somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওয়াশিংটন আরভিং : ইসলামের প্রথম আমেরিকান আবিষ্কারক। লিখেছেন- সৈয়দ আশরাফ আলী।(শেষ)

২২ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'টেলস অব আলহমরা' গ্রন্থটির প্রভাব ছিল অত্যন্ত জোরালো। এই অনুপম গবেষণা-কর্মটির প্রতি পশ্চাত্যের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় এবং পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে তারা সহানুভুতিশীল হয়ে ওঠে। এর ফলে এত দিনের বিস্মৃত আলহামরার পুনরুদ্ধার ও সংস্কার সম্ভব হয় । এর পরপরই Saville।,
Alcazar , Toledo , এবং Cordova , Grand Mosque সংস্কারের ব্যাপারে আগ্রহ ও শানুভূতি দেখা যায় ।

'দি কনকোয়েস্ট অব গ্রানাডা' ও 'লিজেন্ডস অব দি কনকোয়েস্ট অব স্পেন' এর অবদান 'দি টেলস অব আলহমরা'র চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। ড.গ্রিনবার্গ ব্যাখ্যা করে বলেন, 'এরা আগে আরব খ্রিস্টান যুদ্ধ সম্পর্কে প্রতীচ্য কোনো পক্ষপাতহীন মূল্যায়ন হয়নি। মুসলমানদের অনিবার্য ভাবেই চিত্রিত করা হয়েছে বিধর্মি পৌত্তলিক হিসেবে আর খ্রিস্টানদের চিত্রিত করা হয়েছে ঈশ্বর যথার্থ অনুসারী হিসেবে। আরভিংই শেষ পর্যন্ত এই 'দুই জাতির' মধ্যকার বিরাট ব্যবধানটি ঘুচালেন। সেই সময় স্পেনেযে বিশাল ট্রাজিক নাটকের অভিনয় চলছিল, তিনি তার সব কুশিলবকে একেকজন বীর নায়ক হিসেবে চিত্রিত করেন। এই ট্রাজেডির মধ্য স্পেনীয় রেনেসাঁর দীপশিখা নির্বাপিত হয়ে যায় । Untll this time,the Arab-Christian wars had received no fair treatment in the occident. The muslims were invariably dismissed as pagans, the Christians portrayed as staunch upholders of the cross and the holy faith. and lrving was at last to bridge the wide abyss between them, characterizing them all as heroic actors in the great tragic drama which was to bring theage of enlightenment to an end in spain and darken the light of the spanish renaissance .

"দি কনকোয়েস্ট অব গ্রানাডা" গ্রন্থটি বস্তুত একটি লুপ্ত সভ্যতার বিলাপ। তীক্ষন অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে ইতিহাসকে এমন নাটকীয়ভাবে আগে কখনো তুলে ধরা হয়নি। আরভিংয়ের লেখনীতে বর্ণাঢ্য ও চমকপ্রদ একটি যুগ জীবন্ত হয়ে উঠেছে।To read The Conquest of Granada Is to weep with the tragedy of a lost civilization . Rarely has history been so dramatically presented. with an insight and ingenuity which brings to life a most colourful and splendid era .

ইসলামের পরিমন্ডলে জ্ঞান আহরণের উদগ্র বাসনাই আরভিংকে মানব সভ্যতার সঙ্কটে গগনচুম্বী ব্যক্তিত্ব হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রতি আকৃষ্ট করল। যে অসাদারণ উদ্দীপনা নিয়ে তিনি আলহামরা, গ্রানাডা ও কর্ডোভার ওপর ভিত্তি করে অনুপম সাহিত্য উপহার দিয়েছেন, সেই একই উদ্দীপনা নিয়ে তিনি ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর একটি নিরাপদ জীবন চরিত্র উপহার দেয়ার অদিকতর দুরূহ ও ঝুঁকিপুর্ণ উদ্যোগে ব্রতী হলেন। এর ফল হলো ঐতিহাসিক। Life of Mahomet শিরোনামে রচিত তার অনন্য কীর্তি বস্তুত আমেরিকা মহাদেশে প্রকাশিত হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে প্রথম দরদী জীবন চরিত্র। আরভিং তার শক্তিশালী লেখনীতে হজরত মুহাম্মদ(সাঃ) এর গতিময় ব্যক্তিত্বের সুস্পষ্ট ও সমৃদ্ধ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি লিখেছেন : 'তার বুদ্ধিবৃত্তিক গুনাবলি ছিল নিঃসন্দেহে অসাধারণ মানের। তিনি ছিলেন প্রবল স্মৃতিশক্তি, সুস্পষ্ট কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীল প্রতিভার অধিকারী। নিরক্ষর হওয়া সত্তেও তীক্ষন ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তিনি নিজের মন ও মানসকে গড়ে তুলেছিলেন। সেই সময়ে সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন ধর্ম ও অনাদিকাল থেকে চলে আসা ঐতিহ্য সম্পর্কে নিজের জ্ঞানভান্ডার তিনি সমৃদ্ধ করেন। সাধারণ আলাপচারিতায় তিনি ছিলেন রাশ ভারী। আরবদের মুখে মুখে প্রচলিত নীতিকথা ও প্রবচন তিনি তার কথার মাঝে মাঝে উল্লেখ করতেন। আবেগতাড়িত হলে তার কন্ঠ হতো সুললিত। তার কন্ঠনিঃসৃত ধ্বনি মনে হতো সঙ্গীতময় ও উচ্চনাদী।
,তিনি ছিলেন মিতাহারি, উপবাস পালনে কঠোর নিয়মনিষ্ট। ক্ষুদ্র মনের অহমিকার পরিচায়ক জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক তিনি কখনো পরিধান করতেন না। তিনি কখনো পশমি কাপড়, কখনো ইয়েমেনের ডোরাকাটা সুতি কাপড় পরতেন। তার পোশাকে প্রায়ই তালি মারা থাকতো ।
'অহংবোধকে অস্বীকার এবং সেই সঙ্গে কর্তব্যনিষ্ঠা তার সমগ্র জীভের বিভিন্ন পর্যায় জুড়ে উপস্থিত ছিল। তার আত্মগত আশা-আকাঙ্ক্ষা তাকে সব রকম জাগতিক বিষয়ের ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছে। ইসমালের অবশ্য পালনীয় এবং আত্মশুদ্ধিকারী প্রার্থনায় রত থাকতেন তিনি সর্বক্ষণ ।

