে আমার পালন কর্তা, আমাকে এরূপ ভাগ্য দান কর, যাতে আমি তোমার নেয়ামতের শোকর করি, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা মতাকে এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করি। আমার সন্তানদেরকে সৎকার্মপরায়ন কর । আমি তোমার প্রতি তওবা করলাম এবং আমি আজ্ঞাবহদের অন্যতম। ( সুরা আল আহক্বাফ ১৫)

পবিত্র কুরআনের এ সমস্ত আয়াতের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে, মাতা খিদমত,মুহব্বত,আনুগত্য, উত্তম আচরণ ও কৃতজ্ঞতা পাওয়ার বেশি অদিকারী।

হাদিসে আছে, একজন সাহাবী নবী করিম (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার কাছে খেদমত পাবার সবচেয়ে বেশি হকদার কে? রাসুল করিম (সাঃ) তিন বার মায়ের কথা বলার পর এক বার বললেন তোমার বাবার। (সহিহ বুখারি , মুসলিম )
এ হাদিসের ব্যাখ্যায় হজরত ইবনে বাততাল, বলেছেন, খিদমত ও আচরনে মাতার হক পিতার থেকে তিন গুন বেশি। কেননা শিশুর ক্ষেত্রে মাতা এমন তিনটি কাজ থাকেন য কোন পিতার পক্ষে চিন্তা করাও কঠিন। গর্ভবস্থায় মাতা শিশুকে পেলে ধারন করে নিয়ে বেড়ায়, অতঃপর জন্ম দানের কষ্ট স্বীকার করেন, এবং নিজের দুধ পান করান।
মাকে যথা যোগ্য সম্মান দিলে, তার উপযুক্ত খেদমত করলে এবং তার হক যথাযথভাবে আদায় করলে সন্তান সহজেই জান্নাত লাভ করতে পারে। হজরত জাহিমাহ (রাঃ) , রাসুল (সাঃ) এর খিদমতে হাজীর হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল আপনার সাথে জিহাদে অংশগ্রহন করাই আমার ইচ্ছা। বলুন এ ব্যাপারে আপনার নির্দেশ কি? রাসুল (সাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন তোমার মা কি জীবিত আছেন ? হজরত জাহিমাহ (রাঃ) বললেন জ্বি, জীবিত আছেন। তখন রাসুলে কারিম(সাঃ) ইরশাদ করলেন তা হলে তুমি ফিরে যাও এবং তার খিদমতেই লেগে থাক, কেন,না তার পায়ের নিচেই জান্নাত ।(ইবনে মাযাহ, নাসায়ি শরিফ )
মায়ের খেদমতের গুরুত্ব সম্পর্কে সাহাবী হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন , আল্লাহর নৈকট্য এবং সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মায়ের সাথে উত্তম আচরণের চেয়ে বড় আমল আমার জানা নেই। মা যদি অমুসলিম ও হয় তবুও তার সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে এবং তার সম্মান ও খেদমত করতে হবে। হজরত আসমা (রাঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) এর জীবিতাবস্থায় আমার মা মুশরিকা থাকা কালীন আমার কাছে আসে, আমি রাসুল (সাঃ) এর খিদমতে আরজ করলাম, আমার মা আমার কাছে এসেছে অথচ সে ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন। সে ইসলামকে ঘৃণা করে । এমতাবস্থায় ও কি আমি তার সাথে উত্তম ব্যবহার করবো ? রাসুল কারিম (সাঃ) বললেন অবশ্যই তুমি তোমার মায়ের সাথে আত্নীয়তার সর্ম্পক রক্ষা করতে থাক । ( সহিহ বুখারি শরিফ)

আমাদের দেশে দেখা যায়। নামাজ কালেমা পড়েন এবং খোদাভিরু মানুষ। কিন্তু মাতা পিতার খেদমত না করে, পরিবারের খোজ খবর না নিয়ে, বিভিন্ন দরবার শরিফে গিয়ে ইবাদত করেন। আবার কেউ কেউ, নিজের মাতা পিতার খবর রাখেন,না, অন্যকে মাতা পিতা বানিয়ে খেদমত করেন ।
পৃথিবীতে মায়ের খিদমত না করলে কিংবা মায়ের প্রতি কোন রূপ খারাপ আচরণ করলে , মাকে কষ্ট ও দুঃখ দিলে সন্তান যত ইবাদত বন্দোগি আর নেকের কাজই করুক না কেন, তার পক্ষে জান্নাত লাভ করা কখনোই সম্ভব হতে পারেনা ।
মায়ের সন্তুষ্টি ও দোয়া, দীন ও দুনিয়ার সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য। পক্ষান্তরে দীন ও দুনিয়ার সবচেয়ে মারাত্নক দুর্ভাগ্য হলো সন্তানের প্রতি মায়ের বদ দোয়া।
আমরা প্রতিদিন প্রতি মুহুর্তে মায়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে, মা কে আদর যত্ন করতে হবে। এবং কোন নিদিষ্ট এক দিন মায়ের যত্ন করবো। পরে খবর নিব না, মা কেমন আছেন। এমন হওয়া একেবারে ঠিকনয়। ইসলাম মানব জীবনের পরিপূর্ণ জীবন বিধান। ইসলাম সমস্ত ভালো কাজের উপদেশ দেয় , মন্দ কাজে নিষেদ করে। আমাদের দেশে মাতা পিতার, এবং নারী, শিশুদের মর্জাদা বা অধিকার বাস্তবায়ন করতে হলে, অবশ্যই মানুষকে ইসলামিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে ও ইসলামিক বিধি নিষেদ মেনে চলতে হবে । এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে ইসলাম শিক্ষা বাড়াতে হবে।


সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৫১
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×