somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওয়াশিংটন আরভিং : ইসলামের প্রথম আমেরিকান আবিষ্কারক। লিখেছেন- সৈয়দ আশরাফ আলী।(২)

২১ শে মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৮২৯ সালের মে মাসে আরভিং স্পেনে মুসলিম রাজশক্তির সর্বশেষ অধিষ্ঠান 'রোমানন্টিক' নগরী গ্রানাডায় পৌঁছেন। বসন্তের উজ্জীবিত প্রকৃতির মাঝে ' ভেগার' (Vega ) বৈভব আর তুষার কিরিট শোভিত সিয়েরা নেভাদা (Sierra Nevada ) প্রতিভাবান তরুন মনকে চমৎকৃত করে। এই পরিবেশেই তার কল্পনা শক্তি পূর্ণতা লাভ করে এবং এ খানেই তার বিশ্বখ্যাত সাহিত্যকর্ম গুলো রচিত হয়। এসব সাহিত্যকর্ম কেবল স্পেনের নয়, ইসলাম ও সমগ্র বিশ্বের জন্যও একেকটি অতুলনীয় উপহার। গভর্নরের আমন্ত্রণে আরভিং আলহামরা (Alhambra ) প্রসাদে বাস করার অনুমতি পেলেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অবজ্ঞা, অবহেলা ও ঘৃণায় প্রসাদটি তখন প্রায় ধ্বংসের পথে। কিন্তু সেই জীর্ণ, ধ্বংসোন্মুখ প্রসাদটি এই মহৎ ইতিহাসবেত্তাকে এমনভাবে মুগ্ধ করল যে, তিনি স্বীকার করতে বলে আশা করি না । ( Never in my life have I had so delicious an abode. and never can I expect to meet with such another. )
প্রসাদটি তখন বস্তুত তার মূল আদলের কংকালে পরিণত। এককালে সৌন্দর্য ও আড়ম্বরের জন্য বিশ্বখ্যাত ছিল যে প্রসাদটি, সেটি তখন তার শোচনীয় প্রতিমূর্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল । জিপসি ও কৃষকদের দখলে ছিল প্রসাদটি। এমনকি ননা ধরনের পোষা ও বন্যপ্রাণীও সেখানে বাসা বেঁধেছিল।
নেপোলিয়নের সৈন্যরা প্রসাদের একটি মিনারের ক্ষতিসাধন করে। এর আগে অত্যুৎসাহী রাজা পঞ্চম চার্লস একটি কিন্তূতকিমাকার সৌধ নির্মাণের উদ্দেশে প্রসাদের কিয়দংশ বিনষ্ট করেন। ওই সৌধটিও তিনি শেষ করে যেতে পারেননি। আলহমরা প্রসাদ গাত্রের লাল পলেস্তারা তখন খসে খসে পড়ছিল এবং সেই সঙ্গে বিলীন হয়ে যাচ্ছিল এর স্বপ্নের ভুবন।

কিটস (Keats ) বলেছেন, 'শ্রুত সঙ্গীত মধুর, কিন্তু অশ্রুত সঙ্গীত মধুরতর ( Heard melodies are sweet,but those unheard are sweeter ) । আরভিং এ কথা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করতেন। তিনি আলহামরাকে অভিহিত করেছিলেন, প্রসাদের গাত্রালঙ্কারে অনুরণিত সুর মূর্ছনারূপে। এর অবহেলিত ও অনাদ্রিত সৌন্দর্যে মুগ্ধ লেখক রচনা করলেন, 'টেলস অব আলহামরা' । অক্লান্ত প্রয়াসের ফল এই অনুপম গবেষণাকর্মে তিনি তার মরম ভাষায় কেবল আলহামরা নয়, মুসলিম স্পেনের বিস্মৃত গৌরব ও ঐতিহ্য বর্ণনা করেছেন। ড.গ্রিনবর্গ যথার্থই বলেছেন, 'বাগদাদকে বিশ্ব মাঝে তুলে ধরার কৃতিত্ব যেমন আরব্য উপন্যাস এক হাজার এক রাত্রি এর, তেমনি স্পেনকেও বিশ্বসভায় তুলে ধরার সকল কৃতিত্ব ওয়াশিংটন আরভিংয়ের। কয়েক শতাব্দী আগে আরবীয় কবি ইবনে সাঈদ আন্দালুসিয়ার যশোগাথা গাইলেও ওয়াশিংটন আরভিংই ( স্পনীয়) ইসলামের লুপ্ত ভুবনকে পুনরায় পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন । ("Not since the Thousand and one nights had the glory and traditions of Islam been so splendidly narrated. Irving accomplished for spani what the Thousand and one Nights had done for Baghdad. The Arabian poet Ibn Sald had sung of the charms of Andalusia centuries ago ; now Washington Irving was to reintroduce the lost world of Islam " _ Harold J. Greenburg. ibid. woiking. 1959 )