মহান আল্লাহ তায়ালার ক্ষমাশীলতার ওপরই তিনি ন্যস্ত করতেন সকল অতিপ্রাকৃত সুখশান্তির আশা । হজরত আয়েশা(রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, একদা তইনি নবী করিম(সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেন, 'হে নবী ! আল্লহ তায়ালার রহমত ব্যতীত কোনো ব্যক্তিই কি বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না?' 'কেউ না' 'কেউ না' 'কেউ না', উত্তর দেন নবী করিম(সাঃ) আন্তরিক ও আবেগময় পুনরাবৃত্তি মাধ্যমে । কিন্তু আপনি, হে নবী? আপনি নিজেও কি তার রহমত ব্যতীত বেহেশতে প্রবেশ করতে পারেন না? 'নবী (সাঃ) তখন তার নিজের মাথায় হাত রাখলেন, এবং তিনবার পরম গুরুত্বের সঙ্গে উত্তর দিলেন 'আল্লাহ তায়ালা যদি তার রহমতে আমাকে আবৃত না করেন তাহলে আমিও বেহেশতে প্রবেশ করতে পারব না। 'যখন তিনি তার শিশুপুত্র ইব্রাহিমের মৃত্যুশয্যার ওপরে ঝুঁকে পড়লেন, তখনও এই চরম বিপদময় পরিস্থিতিতে আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছার প্রতি তার পুর্ণ সমর্পণ সুস্পষ্টরূপে প্রতিভাত হয়ে ওঠে। শিগগিরই বেহেশতে পুত্রের সঙ্গে পুর্নমিলনের আশাই ছিল তখন তার সান্ত্বনা। পুত্রের মৃতদেহ অনুসরণ করে তিনি তার সমাধিতে পৌঁছে তার রূহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং কবরের বেদনাদীর্ণ দুর্বিষহ পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়েও তিনি সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে রাখেন নিজেকে আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদের এবং নবী হিসেবে তার আল্লাহ নির্দেশিত দায়িত্বের প্রতি।'

মুসলিম স্পেন সম্পর্কে আরভিং যেসব সাহিত্য রচনা করেছেন, 'লাইফ অব ম্যাহোমেট' ছিল তার সর্বশেষ। কিন্তু তিনি যা রচনা করে গেছেন, তা ছিল আমেরিকানদের কাছে ইসলামকে তার যথার্থ প্রেক্ষাপটে চিত্রিত করার জন্য যথেষ্ট। কলম্বাস স্পেনের জন্য আমেরিকা আবিষ্কার করেন। আরভিং সেই স্পেনকে, বিশেষ করে মুসলিম স্পেনকে পুনরাবিষ্কার করেন আমেরিকানদের জন্য। হ্যারল্ড গ্রিনবার্গের ভাষায় :
"Irving had been the first American to penetrate the soul of Islam. and in that had superseded the bounds of religion and nationality. In himself he had found true peace. Islam . and had brought back to his own people his inimitable and inavaluable and inavaluable literary portraits of the greatness of Muslim Spain and the achievements of the Prophet Muhammad."

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০০৭ রাত ৮:৪১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মাহাথিরনোমিক্স'- মালয়েশিয়াকে যেভাবে নিজ পায়ে দাঁড় করালো (পর্ব - ১)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭



আমাদের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া গেলেন। এটা খুব ভালো এক মুভ ছিলো। সারা বিশ্বকে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু, সারা বিশ্বে মালয়েশিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অগ্রনায়ক মাহাথির মোহাম্মদের সাথে তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×