টেলস অব আলহামরা'য় জীবন চরিত্র, ইতিহাস, স্থাপত্যকলা বিষয়ক গবেষণার সমন্বয় ঘটেছে। আর সব কিছুই চিত্রিত হয়েছে স্পেনের মুসলিম সভ্যতার যথার্থ প্রেক্ষাপট থেকে । আরভিং বলেছেন, 'এই মুরীয় ধ্বংসাবশেষের ওপর দিনের বিলীয়মান আলোর খেলা যখন আমি প্রত্যক্ষ করি, তখন আমি এর অন্তর স্থাপত্যের লঘু অথচ সৌষ্ঠবপূর্ণ ও জাঁকজমক পূর্ণ চরিত্রে মুগ্ধ হই। এবং সেই সঙ্গে যুদ্ধেজয়ী স্পেনীয়দের নির্মিত বিশাল অথচ ম্রিয়মাণ হর্ম্যরাজির সঙ্গে এর সুস্পট পার্থক্য আমার কাছে প্রতিভাত হয়ে উঠে। এই উপদ্বীপটির ওপর প্রভুত্ব করার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে লড়াই করেছে যে দুই যুদ্ধলিপ্সু জাতি, তাদের মথ্যকার মধ্যকার বিপরীতমুখী ও দ্বান্দ্বিক চরিত্রটি মূর্ত হয়ে ওঠে এই স্থাপত্যেই।
আরবীয় বা মুরীয় স্পেনের এই একটি কীর্তি দেখে আমি ক্রমেই ভাবপ্রবণ হয়ে উঠি। এটি এমন একটি জাতির কীর্তি, যাদের গোটা অস্তিত্বই হচ্ছে একটি কাহিনী, যা বলা হয়ে গেছে। তবু ইতিহাসের যে কালপর্বে তদের অস্তিত্ব, তা যেমন অসামঞ্জস্য পূর্ণ তেমনি দীপ্তিময় ।,
তার অনুপম ভাষায় : " As I sat watching the effect of the declining daylight upon this moorish pile, I was led into a consideration of he light, elegant and voluptuous character prevalent throughout its internal architecture. and to contrast it with the grand but gloomy solemnity of the gothic edifices reared by the spanish conquerors. the very architecture thus be speaks the opposite and irreconcilable natures of the two warlike people who so long battled here for the mastery of the peninsula."
" By degrees I fell into a course of musing upon the singular fortunes of the Arabian or morisco spaniads, whose whol existence is a tale that is told and certainly forms one of the most anomalous yet splendid episodes in history." )
আরভিংয়ের কাছে আল হামরাছিল স্পেনে মুসলিম প্রভাবের প্রতিক। কলম্বাসের ওপর গবেষনা কর্ম তাকে সেভিলে নিয়ে যায়। আর হাজার স্মৃতি ও স্বপ্নভারাক্রান্ত আলহামরা তাকে উদ্বুদ্ব করে আরো দুটি ক্লাসিক গ্রন্থ রচনায়। এ দুটি গ্রন্থ হলো '( Legends of the conquest of spain ) এবং (The conquest of Granada ) । আইবেরিয়ান উপদ্বীপে মুসলিম সভ্যতাকে তার যথার্থ পরিপ্রেক্ষিতে চিত্রিত করে রচিত পাশ্চাত্যের প্রথম গ্রন্থ হলো এ দুটিই ।


আরো আছে.....।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:০১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মাহাথিরনোমিক্স'- মালয়েশিয়াকে যেভাবে নিজ পায়ে দাঁড় করালো (পর্ব - ১)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭



আমাদের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া গেলেন। এটা খুব ভালো এক মুভ ছিলো। সারা বিশ্বকে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু, সারা বিশ্বে মালয়েশিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অগ্রনায়ক মাহাথির মোহাম্মদের সাথে তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×